Skip to main content

Full text of "Three Temples"

See other formats


মন্দিরের কথা 


প্রথক্ম এগ 
পুরীর কথা ** 
১২১৮ পৃষ্ঠা 
ভ্বিতীন্স ও 
কোনারকের কথ! 
্‌ ১--১৬৪ পৃষ্ঠা 
তৃতীক্প খণ্ড 


ভূবনেশ্বরের কথা 
১--১৫৮ পৃষ্ঠা 


ভূমিকা 

'মন্দিরের কথা'র একটা পাক! রকম ভূমিক1 দিতে হলে সন্‌ 
তারিখ ইত্যাদি নিয়ে মন্দিরের যে সব পুরাঙ ও প্রত্বতত্, সে 
গুলোতে যতটা পাকা! হওয়া! দরকার আমি ত| মোটেই নই) কাজেই 
মন্দিরের কথ! যত বড় তার উপযুক্ত তূমিক| দেওয়া আমার পক্ষে 
এক রকম অসম্ভব হলেও বন্ধুত্বের খাতিরে যদি হটো৷ কথ! বলি তো 
ক্ষতি নেই। 

এ মন্দিরটা এত দিনের, ওটা! অমুক রাজ! অমুক সনে অমুক 
যুদ্ধের পরে ভেঙ্গেছিলেন বা! স্থাপন করেছিলেন, শুধু এই সব 
জানলেই মন্দিরের সব কথা জানা হল ন|। এ দেপের প্রাচীন মন্দিরের 
শিল্পীদের নাম শিলালিপিতেও নেই তাত্রশাসনেও নেই। যার! গড়লে 
তাদের নাম পর্ধযন্ত রইল না, রইলো কেবল তাদের, যার! মন্দির 
গড়ালে এবং ভাংলেও! মন্দিরের কথা কোন দিন সম্পূর্ণ হবে না, যত 
দিন না রীতিমত সন্ধান করে কারা গড়লে তাদের একটা উদ্দেশ 
পাবার আমর! চেষ্টা করি। এ কথা একেবারে ঠিক যে ইন্ত্রসত! 
থেকে বিশ্বকর্মা! এসে এদেশের একটিও মন্দির গড়েনি, বন্ধাও এসে 
দেবতা প্রতিষ্ঠিত করে যান্নি, যা কিছু করেছে এই দেশের মানুষেই 
করেছে। সেই সব মানুষের মত মানুষ, যাদের নাম নেই কিন্ত 
কাজগুলে! রয়ে গেছে, তারা পাষাণের অক্ষরে লিখে কি কথা 
বলতে চেয়েছিল, মন্দিরগুলোর ইতি-কথার সঙ্গে সঙ্গে সে কথাটাও 
জুড়ে দেখলে তবেই সব দি পুরোপুরি হয়ে উঠবে। মানুষটির 


তৃতীয় খণ্ড। 


ভৃহন্বনেম্্রন্রেন্র হকঙ্থা। 


1771212112177১7125. 
সাতে ললস আও 
সত্ব এশ্ু 


শ্রীগুরুদসি সরকার, এম্‌ এ, বি সি এস্‌, 
বহরমপুর কৃষ্ণনাথ কলেজের ভূতপুর্ব্ব স্কলার ও ফেলো 





কলিকাত। 
স্বাটালওুয্ার্থ এগু হাহ হেডিক্া) ভিঙ্সিট্েজ্‌ 
| 0 ০0পাাক 
2১071 2৬৬01২717 & 0০0. (17014), 29১ 9 01 5511বিধ5 সা 
৬৬1 বাব 17050: ১৮) 72৮. 
13607180777 2 050. (0817808), 14৫. ৪০বাাং৬0671) & 09 (4/১078115), 1714, 
[08100 ২ 


13011751৮01 ও 00৯ 1351, 4109 2 হ1১1৮ 03 হাত, 
8১5 ছু১)010191605, 


102]. 


ভি 


আমার স্বর্গীয় পিতদেব 


ও 
পরমারাধ্যা 
মাতদেবীকে 
বন্ডিস্ত্েন্্ কত] 
উৎসর্গ করিলাম। 


হঠাত 


১। 
| 
৩। 


৪ | 
৫। 
৬ 


ন্ট 


৮। 


৯ | 


১১। 
১২ 


চিত্রু-সূচী। 
চিত্র 


ভুবনেশ্বরের মন্দির 

ভুবনেষ্বরের মানচিত্র ... 
জমন্দিরগাত্স্থ ইজমূত্তির . 

যা ভগ্লাবশেষ 


লিঙ্গরাজ মন্দিরের ইনজুরি (গার্শদৃশা) ... 


পুরীমঙ্গিয়ের জননী ও শিলুর মৃষ্ঠ 
কলিকাতা যাছঘরে রক্ষিত ভূবনেশ্বরে 


রাড স্রমূর্িচতুষ্টর ... 


ন্দিরে বাস্ভোস্কম ও 
নন লাসালীলার চিত্র 
লিঙ্গরাজমন্দিরের শিখরগাত্রস্থ 

একটি ক্ষোদিত গার্হস্থা চিত্র 
লিঙ্গরাজমন্দিরগাতরস্থ ক্ষোদিত চিত্র 

( গার্স্থ্য চিত্রের উপরিভাগে 


নৌকাক্ৃতি বিমান ) ... 


লিঙ্গরাজমনির-গাত্রস্থ সাধু বা 
ধন্মোপদেশকের মৃষ্তি 
রেখাদেউলের ভিত্তির নক্সা 
নঙ্দিরের রেখ! অথবা! শিখরাংশের 
সংপূর্ণ চিত্র 


১৪ 


৭১৩৬ 


১৮ 


৩ 


১৩। 
১৪। 


১৫। 
১৬। 
১৭। 
১৮ 


৯৯ । 


. তি 
২১। 


্খ্‌ 


২৩। 
২৪ 


্৫। 


খ্৬। 


২৭। 
২৮। 


9৮৪ 


চিত্র 
শিখরদেশের অর্ধ নক! .... 
রথের বংশনির্ষিত, বন্থাবৃত বেষ্টনী 


হইতে মন্দিরশিখরের উদ্বর্ন .. 


তারারুতি ভিত্তিযুক্ত বেলুর মনির 


,পীড়দেউলের ভিত্তির অর্ধ নকা। 


পীড়দেউলের নক্সা 
লিঙ্গরাজমন্িরের উত্তর পার্খ 

হইতে রেখ! ও জগমোহন 
মুক্তেশ্বরমন্গিরের জগমোহনসংলগ্ন 


নাগিনী-মূর্কিসন্বলিত ক্ষো্দিত স্তস্ত ... 


লিঙ্গরাজমন্দিরের বহিঃপ্রার্চীর 
ভগবতীমন্দিরগাত্রস্থ কো অফ্‌ 
আর্মদ্‌ সদৃশ অলঙ্কার 
তে বা কোট্‌ অফ্‌ আম স্‌ সদৃশ 
অলঙ্কারের নিম্নে কীর্তিমুখ 
ভৃবনেশ্বরমদদিরের তগবতীমৃর্তি 
তগবতীমন্দিরের একটি খাঁজ 
বাকোলঙগ। 
লিঙ্গরাজমন্িয়ের খাজে অবস্থিত 


দণ্ডায়মান গণেশমুক্তি ... 


সকন্দ অথব। কার্তিকের 


বিন্বুসাগর' ৮5 
বিন্দূসাগরমধাস্থ দ্বীপ 


পত্রান্থ 
২২ 


৪ 
১৬ 
৬০ 
৮ 


৪ 


৩২ 
৩৪ 


৩ 
৫২ 


৮.১ 


৬২ 
২ 
ণ৮ 
৭৮ 


৯/০ 


চিত্র 
২৯। অনস্তবাস্থদেব-মন্দিরের শিখরদেশ 
: ( দক্ষিণপশ্চিম হইতে ) 
৩০। অনস্তবাস্থদেব মন্দির * 
৩১। অনস্তবান্ুদেব-মন্দির ( দক্ষিণ- 
পশ্চিষ হইতে ) 
৩২। অনস্তবান্থুদেব-মন্দিরের শিখরগাত্রে 
ভাস্কর্য ও ক্ষোদিত চিত্র '". 
৩৩। অনস্তবাস্থদেব-মন্দিরের জগমোহন 
অংশে তাস্কর্ধ্যনিদর্শন **. 
৩৪। অনস্তবান্থদেব-মন্দিরের নক্সা 
৩৫। বৈতাল দেউলের নর্তকী মুক্ত *** 
৩৬। দক্ষিণীভাম্করনির্ষিত রজতময় গণেশমুর্তি **" 
৩৭। তরু ও তরুণী তত ** 
৩৮। ভুবনেশ্বরের মন্দিরগাত্রস্থ থাজে 
অবস্থিত তু ও তরুণীমৃদ্ঠি 
৩৯। ভুবনেশ্বরে প্রাপ্ত তরু ও তরণীমূত্তি 
৪*। ভৃবনেশ্বরে প্রাপ্ত ৮4055 
৪১। মধুরা-তান্কর্ষ্যের স্ত্ীমূর্তি " 
৪২। রা করেকটি একক শীত. 
৪৩। ভুবনেশ্বরের মন্দিরগাত্রস্থ 'অলস- 
নায়িকা” ও অন্যান্য স্ত্ীমুর্তি ... 
৪৪। লিঙ্গরাজমন্দির-গাত্রে অবস্থিত যোস্ধা 


ও তাহার প্রণয়িনীর মৃত্তি '-. 


পঞ্জাঙ্ক 


৮৪ 
৮৬ 


৮৮ 


নও 


নি 
৪৪ 
১১৪ 
১১৪ 
৯১২২ 


১২৪ 
১২৪ 
১২৬ 
১২৮ 
১৮ 


৪৫ । 
৪৬। 
৪৭। 


৪৮। 


চিন্ত 
কালিগুহায় প্রাপ্ত যুগলমৃত্তি 
লতা-আবর্তনের মধ্যে জাস্তব চিত্রা 
লিঙ্গরাজমনদিরের জগমোহনের" 


কুড্যন্তস-গাত্রস্থ লতা-আবর্তন '*" 


বড় দেউলের ক্ষোদিত পাদগীঠ 


৪৯। রাজারাণী-মন্দিরের বহিগাত্রে' 


৫*। 


বরবর্মিনীগণের ক্ষোর্দিত মুর্তি ... 


মুক্তেশ্বরমন্দিরের জগমোহনের 
নক্ষিণাংশে জালিকাটা জানালা 


ও লতামগ্ুন প্রভৃতির কারুকার্ধ্য '*' 


চিত্রিত উড়িয৷ পু'খির প্রতিলিপি 


পত্রান্ক 
১৩২ 
১৩৪ 


১৩ 


১৩৬ 


১৩৮ 


ভূবনেশ্বরের কথা 


ভূমিকা 


ভূবনেশ্বরের শৈবতীর্ঘ কতদিনের পুরাতন তাহা লইয়৷ মতভেদ 
রহিয়াছে তবে পৌরাণিক প্রমাণ হুইতে স্বতঃই অনুমিত হয় যে, 
কেশরীরাজগণ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এই উৎকলের বারাণসী অপেক্ষা 
পুরুযোত্তম তীর্ঘই প্রাচীনতর। লিঙ্গরাজ দেব শ্বয়সূব লিঙ্গ বলিয়া 
গ্রসিদ্ধ। ্বর্গীয় গোপীনাথ রাও দেখাইয়াছেন বামদেব শিবাচার্য্যের 
পুত্র ব্যান্্রপুরবাসী নিগমজ্ঞানদেব কর্তৃক আন্রমানিফ চতুর্দশ 
শতাবীতে লিখিত 'জীর্োদ্বার দশকম্‌, গ্রন্থের টাকায় যে অষটয্টি 
সংখ্যক শ্বয়সু লিঙ্গের তালিক গ্রদত্ত হইয়াছে তাহাতে ৩০ সংখ্যক 
লিঙ্গটা 'একগ্রাম+ম্থ “রুঙ্বাস' বলিয়। বদিত হৃইয়াছে। ন্বর্গীয় রাও 
মহাশয়ের গ্রন্থে 'একগ্রাম' নামের পার্থ সন্দেহ হুচক চিহ্ন দেখা! যায়। 
সম্ভবতঃ “একগ্রাম' “একাত্ক' অথবা! “একত্র কাননেরই অপত্রংশ। 
উড়িয়া পুরোছিতগণ অদ্যাবধি লিঙ্গরাজ দেবকে 'জুত্তিবাস+ নামেই 
অভিহিত করিয়। থাকে । পুরুযোত্তম দেবের রাজত্বকালের যে 
লিপি লিঙ্গরাজ মন্দিরে ক্ষোদদিত আছে তাহাতেও “কৃতিবাস কটক' 
এই নামটি পাওয়া যায়। হ্বয়ন্তু লিঙ্গগুলি হিন্দুদিগের বিশ্বাসমতে 
সষ্টির প্রথম হইতেই বিদ্যমান। কামিকাগমে লিখিত আছে যে, 
অগ্নি, বন্যহস্তী, জলগ্লাবন, কিছ 'তুলু (তুরষ্ক) প্রভৃতি বিধর্মী 
শত্রর দ্বার! এই প্রকার লিঙ্গের কোনও অনিষ্ট সাধিত হইলেও 
উহার “জীর্োরধার' করিতে হয় না (১)। প্রবাদ আছে যে নদী, তীর 


পাপে ০ ভিপি পি কা 


(১) 0. ধা. ১ 89০% 17100, 1০০৪. , ৮01, 11. ৮৮ 1. 0. 84. 








7৮৪ 


দেবতা ও মহাপুক্রুষদের আদি খু'জিতে নাই। ইহার কারণ সহজেই 
বুঝা! বায়; খুঁজিতে গেলে বত্ব-পোধিত বিশ্বাসে আঘাত লাগে_- 
ধর্মের প্রতি আস্থা কমিয়! 'বয়। কিন্তু আজি-কালিকার দিনে 
চ্ষু মুদ্রিত করিয়া থাকিবার উপায় নাই-_বাহিরের অনুসন্ধিংসা 
আপন! হইতেই আমাদের ছুয়ারে আসিয়া করাঘাত করিতেছে, 
তাই মনে হয়, ঘরের কথ৷ নিজেদেরই বুবিবার চেষ্টা করিয়া দেখা 
ভাল। আমাদের সমাজে শিবপুজা! প্রথা যে বুকাল হুইতে চলিয়া 
আসিতেছে তাহা সকলেই স্বীকার করেন। বঙ্গভাষায় এ সম্বন্ধে 
অধিক আলোচন! হয় নাই। অধ্যাপক বিজয়চজ্র মজুমদার ১৯০৯ 
সালের বজদর্শনে শিবপুজ। নামক একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত 
করিয়াছিলেন। ১৩২৭ সালের আশ্বিন ও কার্তিক সংখ্যার 
প্রবাীতে শ্রীধুক্ত চারুচন্ত্র বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয় ছুইটি ধারাবাহিক 
নিবন্ধে শিব ঠাকুরের ঠিকুজী নির্ণয়ের চেষ্টা করিয়াছিলেন। তাহার 
রচনার নিম্নলিখিত অংশ হইতে শিবোপাসনার প্রাচীনত| সম্বন্ধে 
পাশ্চাত্য পগ্ডিতদিগের মত ও তছিষয়ে এতিহাসিক প্রমাণাদির 
কথা অবগত হওয়া যায়। “ডাক্তার ইউজেন বুর্নুফ. বলেন যে 
৬০, খৃষ্ট পূর্বেও ভারতে শিবপুজা। প্রচলিত ছিল, তার প্রমাণ 
পাওয়া যায়। খ্রীন্তীয় প্রথম শতাবীতে রচিত গ্রীক পেরিপ্লাস 
নামক পুস্তকে লিখিত আছে যে ভারতের দাক্ষিণাত্যে শিবপুজা 
যথেষ্ট প্রচলিত ছিল। মেগাস্থিনিস (৩০২ খ্রীষ্টাবে ) দেখিয়া 
গিয়াছিলেন যে বৈদিক রুদ্র ও শাকদীগী মগদের দেবতা শিব 
উভয়েই মিলিত হইয়া পৃজিত হইতেছেন। চীন পরিত্রাজকেরাও 
শৈব ধর্শের অভ্যুদয় দেখিয়া গিয়াছিলেন | পতঞ্জলি ও কাত্যায়নের 
সময় ( ১৫৭ শ্রীষ্টাবকে ) পূর্ব হইতে শিবের বিগ্রহ মানবাকারে 


গঠিত হইত তাহার প্রমাণ পাওয়। যায়। কামস্বরী, দশকুমার চরিত 
প্রভৃতি পুস্তকের শিবমুর্তি মানবাক্কৃতি। হুয়েনস্যাং কাশীতে এক 
বিরাট মানবাকৃতি শিবমুর্তি দেখিয়া ছিলেন (৬ শতাবী)।.বরাহমিহি- 
রের সময় (ষ্ঠ শতাব্দী ) পর্যাত্ত শিবৈর সাকার উপাসন। প্রচলিত 
ছিল। সপ্তম শতাঙ্ধী হইতে অনার্ধ্য লিঙ্গ-দেবত! শিবের বিগ্রহরূপে 
পূজিত হইতে আরম্ত হয়” (২)। 

ভারতীয় সভ্যত৷ যে এসিয়ার পূর্বপ্রীস্ত হইতে অনেক নাল 
মসলা সংগ্রহ করিয়াছে পঞ্ডিত সমাজে এ মতৃবাদ আলো- 
চিত হইয়াছে এবং হইতেছে। শ্রীযুক্ত চারুচন্ত্র বন্দ্যোপাধ্যায়, 
অধ্যাপক হার্বাট এ স্ত্রং এর মতাবলম্বনে সীরিয়া৷ দেশের প্রাচীন 
অধিবাসী হেষ্টাইটদিগের বৃষারোহী দেব ও সিংহ্বাহিনী দেবীর 
উল্লেখ করিয়! বলিয়াছেন 'এই দেবদম্পততী আমাদিগের শিবহূর্গ 
পরিকল্পনার যথেষ্ট সাহায্য করিয়াছিলেন বলিয়। মনে হয়।” (৩) 
সীরিয়ার প্রাচীন মুদ্রায় এই দেবদেবীর মুর্তি দেখা যায়। এই 
কুছেলিকাচ্ছন্ন প্রাচীনযুগে সীরিয়া ও ভারতের সহিত সভ্যতার 
কিরূপ আদান প্রদান ঘটিয়াছিল তাহা নিশ্চয় করিয়া বল! যায় না। 
ভারতের এঁতিহাসিক যুগে প্রাচীন মুদ্রার প্রমাণ হইতে দেখিতে 
পাই যে কুষণরাজ কণিফ ও হুবিষ্কের মুদ্রায় অপর কয়েকটি দেবতার 
ন্যায় অস্বীশ অথবা! মহেশের প্রতিক্কৃতিও মুদ্রিত হইত (৪)। 
স্থবিফ্কের পরবর্তী রাজ! বাস্থদেবের স্থবর্ণমুদ্রাতেও মহাদেবের 
ৃণ্তি দেখা যায় (৫)। খৃষ্পুর্ব যুগ হইতে শিবপুজ স্থগ্রতিষ্ঠি 


শিলা আসি পপ 





কসঞ ক্স সি ৮ 


(২) প্রবাসী, কার্তিক ১৩২৭ শিবঠাকুরের টিকুজী, পৃঃ ১৭, ১৬। 
(৩) প্রবাদী, আশ্বিন ১৬২৭ পৃঃ ৫৫২ ও ৫৫৩ পৃষ্ঠার চিত্র । 
(৪) গ্রীযুক্ত রাখালদান বল্যোপাধ্যায় প্রণীত প্রাচীনমুত্র। পৃঃ ৯১, ৯৪। 
(৫) এ এ পৃঃ ৯৫। 


না থাকিলে তষ্ীয় প্রথম শতাবী হুইতে কুষণরাজগণ শিবমৃত্ঠি 
তাহাদিগের মুদ্রায় ব্যবহার করিতেন না। লিঙ্গপুজা যে খৃটীয় 
সপ্তম শতাবীতে প্রচলিত হইয়াছিল এ মতটি কিন্ত মোটেই গ্রহণ 
করিতে পারা যায় মা। হিন্দুধর্ম বিষয়ক সুপ্রাচীন সাহিতোও 
পিঙ্গোপাসনার প্রমাণ পাওয়া যায়। ডাঃ সার রামকৃষখ গোপাল. 
ভাগারকর তাহার বৈষ্ণব, শৈব ও কয়েকটি অপ্রধান ধর্ম সম্প্রদায় 
বিষয়ক গ্রন্থে শ্বীকার করিয়াছেন (৬) যে শ্বেতাশ্বতর উপনিধদের 
“ঈশান সর্বকযোনিতে অধিষ্টিত' (৭) এই উক্তি হইতে শারীর 
স্থান হিসাবে লিঙ্গ ও যোনির সম্পর্ক (401) 01))91081 [৪০৫ ০ 
11065. 2170 ১011 ০০01)1)৩০(50 (0£61)64” ) এবং দেবগণকে 
দার্শনিক তত্বের দিক দিয়! স্যষ্টি-মূলক নিদান মাত্রেরই অধিষ্ঠাতা- 
রূপে পরিকল্পন! (7৩ 101)1195010101081 00০07119 ০1 6005 
[15510178০৪৫ ৩৮৪? ০1686৮০ ০৪9৩, )--এই উভগ়বিধ 
ভাবেরই আভাস পাওয়া যায়। মহাভারতের অন্থশাসন পর্ব চতুর্দশ 
অধ্যায়ে শৈবোপাসনার সম্পর্কে লিঙ্গের কথার উল্লেখ আছে (৮)। 
মহাভারতের অধিকাংশ খৃঃ পৃঃ অবে রচিত হইয়াছিল। ডাঃ সার 
রামক্কষ্। ভাগারকর অনুমান করিয়াছেন ষে বিম কপিশ বা বিম 
কধফিসের (৬০18. 10501710155) রাজত্বকালেও পিঙ্গপুজা 
প্রচলিত হয় নাই যেহেতু এই কুষণ নরপতির মুদ্রায় মহাদেব 
মানবারূতি, লিঙ্গরূপী নহেন (৯)। বিষ কদফিস কণিষ্ষের অব্যবহিত 

(৬) 7319900218875 ড015058%1510। 981৮1578 8130 11001 
16118109105 3/5061285১ 0০006100006 1$ 0. 714. 

(৭) স্বেতাখতর উপনিষন্ঘ ৪, ১১ ও ৫, ৫ (75651160 (017) 100, 010), 


(৮) 73108009018 01১, 010, 0. 114. 
(৯) 1010) 7. 115. বিষ কপিসের তিন প্রকারের কুত্র ও বৃহৎ 


1/5 


পূর্বেই কুষণ সিংহাসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন। যুক্ত প্রদেশের প্রাচীন 
অহিচ্ছত্রে যে সকল মুদ্রা আবিষ্কৃত হইয়াছিল তাহাতে তিনটি চিহ্ন 
দেখা যায়; ইহার মধ্যে একটী চিহ্ন নাগবেষ্টিত শিবলিঙ্গ বলিয়। 
অনুমিত হইয়াছে (১*)। অহিচ্ছত্রের এই .লকল মুদ্রা সম্ভবতঃ 
পটপুর্র্ব ১০০ অব হইতে থৃষ্ীয় ১** অবের মধ্যবর্তী (১১)। 

বন্ধুবর রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, মথুরার যাছুঘরে রক্ষিত, 
দেহেন্স উত্তরার্ধ ও তঙ্সিয়ে চারিটা মুখযুক্ত ঘে প্রাচীন ভান্র্ধ্যের 
নমুনার কথ গ্রত্বতত্ব বিভাগের সর্বাধ্যক্ষের ১৯০৯-১০ সালের 
বাধিক বিবরণীতে প্রকাশ করেন, ভারতে এতাবং আবিষ্কৃত 
শিবলিঙ্গের মধ্যে তাহাই প্রাচীনতম বলিয়া! অনুমিত হয় (১২)। 
স্বগীয় গোপীনাথ রাও তাহার মুষ্তিতত্ব-বিষয়ক গ্রন্থে ইহা “পঞ্চমুখ 
মুখ লিঙ্গমূ” বলিযাই সাব্স্ত করিয়াছেন (১৩)। সম্প্রতি লিঙ্গারৃতি 
এই প্রস্তরখণ্ডের প্রকৃত পরিচয় লইয়া মতভেদ ঘটিয়াছে। এলাছাবাদ 
জেলার ভিট। নামক স্থানে প্রান্ত এই ভাক্কধ্য নিদর্শন উহার 
গাত্রস্থ ক্ষোদিত লিপির প্রমাণ হইতে খুঃ পুঃ প্রথম শতাব্দীর বলিয়াই 


শশা শা পাপা 4২ ৯ 

















হব মুদ্রায় মহাদেব ব্রিশুল হস্তে দণ্ডায়মান অবস্থার পরিকল্সিত ; বৃহদাকৃতি 
মুদ্রাগুলিতে দেবতার পার্থেও বৃষ দেখা যায়।__ প্রাচীন দুদ, প্‌ঃ ৮৬, ৯৭ 
সম্ভবতঃ বিম কপিস খৃঃ ৫৫ জকে সিংহাসনে আরোহণ করেন।| [70. 
/10010. 160, 19০8, 0. 35. 

(১০) প্রাচীন মুদ্রা, পৃঃ ১০৭। তৃঃ সপ্তধ শতাব্দী পর্য্স্ত ভাঃতীয় 
মুস্রায় শিবধুর্তি দেখা! যায়। দৃষ্টান্ত স্বরূপ শশান্কের মুদ্রা কথ] উল্লেখ করা 
যাইতে পারে। 

(১১) ৬, 950010015 ০9091080501 00195 173 0135 1100121 
[105600), [১, 185. 

(১২) 4০৮, ৩১০৫৮ (0, 015 ঞ100991) 19০9-1০) 790, 287) হ48. 

(১৬) €৮ বত 28০05 81610050501 71800 10020818019 ৬০1. 
11720 0) 0. 04. 


17 


বিবেচিত হয় (১৪)। দক্ষিণ ভারতের গুডিমঙ্পম্‌ নামক স্থানের 
যে অপূর্ব লিঙ্গ মুর্তিটি হ্বগাঁয় টি, এ, গোপীনাথ রাও মহাশয় 
আবিষ্কার করিয়াছিলেন তাহাতে মানবাক্কতি বিগ্রহন্ধপী মহাদেব ও 
তাহার লিঙ্গরূপী নিদর্শন এই উভয়েরই সামঞ্জসা দেখা যায় (১৫)। 
এই লিঙ্গটি মানব শিক্পের আদর্শে নিশ্িত এবং উহার সম্পুখ ভাগে 
অপন্মার পুরুষের উপর দণ্ডায়মান দ্বিতুঞ্জ মহাদেব মূর্তি ক্ষোদিত 
আছে। লিল্ের আকৃতিই ইহার গ্রাচীনত্বের নিদর্শন । মতন হয় 
যে সময় ইহা নিশ্শিতি হইয়াছিল তখন মানবাক্কৃতি বিগ্রহ ও লিঙ্গমূর্তি 
এই উভয়ের সমন্বয় সাধিত হইয়াছে। গ্রুএনবেডেলের গ্রন্থে প্রদত্ত 
লিঙ্গ গাত্রস্থ শিবমূর্তির সহিত সাক্ষী (১৬) স্তুপের পুর্ব্ব তোরণ- 
দ্বারের বাম পার্খের স্তস্ত-গাত্রে ক্ষোদিত একটি ফক্-ূর্তির 
আবয়বিক সাদৃশ্য এগোপীণাথ রাও মহাশয় লক্ষ্য করিয়াছিলেন। 
আমরাও উভর় চিত্র মিলাইয়! এ বিষয়ে সন্দেহ অপনোদন করিয়াছি। 
সাধধীন্ত,পের আনুমানিক নির্মাণকাল খুঃ পৃঃ ১৪৩ অব সতরাং শিল্প 
রীতির সাদৃশ্য হইতে উৎকীর্ণ শিবমূর্তিযুক্ত এ লিঙ্গটিকেও সুপ্রাচীন 
বলিতে হয়। ৬গোপীনাথ রাও মহাশয় ইহ থৃষ্ীয় প্রথম শতাবীর 
বলিয়া অনুমান করিয়াছেন কিন্তু এক্ষণে যে মন্দিরে এই লিঙ্গ প্রতিষ্ঠিত 
(১৪) অধ্যাপক দেষদত্ত রামকৃ্ক ভাগ্ডারকর মহাশয়ের মতে এই 
লিপি আনুমানিক ধৃঃ দ্বিতীয় শতাবীর্‌। অধ্যাপক ভাগারকর লিপিতে 
'লিঙ' শখ আছে এ কথ! অস্বীকার করিলেও পস্ভযতঃ চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ 
মা করায় প্রস্তর খওটি, যে শিবলিঙ্গ নহে তাহা স্থির করিয়। বলেন নাই। 
»1১8০০ি 19 তি 3109002116805 080001017861158088255 (56০০01৫ 
561155)) 6০০ 71015 3, 00. 2০১ 27, 
(১৫) 0. ই, 1২৪০, 0. 01 ০0. 66 6৫ ৪৫0. & 12196 11]. 


(১৬) 01010796061) (10301) 200 3118558, 30001156 4১16 17 
10012) 0, 36, 8 2, 


|৩/০ 


আছে তাহা৷ আনুমানিক পঞ্চম শতাবীর |: সুতরাং লিঙ্গটি মন্দিরের 
পূর্ববর্তী হইলেও সাী স্তুপের পরবর্তী কালের বলিয়াই বিশ্বাস 
জন্মে। সম্ভবতঃ উহা খু দ্বিতী্' কি তৃতীয় শতাবীর হইবে। 
অধ্যাপক ভাগ্ডারকরের মতে ইহাই প্রাচীনতম শিবলিঙ্গ এবং 
আইমানিক থ্‌ঃ ৪র্থ শতাবীতে নির্দিত। 

১৯১১--১২ সালের প্রত্বতত্ব বিভাগের সর্বাধ্যক্ষের 
বাৎসরিক কার্ধ্য-বিষরণীতে. পূর্বোক্ত ভিটা নামক স্থানে প্রাপ্ত 
কতকগুলি মৃন্ময় মুদ্রার (018) 5৩৪15 ) প্রতিকৃতি প্রত হইয়াছে 
তাহার মধ্যে ১৮ সংখ্যক চিত্রপটের অন্তর্গত ১৫ ও ১৬ সংখাক 
মুদ্রার চিত্রে শিবলিঙ্গ স্প্টই' লক্ষিত হয়। কলঞ্জর নামক 
গিরির শিখরদেশে অবস্থিত একটি শিবমন্দিরে এই সকল মুদ্রা 
নির্শিত হইয়াছিল বলিয়া অনুমিত হইয়াছে । ভিটায়্ প্রাণ্ড এই 
সকল মুর মুত্র খুঃ পৃঃ তৃতীয় ও চতুর্থ শতাববী হইতে খৃীয় নবম 
ও দশম শতাবীর মধ্যে প্রচারিত হইয়াছিল. ইহার অধিকাংশই 
গুপ্ত সম্রাট্দিগের রাজত্বকালের। শিবলিঙ্গ চিহ্নিত এই ছুইটা 
মুদ্রার উপর ব্রাঙ্ধী অক্ষরে “কলঞ্র, শব মুদ্রিত আছে। অক্ষরের 
প্রমাণ হইতে উহা গুপ্ত সম্রাটদিগের সমসাময়িক বলিয়াই মনে হয়। 
থুঃ ৪৩৬ অবের করমদণ্ড লিপি হইতে অবগত হওয়া যায় যে সম্রাট 
গ্রথম কুমার গুপ্তের রাজত্বকালে, সমাট্‌ চঞ্জগুণ্ের কুমারামাত্যের 
পুত্র গৃথিবীসেন দেবোদ্েশে কিছু দান করিয়াছিলেন। এই লিপি 
শিবলিঙ্গের উপর ক্ষোদিত(১৭)। বন্ধুবর শ্রীযুক্ত অর্ধেন্্রকুমার গঙ্গো- 
পাধ্যায় মহাশয়ের সাহায্যে জানিতে পারিয়াছি ষে প্রাচীন চম্পারাজ্যে 
মহারাজ প্রথম ভর্রবন্শণ একটি শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করিয়াছিলেন। 


উপ শপ 


(১৭) 7231. 10010, ৬০1, ১০ 19০9-1০। 09. 71. 


এই লিঙ্গ পরবর্তীকালে “ঈশান ভড্জেশ্বর' নামে পরিচিত হইয়াছিল । 
তদ্রবন্মণ্র রাজত্বকাল ৩৮০ থুঃ অঃ হইতে ৪১৩ খুঃ অঃ পর্যন্ত । 
সুদুর ক্যান্বোডিয়া, দেশে অবস্থিত এই চম্পারাজা, ভারতীয় 
হিন্দু ওপনিবেশিকদিগের দ্বারাই গ্রতিষ্ঠিত হুইয়াছিল। আচার্য্য 
সিলভ্যা লেতী তাহার 'ফরাসীদেশে ভারততন্ক' (- [70191715706) 
বিষয়ক পুস্তিকায় বলিয়াছেন “ইন্দোচীন ভাবত হইতেই.সভ্যতা- 
লোক প্রাপ্ত হইয়াছিল। ভারতের পবিত্র ভাষা, ভারতীয় শিল্প, 
সমাজপদ্ধতি ও প্রতিষ্ঠানাদি সমস্তই খৃঃ প্রথম শতাবীতে ইন্দোচীনে 
সতেজে উন্নতি লাভ করিয়। অপূর্ব গ্রীসম্পনন হইয়াছিল ৷ খুঃ চতুর্থ 
বা পঞ্চম শতাবীর বহুপুর্ব হইতে ভারতে লিঙ্গোপাসন৷ প্রতিষ্ঠিত 
না! থাকিলে বিদেশে লিঙপুজা প্রচারিত হওয়ার কোনও সম্ভাবনা 
ছিল না। অতএব অনুমান করিতে পার যায় ষে খৃঃ প্রথম ও 
দ্বিতীয় শতাবীতেও লিঙ্গমূত্তি ভারতবর্ষে শিবোপাসকদিগের মধ্যে 
বিগ্রহর্ূপে স্থান পাইয়াছিল। চম্পাদেশের রাজ! শ্রীমার বর্ণের 
ইতিবৃত্তে চম্পারাজ্যে সর্বপ্রথম শিবমন্দির প্রতিষ্ঠার সংবাদ পাওয়া 
যায়। গ্রামার বর্মণ ১৯২ থ্‌ঃ অবে সিংহাসনে অধিরোহণ করেন। 
তৃতীয় শতাবীর প্রথম অকে উৎকীর্ণ তাহার পুর বা পত্রের 
শিলালিপিতে, গ্রীমার বর্ণ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এই শিবমন্দিরের জন 
দানের কথার উল্লেখ রহিয়াছে (১৮)। 

পণ্ডিতপ্রবর মহামহোপাধ্যায় আচার্য হরপ্রসাদ শাস্ত্রী মহাশয় 
সম্প্রতি বঙ্গীয় সাহিত্যপরিষৎ সভান্ন 'শিব' সম্বন্ধে ষে (১৯) প্রবন্ধ 


(১৮) 01591610515 2২05800050৩ ০1021001999 00209106511 


১ 319-358. 
(১৯) এই প্রবন্ধ সাহিত্য-পরিষৎ পত্তিকায় প্রকাশিত হইবে। 


1/৩ 


পাঠ করিয়াছেন তাহাতে শিব ব্রাত্যগণের দেবতারূপেই পরিচিত 
হইয়াছেন। ব্রাত্যগণ আর্য; তাহার! অনার্ধ্য ছিলেন না; তবে 
সনাতন আধ্যসমাজে পরবর্তীকালে তাহারা পতিত বলিয়৷ বিবেচিত 
হইতেন। শিব ও বৈদিক রুদ্র ষে অভিন্ন শাস্ত্রী মহাশয় এ মত 
অনুমোদন করিতে পারেন নাই (২*)। শিব ব্রাত্যদিগের দেবত! 
ছিলেন বলিয়াই বোধ হয় তাহার নির্মাল্য ব! প্রসাদ গ্রহ্ণীয় বলিয়া 
বিবেচিত হয় না। লিঙ্গ আদৌ অনার্ধযদিগের দেবতা হউক বা না 
হউক এবং লিঙ্গপূজা ভারতে বতপূর্বেই প্রচলিত থাকুক, প্রবাদ 
মানিলেও ভূবনেশ্বরের মন্দিরের নির্মাণকাল সপুম শতার্ধীর পূর্বে 
লওয়1 যায় না। ভারতের প্রাচীনতম শিবমন্দির বেরেলী জেলায় 
রামনগরে অবস্থিত। এই স্থানেরই প্রাচীন নাম অহিচ্ছত্র । এই 
অধুনা-বিনষ্ট ইঞ্টক নির্মিত মন্দিরের কুটিম-নিয়ে মিত্ররাজগণের মুদ্র। 
পাওয়! যায়) ইহা হইতেই মন্দির নির্মাণকাল খৃষ্টপূর্ব বা খৃষ্টপর 
প্রথম শতাব্দী বলিয়া অনুমিত হুইয়াছে। গৃহনির্দাণের উপকরণ 
রূপে প্রস্তরের অধিক প্রচলন হওয়ার পূর্বে দেবার়তন ইষ্টকনির্মিত 
হওয়াই স্বাভাবিক কিস্তু ভারতবর্ষের আবহাওয়ায় মন্দিরটির যে 
এযাবৎ কোনও চিন্ধ বিস্তমান রহিয়াছে ইহাই আশ্চর্যের বিষয় । 
ভুবনেশ্বরে যতগুলি মন্দির আছে তাহার কথা বিস্তারিত ভাবে 
লিখিতে গেলে একথানি সুবৃহ গ্রন্থ রচন! করিতে হয়। সে শক্তি 
বা! অবসর এ সামান্য লেখকের নাই। আমরা প্রধানতঃ লিঙ্গরাজ 
(২৯) সমৃহার্থ ব্রাত শব হইতেই 'ভ্রাত) শব নিশ্পয্প হইয়াছে। পতিত 
ব্রাঙ্গণ অর্থেও ব্রাত/শষ্ের প্রয়োগ দেখ! যায় । অধর্ববেদ ১৫১ ৮ ও ১) ১৫, ৯ 
১ মন্ত্রে বরাত শবের প্রয়োগ আছে, স্রাঙ্গণ ও রাজনগণ ব্রত্যোৎপন্র, এবং তথায় 


ত্রাতাগণের গগযত্ব প্রতিপাদিত হইয়াছে । অমরফোধ নতে ভ্রাতা সংস্কারহীন 
(“জ্রাত)ঃ নংন্বারহীনঃ ভভাৎ* )। 


8৮০ 


মন্দিরের বর্ণনা করিয়া তৎপ্রসঙ্গে বিন্দু সরোবর ও অনস্ত বাস্থদেব 
মন্দিরের কথা সাধ্যমত আলোচন! করিয়াছি কিন্ত আমাদিগের 
বিবরণ অনেক স্থলেই অসম্পূর্ণ রুহিয়! গিয়াছে । প্রত্বতত্বের অনেক 
উপাদান এখনও ভুবনেশ্বর তীর্থের নানা স্থানে বিক্ষিপ্ত রহিয়াছে__ 
সেগুলি অদ্যাপি বিহ্বৎ-সমাজে উপস্থাপিত হয় নাই সুতরাং প্রত্ব- 
তত্বের দিক দিয়া ইহার শেষ কথা মীমাংসা হইবার এখনও বিলম্ব 
আছে। তীর্ঘমাহাত্মা ও পৌরাণিক গ্রস্থাদিতে ভুবনেশ্বর তীর্থের 
অন্তর্গত মন্দিরাদির যে উল্লেখ পাওয়া যায়, তাহ! আমর! যথাসম্ভব 
রস্থ-মধ্যে সঙ্মিবি্ট করিয়াছি। বৈষ্ণব গ্রন্থে ভূবনেশ্বরের আশানুরূপ 
বর্ণনা পাওয়া যায় না। মহাপ্রভু চৈতন্যদ্দেব যখন নীলাচলের পথে 
ভূবনেশ্বরে গমন করেন তখন তীহার মনঃপ্রাণ পুরুষোত্তম দর্শনের 
জন্যই ব্যাকুল হইয়াছিল। ক্রিভূবনেশ্বরের চলৎপতাক* মন্দির দেখিয়া 
ভক্তিবিহ্বল চিত্তে ভূলুষ্ঠিত হুইয়! প্রথম করিলেও তিনি পুরুষোত্তমের 
ন্যায় তথাম্ম দেবতার আবির্ভাব দর্শন করেন নাই । জগরাখ মন্দির 
দেখিক়াই কিন্তু তাহার ভাবোম্সেষ ঘটিয়াছিল। দেউল-ধ্বজ। হইতে 
ভীীভগবান দ্বয়ং সুন্দর বালকের ব্ধূপ পরিগ্রহ করিয়৷ তাহাকে 
ডাকিতেছেন এ কথ! তিনি সঙ্গীদিগকে জানাইয়াছিলেন £-_ 
“আমাকে ডাকয়ে করকমল লাবণ্য । 
কম করে বেধু শোভে ভ্রিজগৎ্ ধন্য ॥” (২১) 

তাই মনে হয় শ্রীরুষ্ণ-চৈতন্যের অনুচর বৈষ্কবগণ কোনও 
সাম্প্রদায়িক সঙ্কীর্ততার জন্য এই শৈবতীর্থের মাহাত্ম্কীর্তন 
করিতে বিরত ন৷ হইলেও এ পরাহ্ুখত! কতকটা আপন! হইতেই 
আসিয়া পড়িম়্াছে। লিঙ্গরাজ মন্দিরের বর্ণনাকালে, আমাদিগকে 


(২১) লোচনঘাসের চৈতন্যহঙ্গল, মধ্য খণ্ড (বঙ্গযাসী সংস্করণ ) পৃঃ ১৬৪ 


$০/০ 


অনেক স্থলে আধুনিক গ্রস্থাদির উপর নির্ভর করিতে হইয়াছে। 
আমরা! সরকারী পূর্তবিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত বঙ্গদেশীয় প্রাচীন 
স্থাপত্য কীর্তির বিবরণী (119 01 £5170160% 10000060105 81) 
57891 ) হইতে যথেষ্ট সাহায্য পাইয়াছি। পাদটাকায় এ পুস্তকের 
নাম সকলস্থলে প্রদত্ত হয় নাই বলিয়। এ কথার এখানে উল্লেখ কর! 
প্রয়োজন মনে করিলাম । 

ভূবনেশ্বরের মুর্তিগুলি যে “সপ্ততাল” শ্রেণীর এ কথ বন্ধুবর 
শ্রীধুক্ত মনোমোহন গল্পোপাধ্যায় নিজ গ্রন্থে উল্লেখ করিয়াছেন। ন্যর্গায় 
টি, এ, গোপীনাথ রাও তাহার 'তালমান” বিষয়ক গ্রন্থে বিভিন্ন 
শ্রেণীর মুত্তির পরিমাপাদদি সম্বন্ধে আলোচন! প্রসঙ্গে বলিয়াছেন যে, 
সপ্$তাল মূর্তি বেতাল, প্রেত ও গণদিগের জন্যই নির্দিষ্ট ছিল 
(২২)। ব্রন্ধা॥ শিব, বিষু। এই ত্রিমৃত্তি ১২৪ দেহাঙ্গুলের উত্তম- 
দশ-তাল পরিমাপানুসারে নির্মিত হইত। উমা, সরম্বতী, ছর্গা 
সপ্তমাতৃকা, ভূমিদেবী, শীদেবী প্রভৃতি দেবীমুর্তির ১২০ দেছানুলের 
মধ্যম-দশ-তাল পরিমাপ নির্দিষ্ট ছিল। ইন্দ্র, লোকপাল, চঙ্জা, সুর্য, 
স্বাদশ আদিত্য, রুদ্র, অষ্টবস্থ, গরুড়, হুগা, গুহ ( কার্তিকের ) সপ্তধি, 
ক্ষেত্রপাল প্রভৃতি বিগ্রহ ১১৬ দেহাঙ্গুলের দশতাল পরিমাপের হইত। 
কুবের ও নবগ্রহের মুর্তি নবার্ধতাল, বঙ্গ, অপ্সরা! প্রড়তির মুর্তি 
নবতাল এবং মানবমৃর্ঠি অষ্টতালের অধিক হইত ন! (২৩)। কেবল 
ভৈরব, বরাহ, নরসিংহ প্রভৃতি ক্র,র দেবতার মৃত্তি দ্বাদশতালে নির্মাণ 
করার রীতি ছিল। শুক্রনীতি মতে নবতাল দেবমৃত্তি, এবং দশ- 





(২২) 221870202, 01 10900772609 ( 81679011501 1115 4০, 
901569 ০1 1700189 ০, 3 ) 000. 4০, 42. 
(২৩) 11910) ০0, 4০, 


৮৪ 


তাল রাক্ষস মূর্তির জন্য নির্দিষ্ট ছিল (২৪)। মধ্মাঙ্ুলীর অগ্রভাগ 
হইতে ফরতলের শেষভাগে মণিবন্ধের সীম! পর্য্যন্ত যে দৈর্ঘ্য 
তাহারই সাধারণ নাম 'তাল”। শিল্পশান্ত্রে তাল বলিলে করোটি 
হইতে চিবুকের নিয়নভাগ পর্যাস্ত যে দৈর্ঘ্য তাহাই বুঝায়। মূর্তির 
দেহের সমগ্র দৈর্ঘ্য, ১২৪, ১২০, ১১৬ সমান ভাগে বিভক্ত করিলে 
তাহার এক একটি ভাগ দেহাঙ্গুল বলিয়৷ অভিহিত হইত। . দশতাল 
হইলেই যে মূর্তিটি 'তাল' পরিমাপের দশগুণ হইয়া থাকে তাহা 
নহে; ১২৪ আঙ্গুলের উত্তম দশতাল মূর্তিতে মুখাবয়বের দৈর্ঘ্যের 
অনুপাতে মূর্তির সমগ্র দৈরধ্য নয়গুণ মাত্রও দেখা গিয়াছে। প্রযুক্ত 
মনোমোহন গঙ্গোপাধ্যায় সকল শ্রেণীর মুর্তির পরিমাপ গ্রহণ করিয়া- 
ছিলেন কি ন! জানিন!) কিন্তু সগুতাল দেবমৃত্তি হইলেই যে শিল্পশান্ত্ে 
ব্যতিক্রম ঘটিবে এরূপ নহে। শ্বরগী্ন গোপীনাথ রাও নিজ গ্রন্থে স্পষ্টই 
উল্লেখ করিয়াছেন যে প্রত্যেক দের্শ বা প্রদেশের প্রথা অনুসারে 
দেবমুর্তি সপ্ততাল বা অপর বিভিন্ন পরিমাপে নির্মিত হইতে পারিত 
কিন্তু শুক্রনীতির নির্দেশ মতে দেবী মৃর্তিগুলি শুধু সপ্ততালেই নিবন্ধ 
রাখিতে হইত (২৫)। মনে হয় কারণাগম, অংগুমদ্‌ ভেদাগম প্রভৃতি 
গ্রন্থ দক্ষিণ ভারতের স্থান বিশেষে স্থপরিচিত হইলেও শুক্রনীতির 
বিধিনিষেধ নিখিল ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে শিল্পিসমাজজে অধিক 
প্রসার লাভ করিয়াছিল। উড়িয় শিল্পী সপ্ততালে দেবমুস্তি নির্মাণ 
করিয়া যে দক্ষিণদেশীয় উপদেষ্টার গতানুগতিক হয় নাই তাহা স্পষ্টই 
বুঝিতে পার! যায়। যে পরিমাপে দেব এবং দেবী এই উতয়নবিধ 
ুর্ধিরই গঠনে কোনরূপ বাধা না ঘটে সাধারণ ক্ষেত্রে তাহাই অব- 
লন্বিত হওয়৷ ্বাভাবিক। 


(২৪) 1010, 1. 42. (২৫) 1010) ০, 42, 


৮/৬ 


ভুবনেশ্বরের মন্দিরে অষ্টসথা মূর্তির কথ! আমরা প্রথম 
অধ্যায়ে উল্লেখ করিয়াছি (২৬)। কাঞ্ধী নগরের কামাক্ষী দেবীর 
মন্দিরে মন্দিরস্থ বিগ্রহের সন্মুখভাগে যে পীঠম্‌ দেখা যায়, তাহা 
গ্শ্করাচার্ধ্য কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হইয়াছিল বলিয়! প্রবাদ আছে। 
এই পীঠমের অষ্ট্দিকে অষ্টলক্ষীর মুর্তি ক্ষোদিত রহিয়াছে (২৭)। 
এই অষ্টলঙ্ী ও ভূবনেশ্বরের অষ্টসথী একই শ্রেণীর মূর্তি--বস্ততঃ 
অষ্টসথী বা অষ্টলক্্ী অই্টদিগঙ্জন। ব্যতীত আর কিছুই নছে। 
কথিত আছে কামাক্ষী দেবীর প্রভাব হাস হইতে থাকার 
শঙ্কর এই অষ্টলক্ষী প্রতিষ্ঠা করিয়া দেবতার লুপ্ত গৌরব উদ্ধার 
করেন। তুবনেশ্বরে অষ্টসর্থীর মুর্তি সম্বন্ধে এন্সপ কোনও জন- 
প্রবাদের উদ্তব হইয়াছিল বলিয়া! জানা! যায় না। মঙ্গিরের বহি- 
ভাগে অভ্তাত অবস্থায় ন| থাকিয়া, অষ্টসথী মনিরাভ্যন্তরে মণি- 
কোঠায় বিগ্রহের নিকট সমাদরের সহিত প্রতিষ্ঠিত থাকিলে যে, 
কামাক্ষী মন্দিরের অষ্টলক্ষীর গায় কোনও জন্গ্রবাদের স্ষ্টি হইত 
না তাহা কে বলিবে? আমরা লিঙ্গরাজ পরিক্রম। অধ্যায়ে 
'চন্ত্রশেখর' নামক লিঙ্গয়াজ দেবের একটি ধাতব ভোগমূর্তির কথার 
উল্লেখ করিয়া বলিয়াছি যে এই মুর্তি লিঙ্গরাজ্জের প্রতিনিধি ব্বরূপ 
বিভিন্ন উৎসব স্থানে নীত হইয়া! থাকে এবং রথযাত্রাকালে এই 
মুর্ঠিটিকেই রথে আরোহণ করাইয়া “বড়দাও, পরিক্রমণ করান 
হয় (২৮)। চন্দ্রশেখর মূর্তি দক্ষিণ ভারতে সুপরিচিত (২৯)। 

(২৬) ভুবনেশ্বরের কথা, প্‌ঃ৯। 

(২৭) 4)78115 9০০) 100180 51)107065) 0, 23. 

(২৮) তুবনেখরের কথা, পৃঃ ৫০, ৫২। 


(২৯) 0. টি. চ৪০১ 17170, 1007, ৮০1, 11, 7১, 1, 79, 118) 122 
5, 92, 


৮৮/৩ 


চন্ত্রশেখর বিগ্রহ সাধারণতঃ তিনটি বিভিন্ন শ্রেণীতে বিতক্ক ) 
(১) “কেবল চত্রশেখর'_ ইহাতে শুধু দেবতারই মূর্তি থাকে 
(২) 'উমা সহিত 'চন্দ্রশেখর+__ইহাতে দেব ও দেবী একই পাদদপীঠ 
ৰা বিভিন্ন ছুইটা পাদপীঠের উপর দণ্ডায়মান দেখা যায় (৩) “আলিঙন 
মূর্তি ইহাতে চন্ত্রশেখর তীহার একটি বামহস্তের দ্বারা দেবীকে 
আলিঙ্গন করিয়া থাকেন। চন্দ্রশেখর মুর্তি দগ্ডারমান' ভাবেই 
পরিকল্পিত হইয়া থাকে । তাহার চারিহস্তের মধ্যে নিম্নের ছুইটি 
ৰরদ ও অভয় মুদ্রায় বিন্যস্ত । দক্ষিণের উর্ধ হস্তে তিনি টন্ক বা পরগু 
এবং বামদিকের উর্ধ হস্তে কৃষ্ণসারমূগ ধারণ করিয়া থাকেন । ভীযুক্ত 
পি, ভি, জগদীশ আইয়ার মারবরম্‌ নামক দক্ষিণ ভারতের তীর্থে 
মযূরনাথ মন্দিরে অবস্থিত শিবের 'আলিঙ্গন' মূর্তির প্রসঙ্গে চন্দ্রশেখর 
নামক 'বিহসিতানন *শাস্তমুর্তি' বিগ্রহের উল্লেখ করিয়াছেন। ইহা 
পগ্রদোষ মুর্তি” নামে পরিচিত । প্রতি পক্ষের চতুর্দশী তিথিতে এই 
“চন্্রশেখর” বিগ্রহ শোভা-যাত্র। করিয়া মন্দিরের বাহিরে নীত হইয়া 
থাকে (৩) সুতরাং এ মৃর্িটিকেও ভোগমুত্তি বলা যাইতে পারে। 
চন্দন যাত্রা! কালে স্বয়ং জগন্নাথ দেবের ভোগমৃত্িও যে নরেজ 
সরোবরে নীত হইয়া থাকে এ কথা আমরা প্রথমখণ্ডে, নরেন 
সরোবর অধ্যায়ে উল্লেখ করিয়াছি (৩১ )। টেপ্নকুলম্‌ প্রভৃতিতে 
দেব-বিগ্রছের জলবিহারের ন্যায়, মন্দিরের বাহিরে উৎসবাদি 
উপলক্ষে ভোগমৃত্তি আনন্ননের প্রথাটিতেও, দাক্ষিপাত্য ও উৎকলীয় 
রীতির যথেষ্ট সৌসাদৃহা ও সামঞ্জস্য দৃষ্ট হইয়া থাকে । আমর! 


(৩০ ) 5০090) [10017 9011065) 10. 5, 
(৬১) পুরীর কথা, পৃঃ ১২১। 


/8/ও 


ভূবনেশ্বরের কথার প্রথম অধ্যায়ে (৩২) লিঙ্গরাজ মন্দির গান্রস্থ 
দেব দেবীর বিবাহের একটি চিত্রকে হরপার্বতীর বিবাহের চিত্র 
অনুমান করিয়া তাহার সমর্থনকল্পে দেখাইয়াছি যে অষ্টম বা 
নবম শতাবধীর দেবমন্দিরে এবং প্রাচীন গুহাক্ষোদিত মন্দিরেও 
এইপ্রকার চিত্র দেখা যায়। দাক্সিণাতো কুস্তকোণমের পশ্চিম ভাগে 
অবস্থিত রাষস্বামীর মন্দিরের স্ুখস্থ মহামণ্ডপটিতেও পার্কবতী- 
পরিণয়ের একটি ক্ষোদদিত চিত্র আছে (৩৩ )। কিন্তু উৎকল শিল্পীর 
পরিবল্পন ও দক্ষিণাত্য শিল্পীর পরিকল্পনায় অনেক পার্থকা দেখা 
যায়। শেষোক্ত চিত্রে বরবধূ ও পরিজনবর্গ সকলেই ঠাড়াইয়া রহিয়া- 
ছেন; কিন্তু উড়িষ্যার এই শিল্পনিদর্শনে বিবাহুসভায় সম্প্রদাতার 
ক্রোড়ে উপবিষ্ট বধূর যে মধুর লঙ্জাবনত ভাব তাহা যেন বড়ই 
স্বাভাবিক বলিয়া মনে হয়। বিশৈষজ্ঞগণ উড়িষ্যার ভাক্ষর্যা সম্বন্ধে 
কোনও বিস্তারিত আলোচন৷ করিয়াছেন বলিয়! আমর! অবগত 
নহি। কয়েক বৎসর পূর্বে ডাঃ আনন্দকুমার স্বামী মডার্ণ রিভিউ 
পত্রিকার কোনারকের ভাঙ্কধ্যের কথার আলোচনা করিয়াছিলেন 
কিন্তু ভূবনেশ্বরের কথা তাহাতে সেরূপ স্থান পায় নাই। 

অন্ত বাস্থদেব অধ্যায়ে প্রদত্ত ভবদেব (৩৪) ভট্টের বংশ- 
লতিকায় অসাবধানতা বশতঃ ছুই এক স্থলে ভ্রম ঘটিয়াছে। অত্যঙ্গের 
পিতার নাম রথাঙ্গ। মুদ্রাকর প্রমাদ বশতঃ রথাঙগ রঙ্গনাথরূপে মুদ্রিত 
হইয়াছে । গ্রীআদিদেবের পত্বীর নাম দেবকী, সরন্বতী নহে। 


(*২) জিতৃনেশ্বর অধ্যার়, পৃঃ ১৭। 
(*৩) 49815 9900. 1170101) 3101015557৮. 45? 1 72. 
(৩৪) ভূবনেম্বরের কথা; পৃঃ ৯৬। 


১৯ 

আদিদেবের পুঞ্ধ গোবর্ধান স্বিপত্বীক ছিলেন। তাহার ছুই স্ত্রীর নাম 
সরম্বতী ও সাঙ্গোকা। 

আর ছুই একটি সামান্য তূলচুকের কথার উল্লেখ করিলেই আমার 
বক্তব্য সমাপ্ত হয়। লিঙ্গরাজ পরিক্রমা অধ্যায়ে (৬৫ পৃষ্ঠায়) 
0101%50৩1 এই নামটির অনুলিপি গ্রাণওয়েডেল না হইয়া 
গুএণবেডেল হইবে । এই পৃষ্ঠার আর ছইটি ছাপার ভুল শুদ্ধিপত্রে 
প্রদত্ত হইলেও পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্ত এস্লে উল্লেখ কর! 
প্রয়োজন বিবেচনা করিতেছি । চারুমতী কর্তৃক নেপালে মঠ বা 
বিহার প্রতিষ্ঠার কাল থুঃ পুঃ তৃতীয় শতাব্দী, খুঃ তৃতীয় শতাবী 
নহে। ৬৫ পৃষ্ঠার ৪২ সংখ্যক পাদটাকায় প্রদত্ত ওল্ডফিন্ড রচিত 
নেপাল গ্রন্থের দ্বিতীয় খণ্ডের ১৯৮ পৃষ্ঠ স্থলে ভ্রমক্রমে ৯৮ পৃঃ 
মুদ্রিত হুইয়াছে। উক্ত গ্রন্থে চারুমতী কর্তৃক গণেশ মন্দির 
প্রতিষ্ঠার কথা উল্লিখিত হইলেও ইহা! সমর্থনের জন্য কোনও 
্রতিহাসিক প্রমাণ প্রদত্ত হয় নাই। তাই মনে হয় সম্ভবতঃ 
লেখক প্রবাদের উপরই নির্ভর করিয়াছিলেন । নেপালের 
গণেশমন্দির শীর্ষক পরিশিষ্টে দেখাইয়াছি (৩৫) যে আচাধ্য 
সিলভ'যা লেভী গণেশমন্দির নির্মাণ বিষয়ে কোনও কথার উল্লেখমান্র 
করেন নাই। চারুমতী কর্তৃক বিহার নির্মাণের বৃত্তাস্তেই আস্থা 
স্থাপন করিয়াছেন। আমার কথা শেষ হুইয়াছে। পাঠকগণের 
গ্রতি অনুরোধ তাহার! যেন পুস্তক পাঠের পূর্বে শুদ্ধি-পত্রথানি 
দেখিয়! লয়েন। 


গ্রন্থকার । 


(৬৫) ভূবনে্বরে কথা, পৃঃ ১৪৫, ১৪৬। 


ত্রিভূবনেশ্বর | 


পুরী হইতে ভূবনেশ্বরে পুছিতে রাত্রি ১২|টা। ১টা হইল। 
র-এর নিকট ভুবনেশ্বর মোটেই অপরিচিত নহে। অন্ধ শকটবান্‌ 
হরিয়া৷ তাহার রৌপ্যবলয়ধারী ভাইটির সহিত “সোয়ারি, লইয়! রেল 
ষ্টেশনে উপস্থিত ছিল। র-এর কণ্ঠস্বর গুনিবামাত্র তৎক্ষণাৎ 
ছুটিয়া আমিল। হরিয়ার স্মরণশক্তি অসাধারণ। সে যাঁছুধরের 
শ্রীযুক্ত বাগী মহাশয় ও অপর কয়েকটি ভদ্রলোকের কথ৷ সাগ্রহে 
জিজ্ঞাসা করিতে লাগিল। ষ্টেশন হইতে মন্দির গ্রত্ৃতি প্রায় তিন 
মাইল আন্দাজ হইবে । ডাক-বাঙ্গলো আরও কিঞ্চিৎ দুরে অবস্থিত। 
আমরা প্রায় সকলেই নিদ্রালু, গাড়ীতে বসিয়! বিমাইতেছি, কেবল 
র-_-ও আর ছুই একজন হাটিয়া চলিয়াছেন; হরিয়৷ আপন মনেই 
বকিয়া যাইতেছে। ্বচ্ছ অন্ধকারের ভিতর দিয়া কয়েকটি 
কোঠাঘর দেখাইয়। হরিয়া বলিল, “বাগড়ী বাঝু এইখানেই 
বাসা লইয়াছিলেন।” তুবনেশ্বরে কেদারগোৌরী নামে এক উঃ 
প্রশত্রবণ আছে। তাহার জল অজীর্ণরোগের অমোঘ ওষধ বলিয়া 
পরিচিত। এই কারণে, শুধু তীর্ঘদশনার্থী বলিয়া নহে, অনেকে 
হাওয়া-পরিবর্ডনের জন্তও এখানে আঙিয়া থাকেন | শুনিয়াছি, 
কিছুদিন হইল, গোৌরীকুণ্ডের নিকটে কোন বাঙ্গালী ভদ্রলোকের 
উৎসাহে একটি স্বাস্থ্যনিবাসও সংস্থাপিত হইয়াছে। ক্রমে আমর! 
লিঙ্গরাজ দেউলের নিকট উপস্থিত হইলাম । দেউলশীর্ষে শৈব চিহ্ন- 
যুক্ত পতাক! পত্‌ পত্‌ শব্দে উড্ভীয়মান। মনে হুইল চৈতত্যাদেব 
এই সুধাবলিপ্ত, অপর শ্বেতগিরির স্থায় “বরশূক্গ সমুন্নত' “চলৎপতাক”, 


২ ভুবনেশ্বরের কথা । 


শূলবিচিত্রচুড়', “তোরণ মহত শিবমন্দির দর্শনমাত্র ভূমে 
নিপতিত হইয়। প্রণাম করিয়াছিলেন (১)। মন্দির-চূড়ার উপরিভাগে 
রাত্রিশেষে রাকার্টাদ বড়ই শোভা পাইতেছিল। দে-মুসে 
(13-$1055৩1) গির্জার চুড়ার উপর পুণচন্ত্র ভাসিতেছে দেখিয়া 
“আই, (1) অক্ষরের উপরের ফৌটার সহিত উহার তুলন! করিয়াছেন 
(1,810016 2010176 1) [১0101 5001 011) 1 স্বকবি আযুক্ত 
প্রমথ চৌধুরী মহাশয় মন্দিরশিরে চাদ নামিয়া আমিতে দেখিয়া 
আকাশের শিরে চন্দ্রবিন্দু আঁকিয়া সন্তপ্ট হইয়াছেন। এই বর্ণমালা- 
মূলক সাদৃশ্টের ভিতর কোন্টিতে অধিকতর বস্ত্ত্ত্রতা ফুটিয়া 
উঠিয়াছে, ভরস৷ করি নব্য বাঙ্গালী পাঠক তাহা সহজেই বিচার 
করিতে পারিবেন। 
গাড়ীগুলি ক্রমশঃ গ্রামের পশ্চিম-সীমাস্তে জেলা-বোর্ডের ডাক- 
বাঙ্গলোয় গিয়৷ উপস্থিত হইল । র-_এখানেই তাহার জিনিসপত্র 
রাখিয়। রাত্রির বাকী অংশটুকু অতিবাহিত করিবেন মনঃস্থ করিলেন। 
শকটবান্‌ “ম্বপনা” “ম্বপনা” বলিয়৷ বিকটস্বরে চীৎকার কৰিতেই 
বাঙ্গলোর চৌকীদারের স্বপ্রজড়িমা ভাঙ্গিয়৷ গেল। সে তাড়াতাড়ি 
দরজা খুলিয়৷ আগনম্তকগণকে অভার্থনা করিয়া লইল। আমর! 
বিছানায় আশ্রয় লইয়৷ ভূবনেশ্বরতত্বে মস্গুল হইলাম। বন্ধুবর 
(১) দদর্শ তজাধিল-শোতয়োজ্বলং 

চলৎ-পতাকং শিবষন্দিরং মহৎ । 

স্থধাবলিপ্তং বরশৃঙ্গমুন্নতং 

হ্থতোরণং শ্বেতগিরিমিবা পরম ॥ 

নিপতা তৃমৌ প্রগনাম দেব: 

শিবালয় শূলবিচিত্রচুড়ং ॥ 


শ্রীমন্-মুয়ারীগুপ্ত-প্রণীত ্রীঞ্রীচৈতভচরিতামৃতম্‌ (শ্রীযুক্ত মবণালকান্তি 
ঘোষের সংঙ্করণ ), পৃ: ১৩৪। 


ত্রিতুবনেশ্বর | ৩ 


বলিতে লাগিলেন, _“ভূবনেশ্বরের অপর নাম একাম্বন। একাম্র- 
তীর্থের জনশ্রুতি অতি প্রাচীনকাল হইতে চলিয়া আসিতেছে। 
মত্ন্তপুরাণে “একাত্্রকে” “কীর্তিমতী” নামক দেবীমৃর্তির উল্লেখ 
দেখা যায় (২)। কপিল-দংহিত। মতে পুরাকল্পে এখানে মুক্িপ্রদ 
এক আতর বৃক্ষ ছিল তাহা হইতেই এই নামটির উত্তব হয় (৩) । 


এক সময় উড়িষ্যার হিম্দুরাজগণ তুবনেশ্বরে দ্বিতীয় বারাণসী 
স্থাপনের প্রয়াস পাইয়াছিলেন। ব্রঙ্গপুরাণে ইনা 'বারাণসী-সমপ্রভং 
বলিয়া উক্ত হইয়াছে। তখন নিজ বারাণসীতে নাকি বড়ই শ্েচ্ছ- 
প্রভাব ছিল। উৎকলের এই নববারাণসীতে অনেকস্থুলে বারাণসীর 
অনুরূপ নামও ব্যবহৃত হইয়াছিল। কপিলেশ্বরের মন্দিরের সম্গুখস্থ 
স্নানের ঘাটের মণিকর্ণিকা নাম অগ্তাঁপি ইহার সাক্ষ্য দিতেছে (৪)। 


(২) মাতন,। ১৩) ২৯। 
(৩) “একা অবৃক্ষত্তত্রাসীৎ পুরা কল্পন্ত মুক্তিদঃ। 
তত্র চৈকে | ষতশ্চাগ্র স্তশ্মা্দে কামরকং বনং ॥* 
কপিল সংহিতা 115. 4. 5. 3.) 7১, 26. 
(৪) কপিল-সংহিতায় দেখিতে পাই যে বিধু শিষকে আর কাপী গমন ন! 
করিয়া এইখানেই যান করিতে বলায় শিব বলিতেছেন, কাঁশীতে ঠাহায জাহবী 
রছিয়াছেন, 'সর্ববতীর্ঘময়ী' পুণ্য তীর্ঘ মণিকর্ণিক! রহিয়াছেম, অতএব তিনি 
তথায় বাইযেন না কেন? ইহার উত্তয়ে [বিঞু বলিতেছেন, সেখানে যেরূপ 
মণিকার্ণকা, এখানে মেইরূপ পাষাণ গুল্ম বৃক্ষলতািতে আচ্ছন্ন পাপনাশিনী 
তাহার অগ্রভাগেই বিদ্যমান; এখানেও ঠাহার পাঁদাগ্রচ্ুত। শুভ! জাহ্কবী দেবী 
রছিয়াছেদ। এন্বলে একাআকাননন্ব মশিকর্ণিকার উল্লেখ ন! থাকাঘ মনে 
হয় কপিলেশ্বর সরিছিত জলাবতরণ পথের 'মণিকণিকা, নামকরণ, ফপিল- 
সংহিতা রচনার পরবস্তীকালে, সম্ভবতঃ খৃঃ আরয়োদশ কি চতুর্দশ শতাব্দীতে 
হইয়া খাকিবে। 


১. 


আদিদেবের পুত্র গোবর্ধন দ্বিপত্বীক ছিলেন। তাহার ছুই স্ত্রীর নাম 
সরম্বতী ও সাঙ্গোক।। 

আর ছুই একটি সামান্ত তৃলচুকের কথার উল্লেখ করিলেই আমার 
বক্তবা সমাপ্ত হয়। লিঙ্গরাজ পরিক্রমা অধ্যায়ে (৬৫ পৃষ্ঠায়) 
01000/506] এই নামটির অনুলিপি গ্রাণওয়েডেল না! হইয়া 
গ্রএগবেডেল হইবে । এই পৃষ্ঠার আর ছুইটি ছাপার ভুল শুদ্ধিপত্রে 
প্রদত্ত হইলেও পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্ত এন্থলে উল্লেখ কর! 
প্রয়োজন বিবেচনা! করিতেছি । চারুমতী কর্তৃক নেপালে মঠ বা 
বিহার প্রতিষ্ঠার কাল থৃঃ পুঃ তৃতীয় শতাব্দী, থৃঃ তৃতীয় শতাব্দী 
নহে। ৬৫ পৃষ্ঠার ৪২ সংখ্যক পাদটীকায় প্রদত্ত ওন্ডফিন্ড রচিত 
নেপাল গ্রন্থের দ্বিতীয় খণ্ডের ১৯৮ পৃষ্ঠা স্থলে ভ্রমক্রমে ৯৮ পৃঃ 
মুদ্রিত হইয়াছে । উক্ত গ্রন্থে চারুমতী কর্তৃক গণেশ মন্দির 
প্রতিষ্ঠার কথা উল্লিখিত হইলেও ইহা! সমর্থনের জন্য ফোনও 
গ্রতিহাসিক প্রমাণ প্রদত্ত হয় নাই। তাই মনে হয় সম্ভবতঃ 
লেখক প্রবাদের উপরই নির্ভর করিয়াছিলেন । নেপালের 
গণেশমন্দির শীর্ষক পরিশিষ্টে দেখাইয়াছি (৩৫) যে আচার্য্য 
সিলভা'যা লেভী গণেশমন্দির নিম্মীণ বিষয়ে কোনও কথার উল্লেখমাত্র 
করেন নাই। চারুমত্তী কর্তৃক বিহার নিম্মাণের বৃত্তাস্তেই আস্থা 
স্থাপন করিয়াছেন। আমার কথা শেষ হইয়াছে । পাঠকগণের 
প্রতি অনুরোধ তাহার! যেন পুস্তক পাঠের পূর্বে শুদ্ধি-পত্রধানি 
দেখিয়া লয়েন। 


১১১১১১১১১১১ 


€৬৫) ভূবনেশ্বরে কথা, পৃঃ ১৪৫) ১৪৬। 


ব্রিভূবনেশ্বর | 

পুরী হইতে তুবনেশ্বরে পুছিতে রাত্রি ১২টা। ১টা হইল। 
র-এর নিকট ভুবনেশ্বর মোটেই অপরিচিত নহে। অন্ধ শকটবান্‌ 
হিয়া তাহার রৌপ্যবলয়ধারী ভাইটির সহিত “সোয়ারি' লইয়া রেল 
স্টেশনে উপস্থিত ছিল। র-এর কণঠম্বর শুনিবামাত্র তৎক্ষণাৎ 
ছুটিয়া আসিল। হরিয়ার স্মরণশক্তি অসাধারণ। সে যাদুধরের 
শ্রীযুক্ত বাগন্ঠী মহাশয় ও অপর কয়েকটি ভদ্রলোকের কথা সাগ্রহে 
জিজ্ঞাসা করিতে লাগিল । ষ্টেশন হইতে মন্দির প্রভৃতি প্রায় তিন 
মাইল আন্দাজ হইবে । ডাক-বাঙ্গলো৷ আরও কিঞ্চিৎ দূরে অবস্থিত। 
আমরা প্রায় সকলেই নিদ্রালু, গাড়ীতে বসিয়া বিমাইতেছি, কেবল 
র-_-ও আর ছুই একজন হর্টিয়া চলিয়াছেন; হবিয়া আপন মনেই 
বকিয়া যাইতেছে। ম্বচ্ছ অন্ধকারের ভিতর দিয়া কয়েকটি 
কোঠাঘর দেখাইয়! হিয়া বলিল, “বাগডী বাবু এইখানেই 
বাসা পইয়াছিলেন।” ভুবনেশ্বরে কেদারগৌরী নামে এক উষ্ণ 
প্রশ্নবণ আছে। তাহার জল অজীর্ণরোগের অমোঘ ওষধ বলিয়া 
পরিচিত। এই কারণে, শুধু ভীর্থদশনাথী বলিয়া নহে, অনেকে 
হাওয়াঁপরিখত্তুনের জন্তও এখানে আসিয়া থাকেন | শুনিয়াছি, 
কিছুর্দিন হইল, গৌরীকুণ্ডের নিকটে কোন বাঙ্গালী ভদ্রলোকের 
উৎসাহে একটি স্বাস্থ্যনিবাও সংস্থাপিত হইয়াছে। ক্রমে আমরা 
লিঙ্গরাজ দেউলের নিকট উপস্থিত হইলাম। দেউলণীর্ষে শৈব চিন্ন- 
মুক্ত পতাকা পত্‌ পত্‌ শব্ধে উড্ভীয়মান। মনে হইল চৈতন্যদেব 
এই দুধাবলিগ্ত, অপর শ্বেতগিরির ন্যায় “বরশূঙ্গ সমুন্নত “চলৎপতাক”, 


২ তুবনেশ্বরের কথ! । 


'শ্লবিচিত্রচুড়, “তোরণ, মহৎ শিব-মন্দির দর্শনমাত্র ভূমে 
নিপতিত হইয়া প্রণাম করিয়াছিলেন (১)। মন্দির-চুড়ার উপরিভাগে 
রাত্রিশেষে রাকা্টাদ বড়ই শোভা পাইতেছিল। দে-মুসে 
(1)৮-1555€) গি্জার চুড়ার উপর পুর্ণচন্ত্র ভাসিতেছে দেখিয়া 
“আই? (1) অক্ষরের উপরের ফৌটার সহিত উহার তুলন। করিয়াছেন 
(12 100776 ০০১71501900 ১0৫ 87) 1) 1 স্থৃকবি শ্রীযুক্ত 
প্রমথ চৌধুরী মহাশয় মন্দিরশিরে চাদ নামিয়া আমিতে দেখিয়া 
আকাশের শিরে চন্দ্রবিন্দু আঁকিয়া সন্তষ্ট হইয়াছেন। এই বর্ণমালা- 
মূলক সাদৃশ্তের ভিতর কোন্টিতে অধিকতর বস্ততন্ত্রতা ফুটিয়া 
উঠিয়াছে, ভরস! করি নব্য বাঙ্গালী পাঠক তাহা সহজেই বিচার 
করিতে পারিবেন। 

গাড়ীগুলি ক্রমশঃ গ্রামের পশ্চিম-সীমাস্তে জেলা-বোর্ডের ডাক- 
বাঙ্গলোয় গিয়৷ উপস্থিত হইল। র- এখানেই তীহার জিনিসপত্র 
রাখিয়া রাত্রির বাকী অংশটুকু অতিবাহিত করিবেন মনঃস্থ করিলেন । 
শকটবান্‌ “ম্বপনা” “স্বপনা” বলিয়া বিকটস্বরে চীৎকার করিতেই 
বাঙ্গলোর চৌকীদারের স্থপ্রজড়িমা ভাঙ্গিয়া গেল। সে তাড়াতাড়ি 
দরজ] খুলিয়া আগন্তকগণকে অভ্যর্থনা করিয়া লইল। আমরা 
বিছানায় আশ্রয় লইয়া! ভূবনেশ্বরতত্বে মস্গুল হইলাম। বদ্ধুবর 


(১) দদর্শ তত্রাখিল শোতয়োজ্বলং 
চলৎপতাকং শিবনন্দিরং মহৎ । 
স্ধাবলিপ্তং বয়শূঙমুগ্নতং 
স্বতোরণং খেতগিরিমিবাপরষ্‌ ॥ 
মিপতা ভূমৌ প্রণনাম দেব; 
শিবালয়ং শূলবিচিত্রচুড়ং ॥ 
ধীমন্মুরানীগুপ্ত-প্রণীত আঞ্ীচৈতভচরিতামৃতম্‌ (প্রীযুক্ত মৃণালকান্তি 
ঘোষের সংশ্করণ ), পৃ: ১৩৪। 


ত্রিতুবনেশ্বর। ৩ 


বলিতে লাগিলেন, _“ভূবনেশ্বরের অপর নাম একাঅবন। একাআ- 
তীর্থের জনশ্রুতি অতি প্রাচীনকাল হইতে চলিয়। আসিতেছে। 
মতন্তপুরাণে “একাত্রকে” “কীর্তিমতী” নামক দেবীমৃত্তির উল্লেখ 
দেখা যায় (২)। কপিল-সংহিতা মতে পুরাকল্পে এখানে মুক্কিপ্রদ 
এক আত্ম বৃক্ষ ছিল তাহা হইতেই এই নামটির উদ্ভব হয় (৩) । 
একসময় উড়িষ্যার হিন্দুরাজগণ ভূবনেশ্বরে দ্বিতীয় বারাণসী 
সংস্থাপনের প্রয়াস পাইয়াছিলেন। ব্রহ্মপুরাণে ইহা 'বারাণসী-সমপ্রভং, 
বলিয়া উক্ত হইয়াছে । তখন নিজ বারাণসীতে নাকি বড়ই শ্নেচ্ছ- 
প্রভাব ছিল। উৎকলের এই নববারাণসীতে অনেকস্থলে বারাণসীর 
অনুরূপ নামও ব্যবহৃত হইয়াছিল। কপিলেশ্বরের মন্দিরের সম্মুথন্থ 
ন্নানের ঘাটের মণিকর্ণিক। নাম অগ্যাপি ইহার সাক্ষ্য দিতেছে (৪)। 


(২) মানত, ১৩ ২৯। 
(৩) “একাঅবৃক্ষস্তত্রাসীৎ পুরা কল্প মুক্তিদঃ। 
তত্র চৈকে | বতশ্চাগ্র স্তম্মাদে কাআ্রকং বনং 1” 
কপিল সংহিতা 15. /, 5. 03.) 7১. 26. 

(৪) কপিল-সংহিতায় দেখিতে পাই যে বিষণ শিবকে আর ফাদী গমন ন! 
করিয়! এইখানেই বাম করিতে বলায় শিব বলিতেছেন, কাশীতে তাহার জাহ্নবী 
রহিয়াছেন, 'সর্ববতীর্থময়ী' পুণ্য তীর্থ মণিকর্ণিক! রহিয়াছেন। অতএব তিনি 
তথায় যাইবেন না কেম? ইহার উত্তয়ে [বিপু বলিতেছেন, সেখানে যেরূপ 
ষণিকার্ণক1, এখানে সেইরূপ পাধাণ গুল্ম বৃক্ষলতাদ্িতে আচ্ছন্ন পাপনাশিনী 
তাহার অগ্রভাগেই বিদ্যমান; এখানেও তাহার পাদাগ্রচ্যুত। শুভা৷ জাহবী দেবী 
রহিয়াছেদ। এস্বলে একাঅফাননগ্ক মণিকর্ণিকার উল্লেখ ন1 থাকায় মনে 
হয় কপিলেশ্বর সঙ্লিছিত জলাবতরণ পথের 'মপিকপিকা॥ নামকরণ, কপিল- 
সংহিতা রচনার পরবতীকালে, সম্ভবতঃ থুঃ ত্রয়োদশ কি চতুর্দশ শতাবীতে 
হইয়া খাফিবে। 


৪ তুবনেশ্বরের কথা। 


পূর্ব খণ্ডগিরি হইতে উৎপন্না গন্ধবততী-নান্ী (৫) একটি কষুদ্রকায়া 
স্রোতশ্থিনী ভুবনেশ্বর গ্রামের পূর্ব, পশ্চিম ও উত্তর প্রীস্ত বিধৌত 
করিয়া প্রবাহিত ছিল। একাম-পুরাণ মতে উড়িম্যাস্থ এই 
বারাণসীতে ইহাই গঙ্গানামে প্রকীর্তিতা। নদীটির আর পূর্বাবস্থা 
নাই, এখন স্থানে স্থানে প্রায় পয়ঃপ্রণালীরূপে বিদ্তমান রহিয়াছে। 
একাজ-পুরাণ, "শিব-পুরাণ, কপিল-সংহিতা প্রভৃতি আনুমানিক 
চতুর্দশ শতাবীতে রচিত গ্রন্থনিচয়ে ব্রিভূবনেশ্বরমাহাত্ম্য বিবৃত 
আছে। পক্নপুরাণ গ্রন্থে দেখা যায় যে, বিন্দুসরোবরে স্নান ও 
ত্রিতৃবনেশ্বর দর্শন করিলে মনুষ্য জ্যোতির্লোকে গমন করিয়া থাকে । 
কপিল-সংহিতাকার একাম্রবিপিনে ত্রিভূবনেশ্বর দর্শনমাত্র মোক্ষ- 
প্রাপ্তির কথা উল্লেখ করিয়া বলিয়াছেন যে, যে ব্যক্তি কোটিলিলেশ্বর 
প্রদক্ষিণ করে প্রতিপদক্ষেপে সে ব্রঙ্গপদের সঙ্গিহিত হয় ('পদাৎ পদাৎ 
ব্রহ্মপদং তেষাং সন্লিহিতং ভবে) (৬)। স্থানমাহাত্য্ে বিশ্বীস-প্রাবল্য 
হেতু এক সময় তুবনেশ্বরে দেবমন্দিরের অস্ত ছিল না। শুনিতে পাই, 
বিন্দুসাগর তীর্থের চারিপার্থে নাকি অন্যন সাঁত সহত্ম দেউল 
প্রতিষ্ঠিত হইয়াছিল। প্রবাদ আছে, কেশরীরাজগণ তথার এক লক্ষ 
শিবলিঙ্গ স্থাপন করিতে অভিলাধী হইয়াছিলেন ; কিন্তু তাহাদের 
সে সদিচ্ছা পুর্ণ হয় নাই (৭)। কপিল-সংহিতায় লিখিত আছে যে 
একাআ্কানন কোটিলিঙ্গাভিপুরিত, কোটিতীর্থসমাযুক্ত ও দেবগণের 


০ সিল আ১ কা শি 


(৫) নানা গন্ধবতী খ্যাতা বাতি গঙ্গা সরিহ্বরা 
হত্র হুষ্বেত্বরে! দেবস্তত্র সা মুক্তিদায়িনী। 
(একাম্-পুরাণ 01060 17) 4১170, 01155. ৬০), 119 ০, 98. ) 
(*) 4. 9, 23, 8৪. 0১ 29. 
(৭) ৬সারদাচরণ মিত্র মহাশয় 'উৎকলে গ্রীকৃকচৈতন্য গ্রন্থে একথা উল্লেখ 
করিয়াছেন, পৃ: ৬৪। 


[ পৃঃ ৬ 


খা 183৭ ৩ 


3 এন, 


৬1 
] 4 টায় চি 
১৭ সন কবর 3 ১০৪ 


12 
৫ ৫. ১১, টু), ৪ 
৮ নি 
ধা রা 1 1 টৈ" 
কিম তী।. 


2785%1, র্‌ 





৭ 
48) 
৮ ১১. % ৭ব ৪4৭ ২ রি 


৬ ০... 
+ ১" $- ৬ 





ভুবনেশ্বর মন্দির | 
[ নারায়ণ পত্রের কর্তৃপক্ষের সৌজন্তে 7 





রঙ রি 
জা রর “হীন 





ব্রিভুবনেশ্বর । ৫ 


জয়বর্ধক | এখানে এরূপ বছুসংখ্যক শিবলিঙ্গ বিদ্যমান যে, স্বয়ং শেষ 
দেবও তাহার সংখ! নির্ণয় করিতে সমর্থ হয়েন না৷ (৮:। 

“চৈতন্যচরিতম, গ্রন্থে 'মুরারী গুপ্ত লিখিয়াছেন,__“বসস্তি 
যত্রেশ্বরলিঙ্গকোট্যো বিশ্বেশ্বরাদ্যাশ্চ স্থপুণ্যতীর্থাঃ 1১ (৮) উৎকল- 
খণ্ডে লিখিত আছে যে, রাজা ইন্জছায় দূর হইতে কোটালিগ্গেশ্বরের 
পূর্বাহ্ুপূজা সময়ে চর্চরী, শঙ্খ, কাহাল, বুদঙ্গ প্রভৃতি বাদ্যযন্ত্রের 
ধ্বনিতে সেই মহারণ্য শব্দিত হইতেছে শ্রবণ করিয়াছিলেন (০)। 
ইহা! কবিকল্পনাই হউক আর যাহাই হউক, এক সময়ে একাম্র- 
কাননে যে বহুসংখ্যক শিবমন্দির বিদ্যমান ছিল, তাহাতে সন্দেহ 
নাই। “চৈতন্য মঙ্গল” গ্রন্থে মহাপ্রভুর উৎকলযাত্রা প্রসঙ্গে 
লিখিত হইয়াছে 


“ভুবন মোহন, দেউল ভিতরে 
দেখিল একাঅবনে ॥ ( গৌর চলিলা ) 
একাআ্রবনে, উনকোটি লিঙ্গ 


দেউল দেখিল কপিলেশ্বরে ।৮ (১০) 


(৮) “অনেকানি চ লিঙ্গানি তত্র সন্তি ছিজোত্বমা১। 
সংখাতুং শিবলিঙগ।ং স্তান্‌ পেষ ছ্বেবে! ন শক্তি ॥) 
£&, 5 0১85, কপিল-সংছিত।। পৃঃ ১। 
(৮) প্রহীকৃকচেৈতন্য চরিতামৃতম্‌ ( গ্রঘুক্ত ম্বণালকাস্তি ঘোষ প্রকাশিত 
পৃঃ ১৩৪। 
(৯) পূর্বাহপুজাসময়ে কোটিলিঙ্গেখরস্য বৈ। 
চচরী-শব্ধ-কাহাল-মৃদঙ্গ-মুরজধ্বনিম্‌। 
ব্যাপ্স,বানং মহা রগ্যং দুরাৎ শুশ্রাব ভৃপতিঃ॥ 
(-উ, খ, বঙ্গবাসী সং, দ্বাদশ অধার, পৃঃ ৭*) 


(১) চৈতনামঙ্গল স।, প, সংস্করণ, পৃঃ ৯৭। 


৬ ভূবনেশ্বরের কথা । 


সুতরাং চৈতন্যদেবের উৎকলতীর্থ-সমূহ দর্শনকালেও মন্দির সংখ্যা 
যে নিতান্ত কম ছিল ন৷ ইহাই অনুমান হয়। এঁতিহাসিক ভিদ্দেন্ট 
স্মিথ ভুবনেশ্বরে অন্ততঃ পাচ ছয় শত দেব-মন্দির থাকার কথ উল্লেখ 
করিয়াছেন। জনশ্রুতিমতে বিন্দুসাগর-তীর্থের চারিপার্থেই নাঁকি 
অন্ন সাত সহম্র দেউল প্রতিষ্ঠিত হইয়াছিল। এখন শতাধিকও 
বর্তমান আছে কি ন! সন্দেহ। ভুবনেশ্বরের সে দিন আর নাই-_ 
মন্দিরগুলিও প্রায়শঃ প্রীভ্রষ্ট |” বন্ধুবরের এই সকল আলোচন৷ 
শুনিতে শুনিতে আপনিই চক্ষু বুজিয়া আসিল। কখন ঘুমাইয়া 
পড়িলাম টের পাই নাই। 

ভূবনেশ্বরে বাসাবাড়ী বা থাকিবার স্থানের অভাব আছে 
বলিয়া বোধ হইল না, তবে স্থানীয় লোকদিগের পরিচ্ছন্নতাজ্ঞান 
সম্বন্ধে কিঞ্চিৎ সন্দেহ হইল বটে। রাত্রি ভোর হইতে না হইতেই 
আমাদিগের ঘুম ভাঙ্গিয়া গেল। শ্রীযুক্ত ক-বাবু ও আমি হিয়ার 
একটি ভ্রাতাকে “গাইড” (প্রদর্শক ) রূপে বরণ করিলাম। সে 
সাদাসিদা লোক-_সকল মদ্দিরের নামও ঠিকমত জানে বলিয়। 
বোধ হইল না। র--বলিয়৷ দিয়াছিলেন, ছোট মন্দিরগুলি অগ্রাহ 
করিও না, এগুলিতেও কারুকার্য বড় কম নাই। সর্বগ্রথমে 
যে ক্ষুদ্র মন্দিরটি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করিল, তাহা কোনও 
ব্রাহ্মণের গৃহপ্রাঙ্গণে অবস্থিত। গৃহস্বামী উপস্থিত না থাকায় 
আমাদের এ দেবালয়টি দেখা হইল না। অতঃপর যে মন্দিরগুলি 
দেখিয়াছিলাম, সেগুলি পাপনাশিনী বিভাগের অন্তর্গত। আধুনিক 
অভিজ্ঞগণ নিম্মীণ-সাদৃশ্য প্রভৃতি লক্ষ্য করিয়া এই সকল মনির 
কয়েকটি বিভিন্ন বিভাগ ও উপবিভাগে (£:০91003, 500-£1099009 ) 
বিভক্ত করিয়াছেন। ইহার মধ্যে কেদারগৌরী, বিন্দুসাগর, 





৮৫৮) 


 ৮:৯৪১৬ ৮ ৪৪)৬ ১৪৬ ২৫০৪১৫৫৬ হিট) রি ই আত ইত 25:28 81555551511 3 
। 2৫১1৯ 55282৯৯ 


৯৯১, 


আশ ৩ 
ঙ 














হত... 
পিল নি ৪৪৩৪ দ ৯ ষ্ 
৮৪১০ ৯0 জলি লি ০ ৩ ১) 


৭0 30105925 লগ 








0140৬8৭9 


ব্রিতুবনেশ্বর । ণ 


পাপনাশিনী প্রভৃতি কয়েকটি বিভাগ বিশেষ উল্লেখ যোগ্য । আমরা 
বরুণেশ্বর, মৈত্রেশ্বর, চিত্রকর্ণী প্রভৃতি কয়েকটি মনির দেখিয়। 
সরকারী ওষধালয় অভিমুখে গমন করিলাম । মন্দিরগুলি দেখিতে 
বড় মন্দ নহে। কতক অংশ ল্যাটেরাইট (1505106) পাথর ও 
কতক অংশ লাল বাপিয়া পাথরে (58510519109 ) নিশ্মিত বলিয়া 
বোধ হইল। কয়েকটির অবস্থা দেখিয়া বিধর্মী আততায়িগণের 
ুত্তি-বিনাশপ্রবণতা সহজেই উপলব্ধি করা গেল। অভিজ্ঞগণের মতে 
এ বালিয়৷ পাথর আটগড়ের প্রত্যক্ষমান স্তর (০০৫-০/০1)) হইতে 
গৃহীত। কোনও কোনও মন্দিরে ক্ষুদ্র আয়তনের নবগ্রহ-প্রস্তর 
(812৩ ) রহিয়াছে দেখিলাম | উড়িষ্যার অনেক মন্দিরেই প্রবেশ- 
দ্বারের নিকট নবগ্রহ-প্রপ্তর দেখা গিয়া থাকে। ইহা একপ্রকার 
স্বাপত্য অলঙ্কারের বাধা রীতি (8101)15000141 ০011৮601010) 
' বলিলেও হয়। কেহ কেহ মনে করেন, গৃহপ্রবেশকালে যে 
গ্রহশাস্তি করার পদ্ধতি আছে, নবগ্রহ-প্রস্তরগুলি বোধ হয়, 
সেই উদ্দেশ্েই গ্রতিষ্টিত হইয়া! থাকিবে । গুওিচাগৃহ প্রসঙ্গে 
এ সম্বন্ধে ডাঃ ব্লকের মত পূর্বেই উদ্ধৃত করা হইয়াছে । অনেক স্থলে 
লক্ষ্য করিলাম, মিথুন-মপ্তিগুলি প্রায়ই ভাঙ্গা। যেন সেগুলি 
বিনষ্ট করিয়! জোর পূর্বক অশ্লীলতা-বঙ্জনের চেষ্টা করা হইয়াছে। 

সরকারী ডিন্পেন্সারীর পথে পাপনাশিনী তীর্থ। ইহা একটি 
ছোট পুষ্করিণী মাত্র। ঘাট পাথর দিয়া গজগিরি করা। জল 
অত্যন্ত পঙ্কিল) পানা ও শেওলায় (81586) বর্ণ প্রায় সবুজ 
হইয়া! পড়িয়াছে। আমাদিগের সরলহদয় পথ-প্রদর্শক তাহার 
ভাঙ্গ। বাঙ্গল! ও উড়িয়া-মিশ্রিত ভাষায় যাহা! বলিল, তাহাতে 
বুঝা! গেল, এ তীর্থ বিশেষ করিয়! ব্যভিচারছুষ্ট ব্যক্তিগণের জন্যই 


৮ ভূবনেশ্বরের কথা। 


নির্দিষ্ট । বহু পাপ করিয়! মন তীব্র অন্গুতাপানলে দগ্ধ না হইলে 
লোকে আর এরূপ জলে অবগাহন করিতে স্বেচ্ছায় সম্মত হয় না । 
সরকারী ডাক্তারথানায় গিয়৷ চিকিৎসক মহাশয়ের সহিত সাক্ষাৎ 
করিলাম। ভদ্রলোকটি উড়িয়া, কটক মেডিকেল স্কুল হইতে উপাধি- 
প্রাপ্ত । ভাল বাঙ্গালা বলিতে পারেন না বলিয়াই বোধ হয়, ইংরাজী 
ভাষায় কথাবার্তী কহিলেন। আমাদিগের উদ্দেশ্য অবগত হইয়া 
তৎক্ষণাৎ পদক্ষতের ওঁষধাদির ব্যবস্থা করিলেন। সেখান হইতে 
লিঙ্গরাজ অথব! ভ্বনেশ্বর-দেবের মন্দিরে গমন করিলাম। মন্দিরের 
চারিপার্থ উচ্চ প্রাচীরে ঘেরা । ডিস্পেন্সারী যাইবার রাস্তায় মন্দিরের 
একটি দ্বার (১০1১/1,1) আছে। লিঙ্গরাজ মন্দিরের দক্ষিণাংশে 
বনু গৃহাদির ভগ্নাবশেষ দুষ্ট হয়। প্রবাদমতে ইহা রাজ। ললাটেন্দু 
কেশরীর প্রাসাদাবশেষ। রাজ বাঞ্জেন্ত্রলাল এই স্থানে চকমিলান 
বাটীর প্রাঙ্গণ চিহ্ন ও বকুলবীথিক1 লক্ষাকরিয়াছিলেন (১১)। শ্রীযুক্ত 
মনোমোহন গঙ্গোপাধ্যায় বলেন ভগ্নীবশেষ দেখিয়া! সহজেই অস্কমিত 
হয় যেএই স্থানে একটি বৃহ অদ্টালিকা ছিল ( ১২)। তবে ললাটেন্দু 
কেশরী এখন কাল্পনিক খলিয়াই বিবেচিত; স্থতরাং প্রাসাদ কাহার 
এখং শিলালিপিতে উদ্যোতকেশরী নামক যে রাজার নাম পাওয়া 
গিয়াছে তাহার রাজত্বকালেই উহ! নিশ্মিত হইয়াছিল কিন! তাহাও 
নিঃসন্দেহে বলা ষায় না। সিংহদ্ধারের সম্মুখে ঘ্বত-প্র্দীপ ও ধূপ-কপূরাদি 
বিক্রয় হইতেছিল। আমর! সেখানে জুতা রাখিয়! মন্দির-প্রাঙ্গণে 
প্রবেশ করিলাম । প্রিয় সুহৃদ র__একজন প্রৌঢ় পাগ্ডার নাম বলিয়া 
দিয়াছিলেন, ভাগ্য-ক্রমে মন্দিরের ভিতরেই তাহার দেখা পাওয়া 


(১১) 0, 90155, ৬০), 1150. 85, 
(১২) 0871558৪150 1961 1২617)9811)5) 19. 399. 





শাল 


১ 
শি 


* ইএ১2২ 
্ 1 * 8) 
পিঠ, ৯০০০৬ | 


চট 


১৯, ক 
৪ 
রি ডো + 


স্পাসপ সী পিপল বত 8 তাপ সপ পে 





লিঙগরাজ-মন্দিরগাদ্রস্থ উক্্রধুদ্ধির ভপ্াবশেব | পুঃ 
(চিজ ৪) 





লিঙ্গরাজ-মন্দিরের ইন্দ্ুস্টি | 
[ পাশ্দৃণ্ড ] [ পঃ 


ত্রিভূবনেশ্বর | ৯ 
গেল। পাণ্ড। মহাশয় বড় বিচক্ষণ ব্যক্তি ; অনর্থক বৃথা বাক্যব্ায়ে 
তিক্ত-বিরক্ত করিয়া তুলেন না। মন্দির-গাত্রস্থ মূর্তিগুলির মধ্যে 
অষ্টসখী, অষ্ট দিকৃপাঁল, কার্তিক, গণেশ ও পার্কতীমুর্তি প্রভৃতির 
প্রতি আমাদিগের দৃষ্টি আকর্ষণ করিলেন। উজ্জ্বল নীলমণি নামক 
বৈষ্ঞব গ্রন্থে জ্ীরাধার 'পরমপ্রেষ্' সখীগণের মধ্যে ললিতা, বিশাখা, 
চিত্রা, চম্পকলতা, তুঙ্গবিদ্যা, ইন্দুলেখা, রঙ্গদেবী, স্থদেবী এই 
আট জন 'সর্ধগুণ-ভূষিতা* বলিয়৷ উল্লিখিত হইয়াছেন (১৩)। 
শৈব মন্দিরে ইছাদিগের মূর্তি সংস্থাপিত হওয়ার কারণ দেখি না 
স্তরাং পাণ্ড| মহাশয় বর্ণিত “অষ্টসথী” “অষ্ট দিগাজনা' বলিয়াই 
মনে হয়। এই সকল পার্খদেবতার মধ্যে কাত্তিকমুত্তি পশ্চিমের 
কুললীতে, পার্ববতীমুত্তি উত্তরের খাঁজে এবং গণেশ” দক্ষিণের খাঁজে 
অবস্থিত। অষ্টদিক্পালের মধো অগ্নি, ইন্ত্র, যম, নিত, বরুণ, 
পবন এই ছয়জন বৈদিক দেবতা। ইহাদদিগের বাহন যথাক্রমে 
মেষ, হস্তী, মহিষ, মানব, মকর, ও মৃগ। নির্খতিকে পন্মাসনেও 
উপবিষ্ট থাকিতে দেখা যায়। বরুণের ছুই পার্থে মকরবাহিনী গঙ্গা 
ও কৃম্ববাহিনী যমুন! মুত্তি ক্ষোদিত করা৷ হইয়৷ থাকে । ভুবনেশ্বরের 
মন্দির গাত্রে গজাসনে উপবিষ্ট ইন্দ্রের যে বিনষ্ট-প্রায় প্রতিকৃতি আছে 
তাহার একখানি চিত্র প্রদত্ত হইল। ইন্দ্রের হস্তী বাহনটি বৈদিক 
যুগের পরবর্তীকালে কল্পিত। বৈদিক ইন্দ্রের লাঞ্ছন “বজ্ব”। 
পরবর্তীকালে সম্ভবতঃ বৌদ্ধ “বজ্জ” চিহ্কের প্রচলন হেতু, ইন্দ্রের 
বজ্র চিহ্ন ক্রমশঃ পরিত্যক্ত হইয়া থাকিবে । শিরসার' গ্রন্থে 
বজ্পের কোন ও উল্লেখ দেখা যায় না (১৩)। গান্ধার শিল্পের বজপাণি 


(১৬) উজ্্বলনীলমণিঃ, রাঁধাপ্রকরণং, পৃঃ ১৩৬, রামায়ণ বিদ্যারদ্বের সংস্কয়ণ। 
(১৩) 4১, & 01590061110 0. তি, 4৯, 5০ 6111 & 1৮5 19185 09,529, 


হু 


১০ ভুবনেশ্বরের কথা । 


ইন্রশক্র বুদ্ধদেবের সান্নিধ্যে বিনয়াবনতভাবে দণ্ডীয়মান দেখিতে 
পাওয়া যায়। ললিতবিস্তর প্রভৃতি বৌদ্ধদিগের ধর্শ-গ্রন্থে গুহক বা 
ধক্ষদিগের রাঁজাও বজ্রপাণি নামে অভিহিত হইয়াছেন । বৌদ্ধ শিল্পে 
মারের হস্তেও বজ্তান্ত্র দেখা যায়( ১৪ )। ধনদ, কুবের অথবা বৈশ্রবণ 
বৌদ্ধদিগের মধ্যেও উত্তরাশার অধিপতি বলিয়। পরিগণিত। 
তাহার “লাঞ্ছন, নকুল বা “নেউল+) ইহা! সাধারণতঃ কোলের উপর ঝা 
পার্বদেশে বসিয়৷ থাকে । ঈশান ও বুষভবাহন মহ্শ্বরে কোনই 
প্রভেদ দৃষ্ট হয় না। সাঞ্ধীর বৌদ্বস্তপে অষ্টদ্িক্পীলের পরিবর্তে 
চারিটি তোরণে লোকপাল চতু্টয় দৃষ্ট হইয়৷ থাকে। উত্তরে বৈশ্রবণ, 
দক্ষিণে কুস্তাগুদিগের অধিপতি বিরূঢ়ক, পশ্চিমে নাগরাজ বিরূপাক্ষ, 
ও পূর্বে গন্ধরর্বরাজ ধৃতরাষ্ট্র (১৫)। “লোকপাল' ও দিক্পাল প্রভৃতির 
সম্বন্ধ নির্ণয় এ গ্রন্থের বিষরীভূত নহে, তবে অষ্টম হইতে দশম থৃঃ 
অব্ের মধ্যে নির্গত রাজপুতানার অন্তর্গত ওসিয়! গ্রামের পর্শয়তন' 
মন্দিরেও যে অষ্টদিক্পাল মূর্তি দেখা গিয়াছে একথা অধ্যাপক 
ভাগ্ডারকর উল্লেখ করিয়াছেন। 

শ্রীফুত মনোমোহন গঙ্গোপাধ্যায় অগ্নিপুরাণের “দিক্পতি-নিয়োগ, 
নামক ৬৫ অধ্যায় হইতে যে সকল শ্লোক উদ্ধাত করিয়াছেন (১৬)। 
তাহাতে গজস্থিত” দেবরাজ হইতে আরম্ভ করিয়া “ছাগস্থ” অগ্নি 
“্মহ্যস্থ” ষম, “মকরস্থ'” বরুণ কেহই বাদ পড়েন নাই। 


পপ পপি 7 ক পাশীিপাশপী পাট পপ সী 




















(১৪) ড৬০)7:5798101 09575 163 50017000163 00 001501)215) 
4১065 065 21৬ 0020£155  101517)9009091 055 0)116709115869 
41851 9০5) 00. 24, 7259 126, 

(১৫) 51: 10171) 71515112115 00106 10 52101) 0, 43, 


(১৬) 01155252150 1701 73617091205) 79,171, 





পুরী জগন্াথ-মশিতরের জননা ও শিশর মুগ্তি। 
[ অক্সফোও প্রেসের কপঙ্ষের সৌজগ্ঠে ] [ পৃঃ ১২ 


ক্রিভৃবনেশ্বর | ১১ 


জ্রীযুক্ত হেভেল মহাশয়ের মতে পূর্বতন সৌরোপাসনার ও 
প্রান্কৃতিক উপাসনার যেটুকু অবশেষ বৌদ্ধ ধর্ানুষ্টানে স্থান 
পাইয়াছিল, লোকপাল প্রভৃতির মুর্তি তাহারই রূপক 'নিদর্শন 
মাত্র (0) 51019011910 ০1 035 6811161 501) 8170 1780010 
90151)10 10101) 501৮1550 11] 130001)15010 10051 )। 
তোরণের নিকটস্থ লোকপালদিগের ক্ষোদদিত মুর্তি মর্তাভূমের প্রবেশ 
পথ রক্ষা করিত (১৭)। “মানসার' শিল্পে দিক্পালদিগের উদ্দেশ্যে 
বলি প্রদানের কথ! উল্লিখিত হইয়াছে (দ্িকৃপালানাং বলিং দদ্যাৎ 
সম্যক ব্রঙ্গপ্রদেশকে* ) কিন্তু উৎকল মন্দিরে এখন আর এরূপ 
বলি, প্রথা প্রচলিত আছে বলিয়। মনে হয় না। 

বড়দেউলের পার্কতীমুত্তিটি বাস্তবিকই বড়ই মনোহর। 
দেবী-মুত্তি ছাড়িয়া শুধু শ্ত্রী-মূণ্তি হিসাবে ধরিলেও এই প্রকার 
স্থন্দর পরিকল্পনা এবং সৌন্দর্যয-অন্ধপ্রাণিত বদ্ধকীর (50011)001 ) 
এরূপ শোভন-কলা-বিলাস কচিৎ দৃষ্টিগোচর হইয়া থাকে । 
ছুঃখের বিষয়, মুদ্তিটির হস্তচতুষ্টয়ের একটিও বিদ্যমান নাই। 
কান্তিক মূর্তিটিও তরুণ পুরুষ-মূর্তির আদর্শ স্বরূপ বলিগ্না মনে 
হইল। কার্তিক ও পার্বতীমুণ্ডি ব্যতীত লিঙ্গরাজমন্দিরের আরও 
হুইটি মূর্তির প্রশংসা শুনিতে পাওয়া যায়। ইংরাজি পুস্তকে এই 
যুগল-ূর্তি যোদ্ধা ও তাহার প্রণয়িনী বলিয়! ব্যাখ্যাত। সশস্ত্র 
যোদ্ধপুরুষ বাহুদ্বার। তাহার প্রণয়িনীর গলদেশ বেষ্টন করিয়! দাড়াইয়। 
আছেন। ছূইটি মূর্তিই বড় মনোহর, এবং স্বাভাবিক ভঙ্গীতে 
পরিকর্িত) কোথাও অশ্লীলতার চিহ্ন নাই। ভুবনেশ্বর হইতে 
কয়েকটি সুন্দর মুর্তি কলিকাতা যাহ্ঘরে স্থানান্তরিত হইয়াছে; 


(১৭) 106213 0৫6 1190191) 4১10 0,197. 


১২ ভুবনেশ্বরের কথা । 


তম্মধ্যে একটি পরমরমণীয় স্ত্রী-ৃত্তির হস্তে দর্পণ দৃষ্ট হয়। কেহ 
কেহ দর্পণধাব্িণী যুনানী রতিদেবীর (৬০703) সহিত ইহার কথঞ্চিৎ 
সাদৃশ্য লক্ষ্য করিয়া থাকেন। ইউরোপীয় রুচির অনুযায়ী বলিয়া 
এ মুষ্তিটি ইংরাজ সমালোচকগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করিতে সমর্থ 
হইয়াছে । যাছঘরের এই মুর্তিকয়টির চিত্র গ্রন্থে সন্নিবিষ্ট হইল। 
ইহার মধ্যে লেখনীধারিণী রমণী মুষ্তিটি দেখিলে সত্যই মনে হয় যে 
ভারতীয় হিন্দু নারীগণ শুধু সেবার রমণী বা পুরুষের ক্রীড়া- 
পুত্তলী মাত্র ছিলেন না। পূর্বকালে ভারতে বন স্ত্রী-কবি যশোলাভ 
করিয়াছেন। হিন্দুরাজ্য বিজয়নগরের ইতিহাসে (১৮) দেখা যায় যে 
রামভদ্রান্থা নামক একজন সাধারণ গৃহস্থ-কন্া “অ” ভাষায় কবিতা 
রচন! করিয়া আপনাকে “অষ্ট-ভাষা-কল্িত-চতুর্কিধ-ক বিতান্ুপ্রাণিত 
সাহিত্য-সাম্রাজ্য-পদপীঠারূঢ়” বলিয়! বর্ণন। করিয়াছেন । তিরুমলাম্বা- 
নায়ী অপর একজন স্ত্রীকবিও বিজগ্ব-নগরের রাজসভায় আদৃতা 
হইয়াছিলেন। যে দেশের শিক্ষিতা নারী গণিত ও জ্যোতিষ শাস্ত্রের 
আলোচনাতেও পশ্চাৎপদ হুইতেন না বলিয়া আজিও জনপ্রবাদ 
প্রচলিত, তাহারই একটি প্রদেশের মন্দিরে প্রাপ্ত, লিখনরতা৷ রমনীমুস্তি 
দেখিয়া এখন আমরা বিস্ময়ে অভিভূত হইয়া পড়ি। ইহা হইতেই 
আমাদের অধঃপতনের সীমা যে কতদুর গড়াইয়াছে তাহা কতকট। 
বুঝা যায়। জননী ও শিশুর যে মুর্তিটি রহিয়াছে তাহা পুরী ও 
কোণার্ক মন্দিরের মাতা ও শিশুর ক্ষোদদিত চিত্রের কথা! স্মরণ 
করাইয়া দেয়। নারীর মাতৃত্বের এরূপ কোন বীধা ছাচ (7700)61 
17011) উড়িয়া! শিল্পীদের মধ্যে প্রচলিত ছিল কি না তাহা! বলা সম্ভব 


৮ জা ও 








স্পা 











পপ 


(১৮) 25102 5, 10101510095581001 45598106518 5০981058 ০1 
৬1195919885: 12151019) 20. 291? 302) 2100 09. 220. 





শি [পা সতত ্্ ৯ 








ৃ ০ রী রি 
০৭ 


ং 
. 
পা 

ঠ 


৬:7৭ ,..:0 রি ০৯১ 
৪1, 4 ১ ২0775), 1 8 
চা 


% 


শ্া ডি | ৬ 
্ 


/ 35 


, 
7 ০ 
পা ৭ 
4 ৯ 


£ 





ও টু ২৮ ৯, ০৫5) এ 
কলা?! না শপ 


০০ চা 


ও 


০1, টা 
1 05 


্ ১ &৫ 4২ ঞ 


$%। ৯ 
$ ৪. 
চা ৫ 
রি ১1044 


৬ 


$ 


এ চা 


পাসে 55 


ছা 30 


? । 


9114৯ 





+ 
কি 


61 


18. 
%. 
/$ 1.2. 


লি 





রি 5518, ৬৫ 

॥5) 
$ ৮1 

।/ 


3 7 এ 
রো ॥' $ল! ৪ ৯১০0 
কও) 7 


/) 
/উ 


তা 


1 


সি 


বা 


ইহাব্র মধো দ্বিতীয়ণ্ট 
ছশচেরু মাতম 
22 গা 


+ 


[৯ তুষস্স 
তীক্পটি বাধা 


০০ 
ঞ- 





স্্ী-ম 
5” 
হল গঙ্ষোপাধ্যাস্স মহাশজের 


বনেশ্বে প্রান্ত : 
ধাব্রণ কিনা আছে 


জু 
[ আীবুক্ত মন 


কলিকাত। যাহঘব্রে ব্রস্ষিত 
চতুর্থটি লেখনী 


ব্রিভূবনেশ্বর । ১৩ 


নহে, তবে ইহা নিশ্চয়ই বল! যাইতে পারে যে, উড়িয়া ভাস্করেরা 
শুধু পাথর কাটার কসরৎই শিক্ষা করেন নাই-_্ব প্ব পরিকল্পনায় 
প্রাণ সধশর করিয়া-_তীহাদিগের নির্মিত মৃত্তি সমূহে ভাবের অভি- 
ব্াক্তি স্ফুরণ-সন্বন্ধেও যথেষ্ট কৃতিত্বলাভে সমর্থ হইয়াছিলেন ( ১৯)। 

দেবমূর্তি অপেক্ষা তৃবনেশ্বরের এই আনুষঙ্গিক মৃর্তিগুলি অধিকতর 
সৌন্দ্ধ্-কলায় বিভূষিত। যেহেতু, এগুলির নিম্মাণসময়ে শিল্পীকে 
দেবমূত্তিতক্ষণের স্যায় শাস্ত্রের ধরাবাধ! নিয়ম মানিয়৷ চলিতে হয় 
নাই। সাঞ্চী ও অমরাবতীর স্তায় ভূবনেশ্বরেও অনেক স্থলে 
দেখা যায় ষে, স্ত্রীমুত্তিগুলি বু অলঙ্কারে শোভিতা হইলেও অঙ্গে 
পরিধেয় বস্ত্রাদির চিহ্নমাত্র নাই কিন্ত স্ত্রীমুত্তির অনুপাতে উলঙ্গ 
পুরুষমূর্তির সংখ্যা সেরূপ অধিক নহে। এসম্বন্ধে জনৈক ইংরাজ 
পণ্ডিত বলিয়াছেন--“[1)6 [১1559111006 010819001০1 0165৩ 
055-1611515 15 110 00৩ 50 10001) (০ ০11)1)10 ০01 59018] 
০৪0389 29 10 1176 55010170163 ০06 416,5০5, 06916 1০0 
0190189 01)9 0912)915 ০০018000111) 211 105 20090010105 
101)911100110955 ০01 58119 21 2100 01260109০01 ০01156- 
11175 01861710500) 10810 0027156 10501151, 


ললিত-কলার হিসাবে সৌন্মধ্যবৃদ্ধির জন্যই যে মৃর্বিগুলি এইরূপ 


(১৯) বঙগদেশে প্রাপ্ত যাতৃষুর্তি প্রায়শঃ শার়িতাবগ্থায় পরিকল্সিত। 
শ্রীযুক্ত রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয়ের বাঙ্গালার ইতিহাস, প্রথম খণ্ডে 
প্রত ২৫ সংখ্যক চিত্রে এইরূপ একটি মাতৃমুর্তি '্ীকৃফের জঙ্ম' মামে অভিহিত 
হইয়াছে। প্রন্তযখোদিত বা চিত্রপটে-নিছিত বাৎসল্য-রল উদ্মেষক ভারতীর 
মাতৃমুর্বিগুলি সাধারণতঃ কৃ বশোদার কাছিনীর সহিত বিজড়িত। প্রীযুক্ত 
হঈীল বন্দ্যোপাধ্যায় 4, ৮9151508106 11980079097 নামক প্রবন্ধে এ সম্বন্ধে 
বহু জাতবা তথ্য আলোচনা করিয়াছেন (00810, 4১021) 792০, 
0. 14 6 56৫.)। 


১৪ তুবনেশ্বরের কথা। 


বিবস্ত্র করিয়া খোদিত হইয়াছিল, ইহাই সম্ভব বলিয়া মনে হয়। 
বালিয়া-পাথরে কাপড়ের ভীজ সুল্প্রূপে খোদাই করা বড়ই 
কঠিন এবং বিশেষ শিল্প-নৈপুণ্য না থাকিলে ইহাতে কৃতকাধ্য 
হওয়া সম্ভব নহে? সুতরাং মৃত্তিগুলি দিগম্বর বলিয়া যে সেকালে 
স্থানীয় অধিবাসিগণের মধ্যে কাপড়ের যথেষ্ট ব্যবহার ছিল না, 
এরূপ আজগুবি অন্গমান কখনই বিচার-সহ নহে (২০) । দেবীর 
দেহে ষে সকল অলঙ্কারা'দি খোদিত রহিয়াছে, তাহ! দেখিয়া মন্দির- 
নির্মাণকালে উড়িয়া রমণীগণের ব্যবহৃত ভূষণার্দির বিষয় অনেকটা 
অবগত হইতে পারা যায়। শুধু অলঙ্কার বলিয়৷ নহে, প্রাচীন 
বেশভৃষ। ও তৈজসাদি--এক কথায় সে কালের গৃহস্থালীর খবর- 
জানিতে হইলেও এই সকল খোদিত প্রম্তরের শরণাপন্ন হইতে 
হয়। একটুকু লক্ষ্য করিয়া দেখিলেই 1010178-51901, 1581০) 
প্রভৃতি আধুনিক গৃহসঙ্জার উপকরণের সহিত সাদৃশ্বযুক্ত অনেক 
পুরাকালের আসবাবের চিত্রাদিও পাঠকগণের কৌতুহল উদ্রিক্ত 
করিয়। থাকে । রাজ। রাজেন্দ্রলাল মিত্র লিঙ্গরাজমন্দির-গাত্রে 
থোদিত একটি সুন্দর কাকুকাধ্যযুক্ত ( টিপয় ) €০৪7১০) এর স্তায় 
আসবাবের উল্লেখ করিয়াছেন। তিনি অনুমান করেন যে, এগুলি 
পুস্তক, কাগজ প্রভৃতি রাখার জন্য এবং সম্ভবতঃ আধুনিক 
দাবা-খেলার টেবিলের স্তায়ও ব্যবহৃত হুইত। 40010001055 
01 01558 গ্রন্থে বিভিন্ন মন্দির হইতে গৃহীত চেয়ার, কৌচ 

(২*) কিন্ত এই সব মূর্তি সম্পূর্ণ নগ্নরূপে পরিকল্পিত কি না, সে বিষয়েও 
সন্দেহ আছে। গ্রীক শিল্পীদিগের মত ভারতীয় শিজীরাও হুক্্য বস্ত্র বুঝাইবার জন্য 
মূর্তির নিয়ভাগে কঞেকটি রেখামাত্র অস্কিত করিতেন । যে সব স্থানে বসন দেখান 


প্রয়োজন. সে সব স্থানে তাহ! দেখাইতে ক্রুটী হয় নাই। 119196)?5 98130) 
900 105 7২560081103, 0, 22, 





দিঙ্গরাীজ-মন্দিরে অবস্থিত বাখ্োগ্গ ৪ লাসাঙাীলার চিত্র | 
| বাজা রাজেন্দ্রল!লের এান্ভ হইতে ' | পুঃ ১৬ 





নে রর ৫ 7 ঠ শি চ ১.১ | 


হি টিটি 


১ ১ 
সাপ ০ 


পিঙ্গরাজ-মন্দিরের শিখরগাত্স্থ একটি ক্ষোদিত চিত্ত । 
কোনও ধনী মহিল] তক্তাপোষে বপিয়া বামহস্তটি বালিসের উপর রাখিয়া 
বিআম করিতেছেন। মাটিতে ষে রমণী ধসিয়। আছে, সম্ভব ৩: 
সে কোনও কাহিনী শুনাইতেছে। দেখিয়া বোধ হয়, ইহ] 
কোনও গৃহের অভ্যন্তরদেশ | 3, 


ত্রিতুবনেশ্বর। ১৫ 


(০০৪৫ ) প্রভৃতি আসবাবের অনেক চিত্র দেখা যায়। “তাকিয়া, 
বা মোটা বালিস, এবং “টোপ” বসান গদি প্রভৃতি বিরাম ও 
বিলাসের উপকরণ যে পূর্বে ব্যবন্ৃত ছুইত মন্দির ভা্কর্ধ্য তাহা 
অন্তাপিও জনসমক্ষে প্রমাণিত করিতেছে। তবে স্কুল দৃষ্টিতে দেখা 
যায় যে, তাকিয়া হেলান দিয়া যে সকল নর-নারী বসিয়। আছে 
অত্যাবস্তক বসনভারেও তাহারা কেহই প্রপীড়িত নহে (২১)। 
তৈজসাদির মধ্যে পল্লীগ্রামে প্রচলিত “অমৃতি,র ন্যায় একটি পান্র 
সহজেই চক্ষে পড়ে। মুক্তেশ্বর মন্দির-গাত্রে ১০০1550৪170 অথবা 
মুসলমানদিগের কোরাণ পাঠ করিবার সময় পুথিরক্ষণের আধার 
রেহলের ন্যায় এক প্রকার বিচিত্র সামগ্রীও অঙ্কিত দেখা 
গিয়াছে । রাজা রাজেন্ত্রলাল অক্লান্ত পরিশ্রমে বিভিন্ন মন্দির 
হইতে চিত্রার্দি সংগ্রহ করিয়া স্ত্রীলোকগণের শিরোভূষণ ও বেণী- 
বন্ধন-প্রণালীর তুলনা করিয়াছিলেন । প্রস্তর-ক্ষোদদিত একটি চিত্রের 
সহিত ডাক্তার মিত্রের সমসাময়িক কোন বিলাতী 78559101091) 1১৪১৩ 
এ বর্ণিত প্যারিসীয় প্রথায় চুল-বীধার একটি নমুনা আশ্র্যারূপে 
মিলিয়। গিয়াছিল (২২)। উড়িষ্যার সভ্যতার ও সামাজিক রীতি- 
নীতির ইতিহাস সঙ্কলন করিতে গেলে এই সকল মাল-মসল! ব্যবহার 
না করিয়া উপায় নাই। গার্হস্থ্য শিল্পের কথা ছাড়িয়া দিয়া বাস্ম- 
গীতাদি উচ্চ অঙ্গের কলায় উৎকলবাসিগণ কিরূপ উন্নতি লাভ 
করিয়াছিল, তাহা বুঝিতে হইলেও মন্দির-গাত্রস্থ বীণা, মৃদগ, 
তন্থুরা প্রভৃতি বাচ্যন্ত্রের চিত্র লক্ষ্য করিয়া দেখা কর্তব্য । নৃত্যের 
কথা আর কি বলিব-_শিলালিপিতে স্বয়ং উৎকলের রাজকন্তাও 


(২১) 71101219 1000-481051085 ০], 1১09, 795. 
(২২) 400 01190) 859, 97:98, 01906 29৮, 


১৬ ভূবনেশ্বরের কথা । 


নর্তন-পারদর্শিনী বলিয়া উল্লিখিতা হইয়াছেন (২৩)। মন্দির- 
সমূহ হইতে বাস্তোগ্কম ও লাস্যলীলার বিভিন্ন ভঙ্গীর চিত্র সংগ্রহ 
করিতে পারিলে মধ্যযুগের “গীতজ্ঞা ল্-তান-নর্তন-কলা-কৌশল্যা 
লীলালয়া» উড়িয়৷ সীমস্তিনীগণের ললিতকলাপারদর্শিতা বিষয়ে 
উচ্চ অঙ্গের একখানি মনোগ্রাফ ( 05002180 ) প্রকাশিত 
হইতে পারে। রবীন্দ্রনাথ বলিয়াছেন_ মা 

“ভুবনেশ্বর মন্দিরের চিত্রাবলীতে প্রথমে মনে বিস্ময়ের আঘাত 
লাগে। শ্বভাবতঃ হয়ত লাগিত না, কিন্ত আশৈশব ইংরাজী 
শিক্ষা আমরা স্বর্গ মর্ত্কে মনে মনে ভাগ করিয়। রাখিয়াছি। 
সর্বদাই সন্তর্পণে ছিলাম, পাছে দেবআদর্শে মানব ভাবের কোন 
আঁচ লাগে; পাছে দেব মানবের মধ্যে যে পরম পবিত্র সুদুর 
ব্যবধান, ক্ষুদ্র মানব তাহা লেশ মাত্র লঙ্ঘন করে। 

“এখানে মান্ষ দেবতার একেবারে যেন গায়ের উপর আসিয়া 
পড়িয়াছে__তাও যে ধূল! ঝাড়িয়া আসিয়াছে, তাও নয়। গতিশীল, 
কর্দরত, ধূলিলিপ্ত সংসারের প্রতিকৃতি নিঃসঙ্কোচে সমুচ্চ হইয়া উঠিয়া 
দেবতার প্রতিমূর্তিকে আচ্ছন্ন করিয়! রহিয়াছে। 

“মন্দিরের ভিতরে গেলাম--সেখানে একটিও চিত্র নাই, আলোক 
নাই, অনলম্কৃত নিভৃত অশ্ফুটতার মধ্যে দেবমুর্তি নিস্তব্ধ বিরাজ 
করিতেছে। 

“ইহার একটি বৃহৎ অর্থ মনে উদয় না হইয়া থাকিতে পারে 
না। মানুষ এই প্রস্তরের ভাবায় যাহা বলিবার চেষ্টা করিয়াছে, 


পাপ পো বত ০ পেল 














0২৩) :185077900 885070108 076 815000 0 ৪ ড1১৪৪৪ 
161701216 09 1790907182 106501 00011506011) 80161800125 100102, 
৬০1. 2111 101. 20 ৮, 15০, এই শিলালিপিখানি চতুর্দশ শতাবীতে রচিত 
বলিয়৷ অনুমিত । 





চি 


লিঙ্গরাজ-মন্দিরগাত্রস্থ ক্ষো্দিত চিত্র । 
ান৪ একটি গার্হস্থ্য চিত্রের উপরিভাগে নৌকারৃতি বিমানের উপর 
দেবগণ অবস্থিত। মানুয ও দেবতা! যেন পরম্পরের গায়ে 
আসিয়া! পড়িয়াছে। [ পৃঃ ১৬ 


ত্রিভৃবনেশ্বর । ১৭ 


তাহা সেই বনু দূরকাল হইতে আমার মনের মধ্যে ধ্বনিত 
হইয়। উঠিল। 

"সে কথ এই-_দেবতা দূরে নাই, গির্জায় নাই, তিনি আমাদের 
মধ্যেই আছেন। তিনি জন্ম-মৃত্যু, সুখ-দুঃখ, পাপ-পুণ্য, মিলন- 
বিচ্ছেদের মাঝখানে স্তব্ধভাবে বিরাজ্মান। এই সংসারই তাহার 
চিরস্তন মন্দির । এই সজীবসচেতন বিপুল দেবালয় অহরুহঃ 
বিচিত্র হুইক্কা রচিত হইয়া উঠিতেছে। ইহা কোনকালে নূতন 
নহে, কোনকালে পুরাতন হয় না। ইহার কিছুই স্থির নহে, 
সমস্তই নিত পরিবর্তমান-__-অথচ ইহার মহৎ এক্য, ইহার 
সততা, ইহার নিত্যতা নষ্ট হয় না, কারণ এই চঞ্চল বিচিত্রের 
মধ্যে এক নিত্যসত্য প্রকাশ পাইতেছেন (২৪)।৮ 

খোদিত চিত্রের মধ্যে দেখিলাম, কোথায়ও শৌনকাদি মুনিগণ 
শান্ত্র ব্যাখ্যা! করিতেছেন, কোথাও ব দেবদেবীর বিবাহের চিত্র। 
কোনারকের সরকারী চিত্রশালায় সীতা-সম্প্রদানের চিত্র দেখিয়া- 
ছিলাম, হ্থতরাং চিনিয়া লইতে বিলম্ব হইল না। কলচুরি 
রাজ্যের পুরাতন রাজধানী রতনপুরে, কণ্ঠেশ্বর মহাদেবের মন্দিরের 
গাত্রে, অষ্টম ব৷ নবম ধুৃষ্টবের পুরাতন দেবসৌধ হইতে গৃহীত, প্রস্তরে 
উৎকীর্ণ যে চিত্রটি দেখা যায়, তাহা! হরপার্কতীর বিবাহের চিত্র (২৫)) 
প্রাচীন গুহা থোদিত মনিরে ইহার অনুরূপ চিত্র দৃষ্ট হইয়। থাকে । 
পাও মহাশয় তুবনেশ্বরের এই দেব বিবাহের চিত্রে, বর বধুকে 
হরপার্বতীর পরিবর্তে রামসীত৷ বলিয়া কেন যে সনাক্ত করিলেন তাহা 
বলিতে পারি না। যাউক সে সকল কথা। মন্দির গাত্রে খোদিত খষি 


(২৪) মন্দিরের কখ1--বদর্শন, ওয় বর্ষ) পৌধ, নবম সংখ্যা, ১৩১৪। 
(২৫) 2:01 160, 4৯00, 501৮5, ৬, 01016) 109০4, 
72. 27-28. 


১৮ ভূবনেখখরের কথা৷ 


বা সাধুগণের মূর্তির মধ্যে কয়েকটি কন্কালসার মুর্তি দেখিলাম । 
পরশুরামের মন্দিরেও এইরূপ কতকগুলি চিত্র আছে। ডাক্তার 
রাজেন্্রলাল মিত্র এপ্রসঙ্গে বলিয়াছেন__ইহাদের কাহারও হাতে 
চিমটা, কাহারও হাতে অলাবুপাত্র; কেহ বা শাস্গ্রন্থ পাঠে, 
কেহ ব৷ গার্ৃস্থা কর্মে নিষুক্ত। সাঞ্ধী ও অমরাবর্তীর প্রাচীন 
ধবংসাবশেষের মধোও এইরূপ চিত্রাদি দেখা যায়। ইহারা বোধ 
হয়, অরণ্যচারী বানগ্রস্থাশ্রমী সন্ন্যাসী হইবেন। কোনও ইউরোপীয় 
পণ্ডিত ভ্রমক্রমে এগুলি অনার্ধ্য দ্র চিত্র বলিয়া প্রকাশ 
করিয়াছেন। লিঙ্গরাজ দেউলের শিক্ষাদানে নিরত খধিদিগের চিত্র 
এ সন্দেহ সহজেই আপনোদন করে। 

লিঙ্গরাজ-মন্দিরটি যেরূপ সর্বাপেক্ষ। বৃহৎ সেইরূপ ইহাতে 
কারুকার্যেরও অন্ত নাই। আমাদের পলী-মাটার বাঙ্গালা দেশে 
পাথরের কাজ নাই। যা! কিছু আছে, কেবল ইটের কাজ ; তাহাও 
আবার সচরাচর ২৫০৩** বৎসরের অধিক পুরাতন নহে। বাঙ্গালার 
মন্দিরগুলি প্রায়শঃ আমাদের সনাতন পর্ণশালার অনুকরণে নির্দিত। 
ইষ্টকের গায়ে যে সকল লতা-পাতার ও পৌরাণিক ঘটনাবলীর 
চিত্র অঙ্কিত থাকে, তাহা আমাদের নিজন্ব বলিয়া! জরন্দর বটে, কিন্ত 
ভুবনেশ্বরের সামান্ত একটি কার্ণিশের কোণের ক্ষুদ্রতম অংশের 
কাক্ুকার্ধ্য কিছুক্ষণ ধরিয়া লক্ষ্য করিলে এ সকল নিতান্ত তুচ্ছ 
বলিয়! মনে হয়। লিঙ্গরাজের সমগ্রা মন্দিরটি দেখিয়! সত্যই বিস্ময়ে 
অভিভূত হইতে হয়। মনে হয় ষে, সেকালের স্থপতির! ময়দানবের 
ন্যায় যেরূপ স্ুবৃহৎ সৌধ-পরিকল্পনায় দক্ষ ছিলেন, সেইবূপ আবার 
সেগুলির প্রত্যেক কোণ ও ক্ষুদ্র অংশ সুদক্ষ মণিকারের ন্যায় 
শিল্পসৌন্দর্য্যে ভূষিত করিতে জানিতেন। 





লিঙগরাজ-মন্দিরগান্রস্থ সাধু বা ধন্মোপদেশকের মুস্তি । 
[ পৃঃ ১৮ 


-»$ কণকপাগ 
& অনপ্ধপাগ 


৩ রহপাগ 


রেখা দেউলের ভিত্তির নব্ঘা । 
শ্রীযুক্ত এইচছ্‌. এম্‌, আর্ট মহাশয়ের সরকারী রিপোটে প্রদত্ত 
| নব অবলখখনে ৷ [ পঃ ২১ 


মন্দির-নিন্নীণকাল: 
ও ভূবনেশ্বরের স্থাপত্য । 


লিঙ্গরাজ-মনির ইউরোপীয় কলাবিদ ও স্থপতিগণের মতে 
দেশীয় স্থাপত্যশিল্পের যুগ-নির্দেশক-চিহ্ন (1270-410811) স্বরূপ । 
ডাঁঃ লে বৰ ইহাকে শিল্পগৌরবসমৃদ্ধ শ্রেষ্ঠতম ভারতীয় মন্দির 
সমূহের অন্তপ্তি বলিয়াই সাবাস্ত করিয়াছেন (0৫5 01) 083 
5018065 169 0103 095901509 06-][.911)09)1 তাহার 
মতে উড়িষ্যার অপর মন্দিরগুলি ইহারই অন্থকরণে নিশ্ধিত 
(501 [0১1৮7 690 ০6100 06 (995 165 (9101)163 
এ+ 011588 )। বল! বহুল্য, আকৃতিগত সাদৃশ্ঠসন্বন্ধে এ উক্তি 
রদ্ধেস্বর, রাজরাণী, দিদ্ধেশ্বর, কেদারেশ্বর, বৈতাল-দেউল প্রভৃতি 
মন্দিরের প্রতি কোনমতেই প্রয়োজা হইতে পারে না। প্রচলিত 
প্রবাদ অন্থুসারে লিঙ্গরাজ মণ্দির সপ্তম শতাবীতে রাঞ্জা ললাটেন্্র 
বা ললাটেন্দু কেশরী কর্তৃক নির্মিত হুইয়াছিল। উড়িষ্যার প্রথম 
ইংরাজি ইতিহাস-রচয়িত। ট্টার্লিং (9011100) বোধ হয়, প্রচলিত 
প্রবাদাদি অবলম্বন করিয়৷ লিখিয়াছিলেন যে ধৃঃ ৬৫৭ অবে, অন্ন 
৪৯ বৎসরের পর, লিঙ্গরাজ-মন্দিরের নির্মাণ শেষ হইয়াছিল। ইঞ্জিনিয়ার 
শ্ীযুক্ত এম, এইচ, অর্ণটও এই মতই গ্রহণ করিয়াছেন (২)। 


এট 











পাপ 








(১) 185 7101701761705 06 1, 1006, 20, 7893. 
(২) 77165905100 005 00108180005 11105020106 150815 
€১6০1160 00 1196 (60)0165 21 03000810651)%21, 


২০ ভুবনেশ্বরের কথা৷ 


ডাঃ লে ব আরও কিছু পিছাইয়৷ সপ্তম শতাব্দীর শেষাংশই 
(6 0৩ 5০0015076 38০০1 ) ইহার নির্মীণকাল বলিয়। নির্দেশ 
করিতে চাহেন।. কামনুত্রের ইংরাজী অন্ুবাদকের মতে ভুবনেশ্বরের 
শৈবমন্দির অষ্টম শতার্বীতে নির্মিত, (৩) কিন্তু আধুনিক পণ্ডিত- 
গণের মধ্যে কেহ কেহ নবম হইতে একাদশ শতাব্বী পর্য্যস্ত 
“টিয়া” আদিতেও ছ্থিধা বৌধ করেন না। প্রসিদ্ধ ্রতিহাসিক ভিন্গেন্ট 
শ্মিথ ভূবনেশ্বরের 'মন্দিরগুলির মধ্যে মুক্কেশ্বর-মন্বির নবম শতাব্দীর 
এবং পরগুরামেশ্বর-নীমক সর্বাপেক্ষা প্রাচীন মন্দিরটি অষ্টম ব৷ নবম 
শতার্বীর, এইরূপ অনুমান করিয়া লিঙ্গরাজ-মন্দির-প্রসঙ্গে বলিয়াছেন 
যে, “ইহা দশম শতাবীতে নির্শিত বলিয়াই অনুমিত হইয়৷ থাকে 
(59100০9550 0০ ৫96 00) 0) 1001) 061)0010 )1% 
আপাততঃ যতদুর জানা গিয়াছে তাহাতে ত্রিতুবণেষ্বরের (লিঙ্গরাজ 
দেবের ) মন্দির থৃঃ নবম হইতে একাদশ শতাব্ীর মধ্যে নির্মিত 
বলিয়াই বিশ্বাস জন্মে । স্বর্গীয় মনোমোহন চক্রবর্তী মহাশয় ও 
পরশুরামেশ্বর মন্দিরের প্রাচীনত্ব সম্বন্ধে নিঃসন্দেহে মতপ্রকাশ 
করিয়াছেন। 

শ্রীযুক্ত মনোমোহন গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, দ্রাবিড়-স্থাপত্য-প্রভাব- 
যুক্ত এই স্থাপত্য কীর্তি ৫ম বা ৬ খুষ্টাবে নির্শিত হওয়াই সম্ভব (৪)। 
বঙ্গীয় গবর্ণমেণ্ট কর্তৃক প্রকাশিত 1.5 01 4১70160% 11000- 
0760705 (0 731€81 গ্রন্থে কুটাল অক্ষরে লিখিত একখানি শিলা- 
লিপির উল্লেখ আছে। আমর! প্রত্বতত্ববিভাগের কর্মচারী ন্বরগায 


(৩) 77176 121708-500% 06 ৬2157552025) 1883 (76010106) 
০, 6০, 
(৪8) 051358 & 1161 1২5071910১5 0. 271 & 0. 299. 


পর 


ঘট ও 


$ 
ঘঢাটি১ 
০০:০৪০১০১৩ 6 
81 ৬ 
/ [2 
হু |1৬ 





1৮441৮40287 
£ ভি 642 
ঃ রণ 
কচি) ্য 
রত 
স্খ্ট” 


এ 11012 
৮ -১ « | 


পি 


হবি 


2৯ 
* 
দমে 
শি 

১০ ৬ 


৮411৩ 2৮ এ? 


| করম। ২। কপুরী। ও। আমলা । $। বেকী। ৫। ঘাটচক্র ব| 
ঘাড়চন্তর। ৬ দ্বিতীয় ্জ্ঘা। ৭। দ্বিতীয় বারান্নী। ৮। বন্ধন। 
৯। প্রথম বারান্দী। ১%। গ্রথম জজ্ঘা। ১১। পৃষ্ঠ । 


মন্দিরের রেখা অথবা! শিখরাংশের সপ্পর্ণ চিত্র। 
| শ্রমুক্ত এম্‌, এইচ্‌, আর্ণটের রিপোর্টে প্রদত্ত নঝ্বা অবলগ্গনে ] [ পৃং২ 





ভুবনেশ্বরের স্থাপত্য। ২১ 


হরনন্দন পাণ্ডে মহাশয়ের সাহায্যে তাহার প্রতিলিপি আনাইয়া- 
ছিলাম। লিপিখানি পরগুরামেশ্বর মন্দিরের জগমোহনের দ্বারদেশে 
সংলগ্ন আছে। বন্ধুবর ডাক্তার রমেশচন্ত্র মজুমদার উহার যে 
পাঠোদ্ধার করিয়াছেন তাহ! পরিশিষ্ট প্রদত্ত হইল। লিপি হইতে 
অবগত হওয়া যায় যে, রামেশ্বর ভট্ট নামক কোন ব্রাহ্মণ, তগস্থী 
্রাহ্মণদিগকে দান করিবার জন্য দুই আঢক পরিমাণ নৈবেদ্যের 
ব্যবস্থা করিয়াছিলেন। ইহা না দিলে ক্ষেত্রপাল মহাপাতকে 
পতিত হইবেন এইরূপ শাপোক্তিও লিপিশেষে দেখা যায়। মহাভব 
গুপ্তের বক্রতেম্তলী তামশাসনের লিপির সহিত এই লিপির অক্ষর- 
সাদৃশ্ত হইতে অনুমিত হয় যে, লিপিখানি সম্ভবতঃ দশম শতাবীতে 
উৎকীর্ণ হইয়াছিল। লিঙ্গরাজের বড় দেউল তাহার পূর্ববর্তী না 
হউক অধিক পরবর্তী ন! হওয়াই সম্ভব। ত্রিভুবনেশ্বর দেবের মন্দিরটি 
যে আধ্যাবর্ত ব৷ ভারতীয় আধ্য-স্থাপত্য-পদ্ধতির (1199-£5191) 0£ 
4৮172858105 5015 ) সর্ধোত্রুষ্ট নিদর্শন ভিম্দেপ্ট শ্মিথ মহোদয়ও 
সে কথা স্বীকার করিতে ঘিধা বোধ করেন নাই (৫)। 
(৫) প্ীযুক্ত এল, ডি বাণে ট. মহাশয়ের মতেও উড়িষ্যার হিন্দু-ভারতীয় 
(1940 41581) গ্কাপতা প্রথার সর্বশ্রেষ্ঠ দৃষ্টান্ত খঃ একাদশ শতান্ধীতে 
নির্শিত এই ভূবনেশ্বরের লিঙ্গরাজমন্দির। বার্পে ট ইউরোপীয় স্থপতিদিগের মতাচু- 
সরণ করিয়! বলিয়াছেন যে, প্রথমে শিখর নিয়ন্থ গর্ভগৃহ ও তৎসংলগ্ন একটি 
মাত্র মও্প মির্শিত হুইয়াছিল। ন!টমন্দির ও ভোগমগ্প পরবর্তীকালে নিশ্িত। 
এই সকল অংশগুলি ধরিয়া! লিঙগরাজমন্দির দৈত্য ২১* ফিট । শিখরদেশ 
চওড়া এক কোণ হইতে আর এক কোণ পর্যাস্ত ৬. হইতে ৭৫ ফিটের 
মধ্যে, এবং উচ্চতায় ১৮* ফিটের বেশী বই কম হইবে ন|। ৬৫* হইতে ৯*. 
থুঃ অন্ধের মধ্যে নির্শিত ভূষনেশ্বরের প্রাচীন মদির়াদি দেখিক়! প্রতীরমান হয় 
যে পূর্বে শিখর সে্প উচ্চ হইত মা। (131. [5 19, 3851705105 2১00- 
710153 ০1 11018, [2 238-239)। উচ্চশিখর . যুক্ত লিঙ্গরাজমন্দির যে 


পরবর্তীকালে নির্শিত, ডাঃ বার্পেট প্রমুখ পগিতগণ তাহা বিষেচনা করার 
ইহাই অন্ততম কারণ বলিয়া মনে হয়। 


২২ তুবনেশ্বরের কথা । 


আর্ধ্যাবর্তশ্রেণীর মন্দির নশ্র্দীর দক্ষিণে বড় দেখিতে পাওয়া 
যায় না। স্বীতোদর “বিমান” ও পার্শ্দেশের উর্ধাধঃ ভুগ্নতাই 
(০৪7/৪(516) এ সকল মন্দিরের প্রধান বিশেষত্ব বলিয়াই 
পরিগণিত । 'আধ্যভারতীয়' মন্দিরের আকার সাধারণতঃ 
চতুক্ষোণ কিন্তু দ্রাবিড়ী প্রথায় নির্মিত দেউলগুলির ন্যায় ইহা 
একাধিক লা” (9101) ) বিশিষ্ট নহে। নবম বা দশম 
শতার্দী হইতে প্রয়োদশ শতাব্দীর মধ্যে নিশ্মিত মন্দিরগুলির 
মধ্যেই এই স্থাপত্য-পদ্ধতির উৎক্ নমুনা দেখা গিয়৷ থাকে। 
এ শ্রেণীর প্রাচীনতম দেউলের বিমান সেরূপ সমুচ্চ নহে এবং 
জগমোহনের ছাদ পরবর্তীকালে মন্দিরাদির তুলনায় স্থুলত্ব ও 
গুরুত্ব হিসাবে নিতান্ত কম না হইলেও সাধারণতঃ উহ স্তস্তশ্রেণীর 
উপর নির্ভর করে না (850)191)। উদ্ধাধঃ (৮৩/০০৭]) ও পাতিত, 
(19971407061 ) রেখার নিপুণ সমাবেশে অনতি-উচ্চ দেউল- 
গুলিরও স্থাপত্য-মহিমা বেশ পরিস্ফুট হইয়া উঠে। মিঃ 
সিম্পসন (910)501)) নামক জনৈক স্থপতির মত উল্লেখ 
করিয়া ভিন্সেট শ্মিথ বলিয়াছেন যে, “সম্ভবতঃ রথযাত্রা 
রথের উপর যে বংশনিম্মিত ধন্ত্রাবৃত বেষ্টনী থাকে, তাহারই 
অনুকরণে এই শ্রেণীর মন্দির-চুড়ার উত্তব হইয়া থাকিবে” (৬)। 
ফাগুসন (1৭512055017) যাহাকে ওদ্র-স্থাপত্য-শিল্পের রত্বস্বরূপ 
(4]5/৩1 01 017155210 4১1৮৮) বলিয়া প্রশংসা করিয়াছেন, সেই 
মুক্তেশ্বর মন্দিরই ইহার প্রাচীনতম আদশ। 


৬০ পাপা 


জা এগার 




















পপ | ০৯ 


(৬) 01811) 200 10118010105 1) 1170151) 8190 28506091071. 
৪০০০/৩১ 1125১8০09805 0৫ 1998] 10950105601 03110150 4১10001606 
৬০], ৬1, ই, 5. 3891) 70. 225-26, 0800160 05 ৬170501 50011000, 


-কলস ঘড়ি 
কলস হাড়ি 
বব! 'কলন' 
কলস পা 
ব্রিপতধার 
আামল। 
ব| অমল 





উৎকলে গ্রচলিত আর্ধ্যাবর্ত অথবা আর্য ভারতী স্থাপতা পদ্ধতির 
শিখর দেশের মর্ধ নক্সা | 
[শ্রীযুক্ত মনোমোন গঙ্গোপাধায় মহাশয়ের সৌজনো ] 


[ পূঃ ২৯ 


ভূবনেশ্বরের স্থাপত্য । ২৩ 


উড়িষ্যা ছ্বিবিধ ভারতীয় স্থাপত্যের মিলন-তীর্৫থ বলিয়। মনে হয়। 
উত্তর ভারতের স্থাপত্য হইতে শিখরাংশ ও দক্ষিণ ভারতীয় স্থাপত্য 
হইতে পিরামিডার্তি মণ্ডপসমূহের নিশ্মীণ-কৌশল গ্রহণ করিয়া 
উড়িয়াশিল্লীরা দেশীয় রুচি অন্থসারে মূল আদর্শের আবশ্যকাম্ুযাযী 
পরিবর্তন সংসাধিত করিয়াছে। উতৎকলের শ্বতন্ব স্থাপত্যরীতি যে 
এই উভয়ের সমবায়েই প্রবর্তিত হইয়াছিল, ইহাই সম্ভব বলিয়া 
বিবেচনা হয় । 

ডাঃ এল, ডি, বার্ধেট, মহাশয়কে কিন্তু এ মতের সমর্থক 
বলিয়া মনে হয় না, যে হেতু পাতিত? খিলান্‌ (11011507091 
৪101) নির্শাণপ্রণালী হইতেই শিখরের উৎপত্তি হইয়াছে, 
ফাঁগুসনের এই অনুমান তিনি প্রামাণিকভাবে উল্লেখ করিয়া 
ছেন (৭) ভারতীয় স্থাপত্যে বিমানের যে বহু প্রকার ভেদ 
রহিয়াছে সে কথা কেহই অস্বীকার করিবেন না। মহিশূর 
রাজ্যে চালুক্য স্থাপত্যপ্রথার নিদর্শন, দ্বাদশ শতাব্দীর বেলুড়মন্দিরে 
(৮) যে “তারাকৃতি*-ভিততিযুক্ত (5151-51)8160 ) বিমান দেখা 
যায়, তাহার সহিত উদগত স্তস্তবিশিষ্ট উড়িষ্যার খাঁজকাটা বিমানের 
কতকটা সাদৃশ্য থাকিলেও অসাদৃশ্যের পরিমাণও বড় কম 
নহে (৯)। মাপ্রাজী প্রত্বতত্ববিদ্‌ শ্রীযুক্ত এস্‌ কষ্ণস্বামী আয়েঙ্গার 
মহাশয় বলিয়াছেন যে, দেবগণের আকাশগামী রথের সহিত 
কাল্পনিক সাদৃশ্তবশতঃ শোভাযাত্রার রথগুলিকে (1১100695101)81 


(4) 138076605 &17610016065 06 17015) 0,238. 

(৮) এই মঙ্গিরটি হৈশলরাজ বিষুবর্ধন কর্তৃক নির্মিত হইয়াছিল। ইহা! 
উত্তরাপথের ও দাক্ষিণাত্ের (ভ্রাবিড়ের ) বিভিন্ন স্বাপত্যপ্রথার সংমিশ্রণে 
উত্ত,ত ঢালুক্য প্রণালীর উল্লেখধোগ্য নিদর্শন। 

(») 104, 01. ৬. 


২৪ ভুবনেশ্বরের কথা । 


০819) “বিমান বলা হইত। ইহা হইতেই গর্ভগৃহের উপরিস্থ 
চুড়াটি (%০০/৩% ) ও “বিমান, আখ্যা প্রাপ্ত হয়। তাহার মতে 
শোভাযাত্রার 'বিমান” সমূহ ক্রমশঃ সামরিক রথের স্থান অধিকার 
করিয়াছিল (১*)। এ্রমন্দিরের স্থাপত্য” অধ্যায়ে বর্ণিত শ্রীযুক্ত 
হেভেলের অনুমান আয়েক্নার মহাশয় যে অনেকাংশে সমর্থন করিতে- 
ছেন ইহা! হইতে তাহা স্পষ্টই বুঝা যায়। মহাবলীপুরের প্রস্তর 
ক্ষোদিত মন্দিরগুলি “রথ নামে অভিহিত । ইহার মধ্যেও বিমানের 
আদর্শ বিদ্যমান রহিয়াছে দেখিতে পাই। তাঞ্জোর জেলার 
কাবেরী নদীর দক্ষিণ তীরে অবস্থিত তিরুবদমরুছ্বরের (0179809- 
079£0001£) বিখ্যাত রথটির চিত্র দর্শন করিলে মহাবললীপুরের 
একটি প্রন্তরক্ষোদিত রথের সহিত আকৃতিগত সাদ্ৃশ্যের কথা 
সহজেই মনে পড়ে। উড়িষ্যা মন্দিরের পিরামিডাকৃতি “পিড়” 
দেউল বা মণ্ডপ যে ইহারই বংশধর এ অনুমান অসঙ্গত বলিয়া 
মনে হয় না। তিরুবদমরুদুরের রথের প্রতিকৃতি সহিত কোণার্ক- 
মন্দিরের চিত্র তুলনা! করিলে এ কথ। সহজেই প্রতীয়মান হইবে। 
কিছুদিন পূর্বে সার্‌ রামক্কষ্চ গোপাল ভাগ্ডারকরের সম্মানার্থ 
বহু পণ্ডিত জনের প্রবন্ধাদি-পরিপূর্ণ যে শ্মারক-পুস্তক (1150701191 
০1৪) প্রকাশিত হইয়াছিল, তাহাতে কলিকাতা আর্টন্থুলের 
ভৃতপূর্বব অধ্যক্ষ শ্রীযুঞ ই, বি, হেভেল প্রাচ্যমন্দিরের “শিখর অথব। 
“বিমান” সম্বন্ধে কয়েকটি কৌতুহলজনক তথ্য প্রকাশিত করিয়া- 
ছেন। তাঁহার মতে শিখর-নিম্মাণ-কৌশল ইদানীং যুদ্ধক্ষেত্ররূপে সর্ব 
জন-পরিচিত মেসোপোটেমিয়া বা! ইরাক প্রদ্দেশের বহুপ্রাচীন নিনেতে 
1৩৮০1) নগরী হইতে আমদানী হইয়াছিল। সেখানকার সুপ্রাচীন 


(১) 3. 2. £& 55 18105 1915) 0,525. 


॥ 
রা 
০ 
। 
5 
লা) 
) 4 


ৃ / 1 এ 


্ এ রি? রা) নী 


এ 1 , স 
2)॥ রর 741 রি রা : 


411 14 
11 





রথের বংশনির্মিত বন্াবূত ঝেষ্টনী হইতে মন্দির শিখরের উত্্থন। 
| শীমূক্ত দিম্পমনের না! হইতে রয়াণ ইন্ষ্টিটিউট অফ, বিটি 
আফ্িটেক্টমূ মমিতির সৌন্ধন্যে ] | পুঃ২২ 


ভুবনেশ্বরের স্থাপত্য । ৯৫ 


স্বাপত্য-নিদর্শনের মধ্যে এরূপ গঠনযুক্ত মন্িরাদির ধ্বংসাবশেষ না 
কি এখনও দেখিতে পাওয়া যায়, স্থতরাং 'আধ্যাবর্ত” স্থাপত্য- 
পদ্ধতি যে কি পরিমাণে বিদেশী প্রভাবে অনুপ্রাণিত সে সম্বন্ধে 
এখনও মতভেদ রহিয়াছে বলিয়াই মনে হয়। চুঃখের বিবয় বিশেষজ্ঞ- 
পাশ্চাত্য পণ্ডিতগণ ভিন্নদেশীয় স্থাপত্য প্রথার বিষ্তার সম্বন্ধে 
যেকি উপায়ে মতামত নির্ধারিত করিয়া থাকেন, এবং কি প্রকার 
বিশ্লেষণ পদ্ধতি অবলম্বনে তাহারা নিজ নিজ মৌলিক সিদ্ধান্তে 
উপনীত হয়েন, তাহা তাহাদের গ্রস্থাদিতে সকল সময়ে বিস্তারিত 
ভাবে প্রদত্ত হয় না। আ্রীযুক্ত সি, টি, রিভিওরা মোসেম স্থাপত্য 
বিষয়ক গ্রন্থে মিসর দেশের কায়রো নগরস্থ হাকিম এর মস্জিদ 
ও সেখ অবুবের সমাধিমন্দিরের কথা উল্লেখ করিয়৷ বলিয়াছেন 
যে এই ছুইটি ইমারতই কিস্ভৃত-কিমাকার” (1015817৩ ) ভারতীয় 
আদর্শ হইতে ,গৃহীত। দৃষ্টান্ত শ্বরূপ তিনি যোধপুর রাজ্যের 
অন্তর্গত অষ্টম শতাব্দীর ওসিয়ার মন্দির এবং নবম বা দশম হইতে 
ৃ্টীয় ত্রয়োদশ শতাবীর অন্তর্গত মুক্ষেশ্বর মন্দিরের কথা উল্লেখ 
করিয়াছেন (১১)। উড়িষ্যা হইতে ভারতীয় আদর্শ যদি মিসর 
পর্যন্ত পথছিতে পারে, তাহ৷ হইলে মেসোপটেমিয়া হইতে পারস্তের 
পথে বিদেশী আদর্শ ভারতে আসাও অসম্ভব বলিয়া বিবেচিত 
হইবে না। প্রযুক্ত হেভেল, লেয়ার্ড প্রণীত “নিনেভে” হইতে 
প্রমাণ স্বরূপ যে চিত্রটির উল্লেখ করিয়াছেন, তাহার প্রতিলিপিটি 
উত্তমরূপে লক্ষ্য করিলে দৃষ্ট হইবে যে শিখরদ্বয়ের অগ্রভাগে যাহা! 
“আমলক* বলিয়া বর্ণনা কর! হইয়াছে, তাহা ভারতীয় আমলকের 


(১১) 11109516179 4১10016600815 05 0, 2, ৬1017, 0%0010 0101- 
61810 21555 0. 158 & 0. 164. 


২৬ ভুবনেশ্বরের কথা৷ 


ন্যায় খাজ কাটা নহে, এবং শীর্ষস্থ (91)151 ) কলসটীরও কোন 
চিহ্ন দেখা যায় না, স্থতরাং হেভেলের মতবাদ সম্পূর্ণরূপে গৃহীত 
হইলে এ পরিবর্তন বা পরিবর্ধন ভারতে আসিয়া ঘটিয়াছে ইহাই 
স্বীকার করিতে হয়। 

ভারতের প্রাচীনতম দেবালয় গিরি গুহায় অবস্থিত । পরবর্তী- 
কালে, কোনও কোনও হ্থলে মন্দির-স্থাপত্যে ক্ষ্েদিত গিরি- 
গুহাদির অন্থকরণের চেষ্টা দেখা যায়। ক্রামায়শ প্রভৃতি 
গ্রন্থে মন্দির-শিখরের উল্লেখ থাকিলেও (১২) খুষ্ট পুর্ব্ব যুগের 
কোনও শিখর সংযুক্ত দেবালয় অগ্াপি আবিষ্কৃত হয় নাই। 
গুপ্ত যুগের মন্দিরাদি অধিকাংশই সমতল ছাদ বিশিষ্ট, কবল নাছন! 
কুঠারা নামক স্থানে শিখর-সংযুক্ত একটি গুপ্ত যুগের মন্দির অগ্ঠাপি 
বিদ্কমান। প্রত্বতত্ব বিভাগের পুস্তকাদি-নিহিত প্রমাণ হইতে 
যতদূর জান গিয়াছে তাহাতে আধ্যাবর্ত ,শেণীর শিখর" 
(মন্দির চূড়া) ভারতীয় স্থপতিগণ কর্তৃক উদ্ভাবিত বলিয়া 
বিশ্বাস জন্মে । ৃ 

সে যাহা! হউক ভূবনেশ্বরের স্থাপত্যকলাক্ উড়িয়া শিল্লিগণের যে 
আশ্চর্য্য প্রতিভ! দেদীপ্যমান, শত বৈদেশিক-খণ স্বীকার করিলেও 
তাহার গৌরব কিঞ্চিম্মাত্র ক্ষু্ হইবে না । 

বিশেষজ্ঞগণ স্থাপত্যের দিক্‌ দিয়া উৎ্কলের মন্দিরগুলি তিন 
শ্রেণীতে বিভক্ত করিতে চাহেন। মুক্তেশ্বরের অন্তস্ত (5505191£) 
মন্দিরই প্রথম শ্রেণীর দেউলের প্রাচীনতম আদর্শ ১) লিঙ্গরাজ মন্দির 
দ্বিতীক্ন শ্রেণীর অন্তর্গত ) ইহার অতুযুচ্চ বিমানাংশের উর্ধাদেশেই 


সাপ, 








(১২) 1২977799527825 (11. 6-7 5) 00০৪৭ 17) ), 70. 103, [তি &১. 5, 
৬০]. 2১61011026০. ৬10৩ 2৭. 8275 20558) 19. 549. 





( চিত্র ১৫) 





চি শপে পল তত ০ ভাগ 
১৩5১. ০১ রী 
পটে 





তারাকতি ভিত্তিযুক্ত বেলুড় মন্দির। [ পৃঃ ২৩ 
(চিত্র ১৬) 

৫৯ রহপাগ 
অন্ধপাগ 
কণকপাগ 

কণকপাগ 
অনদ্ধপাগ 
রহপাগ 
পীড় দেউলের ভিত্তির অদ্ধ নক! | 


[ শ্রীযুক্ত এম, এইচ, আর্ণট কর্তৃক প্রকাশিত মূল নকলা অবলম্বনে ) [ পূঃ ২৪ 


ভুবনেশ্বরের স্থাপত্য । ২৭ 


কেবল ভূগ্নতা লক্ষিত হুইয়৷ থাকে, বাকী অংশ প্রায় খাড়া হুইয়। 
উঠিয়াছে। 

ভুবনেশ্বরের মন্দির নিশ্মাণ প্রণালীর উদ্বর্তনপ্রসঙ্গে ভিন্দেন্ট স্মিথ 
মহাশয়ও এই তিনটি বিশিষ্ট শ্রেণীর উল্লেখ করিয়াছেন। তাহার মতে 
পরশুরামেশ্বর ও মুক্তেশ্বর এই উত্তয় মন্দিরই প্রথম শ্রেণীর অন্তর্গত। 
এই ছুই প্রকার মন্দিরের বিভিন্ন নির্মাণ-প্রণালী বোধ হয় একই সময়ে 
পাশাপাশি ভাবে বর্তমান ছিল, (0101010)6 05110095590) ইহাতে 
স্তম্ভের নাম-গন্ধ নাই (55()181) | উচ্চ শেখরযুক্ত লিঙ্গ-রাজমন্দিরই 
দ্বিতীয় শ্রেণীর সর্বোৎকৃষ্ট নিদর্শন । এই জাতীয় মন্দিরে জগমোহনের 
ছাদও অনেক উচ্চে অবস্থিত। কেহ কেহ বপিয়াছেন লিঙ্গরাজ 
মন্দিরের কারুকার্য্যময় শেখরাংশ কোনও মন্দিরের দারুময় আদর্শ 
(০০৭০৪ 17009061) হইতেই গৃহীত। ফাঁগুসনের মতেও, 
যে মূল দৃষ্টান্ত হইতে লিঙ্গরাজ মন্দির পরিকল্পিত হইয়াছে, তাহা 
সম্ভবতঃ কাণষ্ঠনিশ্মিত ছিল। স্থাপত্য-শির্পের জন্য প্রস্তর ব্যবহৃত 
হইবার পূর্বে কাষ্ঠই যে গৃহ বা মন্দির নিম্মাণের প্রধান উপকরণ 
ছিল, একথ! প্রত্বতস্ববিদগণ সকলেই স্বীকার করিয়া থাকেন (১৩,। 
তৃতীয় শ্রেণীর মন্দিরগুলি প্রথম ছুই শ্রেণীর সংমিশ্রণে গঠিত। 
দ্বাদশ বা ত্রয়োদশ শতাব্ধীতে নির্মিত ভূবনেশ্বরের মন্দিরগুলি 
প্রায়শঃ এ শ্রেণীরই অন্তর্গত। এ গুলি স্তস্তবিশিষ্ট, এবং বৃ 
কারুকার্যে স্থশোভিত। সাধারণতঃ 'রাজা-রাণীর' মন্দিরই ইহার 

(১৬) ইহার দৃষ্টান্ত্বরূপ শর্গাঁয় ডাঃ ফাগুপন পশ্চিম ভারতীয় মৌধ্য- 
চৈত্যার্দিয় ও বিশেষ করিয়া "ভাজ' (7/07)8) গুহার উল্লেখ করিয়াছেন। 
(81008601098 17 10012 09. 75-76). তাহার মতে এই ক্ষোিত চৈত্য-গভ' 


গুহাটিতে সর্ধত্রই কাষ্ঠ নির্দিত আদর্শের অনুকরণ ধেখ| যায়, এমন কি ছাদের 
আড়কাঠ (095) গুলিও বাদ পড়ে নাই। 


২৮ ভুবনেশ্বরের কথা । 


শ্রেষ্ঠতম নিদর্শনরূপে উল্লিখিত হইয়া থাকে । এই মন্দিরটি 
“রাজরাণীয়া, নামক এক প্রকার গ্রস্তরে নির্মিত বলিয়া ইহার এইক্প 
নামকরণ হইয়াছে বলিয়া অনুমান হয় । 

ফাগুসন বিমান গাত্রস্থ খণ্ডিত অংশগুলির কারুকার্য্য দেখিস 
অনুমান করিয়াছেন যে, খোদাই কাজ করা কাঠের গু'ড়ির 
সহিত এগুলির যথেষ্ট সাদৃশ্য আছে। কিন্তু ইহ! হইতেই মন্দিরের 
মূল আদর্শটি যে কাষ্ঠনির্শিত ছিল এরূপ অনুমান করা কতদূর 
ন্যায়সঙ্গত তাহা স্থাপতাশিল্পবিদ্গণই বলিতে পারেন। লিঙ্গরাজ 
মন্দির মোটের উপর চারিটিভাগে বিভক্ত 7-- 

১। রেখ। অথবা গর্ত গৃহ ও তছুপরিস্থ ধবজশেখর। 

২। ভদ্রক অথবা জগমোহন। 

৩। নাটমন্দির। 

৪ ভোগ-মন্দির। 

প্রাচীন গ্রীকমন্দিরেও এইরূপ তিন চারিটি প্রধান অংশ বা বিভাগ 
থাকার কথা জানা যাক্ন। সম্প্রতি প্রাচীন তক্ষশিলায় যে সকল 
স্থাপত্য চিহ্নাদি আরিষ্কৃত হইয়াছে, তাহার মধ্যে জান্দিয়ালের 
গ্রীকপ্রণালীর মন্দির বিশেষ উল্লেখযোগ্য । এই মন্দিরের প্রথমাংশেই 
[000895 অথবা [30:0)1 ইহা কতকাংশে জগমোহনের সহিত 
তুলনীয়। পরে 78099 বা 581000081 । ইহা কতকটা 
গর্তগৃহের সহিত সাদৃশ্ঠযুক্ত বলা যাইতে পারে। আসল 
গ্রীকমন্দির গুলিতে ইহার পর আর একটি ঘর থাকে, কিন্ত 
জান্দিয়ালে তাহা নাই। সর্বশেষে, 0101501)0001)03 অর্থাৎ 
5০1 1১০9101) বা পশ্চাৎ প্রকোষ্ঠ। মার্শাল অনুমান করেন, 
জান্দিয়াল মন্দিরে এই 1১8০ 790:০1) এর উপরেই মন্দিরচুড়া 


(18.7 ১৭) 











১ 
থক] ৪ খ্& ১৪ 
ও ৬1৫ $ ৫ 
ও -া 2এ-ী-১৩ 
2. [হা হুজি 1 হু 
হ গর 315 ৬৪ 
র্‌ চে ধ্ধ | শু র্‌ 
216] ও 05 9 র্‌ € 
এ খ্্‌ হু ও 
০ [ডি 
* 


আসি সপ 


6 


১। কলস। ২।থাপুরী বা কপুতী ৩। আমলা । ৪ | আমলা বেকী। ৫। 
সিম্তৃপত্রিয়৷ পোখুড়া । ৬। ডোরি। ৭। ইরিপাত৷ ঢাই মাকুণী। ৮। শ্ী। ৯। 
বেকী। ১*। দ্বিতীয় জঙ্ঘা। ১২। দ্বিতীয় বারান্দী। ১৯। বন্ধ ব। 
বন্ধন। ১৪। প্রথম বারান্দী। ১৫। প্রথম জজ্ঘা। ১৬। পুষ্ট 


পীড় দেউলের নক্সা । 


| শ্রীসুক্ত এম, এইচ, আর্ণট কর্তক প্রকাশিত ভূবনেখরের মান্দিরাদির সংস্কার 
বিষয়ক রিপোর্টের অন্তর্গত একখানি নষ্টা! অবলম্বনে | [পুঃ২৪ 


ভুবনেশ্বরের স্থাপত্য । ২৯ 


অবস্থিত ছিল (১৪)। উড়িয়া মন্দিরে কিন্তু গর্তৃগৃহ সর্বশেষে 
অবস্থিত); তাহার উপরেই রেখার উচ্চ চূড়া । উড়িষ্যার মন্দিরে 
দেব-গৃহের পশ্চান্তাগে কোন প্রকোষ্ঠ বা চাদনি. নাই। ইহা 
ব্যতীত আরও বৈসাদৃশ্য দেখিতে পাই। গ্রীক মন্দিরের চারি 
পার্খে শ্তভযুক্ত বারান্দা ([91151)/15) থাকে কিন্তু আর্ধ্যাবর্ত- 
শ্রেণীর মন্দিরে ইহার কোনও চিহ্ন দেখা যায় না। তলদেশের 
নক্সাতে ( 87০০) 0187) ও অনেক গরমিল দেখা যায়। স্থাপত্য- 
প্রণালীতে ও ছাদ প্রভৃতির নির্মাণ কৌশলে যে কত প্রভেদ 
রহিয়াছে তাহ! আর বলিবার নহে। এই সকল কারণেই বোধ 
হয় অভিজ্ঞ দেশীয় স্থপতি-শান্ত্রবিদগণ প্রতিপদে যুনানী খণ স্বীকার 
করিতে সম্মত নহেন। এসন্বন্ষে স্বর্গীয় ডাঃ ফাগুসন ও স্বর্গীয় 
রাজ! রাজেন্দ্রলাল মিত্র মহাশয়ের মধ্যে যে বাদান্থবাদ হইয়াছিল 
সে কথা পণ্ডিত সমাজ বোধ হয় অগ্ঠাবধি বিশ্বত হয়েন 
নাই। ডাঃ রাজেন্ত্রলাল [1100-4১1)91)9 গ্রন্থে ভারতীয় স্থাপতো 
তথাকথিত যুনানী প্রভাবের অসারতা প্রতিপন্ন করেন। ইহার 
উত্তরে ডাঃ ফাগুসন বলেন যে, তীহার বক্তব্যের প্রকৃত অর্থ 
প্রকাশ কর! হয় নাই। ভারতীয় স্থাপত্য যে সম্পূর্ণ দেশীয় জিনিস 
একথা তিনি গোড়া হইতেই বলিয়া আসিতেছেন। ইহাতে মিসরীয়, 
ব্যাবিলনীয় ( বাবিরুশীয় ) আসিরীয় (4১557/1197), গ্রীক অথবা 
রোমক প্রভাবের চিহ্ন মাত্র নাই (১৫)। স্থাপত্য বিষয়ে ভারতীয়- 
গণ সমসাময়িক কোন জাতির ছাঁচ বা নকশা! ধার করেন নাই, 
শুধু দীর্ঘকাল স্থারী মাল-মসলার সাহায্যে তাহাদের দারুনিশ্মিত 


(১৪) 917 001) 11251512115 00106 (০0 193117) 1১, 89, 
(১৫) ৮6160350793 4101)560910£9 10 10912 1, 0. 


৩৩ ভুখনেখগের কথা ] 


আদর্শ গুলির পুনরাবৃত্তি করিয়াছিলেন মাত্র (১৬)। তিনি কেবল 
এই কথ! বলিয়াছিলেন যে, যুনানী প্রভৃতি ভিন্নদেশীয়দিগের 
সংস্পর্শে আসিবার পুর্ব্বে ভারতীয়গণ হল্ম্যাদি নির্মাণে, কষ্টসাধ্য 
(555 8৪০০৮1০) কিন্তু অধিককালস্থায়ী প্রস্তরাদি ব্যবহার করি- 
বার প্রয়োজন চিস্তা করেন নাই (১৭)। যর্দি কেহ বলিতে চাহেন 
যে, তাহাদের নিজন্ব কাঠে থোদা নক্সা (959121)) গুলি পাহাড়ের : 
গায়ে উৎকীর্ণ করিয়া ভারতীয় শিল্লিগণ প্রস্তরের সহিত পরিচিত 
হইয়াছিলেন ও ইমারতে প্রস্তর বাবহারে অভ্যন্ত হইয়াছিলেন এ 
কথার বিরুদ্ধে তাহার কিছুই বলিবার নাই (১৮)।” এখন দেখিতেছি 
প্রতীচ্য খণ্ডের যুনানীদিগের নিকট হইতে প্ররস্তরাদি স্থায়ী মাল- 
মসলার ব্যবহার-শিক্ষা সম্বন্ধে মতবাদ, কালক্রমে পরিবর্থিত হইয়া, 
মেসোপটেমিয়া ও পারস্য প্রভৃতি প্রাচ্য দেশেরই তথা-কথিত 
প্রাচীন স্থাপত্যপ্রভাবে পরিণত হইয়াছে। কালে ইহাও আবার 
কিন্নপ পরিবপ্তিত হইবে তাহাই বা! কে বলিতে পারে? 


(১৬) 1910 17. ৪. 
(১৭) 1010 0.7, 
(১৮) 1019 0.9. 


( চিন্র ১৮) 





ভূবনেশ্বরের লিঙ্গরাজ মন্দিরের উত্তর পার্শ হইতে রেখা ও জগমোহন। 
প্রযুক্ত মনোমোহন গঙ্গোপাধ্যায় মহাশক্নের সৌজন্যে] [ পৃঃ২৮ 


লিঙ্গরাজ পরিক্রমা! । 


এইবার ভুবনেশ্বরের বড় দেউলের বর্ন! আরম্তু করি। 
লিঙ্গরাজ-মনিরের ভিত্তির বহিঃস্থিত অংশ একসারি কলসের আকারে 
ক্ষোদিত। উচ্চ চূড়ার গাত্রে স্থকৌশলে অনেকগুলি খাঁজ কাটা 
আছে। সেই জন্য দূর হইতে দেখিলে দেউলের রেখা” ত্রিতল 
বলিয়! মনে হয়। মন্দিরের গাত্রে উদগত ভাগে মাঝে মাঝে খাঁজ; 
এই সকল খাঁজের মধ্যে নানাপ্রকার মূর্তি আছে। ক্ষোদিত জাস্তব 
ূর্তিমূহের অনেক গুলিই সিংহ বা সিংহসদৃশ (16081) 
মূর্তি। ইহা ছাড়া নৃত্যশীল! রমণী ও মিথুনমূর্তিরও অভাব নাই। 
ইহার মধ্যে কতকগুলি আবার কোনারকের কামলীলা৷ পরিচায়ক 
মুণ্তিসমূহের স্ায় নিতান্ত কদর্য্যভাবাপন্ন (১)। সে যাহা হউক, 
ললিতকলার দিক্‌ দিয়া মন্দির ভাস্বর্য্যের অপূর্ব্ব সৌমার্ধ্য আমা- 
দের এ ক্ষুদ্র লেখনীতে প্রকাশ করা সম্ভব নহে। বলেন্ত্রনাথের 
লীলাময়ী ভাষায় বলিতে গেলে, “সহত্র নাগবাল! প্রস্তরস্তস্তের 
বেষ্টনে শতপাকে চির-আবন্ধ হইল--আবক্ষ নারীদেছের শিরো- 
ভাগে যেন মন্ত্রলে অযূত ফণ! পাষাণ হইয়া রহিল। শত 
দেব, শত দেবী, নবগ্রহ, নবরস, অধুত নরনারী, বিচিত্র পত্রপুষ্প, * 
যৌবনবিলাসকলা পাষাণে চিরমুদ্রিত হইয়! নিশ্চল শিল্প. সৌনার্যো 
দেশ দেশাস্তরের বিশ্মিত নয়ন আকর্ষণ করিল।” মন্দির 


(১) ট্রালিং ভ্রমজমে এগুলিকে শিব ও শক্তিয় মিলনেয় চিত বলিয়া 
প্রকাণ করিয়াছেম। 


৩২ ভুবনেশ্বরের কথ! । 


গাত্রে ভূমির সহিত সমান্তরাল যে থাকগুলি আছে, তাহাতে 
অনেক গাহস্থা চিত্র অগভীর (98551 16115৮1) ভাবে ক্ষো্দিত। 
মধ্যস্থিত থাকের (0870) নিয়ভাগে আধুনিক ০০৪ ০06 ৪1075এর 
ন্যায় “ভো” নামক একপ্রকার অলঙ্কার দেখিতে পাওয়া ঘায়। 
শুনিতে পাই, এগুলির বাহার খৃষ্টীয় ৪র্থ শতাবী হইতে প্রচলিত। 
ছুই পার্খে অর্দোপবিষ্টা রমণীমৃত্ডিদ্য় কেহ কেহ উড্ডীয়মান 
গন্ধর্্ববাল! বলিয়া বিবেচনা করেন (২)। টার্নিং উড়িয্যার ইতিহাসে 
ভূবনেশ্বরের মন্দির গাত্স্থ ০০7 ০01 2177৪ বা 176151016 
0৩৬1০ সৃশ এই প্রকার একটি চিহ্ছের উল্লেখ করিয়া বলিয়াছেন 
যে স্থানীয় পাগ্াদিগের মতে উহা! নারায়ণের শঙ্খ, চক্র, গদা, পদ্মু- 
এই চিহ্নচতুষ্য়ের সমবায়ে গঠিত (৩)। এরস্কিন্‌ এলিফ্যাণ্ট। গুহা 
এইরূপ স্থাপত্য অলঙ্কার লক্ষ্য করিয়াছিলেন (৪)। একই প্রকার 
“মনগড়া” ব্যাখ্যা সকল স্থলে প্রযোজ্য হইতে পারে না। 
“কীত্তিমুখ” বলিয়া পরিচিত সদাব্যাদিতবদন যে এক প্রকার 
বিকটদংগ্রাবিশিষ্ট 'গ্রাসমুখ” ভুবনেশ্বরের শৈব মন্দিরে ক্ষোদদিত 
দেখিতে পাই, শ্রীযুক্ত অর্ধেন্রকুমার গঙ্গোপাধ্যায় মহাশয় “নূপম্চ 
নামক শিল্পকলা বিষয়ক ইংরাজী পত্রে তাহার ধারাবাহিক 
ইতিহাস বিবৃত করিয়াছেন (৫)। «ভো” জাতীয় ভাঙ্কর্য্য হইতে ইহা 
সম্পূর্ণ বিভিন্ন এবং প্রধানতঃ ইহা শৈবমন্দিরের সহিত সম্পর্ক- 
যুক্ত। স্বন্বপুরাণের বিষুখণ্ডে “কাত্তিকমাস মাহাত্ম্য নামক সপুদশ 


) 47005] 60016 4১107, 501559) 19034, ০. 47. 

) 9001708+5 061958 9. 98. 

)30110089 1119098000178, ৬০1, |) 0,277 70 91986 ৬1, 
) ২0021), ) 70819) 1920, 00. 21-19. 





মুক্তেশ্বর মন্দিরের জগমোহন-সংলগ্প নাগিনী মু্তিসম্ণিত 
কারুকার্মাশোভিত ক্ষোপিত ত্স্ত। 


21 


নাগবালা প্রস্তর গুস্তের ধেষ্টনে শহুপাকে চিব আবদ্ধ।। [ পৃঃ ৩১ 


লিঙ্গরাজ পরিক্রমা । ৩৩ 


অধ্যায়ে লিখিত আছে ধে দৈত্যরাজ অলন্ধর ত্রিজগতের অধিপতি 
হইয়া! গর্ববান্ধ হইয়া উঠে। সে শিব-পার্কতীর বিবাহ সভায় রাছকে 
দূত দ্বরূপ প্রেরণ করিয়া বার্তা জ্ঞাপন করে যে শিব ভিক্ষুক 
মাত্র, সুন্দরী রাজকুমারীর পতি হইবার যোগ্য নছে-_পার্বতীর 
অনৃষ্টে জলন্বরের রাজ্জী হওয়াই লিখিত আছে। রাহ এই 
অপমানজনক কথ! উচ্চারণ করিতে না করিতেই শিবের 
জধুগ্মের মধ্যদেশ দিয়া সিংহবদন, উর্দধকেশ, লোলজিহব, 
জলরয়ন, এক অতি কৃশকায় ভীষণদর্শন মুত্তি 'অপর নৃসিংহের 
ন্যায় আবিভূতি হইয়। বজনাদ করিতে করিতে রাহুকে 
গ্রাস করিবার জন্য বেগে পশ্চাৎগমন করিয়া তাহাকে 
ধরিয়া ফেলিল। রাহু প্রাণভয়ে ভীত হইয়া শিবের শরণাপন্ন 
হইলে আশুতোষ অবধ্য দূতের প্রতি কুপাপরবশ হইয়া এই 
অভূতপূর্ব মুণ্তিকে নিবৃত্ত হইতে বলিলেন। সে অত্যন্ত ক্ষুধাতুর 
বলিয়া প্রকাশ করিলে মহাদেব তাহাকে তাহার নিজের হস্ত- 
পদাদির মাংস আহার করিতে অনুমতি দিলেন। মুত্তি তৎক্ষণাৎ 
তাহার সমগ্রদেহের মাংস ভক্ষণ করিয়া ফেলিলে কেবল 
তাহার মস্তক মাত্র অবশিষ্ট রহিল। শিব তাহার প্রতি সন্ত 
হইয়। বরপ্রদান করিলেন “অন্য হইতে তোমার নাম কীত্তিমুখ 
হইবে; তুমি আমার মন্দিরের দ্বারদেশে অবস্থান করিবে। যাহারা 
পূর্বে তোমাকে অর্চনা না কর্পিবে তাহারা আমার কৃপালাতে 
বঞ্চিত হইবে ("ত্বদ্চং যে ন কুর্বস্তি নৈব তে মে প্রিয়ঙ্করাঃ ) 
তাহাদিগের অর্চনা বৃথা হইবে । তেষামচ্চ বৃথা ভবে” ) (৬) 


(৬) ৃন্পুয়াণে, বঙ্গবাসী সংস্করণ, দ্বিতীয়খণ্ড, পুং ১১৮২-১১৮৪। 
€ 


৩৪ সুবনেশ্বরের কথা । 


পীমুজ্জ অর্দেন্্কুমার গঙ্গোপাধ্যায় মহাশয় অনুমান করিয়াছেন যে 
শৈবোপাসনার সহিত কীত্তিমুখের এই সম্পর্ক খুঃ ওর্থ শতাববীর 
পূর্ববর্তী হওয়াই সম্ভব। শৈবমন্দিরে সর্দালের উপর ইহা 
ক্ষোদিত হইত | ক্রমে ইহ! শুভন্মুচক ভাস্বরয্য অলঙ্কারে পরিণত 
হইয়! যায় এবং শৈব, বৈষ্ণব, জৈন প্রভৃতি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের 
মন্দিরে স্থান পাইতে থাকে। দেবমুত্তি নিশ্দীতারা অনেক- 
স্থলে বিগ্রহের উপরিভাগে, প্রভামগুল ব৷ প্রভাতোরণের স্থানে, 
কীর্তিমুখ ব্যবহার করিয়াছেন দেখা যায়। কোনারকে প্রাপ্ত 
ুর্ধামুষ্তির উপরিভাগে এবং ভূবনেশ্বরের কয়েকটি মূর্তির শিরোদেশে 
“কীর্তিমুখ লক্ষিত হইয়াছে। উড়িষ্যায় প্রাপ্ত কীত্তবিমুখগুলি 
প্রায়শঃ ভারতীয় শিল্পধারার বাধা ছণচের নমুনা, কেবল ভূবনেশ্বরের 
মন্দিরে একটি ঘ্বিহস্ত বিশিষ্ট কীর্ডিমুখের পরিকল্পনা, নিজদেহ 
ভক্ষণনিরত, স্কন্দপুরাণোক্ত ভীষণ সিংহাস্য পুরুষের কথা স্মরণ 
করাইয়া দেয়। ভারতবর্ষের বাহিরে, সিংহলে, যবদ্বীপে, ও প্রাচীন 
কাম্বোজ প্রভৃতি রাজ্যের স্থাপত্য চিহ্ছে কীত্তিমুখ আবিষ্কৃত হইয়াছে। 
অনুসন্ধিৎস্থ পাঠক পূর্বোন্লিখিত ইংরাজী প্রবন্ধে ইহার বিস্তারিত 
বিবরণ দেখিতে পাইবেন (৭) গুগ্ডিচা গৃহের শিল্প-সৌনর্য্য- 
জ্ঞাপক ৩৮ নং চিত্রে উড়িয়া শিল্পীরচিত একটি বীভৎসতাবিহ্ীন, 
অভিনব “কীগ্িমুখ' স্থাপত্য অলঙ্কার পরিলক্ষিত হইবে (৮)। 
লিঙ্গরাজ দেউলের শিখরাংশে, মধ্যের থাফের ছুই পারে 
মন্দিরের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রতিকৃতি অঙ্কিত। প্রত্যেক ধারে 
প্রধান দেউলের আটটি করিয়! ক্ষুদ্রাকার শ্বরূপচিত্র। এগুলির 


অপ ০ কীট সপ সপন 








০ 





(৭) 1২0191), ০ 7, 0. 72. 
(৮) প্রধমখও, পুরীর কথা, পৃঃ ১৩৬। 


৭, রি 


লেক কি 


ৰস সি বু ৮ 
শে ৰং 





পিগরাজ মন্দিরের বহিঃপ্রাচীর | | পৃঃ ৩১ 


লিঙ্গরাজ পরিক্রমা । ৩৫ 


সারি প্রায় বিমানের উর্ধাদেশ পর্য্যন্ত পৌছিয়াছে। মন্দিরগাত্রে 
মন্দিরেরই ক্ষুদ্র ক্ষুত্র প্রতিকৃতি স্থাপন প্রথা প্রাচীন বোদ্ধ- 
রীতির অন্ুকরণমাত্র। বৌদ্ধ-চৈত্যের গাত্রে এই প্রকার 
মন্দিরের অনুরূপ ক্ষুদ্র প্রতিক্ৃতিপকল স্থান পাইত। স্থুতরাং 
কোন কোনও পণ্ডিতের মতে এই রীতির প্রাছুর্ভাব মন্দিরের 
প্রাচীনত্ব-নিরপণে সহায়তা করে। বঙ্গদেশে শিবমন্দিরের 
গাত্রেও এইরূপ দেবালয়ের প্রতিরুতিযুক্ত উদগত স্তস্ত অথবা 
11450০7এর প্রচলন দেখিতে পাওয়া যায়। নদীয়া জেলায় শ্রীনগর 
গ্রামের প্রায় ২৫০ বৎসরের প্রাচীন মন্দির ও বাগ আচড়া গ্রামের 
কেদার রায়ের মন্দির গ্রভৃতি নিদর্শনস্বরূপ উল্লেখ করা যাইতে 
পারে। এ রীতি বঙ্গদেশে ক্রমশঃ প্রচলিত হইলেও উড়িষ্যার 
স্থাপত্য-প্রভাবের সহিত ইহার কোনওরূপ সাক্ষাৎ সম্পক দৃষ্ 
হয় না। দেখিলাম, মন্দির গাত্রের মুরতগুলির মধ্যে কোন 
কোনটি প্রায় মানুষপ্রমাণ। তন্মধ্যে কয্সেকটি অনুমান পীচ 
ফুটের কম হইবে না। শিখরের উদ্ধভাগে কতকাংশে গম্বুজের 
ভার ধারণের উদ্দেশ্যে দ্বাদশটি উপবিষ্ট সিংহমুত্তি রহিয়াছে। 
সমস্ত মন্দিরটির ন্যায় এ গুলিও প্রন্তরে নির্মিত। মন্দিরশীর্ষে যে 
কলসারুতি চূড়াটি (61)181) আছে, গ্রীক ৪111)1)015 বা 
$৪5৩ জাতীয় পাত্রের সহিত তাহার আশ্চর্য্য সৌসাদৃশ্যের কথা 
রাজা রাজেন্ত্রলাল নিজ গ্রন্থে উল্লেখ করিয়াছেন। শ্রীযুক্ত 
মনোমোহন গঙ্গোপাধ্যায় কিন্তু এ মত সমর্থন করিতে প্রস্তত 
নহেন। তাহার মতে এ সাদৃশ্য কল্পনাপ্রস্থত। এগুলি যাবনিক 
পাত্রের অনুকরণে নির্মিত হইলে দেবালয়ের পবিত্র শীর্ষে স্থান 
পাইত কি না সন্দেহ। চুড়াসংলগ্ন ত্রিশূলের পার্খে একটি পীতবর্ণ 


৩৬ তুবনেশরের কথ।। 


ধ্বজদণ্ডে শৈবচিহ্নিত পতাকা! পত-পত শবে উড্ভীয়মান। রেখ! 
বা বিমান উচ্চে ১৬০ ফিট মতীস্তরে, ১৮০ ফিট হইবে। ভিতরের 
মেজে প্রাঙ্গণের অপেক্ষাও নিম়ে অবস্থিত । ত্রিতুবনেশ্বরের শিবলিঙ্গ, 
্য়স্তু বা অনাদি শিবলিঙ্গ বলিয়া প্রসিদ্ধ। কপিল সংহিতায় ইহ! 
এইরূপে বর্ণিত হইয়াছে-_ 
“মুলং স্ষটিকসঙ্কাশং মহানীলঞ্চমধ্যমং | 
মাণিক্যাভং তথোধিঞ্চ লিঙ্গং ব্রিভূবনেশ্বরং ॥% (৯) 

এখন “ক্রি” লোপ পাইয়৷ ব্রিতৃবনেশ্বর সাধারণতঃ ভুবনেশ্বর বা 
লিঙ্গরাজ নামেই আখ্যাত হইয়া থাকেন। লিঙ্গমৃষ্তিটি সাধারণ 
শিবলিঙ্গের হ্যায় নহে, উহ! একটি বৃহৎ গ্রানাইট প্রস্তরথণ্ড, মধযদেশ 
সামান্য উচ্চ। বৃত্তের পরিধি ৮ ফিট, এবং গৃহ-কুট্টিম হইতে ইহা 
মাত্র ৮ ইঞ্চি উদ্ধে অবস্থিত। রায় বাহাছুর ডাঃ চুণিলাল বন্থু মহাশয় 
লিখিয়াছেন “কৃষ্প্রস্তরনিশ্মিত লিঙ্গরাজের শিরোদেশে যে একটি 
শ্বেত রেখার চিহ্ন বিদ্যমান রহিয়াছে পাগডাদিগের মতে উহা 
শ্যামতনু বুন্দাবন-বিহারী শ্রীরুষ্ণের সহিত রজত-গুভ্র কৈলাসনাথের 
মিলন প্রতিপন্ন করিতেছে। ইহার গাত্রে কয়েকটি ধূসর রেখা গঙ্গা 
ও যমুনার সিত ও অসিতধার! রূপে বর্ণিত হইয়া থাকে” (১০ )। 
ভূতত্ববিদ্‌ পণ্ডিতগণ বলিয়৷ থাকেন যে, প্রন্তর-স্তরে ধাতবপদার্থের 
সমাবেশ হেতু এই প্রকার রেখাদি জন্মিয়া থাকে। শিক্ষাভিমান- 
শুন্য ভক্ত তীর্ঘযাত্রী যে এ বৈজ্ঞানিক ব্যাখা! শ্রবণ করিতে উৎসুক 
নহেন সে কথ! বলাই বাহুল্য। সেযাহা হউক অন্তর্নিহিত ভাবটি 


(৯) কপিলসংহিতা, 4. 5. 73, 115, 79. 263. 
(১১) পুত্বী বাইবার পথে, ১৫ পৃঃ। 





ভগবতী মন্দির গাত্রস্থ কোট অফু্‌ আর্মস্‌ সদৃশ অলঙ্কার । 


[ রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্রের গ্রন্থ নিহিত ৪৬ বি সংখ্যক চিজ্ঞ হইতে ] 
[ পৃঃ ৩২ 


(চিত্র ২২ 





তে ব1:কোটু অধ. আর্মস্‌ সদৃশ অলঙ্কারের নিয়ে কীর্তিমুখ | 
[ রাজা রাজেন্জ্রলাল মিত্রের গ্রপ্থে প্রদর্ত চিজ হইতে | পৃঃ ৩২ 


লিঙ্গরাজ পরিক্রম] | ৩৭ 


বুঝিয়া দেখিলে পাগ্ডাদিগের কথাগুলিও সত্যান্ুসন্ধিৎস্থ শিক্ষিত 
ব্যক্তির নিকট পরিত্যজ্য বলিয়া বোধ হইবে না। ইহা শৈব ও 
বৈষ্ণব মতের যে সমন্বয় জ্ঞাপন করিতেছে এঁতিহাসিকের চক্ষে 
তাহার মূল্য নিতান্ত অল্প নহে। এক সময়ে এই ছই সম্প্রদায়ের 
মধ্যে ষে মোটেই সন্তাব ছিল না! তাহা শিব ও বিষুঠুর কলহু- 
বিবাদের পৌরাণিক কাহিনী হইতেই বুঝা যায়। লিঙ্গমৃর্তির 
পার্থে যোনিমুদ্রাজ্ঞাপক মুগ্নি অথবা মুংনি পাথরের বেষ্টনী 
আছে, তাহার প্রিকোণাকৃতি অগ্রভাগ উত্বরদিকে অবস্থিত। 
লিঙ্গমূর্তিটির গাত্র কিঞ্চিৎ অসমতল, মধ্যে মধ্যে 1101)5007এর 
ন্যায় উচ্চনীচ দাগ দৃষ্ট ভয়। প্রবাদ এই যে ১৫৬৭-৬৮ 
থ্‌ঃ অব সুলেমান কর্রানি কর্তৃক উড়িয্যা আক্রমণকালে 
মুসলমান সেনাপতি এই স্বয়স্ত লিঙ্গমুস্তির উপর গদাঘাত করায় 
এই দাগগুলির উদ্ভব হয়। স্ুপ্রসিদ্ধ এ্রতিহাসিক অধ্যাপক 
যছুনাথ সরকার মহাশয় মুসলমান এঁতিহাসিকগণের উড়িষ্যা- 
বিজয়-বৃত্তাস্ত মূল পারসী গ্রন্থাদি হইতে ভালরূপই আলোচনা 
করিয়াছেন। তাহার নিকট হইতে অবগত হইয়াছি যে, 
ভুবনেশ্বরের মন্দিরাদির বর্ণনা বা শিবমৃত্তির অবমানন। সন্থান্ধে 
মুসলমান ইতিহাসে কোথাও উল্লেখ নাই, তবে মুসলমানের! যে 
ইলোরার গুহায় গিয়া সেখানকার আশ্চর্য্য শিল্পকলা দর্শনে উহ! 
জিনগণ (110) কর্তৃক নিশ্মিত বলিয়!। মনে করিয়াছিল, সে 
কথার উল্লেখ দেখিতে পাওয়া যায়। ভূবনেশ্বরের মন্দির-গাত্রস্থ ভগ্দশা- 
পন্ন, বিনষ্টপ্রায়, মৃত্তিগুলি দেখিলে হিন্দুধশ্নবিরোধী আক্রমণকারি- 
গণের অত্যাচার অনুমান করা যায় বটে, কিন্তু এতিহাসিক 
প্রমাণাভাবে ভূবনেশ্বরের শিবলিঙ্গও যে অপবিত্রীকৃত হইয়াছিল, 


৩৮ ভুবনেশ্বরের কথা। 


তাহা নিঃসন্দেহে বল! যায় না (১১)। ইতিহাসে দেখিতে 
পাই উড়িধাদেশ একাধিকবার মুসলমানগণ কর্তৃক আক্রান্ত 
হইয়াছিল। বাদাঁওনির উক্তি অবলদ্বন করিয়! বন্ধুবর শ্রীযুক্ত রাখালদাস 
বন্ট্যোপাধ্যায় লিখিয়াছেন যে, ফিরোজ সাহ জাজনগর অভিযান 
উপলক্ষে তত্রস্থ্য রাজধানী বানারস ব! বার্াণসীতে উপস্থিত হইয়া. 
ছিলেন (১২)। এক সময়ে তুবনেশ্বর যে দ্বিতীয় বারাণসী নামে খ্যাতি 
লাভ করিয়াছিল এ কথা পূর্বেই উলিখিত হইয়াছে স্থৃতরাং 
কোনও কোনও পগ্ডিতের মতে--প্রাটীন কলিঙ্গনগরী হইতে 
অভিন্ন_এই ভূবনেশ্বরই যে সেই বারাণসী, সে সম্বন্ধে আধুনিক 
অভিজ্ঞসমাজে হয়তো কোনও সন্দেহ উপস্থিত না হইতেও পারে। 
ইহা! গেল চতুর্দশ শতাব্দীর তৃতীয় পাদের কথা । ইহার পর ১৫০৯ 
খুঃ অবে প্রতাপরুদ্রদেবের রাজসকালে, গৌড়ীয় মুসলমান সেন 
পুনরায় উৎকল আক্রমণ করে। মাদপা পঞ্জী মতে নবাবের 
সেনাপতি ইসমাইল গাজী এই উপলক্ষে পুরীনগর ধ্বংস 
করিয়াছিলেন (১৩)। খুন্দাবন দাসের চৈতন্য ভাগবতে 
দেখিতে পাই-_ 


(১১) বহুমতী সংস্করণ চৈতনাভাগবতে "ওডুদেশে' 'কে।টি কোটি প্রতিমা 
প্রানাদ' ভাঙ্গার কথ! আছে কিন্ত যবনয়াজের নাম উল্লিখিত হয় নাই। এই 
সকল প্রমাণ সম্মুখে রাখিয়া! মুসলমান আক্রমণকারীদিগের দ্বারা ভূষনেশ্বরে যে 
কোনও অনিষ্ট সংসাধিত হয় নাই, এ কথা অসম্ভব বলিয়! যিবেচন1 করিয়া, 
একবারে অবিশ্বাম করিতে সাহমী হইতেছি ন|। 

(১২) 1091)1219710-521010) 07 3295 ৮৮ 17085164105 1২, 19, 
[35061)6৩, 


(১) শ্রীধুক্ত রাখালদাস বন্োপ।ধ্যায় প্রণীত বাঙ্গালার ইতিহাস; ২য় 
ভাগ, পৃঃ ২৪৬। 


লিঙ্গরাজ পরিক্রম! ৷ ৩৯ 


“যে হুসেন সাহা সর্ব্ব উড়িয়ার দেশে। 
দেবমুঙ্ডি ভাঙ্গিলেক দেউল বিশেষে ॥” (১৪) 
লিঙ্গরাজদেবের সমগ্র মন্দির একই সময়ে নির্শিত হয় 
নাই। জগমোহন, রেখার পশ্চিমমুখের সহিত সংলগ্ন । গ্রচলিত 
প্রবাদ অনুসারে উহ উড়িষ্যারাঁজ যযাতি কেঁশরী কর্তৃক নির্শিত 
হইয়াছিল। রাজ যাতি কেশরী 'যবন,দিগকে পরাজিত করিয়া- 
ছিলেন বলিয়া বংশাধলীতে বর্ণিত আছে। এখানে "বন" শব্ধ 
বৌদ্ধ প্রভৃতি শ্লেচ্ছদিগের প্রতি, কি মুসলমান আততায়িগণের গ্তি 
ব্যবহৃত হইয়াছে, এ সম্বন্ধে মতভেদ দেখা যায়। প্রত্রতত্ববিদ্গণের 
মধ্যে কেহ কেহ প্রবাদকথিত ১৪৩ বতসর যবনাধিকারকাল 
(৩২৮-_৪৭৪ ) পূর্ববর্তী গুপু নরপতিগণের রাজত্বকালের অন্পষ্ 
স্বতি (৮70010 10)01)919 06 5811 0014১) বলিয়া 
বিবেচনা করেন। কথিত আছে যে, রাজা যযাতি মগধের 
গুপ্তরাজগণের অর্ধীনে প্রদেশিক শাসনকর্তারূপে (1160651)7110) 
ভূবনেশ্বরে আসিয়৷ বৌদ্ধপ্রধান্য বিনষ্ট করিয়া হিন্দুধর্মের পুনঃ- 
প্রতিষ্ঠা করেন। ভূবনেশ্বর নাকি ইতঃপুর্বে উড়িয্যায় বৌদ্ধদিগের 
রাজধানী ছিল। সরকার তইতে প্রকাশিত প্রত্বতব-বিষয়ক 
পুস্তকে (১৫) এ কথ৷ লিখিত থাকিলেও ইহার কোনও এরতিহাসিক 
প্রমাণ উল্লিখিত হয় নাই। সম্ভবতঃ এ সকল উক্তি প্রবাদমূলক । 


(১৪) চৈতন্য ভাগবত, অস্তাথও, ৪র্থ অধ্যার, পৃঃ ৪২৬) প্ীঘৎ অতুলকৃষঃ 
গে।ন্বামী মহাশয়ের সংস্রণ। 

(১৫) 4৯ 115 06 09)6015 01 50110021121) 10061550177 06 
1,061 71051106301 7351£81 ০0101911604 7 01১6 13617591 56016- 
17115011006 01065 ০01 0095611)016170 06 10017 (1870 ) 7,225. 


৪০ ভুবনেশ্বরের কথা । 


প্রবাদমতে যযাতি কেশরীর রাজত্বকালের শেষ অংশে মন্দিরের 
ভিতিস্থাপনা হয়) তাহার ভীবিতীবস্থান্ব * «স্থির সমাপ্ত করা 
সম্ভব ভয় নাই। তাহার পরবর্তী রাজা শুর্ধ্য কেশরী নাকি 
এ কার্যে মোটেই হস্তক্ষেপ করেন নাই। হৃুর্য্যের উত্তরাধিকারী 
অনন্ত কেশরী পুনরায় মন্দির-নিন্াণে ব্রতী হয়েন এবং তৎপরবর্তী 
রাজা ললাটেন্ত্র কেশরী বা অলাবু কেশরীর রাজত্বকালে 
মন্দিরটি সমাপ্ত হয়। এ সম্বন্ধে ছুইখানি বিভিন্ন বাঙ্গালা গ্রন্থে 
একই সংস্কত শ্লোক কিঞ্চিৎ পরিবর্থিতভাবে উদ্ধত হইতে 
দেখিয়াছি। শ্রীযুক্ত আশুতোষ মুখোপাধ্যায় মহাশয় (১৬) 
লিঙ্গরাজের মন্দির যে ৫৮৮ শকাৰে নির্মিত, তাহার প্রমাণস্বরূপ 
নিয়লিখিত শ্লোকটি একাত্্পুরাণ হইতে উদ্ধাত বলিয়! প্রকাশ 


“গজাষ্টেঘুমিতে জাতে শকাবে কীর্তিবাসসঃ। 
প্রাসাদমকরোদ্রাজ। ললাটেন্দুশ্চ কেশরী ॥* 
আমরা উড়িয়া অক্ষরে ছাপা একামপুরাণে এ শ্লোকটি খুঁজিয়া 
পাই নাই। শ্রীযুক্ত গোপালচন্দ্র আচার্য্য চৌধুরী মহাশয় 'নীলাচলে 
গ্জগন্নাথ ও শ্রীগৌরাঙ্গ গ্রন্থে লিখিয়াছেন, “কেশরিবংশীয় 
ষষ্ঠ নৃপতি ললাটেন্দু কেশরী ভুবনেশ্বরের মন্দির নির্মীণ করেন। 
তাহার নাম ও সময় এ ভূবনেশ্বরের মন্দিরে থোদিত রহিয়াছে” | 
“গজাষ্টেম্ুমিতে জাতে শকাৰ্ে কৃত্তিবাসসঃ। 
প্রাসার্দং কারয়ামাস ললাটন্থেন্দুকেশরী ॥” 
লিপিখানির ছাপ, বা উহা ঠিক কোন স্থানে আবিষ্কৃত হইয়াছে, 
সে সংবাদ, গ্রন্থে প্রদত্ত হয় নাই। মাদলাপঞ্জীর বংশাবলীর 





(১৬) সেতুবন্ধ যাত্র।, পৃঃ ৩১। 


লিঙ্গরাজ পরিক্রম!। ৪১ 


হিসাবমতে ধরিতে গেলে যুঘাতি কেশরী 8৭8 হইতে ৫২৬ খুঃ 
অব পর্যাস্ত রাঁতব্? করিয়াছিলেন এবং অলাবু কেশরীর রাজত্ব- 
কাল ৫৪ বংসর__৬২৩ হইতে ৬৭৭ খুঃ অব পর্য্যস্ত। এই 
বংশের অন্যতম রাজা নৃপতি কেশরী ৯৪৫ খুঃ অন্ষে কটকে 
রাজধানী স্থানাস্তরিত করাতেই নাকি ভুবনেশ্বরের পূর্ব-গৌরব 
কু হয়। ও সকল কথা এ্রতিহাসিক সত্য বলিয়া কতদূর 
গৃহীত হইতে পারে, তাহাও বিচারসাপেক্ষ। কানিংহামের মতে 
৪৮১ খুষ্টাৰ যষাতি কেশরীর রাজত্বের নবম বংসর (১৭), 
কিন্ত ডাঃ ফিট যযাতি বা মহাশিব গুপ্তের রাজত্বকাল একাদশ 
শতাব্দীর পুর্বে অবস্থিত নহে, এইরূপই নিদ্ধীরিত করিয়াছেন। 
এ অনুমান অন্তান্ত লিপির সহ্তি তুলনায় এই লিপি- 
নিহিত বর্ণমালার আপেক্ষিক প্রাচীনতার উপর প্রতিষ্িত। 
যে কেশরি-রাজগণকে রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্র উড়িষ্যার কৈসার 
বংশ (085819 ০1 011559 ) বলিয়া গৌরব অন্থভব করিয়া- 
ছিলেন এবং ধাহাদিগের রাজত্বকাল অন্ততঃ ছয় শতাব্দীব্যাপী 
বলিয়| বিবেচিত হইত (60) 00 120) 0570015 ), আধুনিক 
এতিহাসিকগণ ত্বাহাদিগের অস্তিত্ব সম্বন্ধেই সন্দিহান । স্থুবিখ্যাত 
ডাঃ ফ্রিট তাহার “কটকের সোমবংশীর রাজগণ” নামক প্রবন্ধে 
দেখাইয়াছেন (১৮) যে, ক্ষোদিত লিপি, তাত্রশাসন প্রভূতিতে যযাতি 
কেশরী বা মহাশিব গুপ্ত এবং জন্মেজয় বা মহাভব গুপ্ত এই 
ছুই নামই পাওয়া যায়। নাম দেখিলেই বুঝা যায় যে, উভয় 


(১৭) 4100, 581৩5 01 11)018 1২600:05) ৬০1, 4৬11, 0. 64. 
(১৮) 12218192815 100109১ ৬০1, [19 00, 3349 336. 


৪২ ভুবনেশ্বরের কথা। 


রাজাই পরম শৈব ছিলেন। কুম্ম কেশরী, বরাহ কেশরী 
প্রভৃতি বংশাবলীর নামগুলি ডাঃ ফ্রিট কারনিক বলিয়াই বিবেচনা 
করেন। তাহার মতে অলাবু কেশরী বোধ হয় আলেপ থা 
নামক কোনও মুসলমান শাসনকর্তার নামের অপতভ্রংশ মাত্র। 
শাহ ওরংজেব যদি “সাহরংদেব” হইতে পারেন, (১৯) তাহা 
হইলে আলেপ খাঁর “অলাবু” নাম হওয়া বিচিত্র নহে। প্রবাদোক্ত 
রক্তবাহুকেও অনেকে বক্তিয়ার থিলিজির রূপান্তর বলিয়৷ সন্দেহ 
করেন। ক্রন্গেশ্বর মন্দিরের শিলালিপির যে পাঠ ও অনুবাদ 
বঙ্গীয় এসিয়াটিক সোসাইটির পত্রিকার সপ্তম'্ভাগে ৫৫৯-__-৫৬০ 
পষ্ঠায় প্রকাশিত হইয়াছিল, তাহাতে উদ্যোতক কেশরী নামক 
অপর একজন কেশরী উপাধিধারী নরপতি এবং তাহার মাতা 
কোলাবতীর নামের উল্লেখ দেখা যায় (২৯)। সন্ধ্যাকর নন্দীর 
রামচরিতে কর্ণকেশরী নামক একজন উৎকলরাজের উল্লেখ 
আছে, কিন্তু কোনও তাত্র-লিপিতে ইহার নাম অদ্যাবধি পাওয়া 
যায় নাই। চীন ত্রিপিটকের জাপানী সংস্করণ হইতে অবগত হওয়া 
যায় যে, থৃঃ ৭৯৬ অবে উচ ((601)8) অথবা উৎকলদেশের নৃপতি 
কর্ডতক চীন সআট “টি চুং (শত [5810 ) এর নিকট প্রেরিত 
একখানি “বুদ্ধাবতংসক সুত্র” পুথির কিয়দংশ প্রজ্ঞানামক কোনও 
চৈনিক ভিক্ষু নিজের মাতৃভাষায় অনুবাদ করিয়াছিলেন। পু'থির 


(১৯) 'হিনুর মুখে আরঞ্জেবের কথা'-_মহামহোপাধ্যায় পঙিত গ্রযু 
হরপ্রসাদ শীস্ত্রী কর্তৃক বঙ্গীর সাহিত্য সম্মিলনের ইতিহাস শাখায় পঠিত; 
প্রবন্ধ (78000017150) পৃঃ ২। 

(২৭) এই শিলাফলকে ঘধাতি ও জঙ্মেজয় ( জনমেজয়) ব্যতীত 
জন্মেজয়বংশীয় দীর্ঘবর, অপবার এবং উদ্দোতকের তিনজন পূর্বপুরুষ, 
বিচিআবীর়, অভিমন্য ও চতীহযরের নাস পাওয়] গিয়াছে। 


পিঙ্গরাজ পরিক্রম! | ৪৩ 


সহিত যে উপহারপত্র প্রেরিত হইয়াছিল, তাহা হইতে জানা 
গিয়াছে যে, সেই উৎকলরাজের নাম গুভকর কেশরী (২১)। 
মহাকোশলের গুপ্ত বা পাগুবদিগের অন্যতম “রণ কেশরীন্‌, 
সোমবংশীয় নৃপতিগণের পূর্বপুরুষ উদয়নের বংশেই জন্মগ্রহণ 
করিয়াছিলেন ; সুতরাং তাহাকে কেশরী বংশীয়দিগের মধ্যে ধরা 
যাইতে পারে কিন! তাহাঁও বিচার্য্য (২২)। কানিংহামের মতে 
যযাতি কেশরীর কৃুর্য্য কেশরীর নামক কোনও বংশধর খুঃ ৫২৬ 
অবঝে বিদ্যমান ছিলেন (২৩)। এই কয়েকজন ব্যতীত অপর 
কোনও কেশরিরাজকে ইতিহাস আপাততঃ মানিয়া লইতে প্পরস্তত 
নহে। আশ্চর্যের বিষয়, বংশাবলীতে উদ্যোতক কেশরীর 
নাম নাই। বংশাবশীতে কোলাবত্তী সঙ্কল্প বা বাস্থুকল্প কেশরীর 
মহিষী বলিয়া বর্ণিত। কৃত্তিবাসের মন্দির ভগ্মদশাপন্ন হওয়ায় 
ইনিই নাকি তাহা নূতন করিয়া নির্মাণ করিয়া দিয়াছিলেন। 
যে লিপিতে তাহার ও তৎপুত্র উদ্যোতকের নাম পাওয়া গিয়াছে, 
তাহা! থৃষ্ীয় দশম শতাব্দীর পূর্বের নহে। 

আমর! ভুবনেশ্বরের ইতিবৃত্ত ও নির্মাণকাল-বিচার প্রসঙ্গে 
অনেকদুর আসিয়! পৌছিয়াছি । আপাততঃ গবেষণা স্থগিত রাখিয়া 
জগমোহনের বহিদৃশ্তের বিষয় আলোচনা করিব। মাত্র জগমোহন 


(২১) ০, 89 10 117. 13010155 81)105 081810£06 
19016517500 ০০ ০0052176০01. 1], 0,196. 

(২২) 1২91 10717001111181915 1173011138101) 10 0. 2, & 
136121) 000, 9০-92, 

(২৩) 4১1০186০01021021 50:৬69 ০6 110012 1২৬9০010৬০1. ১৮[]। 
০, 2 8 10%67 09810561610 1008195। 7১, 87, 


৪8৪ ভুখনেশ্বরের কথ! । 


অংশটুকুর দৈর্ধ্যে ৬৫ ফিট ও প্রস্থে ৪৫ ফিট হইবে (২৪)। 
[1705015]  08256661 এর লেখকের মতে বড় দেউলের 
(লিঙ্গরাজ মন্দিরের ) 'শিখর” ও 'জগমোহন একই সময়ের । 
দেওয়ালের নিয়তম অংশে ১ ফুট চওড়া সাদ পাইল”, তাহার 
উপর স্তস্তের নিয়াংশরূপে ক্ষোদদিত একসারি কলস। এই কলস- 
গুলির উপরিভাগে এক একটি কারুকার্ধা-খচিত উদগত স্তস্ত। 
প্রাচীরের বহির্দেশ বহু খাজ বা কুলঙ্গীতে বিভক্ত । এই সকল 
কুলজীর মধ্যে বেশ উচু করিয়৷ ক্ষোদাই করা স্ত্রী-পুরুষ ও 
সিংহমূত্তি প্রভৃতি । 

জগমোহনের গাত্রে বহুবিধ কারুকার্য ও ক্ষোদিত চিত্রা্দ 
পর্য্যাপ্তরূপে বিন্যস্ত রহিয়াছে । মধ্যস্থিত দ্বারদেশের ঢুইপার্খে ছয় 
ছয়টি করিয়৷ গবাক্ষের প্রকোষ্ঠ-বেষ্টন স্তত্ত (07011101) 1১815)। উত্তর- 
দিকের স্তস্তগুলি পূর্বের ন্যায় ঠিকমতই রহিয়াছে; কিস্তু দক্ষিণ- 
ধারে ইহার তিনটি সরাইয়। পুরোছিতগণের সুবিধার জন্য একটি 
দরজ। ফুটান হইয়াছে (২৫)। যে ছয়টি স্তস্তের কথা পুর্বে উল্লিখিত 
হইয়াছে, তাহার প্রত্যেকটির নিয়্তাগে একটি করিয়া নৃত্যপরা 
রমণীমৃত্তি। জগমোহনের ছাদ পিরামিডাকৃতি। ছাদের ঢালু 
অংশ ছুই ভাগে বিভক্ত । নিয়ের অংশে নয়টি থাক্‌ এবং উপরের 
অংশে ছয়টি থাক্‌। এই থাকগুলিতে অশ্ব, উদ, হস্তী ও 
গবাধির শ্রেণী এবং পদাতিক ও সাদী সেনাদলের শোভাযাত্র৷ 
অঙ্কিত আছে। এই ক্রম-নিয়্ থাকগুলির মাঝে মাঝে বশা 


(২৪) [45001 870160 11010010061)15 11) 13617621, 
(২৫) 4115 01116 00)6015 ০ 20000911212 10051650178 0106 
10961 070৮1005301 1)67£51) 7870, 0. 244. 


শিঙ্গরাজ পরিক্রমা । 8৫ 


ফলকের ন্যায় অলঙ্কার (7191) দৃষ্ট হয়। দেয়াল হইতে উদগত 
প্রস্তরাদির তোড়া (০০:০1117%) যেন খুব তাড়াতাড়ি সার! 
হইয়াছে; সেই কারণে ছাদের ভার দেওয়ালের উপর সম্পূর্ণ- 
রূপে পড়িতে পারে নাই। জগমোহনের পূর্ববর্দিকের দ্বারটি 
চন্দনকাষ্ঠবিনিশ্পিত; ইহাতে স্থন্দর ক্ষোদাই কাজ আছে। জগ- 
মোহনের দ্বারের নিকট যে সকল উড়িয়া ও তেলেগড অক্ষব্রে 
ক্ষোদিত লিপি পাওয়া যায়, তাহা দ্বাদশ ও ত্রয়োদশ শতাব্বীর 
বলিয়াই অন্মিত। বন্ধুবর র__মহাশয়ের আবিষ্কারফলে একটি 
লিপিতে অনিয়ঙ্কভীম বা অনঙ্গভীমের নাম পাওয়া যায়। আধুনিক 
এতিহাসিকগণের মতে অনঙ্গভীম বা অনিয়ঙ্ক ১১৯২ খৃঃ অব্দ হইতে 
দশ বংসরকাল রাজত্ব করিয়াছিলেন। তাহার কন্যা চন্দ্রিকা 
দেবীর শিলালিপিতে অনঙ্গভীম কর্তৃক যবনশক্র পরাজয়ের 
কথ উল্লিখিত হইয়াছে । সম্ভবতঃ অনিয়ঙ্ক বড় দেউলের কোনও 
কোনও অংশ নির্মাণ বা পুনঃসংস্কার করিয়! থাকিবেন। স্বর্গীয় 
রায় মনোমোহন চক্রবর্তী বাহাছর বড় দেউলের জগমোহন 
(0০101) নামক অংশের প্রবেশদ্ধারের দক্ষিণপার্খস্থ ছুইখানি 
উড়িয়্ালিপির পাঠোদ্ধার করিয়! প্রকাশিত করিয়াছেন (২৬)। নিয়ে 
তাহার সারমর্শ প্রদত্ত হইল। প্রথম লিপিখানি বীর শ্রীগজপ্তি 
(গজ্পতি ) গৌড়েশ্বর নবকোটি কর্ণাট কলবরকেশ্বর প্রতাপ 
পুরুযোত্তমদেব মহারাজের বিজয় রাজ্যের ১৯ বৎসরে কৃষ্ণপক্ষ- 
তুলারাশি, দ্বিতীয়া, রবিবারে বিসি বেহারার আদেশক্রমে 
উৎকীর্ণ। ক্ৃৃতিবাস (কৃত্বিবাস) কটকে অবস্থানকালে পুজা 


(২৬) |], &, 5. 13. 1893) 0. 194 ০. 5৩৭. 


৪৬ ভৃধনেশ্বরের কথা। 


অবকাঁশে মহারাজের আজ্ঞ। হইল, “যে কেহ বিসি বেহারার 
প্রতি চন্ত্রবাণ নিক্ষেপ করিবে সে কৃতকার্ধ্য হইতে পারিবে 
না। ইহা সত্বেও যদি কেহ এরূপ কার্য করে, সে 'ভুবনেশ্র 
( ভৃবনেশ্বর) দেবের অভিশাপে অভিশপ্র হইবে-_-সে রাজদ্রোহী 
বলিয়৷ পরিগণিত হইবে।” লিপির পাঠ হইতে অনুমান হয় 
যে বিলি বেহারা রাজার কোনও প্রিয়ব্যক্তি ছিলেন এবং 
তাহার শ্রবর্গের অভাব ছিল না। এরন্দজালিক উপায়ে লোকের 
অনিষ্ট সাধনের জন্ত “বাণমারা» প্রভৃতি গ্রক্রিয়াদি অবলম্বনের 
কথ! বঙ্গদেশেও শুনা যায়, কিন্তু আধুনিক যুগে অনেকেই তান্ত্রিক 
অভিচারে বিশ্বাস হারাইয়াছেন। শক্রর অনিষ্ট চেষ্টা নিবারণ 
কল্পে রাজা ও দেবতার “ক্রোধোৎপাদনের ভয় দেখাইয়া! এরূপ 
প্রতিষেধ-পন্থা অবলম্বনের দৃষ্টান্ত প্রত্বুলিপিসংগ্রহে অধিক 
পাওয়া গিয়াছে বলিয়। বোধ হয় না। দ্বিতীয় লিপিখানি রাজ। 
কগিলেশ্বর দেবের বিজয় রাজোর চতুর্থ অঙ্কে সোমবার কৃষ্ণপক্ষ 
সংক্রান্তি মিথুন রাশির নবমীতে ক্ষোদিত। এ খানি পুরাদ্তর 
রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে উৎকীর্ণ। ইহা হইতে অবগত হওয়া যায় যে, 
রাজ৷ “ভিতর পূজা অবকাশে, রাজগুয় বানু মহাপাত্র ও ভুবনেশ্বর 
মহাপাত্রের সম্মুখে আদেশ দিলেন যে, আমার উড়িযা। রাজ্য 
যত রাজা (সামন্ত রাজা?) আছেন, তাঁহারা সকলেই রাজহিতে 
ব্রতী হইবেন, সদাচারে থাকিবেন ও অঙদ্মার্গগামী হইবেন না। 
হারা রাজার 'অনহিতে ব্রতি তাঁহার! রাজ্য হইতে নিষ্কাশিত 
হইবেন, তাহাদের সর্বস্ব কাড়িয়া লওয়] হইবে। 

ভোগমওপের পশ্চিমাংশে নাট-মন্দির। ইহ! প্রবাদ-কধিত 
নরপতি শালিনী কেশরীর মহ্ষী কর্তৃক ১০৯০-১১০৪ থুঃ অঃ মধ্যে 


লিঙ্গরাজ পরিক্রম! | ৪৭ 


নিশ্মিত হইয়াছিল বলিয়া শুনা যায়। ফাগুসন, নাটমন্দিরের 
নির্মাণকাল ১১০ খৃঃ অব্দ বলিয়া উল্লেখ করিয়াছেন। মন্দিরের 
এ অংশটি প্রায় ৫২ বর্গ-ফিট জমির উপর নির্টিত। নাটমন্দিরের 
উত্তর ও দক্ষিণদিকে ২ ফিট চওড়া ও ৩ ফিট উচ্চ ঢালু ভিত্তির 
বেষ্টনী (১৪7০) আছে। ইহার সম্মুখভাগে কতকগুলি দেবালয়ের 
চিত্র ক্ষোদিত। এই সকল চিত্রের মধ্যভাগে এক একটি উপবিষ্ট 
মানব-মুর্তি দেখা যায়। বৌদ্ধ চৈত্যে দৃষ্ট এই শ্রেণীর চিত্রের সহিত 
এগুলির যথেষ্ট সৌসাদৃশ্য আছে। নাটমন্দিরের পূর্বদিকে মাত্র 
একটি দরজ। ) সেখান দিয়। ভোগমণ্ডপে যাইতে হয়। এ দরজাটি 
কিন্তু দেখিতে সেরূপ সুন্বর নহে। পশ্চিমদিকের মাঝের দ্বারটি 
বেশ প্রাচীন বলিয়া মনে হয়। ইহ! চন্দনকাষ্টনিশ্মিত। তক্তাগুলি 
সুন্দর ক্ষোদাই করা) সৌন্ধ্য-বৃদ্ধির জন্য ও মজবুদ করিবার 
উদ্দেশ্ো উহাতে অনেকগুলি পিতলের পেরেক বসান আছে। এই 
দরজার চৌকাঠ সুন্দর কারুকাধ্যবিশিষ্ট কালে ক্লোরাইট পাথরে 
নিম্মিত। চিত্রগুলি কোনারকের ক্লোরাইট (017101166) দ্বাবেরই 
অবিকল অনুরূপ। আবর্তিত লতার ভিতরে ক্রীড়াশীল শিশুমৃত্তি ; 
নীচে ও তাহারই পার্থ, নানা ভঙ্গীতে কতকগুলি অশ্লীল মিথুন- 
মূর্ি। যাহারা এরূপ সৌন্দর্ধ্যসম্পন্ন ক্রীড়াশীল দেবশিগুগণের 
কল্পনা করিয়াছিল, তাঁহারাই আবার সেই সঙ্গে এইরূপ 
ভুগুপ্সিত চিত্রাদি সম্পাদনে কিরূপে যে মনঃসংযোগ করিতে 
পারিয়াছিল, তাহ! বুঝিয়া উঠা কঠিন। কেহ কেহ বলেন, 
নবরসের বিকাশগ্ভোতক অন্ান্থ চিত্রগুলির সায় এগুলিও এ স্থলে 
অস্কিত' হইয়৷ থাকিবে। ভিতরে চারিটি চতুষ্কোণ স্ততস্ত আছে, 
তাহার উপর লোহার কড়ি। ভিতরের দেওয়ালে উড়িয়া ও 


৪৮ ভুবনেশ্বরের কথ।। 


সংস্থত ভাষায় লিখিত কয়েকটি লিপি আছে কিন্তু সেগুলির 
এখনও সম্পূর্ণ পাঠোদ্ধার হইয়াছে বলিয়! শুনি নাই। দেওয়ালে 
যেরূপ চুণবালির পলস্তারা পড়িতেছে, আর কিছুদিন পরে 
এগুলির পাঠোন্ধারের কোনও সম্ভাবনা থাকিবে বলিয়া বোধ 
হয় না। পূর্বদিকের দেওয়ালে ছুইটি কুলঙী, তাহার একটিতে 
হরপার্ববতীর অর্ধনারীশ্বরমৃত্তি । নাটমন্দিবরের ঢালু ছাদ তিন থাকে 
উঠিয়াছে; তাহার পরে সামান্য সমতল চতুষ্কোণ অংশ। ইহার 
চাত্িধারে “সারাসেন” প্রথায় খাজ কাটা (59818001710 98006- 
0901) আলিসা। কাণিসগুলি সমতলপ্রায়, ধারে ধারে বর্শা- 
ফলকের ন্যায় সম্াগ্র অলঙ্কার। 

নাটমন্দিরে এখন আর দেবদাসী নাই। “নাটুয়া পিলারা” 
(বালকনর্ভকগণ ) উৎসবাদির সময় নৃত্যগীত করিয়া থাকে। 
গুনিয়াছি, নাটুয়াদের গীত শুনিতে মন্দ নহে। পরমশ্রদ্ধাম্পদ 
অগ্রজপ্রতিম শরযুক্ত যতীন্ত্রমোহন সিংহ মহাশয় তাহার 
“উড়িধ্যার চিত্রে এই বালকসঙ্গীতের কিঞ্চিং পরিচয় 
দিয়াছেন। প্রাচীন প্রতীচ্য সভ্যতার ইতিহাসপ্রসঙ্গে গুনিতে 
পাই, দেবগণের পরিচারিকা [7069 র স্থান যখন তরুণ 
বালক (9717760 অধিকার করে, তথন নাকি তাং- 
কালিক মুনানী সভ্যতার অধঃপতন অনেকদূর গড়াইয়াছে। 
“দেবদাসী'র স্থানে 'নাটুয়া পিলা আসার আধুনিক উতকলের 
নৈতিক উন্নতি কি অবনতি সুচিত হইতেছে, তাহা ধাহারা 
উড়িয়া-সমাজের সহিত সুপরিচিত, তাহারাই বলিতে পারেন। 
নাটমন্দিরের পশ্চিমদিকের দুয়ারের পার্থে অবস্থিত একখানি 
শিলালিপির কথ! প্রযুক্ত মনোমোহন গলোপাধ্যায় মহাশয় উন্নেখ 


লিঙ্গরাজ পরিক্রম! ৪৯ 


করিয়াছেন (২৭)। ইহা সুর্ধ্যবংশীয় রাজা কপিলেশ্বর দেবের 
রাজত্বকালে উৎকীর্ণ। মন্দিরের কোনও অংশ নিশ্দমাণের কথা 
ইহাতে উল্লিখিত হয় নাই। রাজ! কপিলেশ্বরদেব লিঙ্গরাজের পুজ। 
যথাযথভাবে নির্বাহিত হওয়ার জন্য দেবোদ্দেশে কিয়ংপরিমাণ 
তৃসম্পত্তি উৎসর্গ করিয়াছিলেন, শুধু ইহাই লিখিত আছে। 

বড় দেউলের ভোগ-মন্িরটি ন! কি রাজা কমল কেশরীর কীর্তি) 
অন্তমতে ইহা জগৎ কেশরীর রাজত্বকালে, আনুমানিক ৮৫* হইতে 
৮৭* খৃঃ অবের মধ্যে নির্টিত হইয়াছিল। এ অনুমান অবশ্য 
বংশাবলীর বর্ণনার উপর নির্ভর করিতেছে ; সুতরাং কতদূর সত্য, 
বল! যায় না। শুনিতে পাওয়া যায় যে, প্রথমে উহ! কথকতা ও 
ভাগবতার্দি পাঠের জন্তই নির্মিত হইয়াছিল। মওপটি সম্তস্ত-_ 
অনুমান প্রায় ৩০ বর্গ ফিট স্থান অধিকার করিয়া আছে। নিম 
২ ফিট উচ্চ ও ৩ ফিট চওড়া ০০17) বা ঢালু বেষ্টনী ভিত্তির 
স্থান অধিকার করিয়াছে । ইহার গাত্রে অগভীরভাবে স্ত্রীপুরুষের 
মিথুনমূর্তি, নান! জীবমুত্তি, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মন্দিরের প্রতিকৃতি ও পুষ্প- 
গুচ্ছাদি খোদিত। ভিত্তির উপরই একটি সুদীর্ঘ আলম্বন (71526); 
তাহাতে মধ্যে মধ্যে কপোত, হংস, হস্তী, উদ্ব ও গবাদি 
নুন্দরভাবে উৎকীর্ণ। কয়েকটি ক্ষোদিত চিত্র সম্পূর্ণ নহে, শিল্পী 
রেখান্কন করার পর যেন আর সেগুলি সমাপ্ত করিয়া উঠিতে 
পারে নাই। পুর্বে ছুই দিকে স্তস্তসারির মধ্যে পাঁচ পাঁচটি 
করিয়া ফাঁক ছিল, এখন তেবল মাঝের অংশটি খোল! রহিয়াছে। 
অন্তগুলি পার্শ হইতে দেওয়াল গাঁথিয়। বন্ধ কর! হইয়াছে। 


(২৭) 01555 9560 1361 1673818)3) 0, 364. 
শী 


৫৪ ভুবনেশ্বরের কথা । 


পূর্বদিকের মধাস্থিত স্বারটিই প্রধান গ্রবেশ-পথ। নিমে সামান্ত 
অশোভন সোপানত্রয়। এ ঘরের খিলান ভালরূপ সমাপ্ত 
হয় নাই, মাত্র অর্দেকাংশে কারুকার্য দেখিতে পাওয়। যায়। 
নিয়ে লোহার “সর্দাল। ইহা বোধ হয় পরে লাগান হইয়াছে। 
স্তত্তের উপরের অংশ (9101010585৩) স্থানে স্থানে ফাটি! 
গিয়াছে । ভোগমন্দিরেরও পিরামিডাক্কৃতি ঢালু ছাদ.। সর্বধসমেত' 
সাত থাক কার্ণিস) প্রথমে চারি থাক, তাহার উপর ছাদের 
ঢালু অংশ, উহার পরে অপর তিনটি থাক। ভদ্রক বা জগ- 
মোহনের দক্ষিণ প্রবেশঘদ্বারের বামপার্খে কতকগুলি ধাতবমূর্তি 
আছে; এগুলির মধ্যে খোজ করিলে বিলাতের বার্মিংহামে প্রস্তত 
(310107175261)) পিতলের মুর্তি পাওয়া যায় কি না, বলিতে 
পারি না, তবে কয়েকটি দেখিয়৷ নিতাস্ত আধুনিক বলিয়াই বোধ 
হইল। পর্বদিন উপলক্ষ্যে এগুলির মধ্য হইতে চন্দ্রশেখর নামক 
একটি ক্ষুদ্রাকার ধাতবূর্তি ত্রিভূবনেশ্বর মহাদেবের প্রতিনিধিস্বরূপ 
উৎসবস্থানে নীত হইয়া থাকে । রথধাত্রার সময় চন্ত্রশেখরের 
অভ্যর্থনার জন্য পার্ধতীমুত্তিটিকে ভোগমণ্ডপে আনয়ন করা হয়। 
অন্যান্য মন্দিরগুলির সহিত লিঙ্গরাজের যোগাযোগ বুঝিতে হইলে 
কয়েকটি স্থানীয় পর্বের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা কর আবশ্তাক। মার্গশীর্ষের 
কৃষ্ণপক্ষীয় অষ্টমী তিথিতে চন্দ্রশেখর, পাপনাশিনী তীর্থের উত্তরপার্খে 
অবস্থিত সরকারী ডাক্তারখানার সন্নিকটস্থ যজ্ঞেশ্বরমন্দিরে গমন 
করেন। ইহার পর মাঘ-সপ্তমীতে ভাস্করেশ্বরমন্দিরে যাইয়া সেখানে 
তিল-ভোগ গ্রহণ করিয়া থাকেন। ফাল্গনমাসের শুক্লা সপ্তমীতে 
কপিলযাত্রা। ভুবনেশ্বরের প্রতিনিধি কপিলেশ্বর হ্রদে নাত হইয়া 
কপিলেশ্বর-মন্দিরে ভোগাি গ্রহণ করেন। তাহার পর দমন- 


লিঙ্গরাজ পরিক্রম! | ৫১ 


ভঞ্জিকা পর্ব | বাঙ্গালায় এ পর্বের অনুরূপ কোনও অনুষ্ঠান 
আছে বলিয়৷ বোধ হয় না। তাই ইহার একটু বর্ণনা আবপ্তক। 
বিন্দুসাগর-সন্িকটস্থ তীর্থেশ্বর-মন্দিরই ইহার নির্দিষ্ট স্থান। তাই 
চন্ত্রশেখর বিগ্রহও এই উপলক্ষ্যে এই স্থানেই নীত হইয়া! থাকেন। 
সংস্কত দমনক বাঙ্গালার দোনাশাক (0010৩ বা 20100)। 
শুনিয়াছি, ভৃবনেশ্বরে ইহা যথেষ্ট পরিমাণে পাওয়া যায়। দমন- 
ভঞ্জিকার দিন “দোনা/-নিম্মিত আভরণে দেবতাকে সজ্জিত করা 
হয়। ভুবনেশ্বরে আধাদের শুক্লাষ্টমী পরশুরামাষ্টমী নামে খ্যাত। 
এই তিথিতে লিঙ্গরাজ পরশুরামেশ্বর মন্দিরে নিজ প্রতিনিধি 
প্রেরণ করিয়া থাকেন। কাত্তিকের শুক্লা দ্বিতীয়ায় যম-ছিতীয়া 
পর্ব । এই দিন চন্দ্রশেখর লিঙ্গরাজ মন্দিরের পশ্চিমদিকে 
অবস্থিত যমেশ্বর-মন্দিরে আনীত হয়েন। কার্তিক মাস বড়ই 
অস্বাস্থ্যকর । আমাদের বাঙ্গালা দেশেও কাত্তিকের প্রথম ভাগে 
যমপুরীর সকল হছুয়ার থোল। থাকে বলিয়া প্রবাদ আছে। 
ধাহার! ম্যালেরিয়াচ্ছন্ন পল্লীতে এই সময় বাঁস করিয়াছেন, তাহারাই 
এই প্রবাদের যাথাধ্য উপলব্ধি করিতে পারিবেন। বোধ হয়, 
এই সময়ে যমরাজের প্রকোপ অধিক বলিয়া এই তিথির নাম 
যম-ছ্বিতীয়া হইয়া থাকিবে । ভুবনেশ্বরেও রথযাত্রা হুইয়৷ থাকে, 
তবে এরথ আধাঢ়ের নহে। ফাল্গুনের শুর্লাষ্টমী বা অশোকাষ্টমী 
তিথিতেই ইহার অনুষ্ঠান। আমরা আসিবার সময় দেখিয়াছিলাম 
যে, রথের প্রকাওড চাকা কয়টি বড় দাওতে পড়িয়া আছে। 
উড়িস্যায় জগন্নাথ মন্দিরে যেরূপ শক্তি-দেবতা বিমলা, ত্রিভূবনে- 
শ্বরের মন্দিরে সেইরূপ বৈষ্ণব-দেবত! নৃসিংহ। ভুবনেশ্বর শৈব- 
তীর্থ হইলেও যাত্রিগণ এখানে সর্ধপ্রথমে অনস্ত-বাস্থুদেবের 


৫২ তুবনেশ্বরের কথা । 


মন্দিরেই পুজার্চনা করিয়া থাকে। তুবনেশ্বরে উল্লেখযোগ্য 
এই একমাত্র বৈষ্ণব মন্দিরের প্রভাব হইতেই বুঝা যায় যে, 
সম্প্রদায়-গত বিদ্বেষ এস্থান হইতে বহুদিনই তিরোছিত হইয়াছে। 
স্থধী বলেন্দত্রনাথ বিভিন্ন দেবোপাসকগণের মধ্যে এই সন্ভাব ও 
দেবতায় দেবতায় আদান-গ্রদান লক্ষ্য করিয়া ইহার সামগ্রন্য- 
নির্ণয়ের চেষ্টা করিয়াছেন। রখযাত্রার গ্তায় ভুবনেশ্বরের মন্দিরে 
দোলযাত্রাও সম্পাদিত হয়, তাহার প্রধান অনুষ্ঠান হরিহর-মৃত্তির 
দোলন। প্রাবরণোৎসবে ব্রিভুবনেশ্বর শ্রীক্ষবন্ত্র ত্যাগ করি! 
শীতবস্ত্র পরিধান করেন। পুরুযোত্তমেও ইহার অনুরূপ অল্ু- 
ষান সম্পন্ন হইয়। জগক্নাথদেবের দেহে শীতবস্ত্র উঠে। ভূবনে- 
শ্বরের পুষ্যাযাত্র৷ জগক্লাথদেবের অভিষেক ; ভুবনেশ্বরে যেরূপ শয়ন- 
চতুর্দশী জগন্নাথক্ষেত্রে সেইরূপ শয়ন-একাদশী । ভুবনেশ্বর ও জগগ্লাথ 
এই উভত়্ স্থানেই সেই চন্দনযাত্রা, সেই মকরসংক্রাস্তি, ভৈমী- 
একাদশী প্রভৃতি অভিন্ন অনুষ্ঠান দেখিতে পাওয়া যায়। 
ডাক-বাংলার সম্মুখ দিয়া যে রাস্তাটি গিয়াছে, তাহারই নাম 
বড়দাণ্ড বা বড়রাস্তা। নামে বড় বটে, কিন্তু চওড়ায় ৪* 
ফিটের বড় বেশী নহে। শুনিয়াছি, এই বড়দাণ্ডের শেষ প্রাস্তে, 
ডাক-বাংলার সঙ্গিকটে, রেল-ষ্টেশন নির্দিত হইবে, এইরপ প্রস্তাব 
হইয়াছিল; কিন্তু রথযাত্রার সময় স্থান-সন্বীর্ঘতা-বশতঃ রথ ঘুরাইবার 
অন্থবিধা হইতে পারে, এই ওজুহাতে নাকি পাগামহাশয়ের! 
আপত্তি করিয়া ষ্েসনটি হইতে দেন নাই। ভুবনেশ্বর তো 
স্য়ভূলিঙ্গ, নড়াইবার উপায় নাই এবং উপায় থাকিলেও শাস্্রমতে 
“শিবলিঙ্গং ন চালয়েং, তাই রথে চন্ত্রশেখর? দর্শন করিয়াই 
যাত্রিগণ দৃষ্টি সার্থক করিয়া থাকেন। আমর! দেবাদর্শনান্তে মনির 


১৮০০৪ টি 


1 হিসি এ (সত কষ বর 
৬ পক 3 * 


বক 
"১ 


£ 
চি 


চু কা ৪ ছু খা, রঃ 


নিন ৮. 


7), 


রি ৯ চা রা 717, মির 
২8] ১ রি . পু 

না 1 (০5) 1. 
রি ০০১ সপ 


১ ০ একশ ০ পিপিপি শি পপি িপপািশপীতি 





ভুবনেশ্বর মন্দিরের ৬গবতী-ৃদ্ধি । 
রাজ! রাজেন্ত্রলাল মিত্র প্রদত্ত চিত্র অবলখ্খনে ] | পৃঃ ৫৩ 


লিঙ্গরাজ পরিক্রমা । ৫৩ 


প্রদক্ষিণকালে দেখিতে পাইলাম যে, শেখরাংশের মধ্যদ্দেশের তিনটি 
খাজেই তিনটি মানুষপ্রমাণ দেবমূর্তি রহিয়াছে। পশ্চিমে 
কার্তিক, দক্ষিণে গণপতি এবং উত্তরে ভগবতী। কেবল পূর্বদিকে 
কোন দেবমূর্ধি নাই। ভগবতীমূর্তির কথ! পূর্বেই বলিয়াছি। 
ভগ্নহত্ত ক্লোরাইটের ভগবতীমুর্তিটি প্রায় ৭ ফিট উচ্চ। পরবর্তী 
কালে এই মূর্তিটির উপর একটি খোল! চৌচালার, স্তায় আবরণ 
নির্মাণ করা হইয়াছে কিন্তু মন্দিরের গঠনপ্রণালীর সহিত 
সামঞ্জস্য হয় নাই বলিয়া ইহাতে সৌনাধ্যহানি ঘটাইতেছে। 
ভগবতীমৃর্তির পরিমাপাদি শিল্প-শান্ত্রের নির্দেশ অনুযারী। হিন্দু 
শিল্লিগণের এ সকল দেবমুর্ঠি স্বেচ্ছায় গঠন করিবার অধিকার 
ন! থাকায় ভিম্দেণ্ট স্মিথ. বলিয়াছেন যে ইহাতে বর্ধকীর 
সৌনারধ্য উদ্বোধন-প্রতিভা অপেক্ষা দক্ষতার সহিত পাথর কাটিয়৷ 
খোদাই করিবার ক্ষমতাই ভালরপ প্রকাশ পাইয়াছে। (017৩ 
91611 ০06 07৩ 30905 ০0666115051 0797 01005 ০016৪- 
0৮5 8০811১6০ ) 1 স্বাধীনভাবে স্বীয় কল্পনার বশবর্তী হইয়া 
সৌন্দর্যসাধনা করিলে যে চাকরুশিল্প সমধিক উন্নতিলাভ করে 
তাহাতে সন্দেহ নাই কিন্তু বীধানিয়ম বজায় রাখিয়া শিল্পী 
যে সৌন্দর্ধ্য ফুটাইয়া তুলিতে পারে না এ উক্তিও সম্পূর্ণ বিচার- 
সহ নহে। [10681130) অথবা ভাব্প্রবণতাই ভারতীয় শিল্পের 
প্রাণ। ভারতীর়গণ কখনও বাস্তবের সব নকলে প্রবৃত্ত হয়েন 
নাই। শিল্প শাস্ত্রোন্ত তালমান অস্ষুপ্ন রাখিয়া অমস্থণ প্রস্তরাদিতেও 
তাহার! অপূর্ব সুষমার স্ষ্টি করিতে সমর্থ হইয্লাছেন। ইউ- 
রোপীয় সমঝদ্রারগণ ভারতীয় চিএকলার সৌন্দর্য্য ক্রমশঃ 
উপলব্ধি করিতে সমর্থ হইতেছেন ; ভরসা হয়, তাহার! ক্রমে 


৫৪ ভুবনেশরের কথা। 


ভারতীয় ভাঙ্কর্যেরও প্রকৃত মূল্য নির্ধারণে সমর্থ হইবেন। 
জনৈক লেখকের মতে (২৮) শুধু পার্বতীর গাত্রবসনখানিতে যেরূপ 
অত্যুৎকষ্ট কারুকাধ্ধ্য রহিয়াছে তাহা দর্শন করিলে শিল্লিগণকে 
“অলৌকিক দৈবশক্তি সম্পন্ন বলিতে কুঠা বোধ হয় না” । 
পুর্ব্বে ভো+ নামক যে স্থাপত্য অলঙ্কারের কথা উল্লিখিত 
হইয়াছে তাহা মন্দির-গাত্রের মাঝের খাজটিতে খোদিত। ইহা! 
শিখরের যে স্থানে অবস্থিত তাহার উচ্চতা মন্দির-চুড়ার সমগ্র 
উচ্চতার প্রায় এক তৃতীয়াংশ হইবে। চিহ্নটির ছুই পার্ে 
বাদন-নিরতা শ্ত্রীমুত্তি আছে) উপরেই একটি গজসিংহমৃত্তি। 
শিখরের অগ্রভাগের সন্নিকটে একটি বাতায়ন দেখিতে 
পাওয়া যায়। শিখরগাত্রে উদগত গজসিংহমুস্তির সংখ্যা 
আটটির কম নহে। ইহার মধ্যে ভোগমন্দিরের পার্থ মৃষ্তিটিই সর্ববা- 
পেক্ষা বৃহং। শিখরের নিম্নভাগে ভিত্তিসান্নিধ্যেও গজসিংহমুত্তি রহিয়াছে 
দেখিলাম; মধ্যে দুই একটি করিয়া পদ্মোপরি অবস্থিত গজমুর্তি। 
ইঞজিনীয়ারগণ লক্ষ্য করিয়াছেন যে, শিখরের শিরোদেশে না কি 
পাথরের কড়ি (৮5৪17 ) ব্যবহৃত হইয়াছে । বৃত্তাকার উচ্চ শিখর- 
্বন্ধের চতুঃপার্থে আটটি মূর্তি আছে; চারিটি সিংহ মুর্তি, এবং অপর 
চাবিটি মুর্তি, জনৈক ইংরাজ স্থপতি প্রেতিনী বা রাক্ষসীমুর্তি (91)- 
8০111) বলিয়! বর্ণনা করিয়াছেন। ইহাদেরই উপরিভাগে ৬৪ 
ধাঁজযুক্ত গম্বজ এবং তদুপরি কলস অবস্থিত। করোগেটের 
(০০%০৪৪০) স্তায় ধারে খীজযুক্ত এই গ্ুজটিই “আমলা” শিলা । 
কাহারও কাহারও মতে কথাটির অর্থ অমৃতকরক বা অমৃতকলস 


(২৮) ৮ধরণীকান্ত লাহিড়ী চৌধুরী প্রণীত 'গারত সণ", পৃঃ ৪৭৪ । 


লিঙ্গরাজ পরিক্রম! ৷ ৫৫ 


(06৮ ড65501)। আবার কেহ কেহ প্রকাঁশ করেন, ইহা “অমল+ 
শিলার অপত্রংশমাত্র । সাধারণতঃ ইহা আমলক (১1)1181711)03 
12127011025 বা 10100011025 01190215 ) ফলের সাদৃশ্-জ্ঞাপক 
বলিয়াই বিবেচিত হইয়া থাকে । হেভেলের মতে ইহা! আকারে, 
বৈষ্বদিগের নিকট আদরণীয়, পরম পবিত্র নীলপদ্স-পুশ্পের 
বীজের ম্যায়? সুতরাং আমলকফলের সহিত আমলাশিলার 
আকারগত সাদৃশ্ত তিনি স্বীকার করিতে প্রস্তত নহেন বলিয়া মনে 
হয়। যদি আমলকফলের অন্ুকরণেই মন্দিরের আমলা শিলা 
নির্শিত হইয়া থাকে তাহা হইলে ইহাতে কোনও রূপকভাবের 
গ্োোতন! আছে কিন! তাহাও বিশেষজ্ঞদিগের বিবেচ্য । অচার্য্য সার্‌ 
জগদীশ চন্দ্র বস্থু 'অর্ধামলক” চরমদানের চিহৎ বলিয়া গ্রহণ করিয়! 
তাহার নবনি্মিত বিজ্ঞান মন্দিরের গাত্রে স্থাপত্য অলঙ্কার- 
রূপে উহা! গ্রথিত করিয়াছেন (২৯)। মধ্যযুগে উৎকলদেশীয় 
কোনও হিন্দু মন্দিরনিশ্মাতা বৌদ্ধসআাু অশোকের শেষদান 
অন্ধামলকের কথা যে অবগত ছিলেন তাহা সাহস করিয়া 
বল। যায় না তবে “হস্তামলক* প্রভৃতি সুপরিচিত নাম দেখিয়া 
মনে হয় যে ভাবপ্রবণ হিনুস্থাপত্যে আমলক নিদর্শন-ভ্ঞাপুক 
চিহ্নরূপে ব্যবহৃত হওয়! অসম্ভব নহে। পুর্বোল্লিখিত “শিখর 
প্রবন্ধে হাভেল মহোদয় বলিয়াছেন যে,_-এই আমলার 
ন্যায় আকুতিযুক্ত অলঙ্কার অশোকন্তস্তের শিরোদেশেও দুষ্ট হইয়! 
থাকে। আমলার উপরিস্থিত অংশের নাম 'খাপড়ী; এ কথাটি 
কপূরীর অপত্রংশ। খাপড়ীর উপরিভাগে কলস ও ধ্বজপদ্ন। কেহ 





(২৯) ভারতী, পৌধ, ১৩২৪, পৃঃ ৮৭৫। 


৫৬ তুবনেশ্বরের কথা । 


কেহ অনুমান করেন যে, মন্দির নির্মাণ সম্পূর্ণ হইয়। আসিলে 
শিখরের শিরোভাগে শশ্ত, মণিরত্ব, শ্বর্ণ ও রজত প্রভৃতি মৃল্যবান্‌ 
ধাতু এবং মন্দির-প্রতিষ্ট। জ্ঞাপক নাম ও তারিখ যুক্ত উৎকীর্ঘ 
তাত্রলিপি সংরক্ষিত হইত। মাদ্রাজ অঞ্চলে কোথাও কোথাও 
নাকি এই অংশে ক্ষোদিত (৩*) লিপি পাওয়া গিয়াছে, 
তাই কলস সন্নিহিত অংশ উদঘাটন করিয়া উড়িস্যায় অন্তান্য মন্দির 
হইতে তাম্রলিপি উদ্ধার করা উচিত, এ প্রস্তাবও স্ধীজন-সমক্ষে 
উপস্থাপিত হইয়াছে (৩১)। পগ্ডিতপ্রবর শ্রীযুক্ত কাশীপ্রসাদ 
জৈশবাল মহাশয়, ভূবনেশ্বরে যাহারা বংশান্ুক্রমে মন্দির-চূড়ায় 
পতাকা বন্ধনের জন্ত আরোহণ করে তাহাদের নিকট হইতে 
অবগত হইয়াছিলেন যে, লিঙ্গরাজ মন্দিরের শীর্দেশে আমলকের 
নিম্নে এইরূপ একখানি ক্ষোদ্দিত তাত্রফলক রক্ষিত আছে (৩২)। 
মন্দিরের তত্বাবধায়কগণ এ সম্বন্ধে অনুসন্ধান করিয়। জানিয়াছেন 
ষে এ প্রবাদ ভিত্তিশুন্য | 

চূড়ার উপরিস্থ কলসের আক্কৃতি যে শ্রী 212)01)018 জাতীয় 
পাত্রের অন্থরূপ,__তাহা৷ রাজা রাজেন্ত্রলাল মিত্র উড়িব্যা ও বিহারের 
মনির শীর্ষস্থ অনেকগুলি কলসের আক্কৃতির সহিত তুলন! করিয়া স্থির 
করিয়াছিলেন। এ সম্বদ্ধে যে মতভেদ আছে তাহা আমরা পূর্বেই 
বলিয়াছি। যখন পর্ণশাল! ব্যতীত মানবের অপর কোন আশ্রয় ছিল 


(৬*) বহরমপুর গঞ্জাম হইতে প্রকাশিত 'আশা' নামক পত্রে খৃঃ ১৯১৭ 
সালের ১৮ই জানুয়ারী তারখে জনৈক পত্র লেখক এ সম্বন্ধে আলোচন! করিয়া- 
ছিলেন। 

(৬১) 111, 187101 ০002122 81] ।0 0.3. 0, 1,5০1 111, 
৮111. 

(৩২) ), 3.0. 2১, 5, 00176 19০9, 0, 298. 


লিঙ্গরাজ পরিক্রমা । ৫৭ 


না, তখন প্রত্যেক কুটারের উপরিভাগে এক একটি জলপূর্ণ কলস 
রাখা আবশ্তক বলিয়া বিবেচিত হইত। আমরা কোটিল্ের 
অর্থশান্ত্রে গ্রীষ্মকালে অগ্রিতয়-নিবারণার্থ পর্ণশালার শিরোদেশে 
জলপুর্ণ কলস রাখার নির্দেশ দেখিতে পাই; না রাখিলে অর্থদণ্ড 
দিতে হইত। কালে যখন ইষ্টক ও প্রস্তর-গ্রথিত মন্দির ও 
অট্রালিকাদি নির্শিত হইতে লাগিল, তখন শোভন অলঙ্কাব্রূপে 
জলপুর্ণ ঘটের প্রতিকৃতি মন্দির ও অন্টালিকা-শীর্ষে সহজেই স্থান 
পাইল। হিম্দুসমাজে জলপূর্ণ কলস গুভস্থচক বলিয়া বিবেচিত 
হইয়া! থাকে ; সুতরাং এই হেতুবাদেও দেবালয়সংক্রান্ত স্থাপত্যে 
ইহার ব্যবহার অসম্ভব বলিয়। মনে হয় না। 

বড় দেউলের সীমানামধ্যে যে কয়েকটি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মন্দির (1017701 
(5103159) আছে তাহার মধ্যে ভগবতীর মন্দিরটিই শ্রেষ্ঠ। 
অপর একটি মন্দিরে ভূবনেশ্বরী “গোপালিনী” নামে খ্যাতা (৩৩)। 
একাত্রকানন বা ভূুবনেশ্বরের নাহাত্ম্স্চক কপিল-সংহিতা, 
একাত্রপুরাণ প্রভৃতি গ্রস্থের বর্ণনান্থুসারে এই একাত্রকাননই ষে 
তাহার প্রিয় বিরামনিকেতন, এ কথা মহাদেবপ্রমুখাৎ অবগত হইয়া 
ভগবতী স্বয়ং এই তীর্থস্থান সনর্শন-মানসে আগমন করিয়াছিলেন। 
ভুবনেশ্বর একাত্রতীর্থ বলিয়! বিখ্যাত হইলেও এখানে “একাম্রনাথ 
বা “একাজেশ্বর নামক কোনও বিগ্রহ নাই। “একাত্রনাথ স্বামী? 
মহাদেব কাঞ্ধী নগরীতে বিদ্যমান। স্থল মাহাত্ম্য” নামক গ্রন্থ 
উল্লেখ করিয়। স্বর্গীয় গোগীনাথ রাও লিখিয়াছেন যে, দেবী পার্বতী 
এখানে একপদে দগণ্ডায়মানা থাকিয়া, উদ্ধাবাহু ও বনদ্ধাঞ্জলি হইয়া 


(৩৩) 050801515 071538. 0. 366. 
৮ 


৫৮ তুবনেশ্বরের কথা । 


বছক্‌চ্ছ-সাধনপূর্ব্বক তগপন্তা করায় মহাদেব তাহাকে এই স্থানে 
এক আত্রবুক্ষতলে দর্শন দিয়াছিলেন তাই বিগ্রহটি এই নামে অভিহিত 
হইয়াছে (৩৪ )। ওডরদেশের সহিত দক্ষিণীদিগের যতই সম্বন্ধ 
থাকুক না কেন, “একা” তীর্থের নামটি পর্যন্তও যে, উড়িয্যার 
নিজস্ব নহে, উত্তম প্রমাণ না পাইলে এ মত সহসা প্রচার করা 
যুক্তিযুক্ত বলিয়া বোধ হয় না। 

বাঙ্গালীর স্থুপরিচিত প্রস্থ শিবায়নে দেখিতে পাই-_হৈমবতী 
জিজ্ঞাসা করিতেছেন, 


গচ খা খা 
“বারাণসী তব প্রিয় করিনু দর্শন ॥ 
ইহার সমান স্থান আর কোথা আছে। 
সেই কথ! কহ প্রভ অধীনীর কাছে ॥৮ 
তদৃত্তরে মহেশ্বর বলিতেছেন,-- 
“কাশীসম গোপনীয় আছে মম স্থান। 
উৎকল দেশেতে তাহা আছে বিদ্যমান | 
দক্ষিণ-সাগর-তীরে সেই তীর্থ হয়। 
একাম্কানন নাম জানিবে নিশ্চয় ॥ 


০ খু ঙ 


কত তরু কত লত৷ কিবা শোভে তায় ॥ 
কোকিল করিয়া আর্দি যত বিহঙ্গম। 
নিরস্তর প্রেমভরে করে বিচরণ ॥ 

এমন মোহন স্থান আর কোথ। নাই। 
স্নেহবশে গুপ্ত কথ! কহি তব ঠাই ॥» 


(৩৪) 11617761705 ০61712000 10000519119 ৬০], 11, 2৮ 119 0. 4০8. 


লিঙ্গরাজ পরিক্রম! | ৫৯ 


ভগবততী কৌতুহল-পরবশ হইয়া! একামকাননে আসিয়া 
দেখিলেন, গো-সাগর অথবা বিদ্দু-সরোবর হইতে সহতকুনেন্দপ্রত 
ঘটোদ্রী গাভী উঠিয়া এক শিবলিঙ্গের শিরোদেশ পয়োধারায় 
অভিষিক্ত করিল। পরে উহা! যথারীতি নমস্কার করিয়। প্রদক্ষিণানস্তর 
পুনরায় “বরুণালয়ে” প্রত্যাগমন করিল। শিবায়নে এ প্রসঙ্গে গোঁ 
সাগরের কথা নাই, তৎপরিবর্তে দক্ষিণ-সাগরের কথা আছে,_ 
খঃ রঙ ধা 
পদক্ষিণ-সাগর হতে আসে ধেনুগণ ॥ 
খ গু গ 
দক্ষিণ-সাগরে সবে যান পুনর্বার | 
৪ ঙ্ ধীঁ 
তাহ! দেখি মহেম্বরী বিশ্ময়ে মগন। 
গাভীগণে ধরিবারে করেন মনন ॥ 
তাহাদিগে ধরিবারে দেবী মহেশ্বরী । 
গোপীবেশ নিজে ধরি গিরিজ! সুন্দরী ॥ 
ফল-মূল প্রতিদিন ক'রে আহরণ । 
ধেনু-ছু্ধ দিয়া শিবে করেন পুজন ॥” 
এইবপে দেবী গোপালিনী হইয়া গাভীগুলির তবাবধানে নিযুক্ত 
হইলেন। 
কৃত্তি ও বাস নামে ছুই জন ছষ্ট দৈত্য দেবীর রূপে মুগ্ধ হইয়। 
তাহাকে সামান্য আভীরবধু জ্ঞানে তাহার প্রণয়প্রার্থী হয়। দেবী 
তাহাদিগকে উপযুক্ত শান্তি দিবার মানসে তাহাদিগের নিকট 
অঙ্গীকার করেন যে, যে নত হইয়া তাহাকে মস্তকে ব৷ স্বন্ধে ধারণ 
করিতে সমর্থ হইবে, তিনি তাহারই প্রার্থনা পুরণ করিবেন। 


৬ জ্বনেখরের কথা। 


তাহার! স্বীকৃত হইলে দেবী স্বন্ধে পদার্পণ করিয়া দৈত্যঘয়কে 
পদদলিত করিয়া নিহত করিলেন। তাহার পদভরে সেই স্থান 
নিয় হইয়া! জলাশয়ে পরিণত হইল। তাহার স্থাক্ষান্বরূপ “পাদহরা! 
পু্করিণী যাত্রিগণকে প্রদশিত হইয়া থাকে। কপিলসংহিতায় 
আছে, এই পুঙ্করিণী দশন ও তথায় পুজা করিলে মানবগণ সখ 
প্রাপ্ত হইয়। থাকে__ 
“পার্দে দেব্যা হরে যম্মাৎ তম্মাৎ পাদহরা কত | 
তাং দৃষ্ট। পূজয়িত্বা চ নরস্ত স্থখমেধতে ॥৮ (৩৫) 
শিবায়নে সপ্তদশ অধ্যায়ে লিখিত আছে,__ 

“আমার চরণদ্বয় ধরি যেই জন। 

স্বস্ধদেশে কিংবা শীর্ষে করিয়া স্থাপন ॥ 

ভূমি হতে মোরে যেই তুলিতে পারিবে। 

সেই জন মম পতি অবশ্যই হবে ॥ 

গোপীর বচন শুনি দৈত্য দুই জন। 

আনন্দে মগন হয়ে কহিল তখন ॥ 

শুন শুন গুণবতি বচন দৌোহার। 

শীর্ষদেশে পদ দান করহ তোমার ॥ 

তাহা শুনি মহেশ্বরী যুগল চরণ । 

দৈত্যদ্ব-শিরোপরি করিয়া স্থাপন ॥ 

যেমন মর্দন দেবী করিলেন বলে। 

অমনি মুচ্ছিত হয়ে বীরদ্ধয় পড়ে ॥ 

পদভরে পুতিলেন দৌহে মহেশ্বরী। 

প্রাণ ত্যজি গেল দৌহে পাতাল-নগরী ॥ 
০) হি 2.5, 96241 


$ 
$ং 
॥ 
1৮1 
5 


! 
টি. 
কাছ | 
। 

খ. 
যা 


৯ ১০৯ গন কক, 


০২ 





ভগবতী মন্দিরের একটি খাঁজ বা কোলঙ্গা। 
ধ্যর মৃষ্ঠিটি চারিহস্ত বিশিষ্ট ভগবী ) মূর্তির দুইটি হাত ভাঙ্গিয়! গিয়াছে। 
দেবীর পল্মাসনের ছুইপার্খে দুইটি চাকোর) ইহারা দেবীর পদতল 
চন্ত্র মনে করিয়া স্ুধাপানের আশায় ধেন উদগ্রীব 
হইয়া রহিয়াছে। 


| রাজা রাজেন্্লাল মিরের গ্রন্থ হইতে ] [গঃ ৩১ 


লিঙ্গরাজ পরিক্রমা | ৬১ 


অতুত্তম হৃদ তথ হইল স্থজন । 
দেবী-হ্দ নাম তার বিদিত তৃবন ॥% 

প্রচলিত প্রবাদমতে ভগবতীর মন্দির, প্রধান দেউলের ছই 
শতাবী পরে নির্িত। তথাকথিত কেশরী-বংশের গঙ্গাকেশরী 
নামক কোনও রাজা এই মন্দিরের নিম্মাতা বলিয়া কথিত। 
অবশ্য, এ জনশ্রুতির এঁতিহাসিক ভিত্তি কত দুর, তাহ স্থির করা 
স্থকঠিন) তবে ভগবতী-দেউলটি যে পরবর্তী কালে নির্মিত, সে 
বিষয়ে সন্দেহের কোনও কারণ দেখা যায় না। যাহারা পৌরাণিক 
আখ্যারিকা হইতে এঁতিহাসিক তথ্যনিফাশনে তৎপর, তাহারা 
শিবমুখে একাত্রকাননের উল্লেখ গুনিয়। দেবীর তথায় আগমন বিষয়ক 
বৃত্বাস্ত--শাক্ত তান্ত্রিক প্রভাবে ভগবতীর মন্দিরটি যে পরবর্তী 
কালে নির্শিত, এই মতেরই পোষকতায় গ্রহণ করিয়৷ থাকেন। 
হয় তো! “পাদহরা” পুষ্করিণী ভগবতী-মন্দির-নিম্দাণকালেই 
নিখাত হইয়াছিল বলিয়া উহার উদ্ভব এই পৃত কাহিনীতে এইরূপে 
বণিত হইয়াছে । নামে গোপালিনী হইলেও দেবীর সিংহবাহিনী 
ুর্ধি। মন্দিরটি জগমোহনবিশিষ্ট । গর্ভগৃহ ও জগমোহন এই উভয় 
অংশ সংযুক্ত করিয়৷ একটি ছাদ সমন্থিত গমনাগমনপথ (1০১৮)) 
রহিয়াছে। সুদৃশ্য প্রবেশ-দ্বারের সন্মুখেই নবগ্রহ-প্রস্তর। এ 
মন্দির উৎকৃষ্ট ইঞ্টকের ন্ায় বর্ণ-বিশিষ্ট লাল বালিয়া-পাথরে নির্মিত । 
লিঙ্গরাজ-মন্দির অপেক্ষা ইহার বর্ণ সমধিক নয়নাভিরাম বলিয়াই 
মনে হয়। মন্দির দৈর্ঘ্যে ১০০ হাত, প্রস্থে ৩২ ও উচ্চে প্রায় ১৬ 
হাত। ক্ষুদ্র হইলেও ইহা অতি হ্ুন্দরভাবে লতাপুষ্প ও 
নানারূপ ক্ষোদদিত অলঙ্কারে সজ্জিত। ইহ ব্যতীত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মূরত ও 
অগতীর খোদাই করা (195-751161) চিত্রাদিরও অভাব নাই। 


৬২ ভুবনেশ্বরের কথ|। 


ভ্ীযুক্ত রায় চুণিলাল বস্থু বাহাছুর স্বীয় ওজস্মিনী ভাষায় পার্বতী 
মন্দিরের ভার্ষর্য্য বিষয়ক শিল্প-চাতুর্যের যে প্রশংসাঁবাদ করিয়াছেন, 
তাহার নিয়োদ্ধত অংশ পাঠ করিয়। মন্দিরদর্শকগণ কেহই উহা 
অত্যুক্তিদুষ্ট বলিয়া বিবেচনা করিবেন না। “পার্বতীর মন্দিরের 
প্রস্তরময় গাত্রে যে সকল মনুষ্য ও অন্তান্ত জীবের মুর্তি ক্ষোদিত 
রহিয়াছে * * * বিরূপ ও ভগ্ন হইলেও তাহাদিগের অঙ্গ প্রত্যঙ্গের 
সৌষ্টব ও সামঞ্জন্ত লক্ষ্য করিয়া শিল্পীর সুঙ্ধৃষ্টি, সত্যপ্রিয়ত। ও 
কার্ধযকুশলতার ভূয়সী প্রশংসা না করিয়া থাকা যায় না। প্রাচীন 
ভারতরমণীগণের বস্ত্র ও অলঙ্কারাদি যেরূপ নৈপুণ্যের সহিত ক্ষোদিত 
হইয়াছে, অশ্বারোহী যোদ্ধবর্গের বেশভৃষার পারিপাট্য যেন 
নৈপুণ্যের সহিত ক্ষোদিত করা হইয়াছে, বু আড়ম্বরে সঙ্জিত 
হস্তীগুলিকে যেরূপ স্বাভাবিকভাবে চিত্রিত করা হইম্নাছে,__স্তস্ত, 
কার্ণিশ, গবাক্ষ প্রভৃতির গঠনে যেব্ধপ সুক্ষ রচনা-কৌশল প্রদর্শিত 
হইয়াছে তাহা দেখিলে প্রাচীন ভারতে শিল্প-বিজ্ঞান যে অত্যুচ্চ স্থান 
অধিকার করিয়াছিল তাহাতে আর সন্দেহ থাকে না! (৩৬)।৮ 
অভিজ্ঞগণের মতে উৎকলশিল্পের সৌন্দর্য্যকলার ইহা একটি 
শ্রেষ্ঠ নিদশন। ইহার শিল্প-নৈপুণ্য অনির্বচনীয়। পণগ্ডিতপ্রবর 
স্বর্গীয় সারদাচরণ মিত্র মহাশয় যথার্থ ই বলিয়াছেন, "ভুবনেশ্বরের প্রধান 
মন্দিরের অঙ্গীভূত হইলেও শিল্পকৌশলে ইহা আরও উচ্চশ্রেণীস্থ ।* 
মন্দিরটির চারিধার প্রাচীরে বেষ্টিত বলিয়া বাহির হইতে উহা! 
ভালরপ দৃষ্টিপথে পতিত হয় না। কেহ কেহ অনুমান করেন যে, 
ভূবনেশ্বরে তান্ত্রিক ব্রক্মচারিগণের যৌন-সম্বন্ব-বিষয়ক উপাসন৷ 


(৬৬) পুরী যাইবার পথে'--সাহিতা-সংহিত। হইতে পুনযুত্রিত, পৃঃ ১৭। 





[ রাজা রাজেন্্লাল মির কণ্ঠক প্রকাশিত চিত্র হইতে ]  [ পুঃ ৬৩ 


(চিত্র ২৩ 





7) 
স্বন্ন অথবা কাত্তিকেয় । 
( মুসে গিমে চিররশালায় রক্ষিত প্রস্তর ক্ষোর্দিত দেবমুন্তি ) 

[ ম্যাক হইতে ] [ পৃঃ ৬৪ 


লিঙ্গরাজ পরিক্রমা । ৬৩ 


প্রচলিত হইলে পর এই মন্দিরটি নির্শিত হয়। পূর্বে না কি 
শৈবোপাসনার মধ্যে তান্ত্রিক ভাব স্থান পায় নাই,পরে তন্থোক্ত মতের 
প্রাধান্তের সহিত কেবল গৌরীপট্রের যোনিচিহ্ন যথেষ্ট বলিয়! 
বিবেচিত না হওয়ায় ত্রিভুবনেশ্বরে একটি বিভিন্ন শক্তি-ুর্তি সংস্থাপ- 
নের আবশ্তকতা অনুভূত হয়। গোপাণিনী-মন্দিরের পৃষ্ঠ-সংলগ্ন 
প্রাঙ্গণে আরও অন্ান্ত মন্দির ছিল বলিয়া অনুমিত হয়) কিন্ত 
এখন তাহার কোনও চিহ্ন নাই। গোপাপিনী মন্দিরের নিকট 
অপর একটি মন্দিরে গণেশ ও কার্তিকেয়ের মুষ্টি 'প্রতিষ্ঠিত আছে। 
্বরগীয় ধরণীকাস্ত লাহিড়ী চৌধুরী মহাশয় এ মূর্থি-দ্বয়ের উল্লেখ 
করিয়া বলিয়াছেন “হেরম্বের সুবিশাল কৃঙ্ঝপ্রস্তর নির্মিত মুর্তিটির 
গঠননৈপুণ্য বাস্তবিকই আনন্দদায়ক (৩৬)।% 

কার্তিকের মূর্তির পূজা এদেশে বহুকাল হইতে প্রচলিত । প্রীচ্য- 
বিগ্ামহার্ণৰ রায় সাহেব শ্রীযুক্ত নগেন্ত্রনাথ বন্থ মহাশয় এ স্বন্ধে 
মযুরভঞ্জের পুরাতন্ব বিষয়ক পুস্তকে আলোচনা করিয়াছেন। 
লিলিতবিস্তরে” ও 'লোকেশ্বর শতকম্‌' গ্রন্থে স্বন্মুত্তির উল্লেখ 
আছে। স্কন্দের উপাসকগণ “কৌমার নামে অভিহিত হইত । 
কাশ্মীরের রাজা জয়াপীড় পৌগু.বদ্ধনে সুবৃহতৎ কার্তিকেয় মন্দির 
দেখিয়াছিলেন, এ কথ রাজতরঙ্গিণীতে লিখিত আছে (৩৭)। 
কান্তিক-মুত্তি দ্বিভূজ, চতুভজ ও ষড়সুজ এই তিন রূপেই পরিকল্পিত 


সা পপর পিপিপি পি | পিতা পপ 





(৩৬) ভারতভ্রমণ পৃঃ ৪৭৩। ভুষনেশ্বরে কেদারেশ্বর মন্দিরের 'রেখা'র 
দক্ষিণ খাজেও একটি দণ্ডায়মান গণেশমুর্তি দৃষ্ট হয়। ). 4৯, 5. 3. 19০8 
০1, 1৬,170 6, 7 হা, 

(৩৭) রাজতরঙ্গিণী। গর্থ অধ্যায়। ৪২২ 911 1. 4১, 51611)15 
0191800 ৬০1 [, 0,16০. জয়াগীড়েব রাজত্বকাঁল খুঃ অষ্টম শতাব্ীর 
শেষাংশে ৭৫১-৭৮২ বলিয়া! অনুমিত। 


৬৪ ভুবনেশ্বরের কথা। 


হইয়াছে। নগেন্ত্র বাবু বলিয়াছেন ময়ূরবাহন কার্তিক পুরাকালে 
মোরগবাহন ছিলেন (৩৮)। মনে পড়ে, পরিহাসরসিক দীনবন্ধু 
গাহিয়।ছিলেন-_ 

“ছগির ছাওয়াল কাঙ্তিকরে ভাই, মোরগ চেপে যায়।” কিন্ত 
ইহার ভিতর মুক্তিতত্ববিষয়ক সত্য কতটুকু নিহিত ছিল বাঙ্গালী 
তখন তাহা বুঝে নাই। 

দাক্ষিণাত্যে কার্তিক সুত্রঙ্গণ্য নামেই পরিচিত। সারদাতিলক 
তস্তে সুত্রঙ্ষণ্য “কুকুটধা” “রক্তাঙ্গ বালাখ্যা” বলিয়। বর্ণিত হইয়াছেন। 
বরেন্দ্র অনুসন্ধান সমিতির সংগ্রহশালায় যে তিনটি প্রস্তর 
নির্মিত প্রাচীন কার্তিক মুর্তি সংরক্ষিত হইয়াছে তাহার মধ্যে ছুইটি 
রাজসাহী জেলার অন্তর্গত গোদাগাড়ী থানার এলাকায় আবিষ্কৃত। 
বরেন্দ্র অনুসন্ধান সমিতির মৃষ্তত্রয়ে দেখিতে পাই কার্তিক “ময়ূর- 
বাহন, রূপেই পরিকল্লিত। তুবনেশ্বরে, মেধেশ্বর মন্দিরের শিখরের 
পশ্চিমভাগে যে চতুভূজ কার্ডিকেয় মুত্তি দেখা যায়, তাহার উপরের 
বামহস্তটি জনৈক স্ত্রীলোক. কর্তৃক ধৃত কুকুটের পুচ্ছদেশ স্পর্শ 
করিয়া রুহিয়াছে। নিম্নভাগের দক্ষিণ হম্ত আনীর্বাদমুদ্রা় 
বিশ্বস্ত; একটি ময়ূর যেন চঞ্চুছ্বারা তাহাতে মৃদু আঘাত করি- 
তেছে। কান্ঠিকের এ মৃষ্ধিটি পদ্মাসনে দণ্ডায়মান। ইহাতে কুকুট 
ও ময়ূর এ উভয়েরই সামঞ্জস্য দৃষ্ট হইলেও ইহাদের কোনটিই 
বাহনরূপে ব্যবহৃত হয় নাই (৩৯)। গণেশ মূর্তিও বহু প্রাচীন। 
কিন্তু মহাভারতীয় যুগে গণেশোপাসন! প্রচলিত ছিল না, শ্রীযুক্ত 


(৩৮) 4£১1০129601081091 59:55 ০ [39501101280], 0, 31. 
(৩৯) 7, 4, 5০ 8, 7998, ৬০] 1, ০, 6, 09. 317. 


লিঙ্গরাজ পরিক্রমা । ৬৫ 


বিজয়চন্ত্র মজুমদার প্রমুখ বিশেষজ্ঞগণ এইরূপ অনুমান করিয়া 
থাকেন (৪*)। গ্রাণওয়েডেল তীহার ভারতে বৌদ্ধ শিল্পবিষয়ক 
গ্রন্থে লিখিয়াছেন, (৪১) বিনাক়্ক অথবা গণেশ জাপানেও দেবতা 
বলিয়া পরিগণিত । অশোকের কন্যা চারুমতী নেপালে খৃঃ ৩য় 
শতাব্দীতে গণেশ মন্দির প্রতিষ্ঠা করিয়াছিলেন বলিয়া কথিত 
স্বাছে (৪২ )। নগেন্ত্র বাবু বলেন, ভবিষ্াপুরাণে হ্র্যমন্দিরে 
বিনায়কের পুজ। হইত এরূপ লিখিত আছে, তাহাতেই অনুমান হয় 
বিনায়কপুজা। প্রাচীনকালে মগধে সৌরদিগের মধ্যে প্রচলিত ছিল। 
পরে হিন্দু ও মহাযান মতাবলম্বী বৌদ্ধ, এই উভয় ম্প্রদায় কর্তৃকই 
গৃহীত হয় (৪৩)। আচার্য ফুসে তাহার মূর্তিতত্ব বিষয়ক 
গ্রন্থে লিখিয়াছেন যে বুদ্ধপেবের মহাপরিনির্বাণের কোনও প্রস্তর 
ক্ষোদিত চিত্রে স্বন্দ ও গণেশ ইন্দ্রের সহিত দণ্ডায়মান রহিয়াছেন 
এরূপ দেখ! গিয়াছে । পুরাণ ও তন্ত্ে নাকি ৫৪ প্রকার বিভিন্ন 
গণেশ মূর্তির অর্চনার কথা পাওয়৷ যায়। সে যাহা হউক, আমরা 
মন্দির পরিক্রমণ প্রসঙ্গে গণেশের কুলজী (৪৪ ) আলোচনা! করিয়া 
আর কালক্ষেপ করিব না। 

পূর্বদিকের প্রধান প্রবেশদ্বারের (0:0)107 ) সম্মুথেই একটি 


(৪০) 0. 1২, 4, ০. 19০7. ০ 339, 

(৪১) 71300010151 41011 11)0159 70, 185, 

(৪২) 0102616+5 ৬০০1 ৬০1, 11, 0. 98, 000150 10 11, 
বৈ, বৈ. ৬৪303 4৬১ 5, 81450101210) 106 0, %%1001, 

(৪৩) 1010, 0, 22. 

(88) হুলেখক গ্ীযুক্ত চারুচন্দ্র বন্দোপাধ্যায় মন্তাশয় ১৩২৭ সালের 
বৈশাখের প্রবাসী পত্রে গণেশের কুলজীর বিস্তারিত আলোচম। করিয়াছেন। 
এই পাত্ত্যপূর্ণ প্রবন্ধটি মুর্ষিতত্ববিষয়ক বহু মুল্যবান তথ্যে পরিপূর্ণ। 


৬৬ ডুবনেশ্বরের কথ] । 


বাধ আঙ্গিনা আছে। উহা পূর্ব্ব-পশ্চিমে লম্বা । দৈর্ঘ্যে আন্দাজ ৬৫ 
ফিট। দ্বারের ছুই পার্স ছুটি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্তুপ দৃষ্টহয়। প্রাঙ্গণের 
পূর্ব ও পশ্চিমে বিভিন্ন সময়ে নিশ্িত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মন্দির আছে। 
তাহার মধ্যে একটি ক্ষুদ্র মন্দির বড় দেউলের নাটমন্দিরের 
হ্যায় সারাসেনিক (59180501০ ) প্রথার খাঁজ-কাটা আলিসায় 
শোভিত। কেহ কেহ এ প্রকার-স্থাপত্যবৈচিত্রযুক ইংলগ্ডের 
নশ্মাণটুডর (ব০191-08001) যুগের অষ্রলিকাস্থ পুষ্পালঙ্কারাদির 
সহিত তুলন! করিয়া থাকেন। প্রবেশদ্বারের কিঞ্চিৎ বামভাগে 
অখগু-প্রস্তর-নির্মিত স্তস্তেপরি সুবুহৎ বৃষভমুর্তি উপবিষ্ট রহিয়াছে। 
ইহা ইতর প্রাণীর প্রতিক্কৃতিনির্খাণ-বিষয়ক তক্ষণ-কার্য্যের 
একটি স্ুুসম্পর দৃষ্টান্ত বলিয়া পরিগণিত হইয়। থাকে (45 
/910)7 ০01 7506 85 2 90601101617 01 ০11. ?10151)৩0 
81010921 6815106+)। বৃষ-্তম্তটি ধবজশেখরের পরবর্তী কালে 
স্থাপিত বলিয়াই মনে হয়। প্রস্তরময় বৃষের পার্খে নীলপ্রস্তরখোদিত 
লক্ষমী-নারায়ণের সুন্দর মূর্তি দেখিলে বাস্তবিকই চক্ষু তৃপ্ত হয়। 
গোপালিনীর মন্দির ব্যতীত ভবনেশ্বরের ল্যাটেরাইট (1516110 ) 
প্রস্তরময় মন্দির-প্রাঙ্গণে আর ৭ কতকগুলি দেবমন্দির ও দেবমুর্তি 
আছে; তন্মধ্যে গণপতি, লক্ষ্মী নৃসিংহ, সাবিত্রী দেবী ও মহ্ষারঢ় 
চতুর্ববাহু যমরাজ প্রতৃতির মূর্তি উল্লেখযোগ্য । এই নৃসিংহমূর্তি সম্বন্ধে 
/রায় বরদাপ্রসন্ন সোম বাহাদুর (৪৫) লিখিয়াছেন যে পুরী ও 
কাশীধামে যে সকল নৃসিংহমূর্তি দেখ। যায়, সেগুলিতে নৃসিংহের এক 
হস্ত প্রহলাদের মন্তকোপরি স্থাপিত এবং অপর হস্ত হিরণ্যকশিপু 
বিনাশে নিয়োজিত) কিন্তু এ মূর্তিতে নৃসিংহ দেবের কোলে 


(8৫) সাহিতা-পরিষৎ পত্রিকা, ১৯শ তা, পৃঃ ১৬৬। 











লিঙ্গরাজ পরিক্রমা । ৬৭ 


লক্ষ্মী বসিয়া আছেন” (৪৬)। এই সকল মূর্তি ব্যতীত মন্দিরমধ্যে 
একটি অরুণ-স্তস্তও প্রতিষ্ঠিত রহিয়াছে। 
লিঙ্গরাজ বা বড় দেউলের বৃহত্তম প্রাঙ্গণ ৩৬৬ হাত দীর্ঘ ও 
পূর্বপশ্চিমে ২৬৬ হাত প্রস্থ, চারিদিকে পাচ হাত উচ্চ প্রাচীর । 
ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মন্দিরের মধ্যে কোন কোনটি গন্ুজযুক্ত, কোন 
কোনটির সমতল ছাদ। ইহার মধ্যে একটি মন্দির সর্বাপেক্ষা 
প্রাচীন। এটি উচ্চে মাত্র ২০ ফিট এবং কুট্টিম-পরিমাপ ৬ বর্গ-ফিট। 
মধ্যে একটি বালিয়া পাথরের শিবলিঙ্গ আছে, দেখিলে অথগ্ড 
প্রস্তর-স্তস্তের ভগ্নাবশেষ বলিয়া মনে হয়। মন্দিরপ্রাঙ্গগ অপেক্ষা 
শিবলিঙ্গটি ৫ ফিট ৬ ইঞ্চি নিয়ে অবস্থিত। ইহা! হইতে অন্থুমিত 
হয়, পরবর্তী কালে স্থানটির “লেভেল” উচু কর! হইয়াছিল) কিন্ত 
শিবলিঙ্গ স্থানাস্তরিত করা নিষিদ্ধ বলিয়া এ মন্দিরটি পৃর্ব্বেরই ন্যায় 
রহিয়া গিয়াছে । বড় দেউলের দক্ষিণ পূর্বব দিকে যে ক্ষুদ্র মন্দিরটি 
আছে তাহাতে গঙ্গা ও যমুন! মূর্তি দেখা যায়। মুর্তিদ্বয়ের এক 
হস্তে কলস, অপর হন্তটি উরুর উপর বিন্যস্ত। ছত্রধারিণী মস্তকে 
ছত্র ধারণ করিয়া আছে (৪৭ )। 


(৪৬) বল! বাহুলা ইহা লগ্মী-মৃসিংহ বিগ্রহথেরই প্রকার তেদ। শ্রীধুক টি 
গোপীনাথ রাও মহাশয় এইপ্রকার মূর্তির যে পরিচয় দিয়াছেন তাহাতে দেখিতে 
পাই, নৃনিংহদেবের দেহ লক্ষ্মীর দক্ষিণ ভুজলতায় বেইিত। দেবীর বামহত্ডে 
একটি পদ্পুষ্প ; নিয়ে গর্ড় মূর্তি । 71607601501 131700 100170612105 
79, 145-61. শগাঁয় বালগঙ্গাধর় তিলক মহাশয় তঙ্জচিত 01107 গ্রন্থে 
(0 13০$0০০-1)06 ) ছিরণাকশিপুর সহিত বৈদিক নমুচিয় সাদৃশ্য উল্লেখ 
করিয়াছেন। সম্ভবতঃ এই বৈদিক বৃত্তাত্ত হইতে হিরণ্যকশিপুর উপাখ্যান উত্ত,ত 
হইয়া খাকিষে। 

(৪৭) ভূবনেশ্বরের গজ। যমুনার চিত্র এসিয়াটিক মোসাইটির পুত্তকাগারে 
ম্যাফেরি কলেক্‌সনের চিত্র সমুছের় মখো রক্ষিত জাছে। 7.4. 5.1), 
1998, 1006, ৬০1 1৬, 0. 313. 











৬৮ ভূবনেস্বরের কথ।। 


এই সকল দেখিতে দেখিতে বেল! অনেক হইয়া গেল। 
আমরা ইতোমধো বড় দেউল প্রদক্ষিণ করিয়া! লইলাম। 
আমাদের অৃষ্টে পাণ্ড জুটিয়াছিল ভাল। সাধারণ পাণ্! 
ব্রাঙ্ণদিগের ন্যায় ইহার কেবল পয়সা আদায়ের দিকে 
লক্ষ্য ছিল না। একস্থলে সিংহমুর্তির উপর অশ্বারোহণ-ভঙ্গীতে 
উপথিষ্ট এক যোদ্ধ পুরুষের ক্ষো দিত চিত্র দেখাইয়া পা মহাশয় 
বলিলেন, “দেখিলেন বাবু, সেকালে আমাদের দেশেও ঘোড়া 
চড়িবার সময় সাহেবদের মত হাটু পর্যাস্ত উচু বুট জুত! পরার 
রেওয়াজ ছিল । আমরা হঠাৎ এরূপ মন্তব্যের প্রত্যাশ! করি নাই, 
তাই পাণ্ড মহাশয়ের কথায় বড় আনন্দ লাভ করিলাম। পরে 
জানিতে পারিলাম, রাজা রাজেন্দ্রলাল যখন মন্দিরের পুরাতত্ব 
ও শিল্পকল! বিষয়ক অনুসন্ধানে নিযুক্ত ছিলেন, সেই সময়ে এই 
পাণ্ মহাশক়্ ও তাহার পিতাঠাকুর তাহার সহিত প্রায়ই উপস্থিত 
থাকিতেন। বিবুধ সংসর্গের এমনিই মহিমা বটে! সাঞ্ধী স্তুপের 
পশ্চিম তোরণে দক্ষিণ দিকল্ত স্তম্ভের বহিাগে যে সকল কারুকার্য্য 
ও ক্ষোদদিত চিত্র আছে তাহাতে সিংহারৃতি লিওগ্রিফ্‌ আরূঢ় মনুয্য- 
মৃ্তিও দুষ্ট হইয়া থাকে (৪৮)। প্রত্তঠতত্ববিভাগের সর্বাধাক্ষ 
শ্রীযুক্ত সার্‌ জন্‌ মার্সালের মতে এই সকল লিওগ্রিফ, এবং পক্ষ- 
বিশিষ্ট জন্ত মুর্তি, সমস্তই পশ্চিম এসিয়। হইতে আমদানি (৪৯)। 
তুবনেশ্বরের মন্দিরে না থাকুক খগুগিরির গুহা-চিত্রে পক্ষযুক্ত 
হরিণ ক্ষোর্দিত আছে দেখিয়াছি। এ সকল নক্সা ব্যাবিলন, নিনেভে 


(৪৮) 105151121113 00195 10 951)01)1) 7১186 1৬, 
(৪৯) 1010) 0. 4৭. 


পিঙ্গরাজ পরিক্রম। | ৬৯ 


প্রভৃতি স্থান হইতে যে কি প্রকারে ভারতে আসিয়াছিল তাহ স্থির 
করিয়া বলা যায় না। যাহারা রাজা রাজেন্্র লাল মিত্র রচিত 
উড়িষ্যার পুরাতত্ব বিষয়ক বিরাট গ্রন্থ (৫১781071065 01011558) 
পাঠ করিয়াছেন, তাহার! উক্ত গ্রন্থের স্থানবিশেষে প্রাচীন উপানৎ- 
বিষয়ক আলোচনাপ্রসঙ্গে, বিভিন্ন দেবমুর্তি ও মন্দিরগাত্রস্থ 
চিত্রাদি হইতে সংগৃহীত, ৬/০11175097 1০০০ প্রভৃতির ন্যায় 
জান্দেশ পর্যন্ত উচ্চ বিলাতী 1০%-৮০০: এর আক্লৃতিবিশিষ্ট উপানৎ 
বা “সেকেলে, জুতার ৯০০৭০ চিত্রের কথা, বোধ হয় সহজে 
বিস্বত হইবেন না। শুনিয়াছি ভুটান দেশের লোকেরা আজিও 
এই প্রকার কাপড়ের জুতা ব্যবহার করে। পিতার মুখে 
এই সকল কথ! শ্রবণ করিয়৷ পা্ড মহাশয়ও যে একজন 
সমঝ্দার ব্যক্তি হইয়। উঠিবেন, তাহাতে আর আশ্চর্য্য কি? 
ডাঃ ব্লক (197, 731০0) প্রভৃতিকেও এই পাগ্ডাই মন্দির- 
সীমানার বহিঃস্িত একটি উচ্চ মঞ্চ হইতে লিঙ্গরাজ-দেউল 
দর্শন করাইয়াছিলেন। মঞ্চটি এখনও বিগ্কমান। বঙ্গদেশের 
ছোট লাট প্রভৃতি অনেক উচ্চপদস্থ ইংরাজ রাজপুরুষ এই স্থান 
হইতে মন্দির দর্শন করিয়াছেন। বঙ্গদেশের ভূতপুর্বব ছোট লাট সার্‌ 
জন্‌ উদ্বার্ণ প্রথমে ১৮৯৮ খৃঃ অব্ধে তুবনেশ্বরে গমন করেন। 
ভগ্রদশাপন্ন মন্দিরগুলি পুরাতত্ব হিসাবে যে কত মূল্যবান তাহা 
সম্যক্‌ উপলব্ধি করিয়৷ তিনি প্রথমে ব্রহ্গেশ্বর, রাজরাণী, মুক্তেশ্বর 
ও পরগুরামেশ্বর এই চারিটি মন্দিরের জীর্ণসংস্কারের আনুমানিক 
ব্যয় নিরূপণ করিতে আদেশ দেন, এবং এতৎসন্বন্ধীয় কাগজপত্রাদি 
তাহার হস্তগত হইলে সমস্ত খরচা মঞ্জুর করেন। এই উপলক্ষে 
তিনি স্থানীয় হিন্দু ভদ্রলোকদিগকে জানাইয়া দেন যে, বৎসরে 


০ ভুবনেশ্বরৈর কথ! । 


৪০০২ চারি শত টাকা করিয়া চাদ! উঠিলে লিঙ্গরাজ মন্দির মেরা- 
মতের জন্য তিনিও সরকার হইতে তিন চারি বৎসর কাল প্রতিবৎসর 
৪৯৪২ চারিশত টাকা করিয়া! মেরামত খরচা দিবেন (৫*)। 
প্রথম চারিটি মন্দির মেরামত করিতে ১৬০১৯ টাকা ব্যয় হয়। শুধু 
লিঙ্গরাজ মন্দিরের জীর্ণ-সংস্কার কার্যেই ২৮৬১ টাক! লাগিয়াছিল। 
উদ্বার্ণ মহোদয় পুনরায় ১৯০০ থৃষ্টাবে ডিসেম্বর মাসে ভুবনেশ্বর 
পরিদর্শনার্থ গমন করেন। তাহার এই দ্বিতীয়বার আগমন উপলক্ষে 
কতকগুলি ক্ষুদ্র মন্দির মেরামতের ব্যবস্থা হয়। সার্‌ জন্‌ উড্্বার্ণ 
১৯১২ খৃঃ অন্দে আগষ্টমাসে শেষবার তুবনেশ্বরে গমন করেন। 
তাহার কার্য্যকালে খণ্ডগিরি ও উদয়গিরির গুক্ষাগুলিও সংস্কত ও 
রক্ষিত হয়। ইহা ছাড়া ৮৪০৭ টাকা ব্যয়ে সহতলিঙ্গ 
সরোবর, সারি দেউল ও ভাস্করেশ্বর মন্দির উত্তমরূপে মেরামত 
করা হইয়াছিল। 
শিল্প ভাক্বর্যাদি লক্ষ্য করিতে গেলে ত্রিভুবনেশ্বরের মন্দির ও 
প্রাঙ্গণন্থ ক্ষুদ্র মন্দিরগুলি ছুই দিনেও দুরের কথা ছুই মাসেও দেখিয়া 
শেষ করা যায় না। 
অধ্যাপক ক-_মহাশয়ের ন্যায় বিশেষজ্ঞ ও কলারসিক সম্ী 
পাইয়া আমার যে কিরূপ সুবিধা হইয়াছিল, তাহা আর 
বলিবার নহে। 
মন্দিরের গান্রে অঙ্কিত কতকগুলি লতাপাতা ও পণুপক্ষীর 
চিত্র আমাদের বড়ই কৌতৃহলোদ্দীপন করিয়াছিল। এই “লতা 
মণ্ডন যে কত সুন্দর তাহ চিত্র হইতেই প্রতীয়মান হইবে। 


(৫৯) চ২6791% 06160211509 11. ৮১ 10000 0151306, 


লিঙ্গরাজ পরিক্রম। ৷ ৭১ 


অনেকস্থলে আবর্তনভঙ্গীর শোভন সামঞ্জস্তে আমাদের বঙ্বদেশীয় 
কুললক্ষমীর্দিগের আলিপনার কথ ম্মরণ করাইয়া দেয়। 

ডাঃ রাজেন্দ্রলাল স্বয়ং ভুবনেশ্বরে অবস্থান করিয়! ঝড় দেউল, 
পরশুরামেশ্বর ও মুক্কেশ্বর প্রভৃতি বিভিন্ন মন্দিরের গাত্রনিহিত 
চিত্রগুলির প্রাণিবৃত্তাস্ত (/০০1০৪/) ও উত্ভিদ্তত্ব কিছুই আলোচনা 
করিতে ছাড়েন নাই। বরাহ, বঙ্ঠী, মুগ, বানর, গোধা, মৃষিক, 
শুক, রাজহংস ও অন্তান্য পশুপক্ষী ও সরীস্থপার্দি সমস্তই এই সকল 
চিত্রমধ্যে বিদ্যমান (৫১)। লতা, পুষ্প প্রভৃতির চিত্রেও উড়িয়ারা 
বড় কম পারদর্শিতা লাভ করে নাই। পদ্নপুষ্পের আলেখ্যের ত 
অভাব নাই--কোনটি পুর্ণবিকচ, কোনটি অর্ধস্ুট, কোনটি বা 
কোরকমাত্র। আবার কোনও মন্দিরে টোপাপানার স্তায় “বড় 
ঝাঝি” প্রভৃতি জলজ উদ্ভিদ, কোথাও বা লাউ-শশা-জাতীয় 
( 09০৪/৮1৪০০০9$) লতার অন্তর্গত বনু বল্লরীর চিত্র নানা 
মনোজ্ঞভাবে স্থাপত্য অলঙ্কাররূপে ব্যবস্ৃত হইয়াছে । ডাঃ মিত্র 
সকল কথাই পুঙ্থান্থুপুঙ্ঘরূপে লিপিবদ্ধ করিয়াছেন। তাহার মতে 
উত্ভিদাদি চিত্রণ-পারিপাট্যে উড়িয়া শিল্লিগণ মিশরীয় ও আসিরীয় 
শিল্পীদিগের অপেক্ষা ভাল বই মন্দ নয়। উড়িয়৷ শিল্পী উত্ভিদাদির 
ক্ষোদিত প্রতিরূপগুলি শিল্প-সৌন্দধ্যের সহায়কমাত্র মনে না করিয়া 
মুখ্য অঙ্গ বলিয়াই বিবেচন। করিত এবং অন্য প্রাচীন জাতি অপেক্ষা 
ইহার! এই শ্রেণীর অলঙ্কার স্থাপত্য-শিল্পে অনেক অধিক পরিমাণে 
ব্যবহার করিয়াছে (৫২)। 


(৫১) 8110515 1000-49505 ৬০1. [, 0, 99-1০1 
(8২) ৮106 07198 91015 067১670060 ৮515 19161) 017 07৩ 
96201 ০1 ৮6৪6০৪৮1৩ 60113)3,+,১, 900 11900000690 (01760) 23 


৭২ ভুবনেশ্বরের কথ।। 


এক সিংহমৃত্তির বেলার উড়িয়াগণ যা কিছু বিভ্রাট করিয়া 
বসিয়াছে; নতুবা তাহাদিগের হস্তক্ষোদিত হস্তী, বানর, হরিণ, 
গণ্ডার প্রভৃতি সচরাচর দৃষ্ট জীবজন্তর প্রতিকৃতি কোনটিই 
নিন্দনীয় নহে। 


71711777219) 2170 001 75 28006550179, 01172178616 10 (17617 81017166060 
20001 11)016 6306179১161) 01321 209 00106109010) 01 21701010109. 
11101555 11700-41081)8) ৬০1, 1, 0,958. 


বিন্সাগর। 


মনির হইতে বাহির হইয়া আমরা স্থানীয় শাস্্রগ্স্থাদিমতে 
মণিকর্ণিকাঁসমতুল্য বিন্দুসাগর তীর্থ দেখিতে চলিলাম। হ্বর্গ-মর্ত্য- 
পাতালের বিভিন্ন তীর্থের বারি বিদ্দু বিন্দু গ্রহণ করিয়া! তবে 
নাকি এই বিন্দ-সরোবরের উদ্ভব হইয়াছিল। তীর্ঘযাত্রীর নিকট 
বিদু-সরোবর ও ব্রিতৃবনেশ্বর-লিঙ্গরাজ উভয়ই পরস্পর সংশ্লিষ্ট ও 
অবশ্ঠ দর্শনীয়। একাত্পুরাণে শ্বয়ং মহাদেব ভগবর্তী সন্মিধানে 
বিন্দুসাগরের এইরূপ বর্ণনা করিয়াছেন :--“অগনি অস্থিকে ! দেশকাল 
পাত্রভেদে যে পুণ্য আহত হয় তাহা অল্প হইলেও অক্ষয়; কিন্ত 
বিন্দুহৃদ তীর্থে সবিশেষ পুণ্যলাভ হইয়৷ থাকে এইরূপ কথিত 
আছে। অয়ি শঙ্করবল্পভে | বিন্দুহ্দের পুণ্য মহিম! ও তীর্থমাহাত্ম্য 
কীর্তন করিব, দেবতাবৃন্দ সকলে শ্রবণ করুন এবং তুমিও অবধান 
কর। ত্রিভূবনে যে সকল তীর্ঘক্ষেত্র, পুণ্যাশ্রম, কানন, কাস্তার, 
নদ, নদী, সরীস্থপ, সরোবর, হুদ, কুপ, গ্রপা (জলসত্র), গঙ্গাদি সরিৎ 
সমূহ, ক্ষীরোদাদি সমুদ্র ও জল প্রণালী আছে, তৎসমূহ, বিন্দু বিন্দু 
করিয়। যে পুণাস্থলে মিলিত হয় এবং সমগ্র বিশ্বের বিন্দু ক্ষরিত 
হয় বলিয়! যাহার নাম বিন্দু সরোবর তাহার ন্যায় পুণ্য তীর্থ আর 
কুত্রাপি নাই” (১)। একাম্ত্র পুরাণের প্রায় সমসামগ়্িক গ্রন্থ 
কপিল সংহিতায় বিন্দুসরোবরের মাহাত্ম্য সম্বন্ধে লিখিত আছে-_ 


(১) দেশে কলে চপাত্রে চ পুণামপাল্সমক্ষয়ং। 
বিশেষং পুণ্যমাখ্যাতং তীর্থে বিন্দহ্দেহম্থিফে ॥ ২১ 


১৬ 


৭৪ তুবনেশ্বরের কথা। 


“হে বিপ্রগণ ! একাঅকাননে যে বিন্দু সরোবর নামক তীর্থের 
কথা শোন! যায় তাহার বারি পান করিলে ও তাহার জলে ন্নান 
করিলে মানবের আর নরকের ভয় নাই। বিদ্দৃত্ভব সরোবর 
অপেক্ষ। পুণ্যতর তীর্থ কখনে! ত্রিলোকে ছিল না বা কখনো 
হইবে না। হে বিপ্রগণ! এ সরোবরের সলিল যে অমৃত সে 
বিষয়ে বিন্দুমাত্র সংশয় নাই। এবিশ্দৃত্তব সরোবরে "নান করিয়া 
যে ব্যক্তি বৃষভধ্বজ মহাদেবের বিগ্রহ দর্শন করিবে সে সর্বপাঁপ 
হইতে মুক্তিলাভ করিয়া! শিবতহ্ুতে বিলীন হইয়৷ যাইবে” (২)। 


মাহাক্মযং তস্য বক্ষ্যামি পুণাং বিন্ুহ দা চ। 
শৃণৃস্ধ ত্রিদশাঃ সর্ব তং চ শঙ্করবন্পতে ॥ ২২ 
ব্রৈলে!ক্ যানি তীর্থাণি পুণ্যক্ষেভা শ্রমাণি চ। 
কাস্তারবননদাশ্চ গিরয়শ্চ সরীহ্পাঃ ॥ ২৩ 
সরংসি হুদকৃপানি নিধ'রাঃ সাগরাঃ প্রপাঃ1 
গঙ্গাদযাঃ সরিতঃ সর্বাঃ ক্ষীরোদ ।দার্পবান্তখা। 
শ্রবস্তি যন্ত্র বৈ সবে বিশ্বুঘালন্ব রূপিণঃ [বিন্ুুজালকরপিণঃ1] 1২৪ 
বিন্দু!ঃ] শ্রবস্তি [ শ্ুবতি ?] বিখসা তেন বিন্দুসরঃ স্বতং। 
ন তেন সদৃশং কিফিৎ পুগ্যতীর্থমুদাহৃতং ॥ ২৫ 
একান্্রপুরাণ, গোবিশয়খ সম্পাদিত উড়িয়! সংক্ষরপ, (0011201 711001778 
০072090% 1912.) পৃঃ ১২১। 
(২) একাত্রকাননে বিপ্রস্তীর্ঘং বিন্দুসরঃ শ্রতং। 
তত্র শ্্াত্বা চ পীত্ব! চ ননরো নরকং ব্রজেৎ॥ 
চ ঙ্ী ঙীঁ 
ন ভূতং ন তবিব্যঞ্চ তীর্ঘং বিন্দ স্তবাৎ পর়ং। 
বিন্দস্তবজলং বিপ্রা অমৃতং নাত্র সংশয়ঃ ॥ 
বিন্দ্তবে মর; ন্নাত্বা বঃ পশোদৃষভধ্বজং। 
[ পশ্যেৎ বুষভধ্বজং ] 
সর্ববপাপবিনিশ্মু ঃ শিবদেছে প্রলীয়তে ॥ 
কপিলসংহিতা 115. ৮. 5. 0.১ 0. 24. 


বিন্দুসাগর। ৭৫ 


বঙ্গদেশেও উড়িষ্যার এই তীর্থমাহাত্ম্য বড় কম ঘোষিত হয় নাই। 
শিবায়নে শিবের উক্তির মধ্যে দেখিতে পাই ১-_ 

“ইহাতে করিবে স্নান যেই সাধু জন। 

আমার সাযুজ্য পাবে ওহে দেবগণ ॥ 

বিন্ুহ্দে প্লান করি মম লিঙ্গবরে। 

দর্শন করিবে যেই অতি ভক্তিভরে ॥ 

পাতক কদাচ দেহে না রহিবে তার। 

মম লোকে যাবে অস্তে বচন আমার ॥” 

মন্দিরের পরই বড় দাও । বড় দাণ্ড অতিক্রম করিয়! বিন্দৃ- 

সাগরে যাইবার পথ। ছুই পার্খে ছই সারি দোকান; তাহার 
মধ্যে কোন কোনটিতে গুক্‌না বেগুণ, সারে (কচু) ও বৈত- 
কথারু ( বিলাতি কুমড়া ) বিক্রীত হইতেছে। তরিতরকারী বড়ই 
ুর্ুল্য বলিয়া বোধ হইল। অপর একটি দোকানে সিদ্ধি-ধোটা 
বাটির ন্যায় লাল পাথরের মোটা বাটি ও চন্দন-ঘষ! “পাটা” প্রভৃতি 
বিক্রয়ার্থ সঙ্জিত রহিয়াছে দেখিলাম। শুনিয়াছিলা'ম, ভূবনেশ্বরে 
গণেশ, লক্ষ্মী প্রভৃতি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দেবমৃত্তিও (519:96$63 ) বিক্রয় 
হয়। জীযুক্ত হেভেল প্রস্তর খোদাই-(50016-08৮15 ) বিষয়ক 
সরকারী 17010518191) পুম্তিকায় স্থানীয় ভাম্করদিগের বিশেষ 
উল্লেখ করিয়াছেন। ইহারাই ত অনেক পুরাতন মন্দিরের ভগ্ন 
অংশগুলি সরকারের ব্যয়ে সুন্দর ভাবে মেরামত করিয়া দিয়াছে। 
ছূর্ভাগ্যক্রমে উপযুক্ত প্রদর্শক অভাবে আমাদিগের অনৃষ্টে তাহাদের 
শিল্পশালা দর্শন করা ঘটিয়া উঠিল ন|। স্থানীয় সুচী-শিল্পের 
নিদর্শনের মধ্যে দেখিলাম, কতকগুলি কারুকাধ্য কর! “বুয়া” 
অথবা থলিয়া। উড়িয়াগণ সাধারণতঃ ইহার মধ্যে পান, মসলা! প্রভৃতি 


৭৬ ভুবনেশবরের কথা। 


রাখিয়া থাকে । আমাদিগকে নূতন লোক দেখিয়া স্থানীয় দোকান- 
দারেরা অসম্ভব রকম দাম চাহিয়া বসিল। মিষ্টান্ের দৌকানে 
তেলে-ভাজ! জিলাপীই বেশী, তাহাও আবার টাট্ক1 নহে; তবে 
পূর্ব হইতে বায়না দিলে ভাল খাবার ও পাওয়া যায়। এই সকল 
দোকান দেখিতে দেখিতে আমরা কয়েক মিনিটের মধ্যে বিন্দু- 
সাগর-তীরে উপস্থিত হইলাম। এই বিন্দুসরোবরের পৃতসলিলে 
শ্রীশ্রীচৈতন্যদেব অবগাহন করিয়াছিলেন। গোবিন্দ দাসের করচায় 
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য যে লিঙ্গরাজ দর্শন করিয়াছিলেন কেবল তাহাই 
লিখিত আছে-_ 


“তার পর লিংরাজের মন্দিরে যাইয়া । 
কি জানি কি ভাবে প্রভু উঠিল কানদিয়া ॥” (৩) 
কিন্তু চৈতন্যভাগবত গ্রন্থে দেখিতে পাই-__ 
তবে প্রভু আইলেন শ্রীতূবনেশ্বর | 
গুপ্ত কাশীবাস যথা করেন শঙ্কর ॥ 
সর্বতীর্ঘথ জল যথ! বিন্দু বিন্দু আনি। 
বিন্ুসরোবর শিব স্থজিলা আপনি ॥ 
শিব প্রিয় সরোবর জানি শ্রীচৈতন্য। 
নান করি বিশেষ করিলা অতি ধেন্ত | 
দেখিলেন গিয়! প্রভু প্রকট শঙ্কর। 
চতুর্দিকে শিবধবনি করে অনুচর ॥ 


(৩) গোবিন্দ দাসেয় করচা।) 501)81010 151655 10690516075 
[-010107), পৃ ৪৩। 


বিশ্ুুসাগর | ৭৭ 


বৃত্যগীত শিব অগ্রে করিয়৷ আনন্দ । 
সে রাত্রি রহিলা সেই গ্রামে গৌরচন্ত্র ॥ (৪) 
চৈতন্য মঙগলেও এ সম্বন্ধে উক্ত হইয়াছে__ 

“কাঠাতিপাড়া ধরণী ছাড়িঞা৷ একাম্বনে। 

দেখিল ভুবনেশ্বর লিঙ্গ বিরোচনে ॥ 

বিন্দুসরোবরে স্নান কৈল গৌরচন্দ্র।” (৫) 

শ্রীমৎ মুরারি গুপ্তের করচায় শ্রক্ষ্ণচচৈতন্যের ব্রিভ্ূবনেশ্বর দর্শন 

ও একাত্তর ক্ষেত্রে অবস্থানবিষয়ক বিবরণ একটু বিস্তারিত ভাবে 
লিপিবন্ধ আছে। শ্রীমৎ মুরারি লিখিয়াছেন শ্রীচৈতন্যদেব ভূমিতলে 
দণ্ডবৎ হইয়া নতমস্তকে কৃত্তিবাসদেবকে বন্দনা করিয়াছিলেন। 
তিনি গদ গদ্দ বচনে দেবাদিদেব গিরীশের স্তব উচ্চারণ কালে 
জনৈক শিবভৃত্য তাহাকে “বরমাল্য গন্ধেঁ বিভৃষিত করিয়া 
তাহাকে বহির্গৃহে স্থান দিয়াছিল। স্ুখনিদ্রায় সে রাত্রি তথায় 
অতিবাহিত করিয়া, মহাপ্রভূ পরদিন প্রাতঃকালে কৃষ্ণলীল! কীর্তন 
করিয়াছিলেন। বিন্দুসরোবরে শ্লান ও শ্রীভুবনেশ্বর দেবকে দর্শন 
পূর্বক ভগবান্‌ শ্রীচৈতন্য প্রেমানন্দে পরিপনুত হইয়া তথায় স্থখে 
সমাসীন হইয়াছিলেন। তৎপরে ভক্তগণসঙ্করিত বরান্ন ভোজনাস্তর 
তিনি কষ্খপদামুজ ধ্যান করিয়া সংহষ্টচিত্তে স্ুপ্তিমগ্র হইয়াছিলেন। 
দেবাদিদেব শুলপাণির মহাপ্রসাদ গ্রহণ করিবার ইচ্ছ। শ্রীচৈতন্তের 
মনে উদয় হইতেই একজন ব্রাহ্মণ হস্তে মহাপ্রসাদ আনয়ন করিয়া 
তাহার সম্মুথে উপস্থিত হইয়াছিলেন এবং তাহাকে উহা গ্রহণ করিতে 
অনুরোধ করিয়াছিলেন। শ্রীগৌরাঙ্গ নতমন্তকে প্রসাদ গ্রহণ করিয়া 





(৪) ৮শিশিরকুমার ঘোষের সংস্করণ, পৃঃ ২৯৮। 
(৫) চৈ, ম, উৎকলখণ, পৃঃ ১০০। 


৭৮ ভুবনেখবরের কথা । 


অমৃতৰৎ উহ আস্বাদন করিয়াছিলেন। তাহার এই শিব নির্খাল্য 
ভক্ষণের কথ শ্রবণ করিয়৷ তর্দীয় অন্যতম ভক্ত, মহাতেজা, দামোদর 
প্ডিত জিজ্ঞাসা করিয়াছিলেন “তৃগুশাপ হেতু শিবনির্মাল্য গ্রহণ 
করিতে নাই তাহ। জানিয়াও ভগবান কেন উহ! ভক্ষণ করিলেন ?” 
এ কথার উত্তরে, গ্রীকষ্ণচৈতন্য তীহাদিগকে ভেদবুদ্ধি পরিহার করিতে 
উপদেশ দিয়া, বুঝাইয় দেন যে, ন্ছয়্তু লিঙ্গসান্নিধ্যে হরিহরের এক 
বিষয়ে অভেদবুদ্ধি হইয়া, পূজা করিলে কদাপি শাপগ্রন্ত হইতে 
হয় না এবং তথায় মহাপ্রসাদ গ্রহণ করিলে লোকে রোগ 
মুক্ত হয়, স্থির সম্পত্তি প্রাপ্ত হয় এবং মোক্ষলাভ করিয়। থাকে”। 
(৬)। এইরূপে শ্রীচৈতন্য নিজ উদারতা গুণে নিজ অন্ুচরগণের 
মধ্য হইতে সম্প্রদায়গত বিদ্বেষবহ্ছি নির্ববাপিত করিতে সমর্থ হইয়া- 
ছিলেন। পাছে কেহ শিবের প্রসাদ বলিয়৷ অগ্রাহ্য করে এই 
ভয়ে কপিলসংহিতাকারও লিঙ্গরাজের নৈবেচ্য মহাপ্রসাদ বলিয়া 
প্রচার করিয়া বলিয়াছেন যে, পুণ্য শঙ্কায় যদি কাহারও কর্তৃক 
ইহা! অনাদূত হয়, তাহ! হইলে সে ব্যক্তি নিশ্চয় নিরয়গামী হইবে 
সন্দেহ নাই। অগ্তাপি লিঙগরাজের প্রসাদ, জগন্নাথদেবের প্রসাদের 
ন্যায়, জাতিভেদমূলক স্পর্শদোষরহিত মহাপ্রসাদ বলিয়াই পরি- 
গণিত (৭)। বিন্দুসাগর তীরে আপাততঃ আমাদের প্রসাদ 


(৬) গ্রকৃফটৈতন্য চরিতম্-জীমৎ মুরারি গুপ্ত প্রণীতম্‌ অষ্টমসর্গ 
পৃঃ ১৩৬-১৩৭, নবমসর্গ পৃঃ ১৩৮-১৩৯-১৪*। 
(৭) “মহ্থাপ্রসাদং নৈবেদ্যমিতি প্রাহুম হর্যয়ঃ। 
একাগ্রকাননে বিক্যোর্দেছে ব্রাহ্মপসত্তমাঃ 
নৈবেদাং লিঙলগরাজস্য পুণ্য শঙ্কাঞ্চ মা কৃথাঃ। 
তদনাদৃত্য নরকং বাতি নাস্তার সংশয়ঃ ॥* 
কপিলসংহিতা, /১, 9. 73. 115, 0. 26. 





বিন্দু সাগরু। 
বাজ। রাজেন্দলাল মিন্বেরগ্রেছ্ছে প্রদঞ্জ চিন হইতে ] | পূঃ ৭: 


৯ 


চিত্র ২৮) 





[বশ্ুসাগর মধাস্থ দ্বীপ । 
শ্রীযুক্ত 'অদ্দেন্্কমার গঙ্গোপাপ্যায় মহাশয়ের সৌগঠে]  [পুঃ৮, 


বিন্ুসাগর। ৭৯ 


পাইবার সম্ভাবনা ছিল না। আমরা আর কালক্ষেপ না করিয়া 
হদে অবতরণ করিলাম । হৃদের জল পঞ্ষিলপ্রায়। এখন হুদ-নিহিত 
তৃমধ্যস্থ প্রত্রবণও এ আবিলতা দূর করিতে সমর্থ নহে। পূর্বকালের 
সেই প্দৃকৃপেয় * * পাস্থশ্রাস্তিহরং সুধাজনিতনিন্যন্দানন্দদবপু” 
প্রভৃতি বর্ণনা এখন কথামাত্রেই পর্যাবসিত । দক্ষিণালুন্ধ পাগডাদিগের 
উপদ্রবে দুরদ্্শাগত যাত্রী সুস্থ হইয়৷ এই পষ্কিল জলে নামিয়াও 
যেন্নান করিবে, সে সুবিধা বিরল। আমরা অন্দর জলে নামিয়। 
পুনরায় তীরে ফিরিয়া আসিলাম। এত বড় পাথর-বীধান পুষ্করিণী 
আর কখনও দেখি নাই। বন্ধ তীর্ঘযাত্রিসমাকীর্ণ এই বিশাল 
সরোবর দর্শন করিলে বাস্তবিকই মনে ভক্তিরসের সঞ্চার হয়, 
ভক্তকবির কথায় বলিতে ইচ্ছা করে,_ 
কোটি কোটি তীর্ঘযাত্রী করি প্রণিপাত। 
থনিয়া তুলেছে তোমা, ওগো পুণ্যথাত ॥ 
ধা ঙ্ী খু ১৪ 
কোটি কোটি পুষ্পাঞ্জলি অর্থ্য নিবেদন। 
তব বক্ষে মন্দিরের করেছে স্বজন ॥ (৮) 
বিন্ুসাগরের দক্ষিণধারে জলের কিনারা পর্য্স্ত পাথরের 
সিঁড়ি এখনও অবিকৃত অবস্থায় রহিয়াছে তবে অন্তান্ত ধারে 
কতক কতক নই হইয়া গিয়াছে । জলের গভীরতা গড়ে ৬ ফিট 
হইতে ১০ ফিট মাত্র হইবে (৯)। পুরীর নরেন্দ্রসরোবরের ন্যায় 


(৮) হ্রীধুদ্ত কালিদাস রায় কৃত পর্ণপুট। পৃঃ ৯৩-৯৪। 

(৯) 2011 08261066109, 2437, 15750 01 270016120 09017001619 
1) 73689) গ্রন্থে এ প্রসঙ্গে কিন্ত ১৬ ফুট অর্থাৎ ১০1১১ হাত জলের 
কথাই উল্লিখিত হইয়াছে, (৮10৩ 7, 254)। 


৮০ ভুবনেশ্বরের কথ! । 


বিন্দুসাগরের মধ্যস্থলেও একটি অনতিক্ষুদ্র (৫১৯৬০) স্বীপ থাকায় 
সরোবর-শোভা৷ বহুল বদ্ধিত হইয়াছে । দ্বীপমধ্যস্থ একটি ক্ষুদ্রমন্দিরে 
বিষ্ণুর ন্নান-যাত্রাপর্ধবোপলক্ষে যাব্রিগমাগম হইয়া! থাকে । মন্দিরমধ্য্থ 
ফোয়ারা হইতে জলধার! পাগাগণ কর্তৃক সুকৌশলে বিগ্রহগাত্রে 
নিক্ষিপ্ত হওয়ায় সরলপ্রক্কতি দর্শকেরা অনেকেই এ ঘটনা 
অলৌকিক বলিয়া মনে করে। বলা 'বাহুল্য, নিকটস্থ একটি 
মণ্ডপের উপরিস্থ আধারসঞ্চিত বারিরাশি ফোয়ারার নলমুখে নির্গত 
হইয়া বিগ্রহের এই ন্নান-লীলা৷ স্ুুসম্পন্ন হয়। এ তথ্য প্রকাশ হইয়া 
পড়িলে তীর্থমহিম। ক্ষু্ন হইবে, এই আশঙ্কায় বোধ হয়, সকল 
কথা সাধারণকে জানিতে দেওয়া হয় না। বিম্দুসাগরের শ্বচ্ছ ও 
সুনির্শীল বারিরাশি বিশেষ নয়নানন্দকর বলিয়! পূর্ব হইতেই ইহা 
দেব-মাহাত্যের সহিত সংশ্লিষ্ট হইয়াছে। রায়সাহেব শ্রীযুক্ত নগেন্জ- 
নাথ বস্থ মহাশয় একার পুরাণের ৩য় অধ্যর হইতে যে অংশ বঙ্গীয় 
এসিয়াটিক সোসাইটির পত্রিকায় উদ্ধত করিয়াছেন (১৯ ) তাহাতে 
স্বয়ং মহাদেবের মুখে নিমলিখিত উক্তি প্রদত্ত হইয়াছে-_“আমি 
মেধেশ্বর নাম গ্রহণ করিয়া এখানে ( একাত্তীর্থে) অবস্থান করিব। 
এই হ্রদের (বিন্দু সাগরের ) সুনিম্শল ও স্বচ্ছ জল আমার সদাই 
প্রীতিকর হইবে। এ সলিলে সকল পাপ ধৌত হইয়া যায়।” 
এখনও বিন্দুসাগরে মুমুক্ষু নরনারীর সমাগম দেখ যায় বটে, 
কিন্তু পূর্ব্বকালের সে 1২০০)৪)০৩ এর গন্ধ আর কল্পনার সাহাফ্যেও 
আনয়ন কর! সহজ নহে। এখন আর সন্তরণরতা তরুণীগণ 
প্লবমান বৃদ্ধ কমঠীর, পৃষ্ঠে আরোহণ করিয়া তাহাকে তাহাদের 


(১০) 0. 4. 5535 18979 00, 11-715, 


বিদ্দুসাগর। ৮১ 


লীলাতরণীতে পরিণত করিতে চেষ্টা করেন না। কচ্ছপপ্রবর ডুব 
দিয়া পলাইতে গেলে, এখন আর তাহার! সঙ্গে সঙ্গে ডুব দিয়া 
তাহাকে ধরিতে যান না। বিলাসিনীবৃন্দের 'শাখামূগের ন্যায় বিচিত্র 
জলক্রীড়াভঙ্গীতে” আর তটদেশে দশশকবৃন্দের জনতা বৃদ্ধি হয় না। 
বিন্ু-সরোবরে জলকেলির এই অপূর্ধব বিবরণ “121101911)15 
[170108৮ গ্রন্থ প্রকাশিত ক্ষোদ্দিত লিপির পাঠ ও অন্থবাদ 
হইতে গৃহীত। হিন্দু ইয়ার্ট নামে সুপরিচিত কর্ণেল ইমা 
(0০1. 50881) (১১) কর্তৃক এই প্রস্তরলিপিখানি সংগৃহীত 
হইয়াছিল। লিপি হইতে অবগত হওয়া যায় যে, রাজা অনঙ্গ 
জীমদেবের কন্যা, হৈহয়রাজ পরমারি অথবা! পরমার্্রির পত্রী চক্ট্রিক 
দেবী, একাম্রকাননে এক বিষুমন্দির সংস্থাপন করিয়া, বলদেব, কৃষ্ণ 
ও স্থৃদ্রার (“বলকৃষো স্থুভদ্রাঞ্চ) মৃষ্তিত্রয় প্রতিষ্ঠিত করিয়াছিলেন। 
মন্দিরটি বিন্দু-সরোবরের তীরে অবস্থিত ছিল বলিয়া লিপিলেখক 
উমাপতি বিন্দু-সরোবরে অঙ্গনাগণের জলক্রীড়ার কথাও উল্লেখ 
করিতে ছাড়েন নাই। অক্ষরের আকৃতি হইতে লিপিখানি খুঃ 
চতুর্দশ শতার্বীর বলিয়া অনুমিত হয়। কিন্তু লিপিমধ্যে চন্দ্রা বা 
চক্দ্িকাদেবী কর্তৃক মন্দির নিম্মাণ কাল “ব্যোম-বিয়ৎ-ফণীন্ত্ররসনা- 
চন্ত্র” অর্থাৎ ১২০০ শক বলিয়া উল্লিখিত হইয়াছে । এখন 
ভুবনেশ্বরের একমাত্র বৈষ্ণব মন্দির, রাটীয় শ্রেণীর বাঙ্গালী ব্রাহ্মণ 


(১১) ইনি পরবর্তীকালে মেজর জেনারাল পঞ্গে উন্নীত হইয়াছিলেন। 
১৮২৮ অন্দে ১লা! এপ্রিল তারিখে কলিকাতার চৌরঙীতে তাহার মৃত্যু হয়। 
“বিগ্রহ অপহারক'' বলির! ইনি তদানীম্তন সমাজে বড়ই অখ্যাতি লাভ 
ফরিয়াছিলেন। তাঁহার সমাধিস্তপ্ত হিন্ুমন্দিরের ন্যায় আকৃতিবিশিষ্ট। কথিত 
আছে, ট.য়ার্ট গঙ্গাসাগরে ( সাগরহীপে ) একটি মন্দির প্রতি! করিয়াছিলেন। 


৯১ 


৮২ ভূবনেশ্বরের কথা । 


ভষ্ট ভবদেৰ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত অনস্ত বাসুদেবের দেউল (১২)। 
লিপিকথিত মন্দিরের আর চিহ্নমাত্রও নাই। সাধারণের স্মর্রণপথ 
হইতে উহা! বনুপূর্ধবেইি অপস্যত হইয়া গিয়াছে। মন্দিরগুলি 
সংরক্ষণের জন্য সরকার হইতে ব্যবস্থা না হইলে, আরও কয়েকটি 
প্রাচীন মন্দির বোধ হয় এই দশাই প্রাপ্ত হইত। ওদ্রকলা-লক্ষমীর 
বর্তমান ছুরবস্থার কথা বিবেচনা করিলে বাস্তবিকই রাজা! 
রাজেন্দ্রলাল ধৃত 1100795 1310%175 এর ভাষায় বলিতে ইচ্ছা! 
করে--“099115101 16501110661) 01) 161 0)1212105 (010711 


০1 6101155 11000 0168.0)5,% 


(১২) শ্রীযুক্ত মনোমোছন গঙ্গোপাধায়ের মতে রাজারাণী দেউলটিও 
বৈধব মলির। 


অনন্ত বাসুদেব । 


আমরা তুবনেশ্বরের মন্দির লিঙ্গরাজ দেখিয়া! ফিরিয়া আসিয়াছি 
গুনিয়া বন্ধুবর র- জিজ্ঞাসা করিলেন, "তোমরা কি অনস্ত-বান্থদেব 
মন্দিরেও গিয়াছিলে 1” কেবল দেশ বেড়াইতে যাহারা আসেন, 
তাহাদের কথা স্বতন্ত্র; কিন্তু তীর্থকর্তব্যাদি সম্পাদন করিতে 
হইলে পুরাণোক্ত নির্দেশ-অনুসারে অগ্রেই এই বিষু-সনদির দর্শন 
কর! বিধের (১)। কপিল সংহিতার একাদশ অধ্যায়-পাঠে 
জান! যায় যে শিবের এই ভীর্থে আগমনের পূর্ব বাস্থুদেব ও 
অনস্ত তথায় প্রতিঠিত ছিলেন (২)। কিন্বাস্তী'মতে বিষুুই 
মহা্দেবকে এই স্থানে তাহার গুপ্ত আবাস সংস্থাপন করিতে 
অনুমতি প্রদান করেন (৩)। সেইজন্য লিঙ্গরাজের পূজার পূর্বে 
তুবনেশ্বরের এই একমাত্র বিষুঃমন্দিরে অনন্ত ও বাসথদেবের অন্ুমতি- 
গ্রহণ-উদ্দেশ্যে পৃজার্চনা করিতে হয়। বিদ্ুসাগরে গ্গান ও পিডৃ- 
তর্পণাদি ন! করিয়। এবং যথারীতি মন্ত্রপাঠপূর্বক অর্ধ-পাপহরা 
দেবীর পূজা সমাপন না করিয়া কোনও পুণ্যকামী তীর্থযাত্রীই 
লিঙ্গরাজ দেবকে দর্শন করার অধিকার লাভ করেন না। সম্ভবতঃ 
এই প্রচলিত বিধি ও পুর্বোস্ত জনশ্রুতি হইতে সাধারণের 





াস্মি 


(১) গ্তন্মািনুহদে দাতা! অ্টব্য পুরুযোত্তরঃ| দেবী পাপছর| চৈব 
উষ্টব্য। মাবধানত$'| শিষপুরাণ ২য় অধ্যার 00160 10) ], /১. 513০1, 


৬111, 1972. 0. 343. | 
(২) কিলসংহিতা, ১১শ অধ্যার) ২২ পৃঃ) এলিয়াটিক মোনাইটির গুখি। 


(৩) 40৮ 011558, ৬০1, 11, 05625, 


৮৪ ভুবনেশ্বরের কথা । 


বিশ্বাস জন্মিয়াছে যে ভট্ট ভবদেবের এই মন্দির লিঙ্গরাজ দেউল 
অপেক্ষাও প্রাচীন । 
পৌরাণিক বৃত্বান্ত হইতে এতিহাসিক তথ্য নিষ্ফাশন বড়ই ছুরূহ 

ব্যাপার। ব্রহ্গপুরাণে অনস্ত বাস্থদেবের যে “গুহা বৃত্তাস্ত' বণিত 
হইয়াছে, তাহাতে কলিষুগের কোন মন্দিরনির্দীতার উল্লেখ দেখা 
যায় না এবং উহ! যে একাত্ক্ষেত্রে অবস্থিত এরূপ স্পষ্ট ইঙ্গিতও 
কোথাও নাই (৪)। ভৌগোলিক অবস্থান-প্রসঙ্গে পুরুযোত্তম- 
ক্ষেত্রের (৫) উল্লেখ এবং হ্বর্সদ্বার দর্শন ও সমুদ্রশ্নানের কথ! 
হইতে বুঝা যায় যে পুরীতীর্ঘের মন্দিরটির বিষয়ই ইহাতে বর্ণিত 
হইয়াছে। অবশ্ঠ জগন্নাথদেবের মন্দিরের অন্তর্গত অনন্ত বাস্থদেবের 
ক্ষুদ্র মন্দির সাধারণের নিকট সেরূপ স্থুপরিচিত নহে, এবং 
কপিল সংহিতা প্রভৃতি তীর্থমাহাত্ম্য বিষয়ক গ্রন্থে একাত্রক্ষেত্রের 
এই জনার্দিন মুষ্তিরই বিশেষ উল্লেখ রহিয়াছে, দেখিতে পাই। 

“একাম্ত্রে পরমং ব্রহ্ম বাস্ুদেবেতি সংজ্ঞকঃ। 

ভাতি পাষাণ-বপুষ! মুক্তিদোমুরনাশনঃ ॥ 

কৃত্বা কার্ধ্যমকার্যং বা দৃষ্টেকা্রে জনার্দানং। 

নরে! বৈকুগ্মাপ্সোতি নান্তথামুনিসত্তমাঃ ॥ (৬) 

ব্রহ্ষপুরাণে কিন্ত একামক্ষেত্র বিষয়ক ৪১ অধ্যায়ে ফোথাও 

অনস্ত বাস্থদেবের উল্লেখ নাই সুতরাং মনে হয়, যে এই ব্রক্মপুরা- 
গোস্ত অনন্তবানুদেব ভুবনেশ্বরের অনস্ত বাসুদেব না হওয়াই 


(৪) ্গাপুয়াপ, বঙ্গবালী সংহ্ষয়ণ, ১৬৭ অধ্যায়, পৃঃ ৬৯০--৬৯৩ 
ধী, এ, ৪৫ অধ্যার, ৮৬ ও ৮" প্লোক, পৃঃ ২৩১। 
(৫) এ পৃঃ ৬৯৩। 
(৬) কপিল নংহিতা, এসিয়াটিক সোনাইটির পুখি, পৃঃ ৩০ । 


( চিত্র ২৯) 





৩ £&: "1০৪ * * 
£$1 


রো 14 
মি, বস্তা 


ই নদ রি 
শাঞাঞত 
) ৬ 





অনস্ত বাসুদেব মন্দিরের শিখর দেশ । 
( দক্ষিণ পশ্চিম হইতে ) 
বঙ্গীয় এসিয়ার্টিক সোসাইটির সৌজন্তে ] [ পূ: ৮৫ 


অনস্ত বাখুদেব। ৮৫ 


সপ্তব। ব্রদ্পুরাণের প্রাগুক্ত অংশ রচনাকাল সপ্তবতঃ ভূবনেশ্বরের 
এ মন্দিরটি নির্শিত হয় নাই, কপিল সংহিতা পরবর্তী কালের 
রচনা বলিয়া ইহাতে এ বিষয় উল্লিখিত হইয়াছে (৭)। 

বরঙ্মপুরাণোক্ত বৃত্তান্তে বিশ্বকম্ী এই বিগ্রহ মূর্তির নির্মাতা, 
এবং প্রতিষ্ঠাতা শ্বয়ং দেবরাজ । মেঘনাদ ইন্দ্রপুরী অধিকার 
করিলে পর অনস্তবান্থদেব মুর্তি লঙ্কায় আনীত হয় এবং বিভীষণ উহা 
ত্রাতার নিকট হইতে চাহিয়া! লন। রামচন্দ্র লঙ্কা-বিজয়ের পর 
অযোধ্যাপুরীতে এই মূর্তি আনয়ন করেন এবং দুর্লভ বৈষ্ণব পদে” 
প্রবেশ-কালে সমুদ্ররাজকে উহ! প্রদান করেন। পরে “কাংসাদি 
দুষ্ট রাজগণকে বধার্থ/” সন্কর্ষণসহায় ভগবান কৃষ্ণ বস্থদেবকুলে 
অবতীর্ণ হইলে, “সরিৎপতি সমুদ্র কোনও কারণীস্তরে” জল হইতে 
এই প্রতিম। উদ্ধার করেন। দ্বাপরযুগের এই ঘটনার উল্লেখ করিয়াই 
পুরাণ-কার অনন্ত বান্দেব-মাহাত্ম্য সমাপ্ত করিয়াছেন। মন্দিরটি 
লিঙ্গরাজ মন্দিরের তুলনায় অপেক্ষাকৃত আধুনিক বলিয়াই হয়তো! 
কপিল-সংহিতা রচিত পাছে উহার গৌরব ক্ষুণ হয়, এই ভয়ে 
লিখিয়াছেন যে যদি কেহ আমি একাজজক্ষেত্রে গিয়া! পুরুযোস্তম- 
দেবকে দর্শন করিব এই কথ কয়টি মাত্র উচ্চারণ করে, তাহ 
হইলেও সে ব্যক্তি বিষুপুর গমন করে (৮)। 

র- বলিলেন, “্তীর্ঘযাত্রী হিসাবে না হইলেও আর এক কারণে 





(৭) ত্্রঙ্গপুরাণে একাক্ষেত্রস্থ অনন্ত বান্ুদেষ যঙল্গিয়ের বর্ন! না 
থাকিলেও ভাক্ষরেশ্বর নামক অপয় একটি মন্দিয়েরও উল্লেখ দেখা যার ( ৪১ 
অধ্যায়, ৭৭ প্লোক, বঙ্গবাসী সংক্ষরণ)। বৃহ্দায়তদ শিষলিঙ্গবিশিই এই 
দেউলটি অদ্যাপি ভুবনেশ্বরে বিদ্যমান রহিয়াছে। 

(৮) “একাম্রকং গমিষ্যামি জক্ষ্যামি পুরুযোত্তমং। ইতুচ্চরতি স্যাস্য 
সোহপি বিফুপুরং ব্রজেৎ 8) কপিলসংহিতা। (১. 5. 0, 115. 0) পৃঃ ২৯। 


৮৬ ভুবনেশ্বরের কথা। 


এই মন্দিরটী বাঙ্গালীর অবশ্য-দ্রষ্টব্য। মণ্দির-প্রতিষ্ঠাতা ট্ 
ভবদেব রাটীয় শ্রেণীর সাবর্ণ গোত্রীয় বাঙ্গালী ব্রাহ্মণ ছিলেন। 
বঙ্গদেশে সাবর্ণ চৌধুরীদিগের বংশধরগণ এখনও বিদ্যমান” (৯)। 

র-_ভায়ার এ কথ৷ শুনিয়া আমাদেরও বিশেষ আগ্রহ জন্মিল; 
বলিলাম, “আজ বৈকালেই তুমি আমাদিগকে সেখানে সঙ্গে 
লইয়া চল।” ৃ 

মন্দিরে পৌছিতে সন্ধ্যা হইয়া গেল। আমরা প্রাঙ্গনে প্রবেশ 
করিয়া মন্দিরমর্শনের জন্য জনৈক পাগ্ীর সাহায্য গ্রহণ করিলাম। 
সে বাক্তি একটি আলো লইয়া আমাদিগকে মন্দির প্রদক্ষিণ 
করাইয়া আনিল। প্রাঙ্গণটি আগাগোড়া বালিয়! ও মুগুনি পাথরের 
টালি ধিয়। বাধান। শ্রীযুক্ত মনোমোহন গঙ্গোপাধ্যায় বলেন 
বহুসংখ্যক খগ্ডালাইট (70170119112) জাতীয় প্রস্তরের খণ্ডও 
এ উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হইয়াছে (১)। মন্দিরের চারিদিকে ৯ ফিট উচ্চ 
ল্যাটেরাইটু প্রস্তর নিশ্শিত প্রাচীর । এই চৌহদ্দিভুক্ত সমগ্র ভূ- 
থণ্ডের পরিমাণ "৩০৩ একর্-সোজ! হিসাবে প্রায় এক বিঘা 
আন্দাজ হইবে । আসল মন্দিরটি যে জমির উপর অবস্থিত তাহার 
পরিমাপও '*৮২ একরের কম নহে। এ মন্দিরের নির্াণপ্রণালী 
ঠিক লিঙ্গরাজ মন্দিরেরই অন্নরূপ। খোদাই কাজ ও নকা! প্রভৃতিতে 
পদে পদে সাদৃশ্য দৃষ্ট হয়, যেন বড় দেউলের ইহা একটা ছোট- 
থাট সংস্করণ মাত্র। তবে একটু তফাৎ এই যে অন্তান্য দেব- 
মন্দিরগুলি পূর্বদ্ধারী; কেবল এই দেউলটারই তোরণ পশ্চিম মুখে 
অবস্থিত। ভারতবর্ষে মন্দিরাদি হউক বা আবাস-গৃহই হউক 


(৭) 0). £&. 5.1). ৬০1, ৬111) 1912, 7. 24০0, 
(১০) ট, 050100115 011558, ১, 370, 





অনস্ত বাস্থদেব মন্দির । 


| শ্রীযুক্ত অদ্দেগ্রকুমার গঙ্গোপাধ্যায় মহাশয়ের সৌজন্তে ] 
[ পৃঃ ৮৬ 


অনস্ত বাস্থুদেব । ৮৭ 


বাধু ও আলোকের অবাধ চলাচলের জন্ত এবং সম্ভবতঃ স্বাস্থ্য- 
সংরক্ষণকল্পে, পূর্ববদ্ধারী করিয়াই নির্শিত হইত ; শিল্পশাস্ত্রে মতে 
নরসিংহ অবতার ব্যতীত বিষ্ণুর অন্যান্ত অবতারের মন্দিরগুলি পূর্ব্ব- 
দ্বারী করিয়া নিম্মীণ করার নির্দেশ দেখা যায় (১১)। ডাক্তার লে 
(7.৩ 1301.) এই প্রসঙ্গে বলিয়াছেন যে মণিকোঠায় 'প্রতিষ্ঠিত 
বিগ্রহ উদীয়্য়ান হুর্যের সম্মুখীন থাকেন এই উদ্দেশ্যেই প্রধান 
দ্বার পূর্ব দিকে অবস্থিত হইত। সাধারণ রীতির এই ব্যতিক্রম 
এ ক্ষেত্রে যে কি কারণে ঘটিয়াছিল, তাহা নির্ণয় কর! সহজ নছে। 

দেখিলাম, প্রবেশদ্বারের অনতিদুরে পশ্চিম পা্খবস্থ প্রাচীরের 
ভিতরের দিকে ছুইথানি শিলালিপি সংলগ্ন রহিয়াছে । একখানি ভট্ট 
ভবদেবের প্রশস্তি এবং অপরথানি স্বপ্রেশ্বর কর্তৃক মেঘেশ্বরদেবের 
মন্দিরপ্রতিষ্ঠাবিষয়ক । এই লিপিদ্বয়ে ব্যবহৃত বর্ণমালা, বর্তমান 
বঙ্গাক্ষরের অব্যবহিত পূর্ববর্তী অক্ষর সমূহের নিদর্শন বলিয়া 
বিবেচিত) দ্বিতীয় ও চতুর্থ নৃসিংহদেবের তাঅশাসনে ব্যবহৃত 
অক্ষরগুলির স্যায় দস্ত্র মত বাঙ্গল হরফ. নহে (১২)। 

প্রধান মন্দিরের চারিটি কোণে চারিটি ক্ষুদ্র মন্দির অবস্থিত 
তাহার মধ্যে দুইটী ভগ্রদশাঁপন্ন । আমরা মন্দির দর্শন-কালে কোনও 
পাগ্ডাকে পশ্চিমদিকস্থ ক্ষুদ্র মন্দিরটাতে পাক করিতে দেখিয়া- 


(১১) 'মানসার' শিল্পশান্ত্রে এইরূপই বর্ণিত আছে---“পূর্ব্বকে গ্টকরং 
প্রোক্তং নারায়ণমধাপি বা। শ্রীমস্যাভিমুখং বিশু নারসিংহং পরানুখম্‌ ॥” 
(7. 4, ঞ102770151]2015 10001724১101010606076,0002747-- 148, 
7০০01: [। 01১87 1১0.) কিন্তু শিবালয়গুলি যে পশ্চিম দ্বারীও হইতে পারিত 
'মানসার' গ্রন্থে তাহার স্পষ্ট উল্লেখ রহিয়াছে। 

(১২) 1২, 10, 10280610115 11006 0101811) 0101)6 13676211 50117, 
0, ০. 


৮৮ ভূবনেশ্বরের কথা। 


ছিলাম। অনস্ত বাসুদেব মন্দিরে স্বতন্ত্র পাঁকশাল! নির্দিষ্ট থাকায় 
র-ভায়া প্রাচীন মন্দিরের এরূপ অপব্যবহার অন্যায় বলিয়া বিশেষ 
অন্যোগ করিলেন। পাও! মহাশয়ও লজ্জিতভাবে প্রতিশ্রুত হই- 
লেন যে তিনি আর কখনও সে মন্দির এরূপভাবে ব্যবহৃত হইতে 
দিবেন না। বস্ততঃ মন্দিরের ভারপ্রাপ্ত ব্রাঙ্গণগণ এ বিষয়ে 
অবহিত হইলে মধ্যযুগের এই সকল প্রাচীন হিন্দুকীত্তিস্তত্তগুলি 
এখনও অনেকাংশে অল্লায়াসেই রক্ষা পাইতে পারে। মন্দিরের 
চাব্িটি অংশ (১)--শিখর (২)--জগমোহন (৩)--নাটমন্দির (৪)-- 
ভোগমন্দির। জগমোহনের দ্বারদেশে নবগ্রহ-প্রস্তর সংলগ্ন থাকায় 
অনুমান হয় যে নাটমন্দিরটা পরবর্তীকালে নির্মিত হইয়াছিল, যেহেতু 
মন্দিরের পুরোভাগে অবস্থিত মণ্ডপাির দ্বারদেশেই সাধারণতঃ 
এ প্রস্তর সংলগ্ন থাকিতে দেখা! যায়। নাটমন্দিরের অবস্থান হেতু 
মন্দিরের অন্তর্দেশ বড়ই অন্ধকার হইয়া পড়িয়াছে এবং উহার 
গঠনও নিতান্ত সাদাসিধা ধরণের) সেজন্য উহা! পরবর্তীকালে 
নির্মিত বলিয়াই ধারণ! জন্মে। ভোগমণ্ডপে অন্ন, ব্যঞন প্রভৃতির 
ভোগ প্রদত্ত হইয়৷ থাকে । ইহাই মহাগ্রসাদ বলিয়া পরিগণিত। 
জগন্নাথ ও লিঙ্গরাজের প্রসাদের স্ভায় অনস্ত বাস্থদেবের প্রসাদও 
জাতিভেদজানিত স্পর্শদোষে কলুধিত হয় না। বিশেষজ্ঞগণ এই 
প্রসাদ-মাহাত্ম্য মন্দিরের প্রাচীনত্বের একটা সুস্পষ্ট নিদর্শন বলিয়া 
বিবেচনা করেন। রাজা রাজেলাল মিত্র ভোগমণ্পটিও পরবর্থী- 
কালে নির্মিত বলিয়া! সাব্যস্ত করিয়াছিলেন। ইহাতে কোনরূপ 
কারুকাধ্য নাই; কেবল দেওয়ালের পন্থের কাজেই যাহা কিছু 
বিশেষত্ব দেখা যার। শিখর .ও জগমোহনের গাত্রের খাজ ও 
কুলঙ্গিতে বহুসংখ্যক মুক্তি আছে, কিন্ত নাটমণ্পে এরূপ একটাও 


[৮৪ ৩৬১) 


ক 


১০০ কি +5৯. 


বক 


1১: ক 
্ৈ 96517 র 


1. 


1 : 
চর সত ৮ 
স্পা ৮ 
দি প 
4 


সপ সে ৪৮৯ রি চির 
শি 75৬ 
এ শী যি 
মিরা পিস্তল 


নন পর টা 
ক) পে রি 
4৯ হি পু উল, 7. 





অনন্ত বাস্থদেখের মণির 
( দক্ষিণ পশ্চিম হইতে ) 
বঙ্গীয় এসিয়াটিক মোসাইটির গেগাগ্রে | | পুঃ ৮ 


অনস্ত বাস্থদেব । ৮৯ 


মুর্তি দৃষ্ট হয় না। রাজ! রাজেন্ত্রলাল কলস পর্যস্ত শিখরাংশের 
মাপ ৬* ফিটু বলিয়! নির্দেশ করিয়াছেন ; কিন্ত শ্বর্গীয় রায় মনো- 
মোহন চক্রবর্তী বাহাছুর মহাশয়ের মতে বিমানের উচ্চতা ইহা 
অপেক্ষা আরও অধিক হওয়াই সম্ভব। শিখরের সহিত সংলগ্ন 
ছোট ছোট তিনটা মন্দির আছে। এগুলি জগমোহনের ন্যায় 
প্রবেশ-প্রকোষ্ঠুরূপেই (৬551১019) ব্যবহৃত হইত। শিখরের 
ও জগমোহনের চারি ধারে ছুই সারি করিয়। কুলঙগী। শিখরদেশের 
উর্ধাধঃ-বিস্তৃত মধ্যভাগের ছুই পার্থে পোস্তাবন্দীর ( ০০1৩৪$ ) মত 
তিনটা করিয়া উগত অংশ রহিয়াছে। খাঁজগুলি আমলক হইতে 
নিদেশ পর্য্যস্ত বিস্তৃত, তবে উর্ধভাগে, কুলঙ্গীর পরিবর্তে, উহাতে 
একসারি করিয়৷ বিমানের ক্ষুদ্ৰাক্কতি প্রতিরূপ গঠিত হইয়াছে। 
জগমোহন, নাটমণ্ডপ ও ভোগমগ্ডপ "গীড়” শ্রেণীর দেউল। 
সবগুলিরই ছাদ পিরামিডাকৃতি। এই ছাদগুলি অটুটভাবে বজায় 
রাখার উদ্দেশ্যে এক দেওয়াল হইতে অপর দেওয়াল সর্য্যস্ত লম্বমান 
লোহার স্থল কড়ি ব্যবহৃত হইয়াছে । উড়িধ্যার মন্দিরগুলি অনেক 
স্থলেই একবারে ভিত্তিভূমি হইতে উঠিয়াছে, দেখা যায়। বাহির 
হইতে “মেজে থামাল' করিয়া গাধিবার নিয়ম সকল ক্ষেত্রে রক্ষিত 
হয় নাই। অনন্ত বাসুদেব মন্দিরে রেখা (বিমান) ও'জগমোহন 
অংশে পৌতা৷ পর্যন্ত গাথনির ছুইটা বিভিন্ন স্তর দেখ! যায়। তাহার 
মধ্যে একটির বহিঃসীমা! অপরটি হইতে প্রায় একফুটু আন্দাজ 
ভিতরের দিকে সরিয়! গিয়াছে। এই ছুইটি স্তর যথাক্রমে “তলপৃষ্ঠ” 
ও থথুর পৃষ্ঠ' নামে অভিহিত হইয়। থাকে (১৩)। বৈষ্ণব মন্দির 


(১৩) 21, 09870810155 0171558) 0. 37০, 
৯২ 


৯৩ ভুবনেশবরের কথ।। 


বলিয়া খুর পৃষ্ঠাংশে পদ্মদল ক্ষোদিত হইয়াছে। মন্দিরের জগমোহন 
সমচতুফষোণ। বাহিরের ধারের মাপ ৩৩ ফিটু ও ভিতর দিকের 
মাপ ১৯ ফি করিয়া। জগমোহনের ছুইপার্খে দুইটা ছুয়ার। তৃতীয় 
ছুয়ারটা দিয়া নাটমণ্ডপে যাওয়া যায়। গর্ভগৃহ ও জগমোহনের 
মধ্য দেশে কিন্ত একাধিক দ্বার নাই। নাটমণ্ডপের ঢুইধারে তিনটী 
করিয়৷ দরওয়াজা আছে। সপ্তম ছ্বার উন্মুক্ত করিয়া তোগমণ্ডগে 
প্রবেশ করা যায়। এই ছুয়ারটি ব্যতীত ভোগমণ্ডপের উভয় পার্ে 
তিনটা-তিনটা করিয়া ছয়টা ছুয়ার আছে; সুতরাং বাহিরে না 
আসিয়া! মন্দিরের একাংশ হইতে অন্তাংশে যাওয়ার বিশেষ কোনও 
অন্থুবিধা ঘটে না। নাটমগ্ডপের বাহিরের অংশের পরিমাপ 
২৯১২৪ ফিটু এবং ভিতরের মাপ দৈর্ঘ্যে ২৭ ফিটু ৪ ইঞ্চি ও 
প্রস্থে ১৬ ফিট ৯ ইঞ্চি। ভোগমগ্পের বহির্দেশ ও অন্তর্দেশ 
যথাক্রমে ২২১৯ ফিট ও ১৯১৮ ১২-৬ ফিট । বিমানের উত্তর- 
দিকের খাঁজে বিষ্ণুর একটি ত্রিবিক্রম মূর্তি আছে, কিন্ত উহার মস্তক, 
পদঘ্বয় ও চারিটা হস্তের দুইটা হস্ত ভাঙ্গিয়া গিয়াছে । ধাহা কিছু 
ভগ্রাবশেষ রহিয়াছে, তাহা হইতেই বুঝা যায়, যে একটা পদ উপর 
দিকেই উত্তোলিত ছিল (১৪)। দক্ষিণ দিকের দুইটা হন্তের মধ্যে 
উপরটিতে চক্র ও নিম্নেরটিতে শঙ্খ এখনও অক্ষু অবস্থায় 
রহিয়াছে । মূর্তির ছুই পার্খে দুইটি অনুচর,_-একটার হস্তে পন্প 
পুষ্প ও অপরটা বাস্ঘবন্ত্র ধারণ করিয়৷ দণ্ডায়মান রহিয়াছে। দক্ষিণ 
দিকের কুলঙ্গিতে বরাহ-ুত্তি অনস্তের পৃষ্ঠে সমাসীন ৷ বরাহদ্নেবের 
মন্তকাবরণের একটু বিশেষত্ব আছে। এ থাজটিতে উড়িষ্যার স্ুপরি- 


(৯৪) 1010) 7. 277. 


এ এ ট্রি 


| ১ 
5:২2 
টে 
[5 

] 

| ১ 
রঃ 


৭ উপ পট ও 


হি ৯855 হিপ 


আন, 





অনন্ত বান্ুদেব মনদির। 
শিখর গাত্বে ভাস্কর্য ও ক্ষোধিত:চিত্র। 
[ বঙ্গীয় এসিয়াটিক সোসাইটির সৌজন্তে ] | পৃঃ ৯০ 


অনস্ত বাস্থদেব। ৯১ 


চিত প্রথানুযায়ী ত্রিপত্র থিলান ও উপরে একটি 'কীর্তিমুখ, দৃষ্ট হয়। 
এই স্থানে বেশ ম্বাভাবিক ভাবে খোদিত ছুইটী রাজহংসের চিত্রও 
দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বিমানাংশে দিক্‌পতি বা! দিক্পাল- 
দিগের মূর্তিসমূহ যে সকল খাজে অবস্থিত, তাহার ঠিক উপরিভাগের 
কুলঙগীগুলিতে তাহাদিগের শ্ব স্ব শক্তিগণের মৃত্তি প্রদর্শিত হইয়াছে; 
আকৃতিগত সদৃশ্যে ও বিশেষ বিশেষ বাহনাদ্দি হইতে ইহাদিগকে 
সহজেই চিনিয়৷ লওয়া যাঁয় (১৫)। জগমোহনের ছাদের সন্মুখ- 
ভাগে স্তস্তোপরি সন্নিবিষ্ট ত্রিকোণাকার গাথুনি অংশ (0501771)0 
বছ স্থাপত্য-অলঙ্কারে সমাচ্ছন্ন। উহার উত্তরাংশে অবস্থিত ক্ষোদদিত 
চিত্রসমূহের মধ্যে পঞ্চফণাযুক্ত নাগ ও নাগিনী মূর্তি, স্ত্রী ও পুরুষ 
ৃর্তিসমূহ, হস্তীশ্রেণী, ঘোড়ার মিছিল, পাক্কী ও বেহারার চিত্র প্রভৃতি 
বিশেষ উল্লেখযোগ্য । ভোগমণ্ডপের পূর্বতারের ছুই পারের 
কুড্ন্তস্তের (011856:) গাত্রে উচু করিয়া খোদা, পয্মাসনো। 
দণ্ডায়মান দুইটা বিভিন্ন প্রকারের বিষুঃমুত্তি রহিয়াছে। বামদিকের 
ুত্তিটী গুল্ফযুক্ত। এ মূর্তির শারো-তৃষণে যথেষ্ট কারুকার্যের পরিচয় 
পাওয়া যায় এবং দেহেও অলঙ্কারের অভাব নাই। গলদেশে মধ্য- 
মৃণিযুত হার এবং বাহু, প্রকোষ্ঠ ও পদদ্বয়ে বিভিন্ন অলঙ্কার 
টৈপুণ্যের সহিত ক্ষোদদিত। চারিহস্তের মধ্যে দক্ষিণ দিকের হস্তদ্বয়ে 
চক্র ও মাল্য এবং বাম দিকের হস্ত ছুইটাতে শঙ্খ ও গদ! রহিয়াছে । 
দক্ষিণদিকের বিষুঃৃত্তি গুন্ফযুক্ত নহে। ইহার ডাহিন্‌ পার্থর নীচের 
হাতটি বামদিকের গদাধূত হাতটার উপর “আশীর্বাদ মুদ্রায়” বিস্ত্ত 
এই ছুয়ারের ঠিক বাম পার্থ সংলগ্ন একটা দণ্ডায়মান স্কুলোদয় 


(১৫) 1910, 0. 372. 


৯২ ভুবনেশ্বরের কথ|। 


মুষ্তির শিরোদেশে কতকগুলি সর্পমুখ ক্ষোদিত দৃষ্ট হয়। মুত্তির 
অধিকাংশই ভাঙ্গিয়া গিয়াছে) নিম্নাবস্থিত দক্ষিণ হস্তটিতে পন্নপুষ্প 
দেখিয়া ইহা শৈব মূর্তি কি বিষুমূর্থিরই প্রকাঁর-ভেদ, সে বিষয়ে 
সন্দেহ জন্মে। ভোগমণ্ডপের উত্তরের স্বারে কোনও রূপ ক্ষো৭দিত 
চিত্র দেখা যায় না। 

এ মন্দিরে জাস্তব মূর্তির অভাব নাই। ক্ষোদিত চিত্রের হম্তী- 
গুলি কোণার্ক মন্দিরের আলম্বনস্থ হস্তীসমূহেরই স্যার স্বাভাবিক- 
ভাবে সন্নিবি্। হন্ুমস্ত লতা” নামে অভিহিত স্থাপত্য অলঙ্কারের 
(১৬) লতামধ্যস্থ বানরমৃর্তিগুলিও বড়ই সুন্দর । পার্খ্দেবতার 
ক্ষোদিত মূর্তির দুইপার্ে অবস্থিত রাজহংসের চিত্রের কথা পূর্বেই 
উল্লিখিত হইয়াছে। এই শ্রেনীর অন্য চিত্রের মধ্যে দক্গিণদিকে 
জগমোহন-গাত্রস্থ মধ্যকার কুলঙ্গীর মৎস্য ও মকর অলঙ্কারগুলিতে 
(817159003 ) যথেষ্ট শিল্পনৈপুণ্যের পরিচয় পাওয়া যায়। তুবনে- 
শ্বরের মন্দিরের ভাস্বর্য্য-বিষয়ক প্রসঙ্গে যে সকল লতামওনাদির 
চিত্র উল্লিখিত হইয়াছে, তাহারই অন্তর্গত “ফুললতা” নামক একপ্রকার 
নক্সার ব্যবহার এ মন্দিরের অনেক স্থলেই দেখিতে পাওয়! যায়। 
এ নল্লায় লতার ফাঁকে ফাকে বিভিন্ন অন্তর চিত্র সুকৌশলে বসান 
রহিয়াছে। হব রায় মনোমোহন চক্রচর্তী বাহাছরও জগমোহনী 
গাত্রস্থ লতাপাতা ও অন্যান্য কাক্কার্য্যের বিশেষ প্রশংসা! করিয়া 
বলিয়াছেন যে চিত্র-ব্যতিরেকে, শুধু ভাষার সাহায্, এ মন্দিরের 
প্রন্কত বর্ণনা সম্ভব নহে। এসিয়াটাক সোসাইটির পত্রিকায় স্বর্গীয় 
রায় বাহাছুরের প্রকাশিত ভট্ট ভবদেব প্রবন্ধে অনস্ত বাস্দেবের 
মন্দিরের ভাস্ক্য-সম্পদের চিত্র প্রকাশিত হইয়াছে । 


(১৬) 0317801)15 011558) 0,277. 


( চিত্র ৩৩) 


- প্াজ ৬্ শত ক. ০০ টি 1 


চর 


স্পেস ২ 


পা রা রর 
নিন 
৫ 





অনন্ত বাসুদেব মন্দিরের জগমোহন অংশে ভাস্কর্য নিদর্শন | 
[ বঙ্গীয় এসিয়ারটিক সোসাইটির সৌপন্ঠে ] [পঃ ৯২ 


অনন্ত বাস্দেব। ৯৩ 


নাটমন্দিরের ভিতর স্তস্তের উপর মুগ্নি রাথরের একটা গরু 
মুর্তি আছে। মণিকোঠা অথবা! গর্ভগৃহটী বড়ই অন্ধকার, ভিতরে 
দিবারাত্রি টিম্‌ টিম করিয়! প্রদীপ জলিতেছে। ইহাতে অন্ধকার 
ঘনীতৃত হইয়া! যেন অধিকতর ছুঃসহ হইয়া উঠিয়াছে। মন্দিরস্থ 
দেবতার মধ্যে রাজা রাজেন্দ্রলাল অনস্ত (বলরাম ) এবং বাস্থদেব 
(কষ) শুধু,এই ছুইটা বিগ্রহের উল্লেখ করিয়াছেন (১৭ )। 
শ্রীযুক্ত মনোমোহন গঙ্গোপাধ্যায় মহাশয়ও তৃতীয় কোন মূর্তির 
উল্লেখ করেন নাই (১৮)) কিন্তু ভট্ট ভবদেবের প্রশস্তিতে অন্ত, 
বাসুদেব ও নৃসিংহ এই তিনটি মূর্তি সংস্থাপনের কথা উল্লিখিত 
আছে। স্বর্গীয় মনোমোহন চক্কুবর্তী মহাশয়ও এই তিনটি মূর্তিই 
লক্ষ্য করিয়া (১৯) এ সম্বন্ধে নিঃসন্দেহে সাক্ষ্য দিয়া গিয়াছেন। 
মুর্তিগুলির গঠন সেরূপ স্ুন্র নহে। উচ্চতায় প্রায় পাঁচ ফিটু পরিমাণ 
হইবে। অনন্ত নামধেয় বাস্থদেবের শিরোপরি বহুসংখ্যক সর্পফণ। 
চন্দ্রাতপের স্তায় বিন্যস্ত । তিন দেবতার মন্দির হইলেও সাধারণতঃ 
ইহা! বিষুমন্দির বলিয়াই গ্রসিদ্ধ। সম্ভবতঃ ইহা বন্ধুবর রমা প্রসাদ 
চন্দ মহাশয় কথিত ব্যুহবন্ধ পুজা প্রণাণীর অন্যতম দৃষ্টাস্ত (জ্ীমুর্তির 
উদ্ভব বিষয়ক অধ্যায় ড্রষ্টব্য) (২০)। অনন্ত ও বানদেবের 


(১৭) 801, 01155. ৮০1, 1], 0, 62, 

(১৮) 027£815+5 021839) 0, 369. 

(১৯) 1 2.5, 23. 1912 ৬০। ৬111. 0. 338. 

(২) পাধয়াত্রমতানুষায়ী বৃহবন্ধ উপাসন! প্রণালী ভারতের পূর্ববাংশ 
অপেক্ষা দক্ষিণাংশেই অধিক পরিচিত। ইহার বিশ্তৃত বিবরণ 1). 0০ 
ঢু, 5019061 প্রণীত ইংরাজী গ্রন্থে প্রদত্ত হইয়াছে (17100010101) 10 
01১৩ 79120109819 1018, 2190 075 4১0011099007055 98912018168) 0, 35-36) 


744-145)। 


৯৪ তববনেশ্বরের কথা। 


প্রতিষ্ঠাকালে সম্মুখে একটী বাগী (জলাশয়) খনিত হইয়াছিল 
এবং দেবত্রয়ের পরিচর্যার জন্য মন্দিরের সেবিকা স্বরূপ একশত 
অঙ্গনা নিয়োজিত হইয়াছিল। মন্দিরের সম্মুখে বিন্দুসরোবর 
ব্যতীত অপর কোনও জলাশয় নাই। তাই লিপি-বণিত “বাপী' 
বিদ্দুসরোবরেরই অন্তভূক্তি হুইয়৷ গিয়াছে, স্বর্গায় মনোমোহন 
চক্রবর্তী মহাশয় এইরূপ অনুমান করিয়াছেন। ইহাতে বর্তমান 
বিন্দুসাগর যে মন্দির-প্রতিষ্ঠার পরে রচিত, এইরূপই অন্থুমিত হয়। 
জলাশয়টা এখন পরিবর্তিত ও পরিবদ্ধিত ) দেবদাসীরাও আর নাই 
বটে-_কিস্ত বাঙ্গালী ব্রাহ্মণের বৈষব-মন্দির এখনও দগ্ডারমান 
রহিয়াছে। দুইজন বিখ্যাত বিদেশী লেখক উড়িষ্যার ভাস্বর্ষ্ে 
অশ্লীলতার বিষয় আলোচনা করিয়া বলিয়াছেন যে বৈষ্ণবদিগের 
মধ্যেই এ দোষ বিশেষভাবে বিদ্যমান (২১)। শৈবদিগের কঠোর 
আরাধনীপ্রণালীতে বৈষ্ণব্দিগের মধুর রসের স্থান নাই (২২), 
রাজা রাজেন্্রলাল ইহার প্রতিবাদ-কল্লে অনস্ত বাসুদেবের মন্দিরের 
দৃষ্টান্ত উল্লেখ করিয়া বলিয়াছেন যে এই স্ুবৃহৎ ও বহু কারুক্ষার্য্য- 
সমখিত মন্দিরে একটাও সেরূপ আপত্তিজনক মুর্তি দৃষ্ট হয় না। ন্ুধী 
রাজেন্দ্রলাল যথার্থই বলিয়াছেন যে শিল্পীর নিজের রুচি এবং 
মন্দিরে অল্প বা! অধিক পরিমাণ ভাঙ্কর্য-অলঙ্কার ও চিত্রাদি ব্যব- 
হারের আবশ্যকতা অনুসারে এই শ্রেণীর মিথুন মূর্তি-সমূহের অল্প 
বা অধিক প্রাহর্ভাব নির্ধারিত হইত (২৩)। বৈষ্ণব মন্দিরের 
মধ্য জগন্নাথ মন্দিরে এবং কোন কোন বঙ্গদেশীয় প্রাচীন মন্দিরেরও 


কসবা ওক, ০৬, জজ 


€২১) 17017065018 071582) ৬০1, [9 00. 1117112, 
(২২) 61839507018 7766 500 5517৩01 ৬/9:5158102) ০, 71, 
(২৩) 4১00, 91155, ৬০1, 11) 0, 10, 


( চিত্র ১৪) 


(কেল্লা ৩২:১ 
। ৮০৫৫2 






২২৭ 


২২২৯ 55 ছি সি ২২৯৯ 
শীট শিপ স্পী সপ 


২২২৬২৬২১১১১ ২২২৬২ 


& 

৫ 
রণ ৪ 
ৃ ৃ 
রঃ র্‌ 
রী ্ 
(৮4৫ / 
্চ র 
্ 
রর 
ৃ র্ 
রা র 
ঠা | রর 
% 
র্ রি 
ূ 
৮24 


গেছ] টে 


অনগ্ত বাস্থদেব মন্দিরের নল্লা | 
শীযুক্ত মনোমোহন গঙ্গোপাধায়ের সৌঞন্টে ] | পঃ ৯৪ 


অনস্ত বাস্থদেব। ৯৫ 


প্রণয়লীলা-জ্ঞাপক চিত্ররাজি দেখিতে পাওয়! যায় বটে (২৪) 
কিন্তু এরূপ ছই একটা উদাহরণে নির্ভর করিয়া সাধারণ সিদ্ধান্তে 
উপনীত হওয়া সঙ্গত নছে। 

মন্দিরের বিবরণের পর মন্দির-নিন্নাতার কথ কিঞ্চিৎ উল্লেখ 
না করিলে বিষয়টা অসম্পূর্ণ থাকিয়া যায়। বাচম্পতি মিশ্র রচিত 
প্রশস্তি হইতে,অবগত হওয়া যায় যে ভট্ট ভবদেব মীমাংস! ও ধর্ণশান্তরে 
স্থপপ্ডিত ছিলেন, এবং এক নব “হোরা” শাস্ত্রের প্রচার ও প্রতিষ্ঠা 
করিয়া দ্বিতীয় বরাহরূপে খ্যাতি লাত করিয়াছিলেন; কুস্তসম্তব 
অগন্ত্যমুনি যেরূপ সমগ্র সমুদ্র পান করিয়াছিলেন, তিনিও সেইরূপ 
'বৌদ্ধসাগর' উদরস্থ করিয়। ও ভ্রান্তমতবাদীদিগের কুতর্কনিরসনে 
কৃতিত্ব দেখাইয়া সর্বজ্তরূপে প্রতিভাত হইয়াছিলেন। ভবদেব 
ভট্ট 'বাল-বলভী-ভূজঙ্গ' নামে পরিচিত ছিলেন; তাহার পূর্বপুরুষের 
নিবাস রাঢ় দেশের সিদ্ধল গ্রামে । তাহার প্রপিতামহের প্রপিতামহ 
ও ভবদেব নামে অভিহিত ছিলেন, তিনি হস্তিনীভিউ্ 'শাসন 
নামক একখানি গ্রাম গৌড়রাজের নিকট দানস্বরূপ প্রাপ্ত 
হইয়াছিলেন (২৫)। ন্বর্গীয় রায় মনোমোহন চক্রবর্তী বাহাদুর 
প্রশস্তি-অবলক্বপ্দ ভবদেব ভট্টরের যে বংশ-লত। প্রস্তত করিয়াছেন 
নিয়ে তাহ! যথাযথভাবে প্রদত্ত হইল (২৬)। 


(২৪) 14900560১61) 2006578 500916 01 160191700177 0210615 
06101011174 17 ড7151075 061010163 1২90172-111990 100 ৮201003 
হ00100009 (০0061) 2176019 ) 8০১? 1, 4৯০ 5, 13 29০9? ৬০1, 1) 0. রহ, 

(২৫) ]. 4.5. 13. ৬০1, ৬1115 19121 0,340, 

(২৬) 11914, 7. 340, 


৯৬ ভূবনেশ্বরের কথ! । 


চারটি নার রাস্তা! 
মহাদেব ১। নি অট্রহাস 
| ্ন অপর সা পুর 
৩। অত্যঙগ 


৪। বধ! (প্রুরিত' নামে পরিচিত) 

৫। জ্ীআদিদেব-সরশ্বতী ( বঙ্গরাজের প্রধান মন্ত্রী ) 

৬। গোবর্ধন সাঙ্গোক। ( বন্দ্যঘটিয ব্রাহ্মণবংশের কন্যা) 

৭। বালবলভী ভূজঙ্গ নামে প্রসিদ্ধ ভবদেব ভট্ট 

ভবদেব, নৃপতি হরিবন্্দেব ও তাহার পুত্রের রাজত্বকালে সাদ্ধি- 
বিগ্রহিক বা বৈদেশিক ব্যাপার সন্বস্বীয় মন্ত্রী ছিলেন। তিনি 
"বিবাহাদি কর্মানুষ্ঠান পদ্ধতি” ও “প্রায়শ্চিত্ত নিরূপণম্* নামক 
ছুইখানি পুস্তক রচনা! করিয়াছিলেন। ইহার কয়েকখানি পুঁথি 
সংস্কত কলেজের পুঁথিশালা, ইত্ডিয়া আফিস লাইভ্রেরী প্রভৃতি বিভিন্ন 
স্থানে রক্ষিত আছে। মীমাংসাস্থত্র বিষয়ক “তৌতাতিত মততিলকম্” 
নামধেয় কুমারিল ভট্রের “তস্ত্বার্তিকের” টাকা-খণ্ডও ভবদেব ভট্ট 
কর্তৃক রচিত বলিয়া বিবেচিত। ইহা! ব্যতীত “সম্বন্ধ বিবেক” 
নামক ঘ্বাদশপৃষ্ঠাব্যাপী একথানি ক্ষুত্র পুথির পুষ্পিকায় “ইতি ভবদেব 
ভষ্ট কৃত সম্বন্ধ বিবেক সমাপ্তঃ এইরূপ লিখিত আছে; কিন্ত 
ইহাতে ভবদেবের “বাল বলভী তুজস্ব' এ পদবীটির উল্লেখ না থাকায় 
ইহা অপর কোনও ভবদেবের রচিত কি ন! তাহা নিশ্চয় করিয়া 
বলা যায় না। এই পদ্বীটির প্রকৃত অর্থ সম্বন্ধে যথেষ্ট মতভেদ 


অনস্ত বান্গদেব। ৯৭ 


দেখা যায়। ন্বর্গায় মনোমোহন চক্রবর্তী মহাশয় ইংরাজীতে ইহার 
অর্থ করিয়াছিলেন (০8176 551150170 ০ 01) (0801 বলভী 
শবে বুরুজ অথবা ৰারান্দা ধরিয়া লইয়া! বালশব্ধ ভূজঙ্গের বিশেষণ 
রূপে গ্রহণ করিলে তবে এ অর্থ প্রতিপন্ন হয়। মহামহোপাধ্যায় শ্রীযুক্ত 
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী হাশর সম্পাদিত 'রামচরিত, গ্রন্থে বালবলভীর উল্লেখ 
দেখা যায়। 'ইহ! দেবগ্রামের সন্নিকটস্থ স্থান বলিয়া উক্ত হইয়াছে। 
শাস্ত্রী মহাশয়ের মতে বালবলভী--“বাগৃড়ী” অর্থদ্যোতক। কেহ 
কেহ ইহ! নদীয়া জেলার অন্তর্গত দেবগ্রামের নিকটবর্তী স্থান বলিয়! 
অনুমান করিয়াছেন) কিন্তু বন্ধুবন যুক্ত রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় 
মহাশয় এ মতের সমর্থন করিতে পারেন নাই (২৫)। সে যাহ! 
হউক বালবলভী যে কোনও স্থানের নাম সে বিষয়ে সনেহ 
নাই। হরিবর্শদেব যে বঙ্গের রাজ] ছিলেন, তাহারও এঁতিহাসিক 
প্রমাণ পাওয়া গিয়াছে। তীহার রাজত্বকালের তাত্শাসন ও 
হম্তলিখিত পুঁথি প্রভৃতি তাহার অন্তিত্বের নিঃসন্দেহ প্রমাণ- 
স্বরূপ অন্যাপি বিদ্যমান রহিয়াছে (২৬)। সম্প্রতি গ্রীযুক্ত 
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী মহাশর তাঁহার “বেনের মেয়ে নামক কথাগ্রন্থে এ 
যুগের যে মনোমদ চিত্র অঙ্কন করিয়াছেন, তাহাতে ভষ্ট ভবদেব 
ও হরিবর্দদেব উভয়েই জীবস্তবৎ প্রতিভাত হইতেছেন। দশম ও 
একাদশ শতাব্দীতে ভাগীরথীর পশ্চিম উপকূলস্থ রা়দেশে যে যথেষ্ট 
বিদ্যাচর্চা হইত এবং তৎকালে দর্শন, জ্যোতিষ, স্বতিশান্ত্র প্রসৃতি 
বিদ্যার বিভিন্ন শাখায় বিদ্যার্থীাগণের পঠন-পাঠনের যে সুব্যবস্থা 
ছিল, তাহা! ভবদেবের প্রশত্তি হইতেই অবগত হওয়া যায়। 





(২৫) বাঙ্গালায় ইতিহাস, ১ম খণ্ড, পৃঃ ২৬০ 
(২৬) 1. 4, 5, 9, 5912) ৬০1, ৬011) 0,347. 


৯৩ 


৯৮ ভূখনেশ্বরের কথ।। 


ভ্রীধরাচার্ধ্য রচিত ন্তায়কদালী গ্রস্থও এ অন্ুমামের সমর্থন করিতেছে 
(২৭)। স্তায়কঙ্গলী বৈশেধিক দর্শন বিষয়ক গ্রন্থ; ইহা ৯১৩ 
শকাবোে (খৃঃ ৯৯১--২ অন্দে) রচিত হয়। গ্রন্থের শেষভাগে 
প্রীধরাচার্ধ্য আপনার যে পরিচয় দিয়াছেন, তাহা হইতে জান! যায় 
ষে তিনি ভূরিস্যষ্টি, বর্তমান হাওড়া জেলার অন্তর্গত দামোদর নদ- 
তীরবর্তী তুরস্ুট গ্রামের অধিবাসী ছিলেন। বিদ্যাচর্চা পূর্ব হইতে 
সমগ্র রাড়ময় বিষৃত না থাকিলে, ভবদ্দেব ভট্ট বা! শ্ীধরাচার্ধ্য গ্রভৃতি 
প্ডিতগণের অতফিত আবির্ভাবের সপ্তাবনা ছিল না। শুধু 
ভবদেব ভট্ট বলিয়! নহে, প্রাচীন লিপির প্রমাণ হইতে জানা বাক্স যে 
একাদশ শতার্ীর শেষার্ধে বিশ্বেশ্বর শিবাচার্ধয নামক পূর্ববগ্রামবাসী 
অপর একজন রাঢ়দেশীয় বাঙ্গালী ব্রাহ্মণ কাকতীয় রাজা গণপতির 
গুরুপদ অধিকার করিয়াছিলেন ) চোল, মালব ও কলচুরী রাজগণও 
তাহার শিষ্যত্ব গ্রহণ করিয়াছিল। বিশ্বেশ্বর শিব বেদ বিদ্যা 
বুৎপন্ন ছিলেন। তিনি 'গোলকী' মঠে অধিষিত থাকা কালে বু 
গৌড়ীয় শৈবধন্ব গ্রচারক তদ্দেশে রাজগ্রসাদ লাত করিতে সমর্থ 
হইয়াছিলেন (২৮)। ঘটকদিগের মধ্যে প্রচলিত প্রবাদানূসারে 
একাদশ শতাব্বীতে আদিশুর কর্তৃক ব্রাঙ্গণ আনীত হইয়াছিল। ইহা 
যে সম্ভবপর নহে, জনন্ত বাসুদেব মন্দিরের শিলালিপি, আধুনিক 
প্রতিহাসিকদের এ ধারণাও বিশেষভাবে সমর্থন করিতেছে। 
উডভিষ্যার অনেক মন্দিরেই নির্মাণকালজ্ঞাপক কোনও 


(২৭) ). 4.৩. 3. ৬০1 ৮111) 0, 341. 

(২৮) ভাঃ রঙেশততা মত্ষদার লিখিত 'বজের খাহিয়ে বাজালী। মানসী 
ও মর্দবাণী আখিন, ১৩২৭, সাল পৃঃ ১৯৬ 7 57181901858 0৩1,০71 1917) 
8180108 0১০৮. 0. 0 ০, 1935, & 123. 


অনন্ত বানুদেব। ৯৯ 


শিলালেখ পাওয়া বায় না। অনন্ত বান্থদেবের মলিয়ে শিলালিপি 
আছে বটে কিন্ত তাহার সাল ও তারিখের অংশ পাঠযোগ্য 
নহে। পঙ্িতপ্রবর' অধ্যাপক কীলহর্ণ (২৯) হরফ্গুলির 
আরুতি প্রভৃতি পরীক্ষা করিয়া লিপিতত্বের দিক হইতে 
সিদ্ধান্ত করিয়াছিলেন যে এই প্রশস্তিখানি খঃ ১২** অফ্ষে 
উতৎকীর্ণ হইম্াছিল। পক্ষান্তরে মহামহোপাধ্যায় শ্ীবুক্ত হরপ্রসাদ 
শাস্ত্রী মহাশয়ের মতে এ প্রশস্তি থুঃ দশম শতাব্ধীতে রচিত। 
শাস্ত্রী মহাশয় লিখিয়াছেন যে এই লিপি হইতে তাৎকালিক 
বিদ্যালোচন! ও সামাজিক অবস্থা সম্বন্ধে অনেক সংবাদ অবগত 
হওয়া ষায়। প্রশস্তিলেখক বাচম্পতি মিশ্র তখন তরুণ বয়স্ক 
পণ্ডিত। পরবর্তীকালে ইনিই ফড়দর্শনের টীকাকারয়পে প্রসিদ্ধ 
লাভ করিয়াছিলেন, এইরূপ অন্মিত হইয়াছে (৩৭ )। স্বীয় 
রাজ| রাজেন্্রলালও শিলালেখোক্ বাচম্পতিকে প্রনিদ্ধ দর্শনশাপ্্রবিৎ 
বাচস্পতি মিশ্র বলিয়! ধরিয়া লইয়। মত প্রকাশ করিয়াছিলেন যে 
লিপিধানি একাদশ শতাব্দীতে উৎকীর্ণ। ম্বর্গীয় রায় মনোমোহন 
চক্রবর্তী মহাশন্স ইহার প্রতিবাদ করিয়। দেখাইয়াছিলেন যে 
বাচম্পতি দশম শতার্বীর লোক। একাদশ শতাষীতে তাহার 
'বিদ্যমান থাক সম্ভব ছিল ন৷। তাহার পন্যায় হুটীনিবদ্ধ'+ নামক 
মীমাংসা দর্শন বিষয়ক টীকা গ্রন্থ ৮৯৮ শকাবে (থুঃ৯৭৬ অফ্দে) লিখিত 
হইয়াছিল। বঙ্ধদেশে বাচম্পতি নাম অল্প প্রচলিত নহে, তাই 


0২৯), 6, 10010, ৮০1, ৬1, 92০5. 
(৩৯) 11065:919 10881019 ০6 118৩ 2816 76:10, ). 9. 0, 7 5, 
০1, ৬, ০৮05. 1919) 0,175) 776, 


১৪* ভুবনেশ্বরের কথা। 


তিনি এই প্রশস্তিকার বাচস্পতি ও দার্শনিক বাচম্পতি মিশ্র যে 
অভিম্ন, তাহা স্বীকার করিতে প্রস্তত ছিলেন না। এ সন্বস্ধে 
মতভেদ থাকিলেও হ্বগগীয় রায় বাঁহাছর মনোমোহন চক্রবর্তী মহাশয় 
রাজা রাজেজলালের অনুমানই মোটের উপর বজায় রাখিরা ভট্ট 
তবদেৰ ধৃঃ ১*২৫ হইতে খুঃ ১১৫* অবের মধ্যে বিস্তমান ছিলেন 
এইরূপই মত প্রকাশ করিয়াছেন। শ্রীযুক্ত রমাপ্রসাদ চন 
লিখিয়াছেন, "কিলহর্ণ কথিত ঠিকঠাক ১২৭০ ধষ্ঠা ভট্টতবদেবের 
গ্রশস্তির কাল ন। হইলেও অক্ষরের হিসাবে হরিবর্শীর ভাতশাসন 
এবং ভবদেবের প্রশস্তি স্বাদশ শতাবীর পূর্বে ঠেলিয়। লওয়া 
যায় না” (৩১)। উপস্থিত এই মত গ্রহণ করাই আমরা সঙ্গত 
মনে করি। 

অনস্ত বাসুদেব মন্দিরে শিলালিপি ছুইখানি এক্ষণে যে স্থানে 
অবস্থিত, পূর্বে তথায় ছিল ন|। জেনারেল ষ্য়ার্ট ভবদেবের গ্রশস্তি 
খানি মন্দিয় হইতে বিচ্যুত করিয়া এসিয়াটিক সোসাইটার সংখহ- 
শালায় আনিরা রাখেন। ১৮৩৮ খৃঃ অবযে মেজর কিটো 
(ইনি তখন লেপ্টেনাণ্ট পদাভিবিক্ত ছিলেন ) ভুবনেশ্বর গমন 
করিলে স্থানীয় বধিবাপিগণ লিপিখানি কাড়ির। লওয়ার ভন্ত 
মন্দিরের ধর্মহানি ঘটিয়াছে ও পবিভ্রত! নষ্ট হইয়াছে এই বলিয়! 
আপত্তি উখাপন করেন এবং লিপিখানি প্রত্যর্পণ করার জন্ত 
অগ্গরোধ করেন। তীহাদের প্রার্থনা-মত কিটো৷ মহোদয় ভট্ট 
ভবদেবের লিগি ও বঙ্গেস্বর মন্দিরের লিপি এই উভয় লেখ আনয়ন 
করিয়! অনস্ত-বান্দেব মন্দিরের প্রবেশঘ্বারের সন্নিকটে পশ্চিমদিকস্থ 
দেওয়ালের ভিতরদিকে লাগাইয়া দেন। এই উত্তয় লিগির 


(৬১) গৌড়রাজহালা, পাদটীকা, পৃঃ 4৬। 


কানক্ত বাছদেব । ১৬১ 


পাঠই হ্বর্গীয় রাজ! বাজেজ্্রলাল মিঅ মহাশয়ের বিরাট গ্রন্থের দ্বিতীয় 
খণ্ডে প্রদত্ত হইয়াছে ব্রপ্দেশবর মঙদগিয় ব্বতস্ত্র বিদ্বমান থাঁকিতেও 
মেজর কিটো (101০) কি অন্ত সেই মন্দিরের শিলালিপি এই. 
স্থানে সংলগ্ন করাইয়্াছিলেন, তাহার কারণ সম্পূর্ণ অবিদিত । 
এখন ব্রদ্ষেখবর লিপিটি আর খুঁজিয়া পাওয়া বায় না। উহা! যে 
কাঙ্গনিক নহে তাহ! গ্যুক্ত মনোমোহন গঙ্গোপাধ্যায় মহাশয় 
প্রত্থতব বিভাগে অনুসন্ধান করিয়া বন্ধুবর শ্রীযুক্ত রাখালদাস 
বন্দ্যোপাধ্যায় যাশয়ের নিকট অবগত হুইয়াছিলেন (৩২)। মেঘেশ্বর 
মনিরের লিপি কে কবে উঠাইয়! আনিয়া এখানে বসাইয় দিয়াছে, 
তাহাও অগ্ঠাপি ক্লহঙ্ধে সমাচ্ছন্ন । রাজা স্াজেক্রলাল অনস্তবান্ছদেব 
প্রসঙ্গে মেথেশ্বরের লিপির কোনই উল্লেখ করেন নাই? কুতরাং 
তাহার ভুবনেশ্বর পরিদর্শন কালে স্উহা যে তথায় ছিল না, ইহ! 
অনায়াসেই অন্গমান করা যাইতে পারে । মেধেশ্বর মন্দির ভাক্করেশ্বর 
মন্দিরের কয়েক শত ফিটু দুরেই অবস্থিত। শ্রীযুক্ত মমোমোহন 
গঙ্গোপাধ্যায় মহাশয়ের গ্রন্থে ইহার বিস্তৃত বিবরণ প্রদত্ত হইয়াছে। 
মেঘের মন্দিরের লিপিখানি এখান হইতে উঠাইয়া লইনা 
যথাস্থানে সংলগ্ন করিলেই সকল বিষয়ে সামঞ্জন্ড রক্ষিত হয়। 
মন্দির দেখিতে আমাদের কিখিৎ বিলম্ব হইয়া গেল। “রি 
ভায়া প্রদীপ-সহযোগে শিলালিপিদ্বয়ের কিরদংশ পাঠ করিয়া 
আমাদের কৌতৃহুল নিবৃত্তি করিলেন। খোল! গকুর গাড়ী করিয়া 
খণ্ডগিরিতে ফিরিয়! বাইতে অনেক রাত্রি হইয়! গেল; কিন্তু এই 
স্থানের নূতন দৃশ্সমূহের বর্ণন! ও জ্ঞানানুলীলনের গ্রই সকল নূতন 


(৬২) 71, 0510851575 071555 1015, 326-7331. 


১০২ ভূবনেশ্বরের কথা । 


পন্থা সম্বন্ধে কৌতৃহলোদ্দীপক আলোচনার ব্যাপৃত গ্রাকাযর আমরা 
পথের ক্লেশ মোটেই অন্ুতব করিতে পারি নাই। 

র-এর ক্যাম্পের আমর! নাম দিয়াছিলাম “বিজয় স্বদ্ধাবার”। 
দুর হইতে দেখিতেই এতটা পথ এত গ্রীক যেকি করিয়া অতিক্রম 
কর! গেল, তাহ! ভাবিয়া আশ্চর্য্য হুইয়। গেলাম। এ অঞ্চলে 
চিতাবাঘের ভর আছে, তাই আর অধিক র্রাত্রি না করিয়া 
আহারাদি সমাধা করিয়া! সেদিনকার মত শ্ব শব তল্লে আশ্রয় গ্রহণ 
করা গেল। আমার ছুটার আর একটা মাত্র দিন অবশিষ্ট ছিল? 
তাই আর ধোঁলি অথব! ধবলগিরির অশোক লিপিদর্শন অনৃষ্টে ঘাটল 
না। পরদিন সন্ধ্যায় আহারাদি করিয়া কলিকাতা-অভিমুখে রওন! 
হইলাম।  ফিরিবার পথে দেখিলাম, কাসাই নদীতে “বান? ডাকিয়! 
অনেকগুলি ক্ষুদ্র গ্রাম জলবশ্ হইঘার উপক্রম হইয়াছে । নদীমাতৃক 
দেশের এ বিপদ চিরদিন। কলিকাতায় পন্ছিতেই আলনম্করের 
স্বপ্ন টুটিয়৷ গেল বটে, কিন্ত কম্ভূমির দৈনিক কর্তব্যচিন্তা মন্দিরের 
কথার প্রাচীন কাহিনীকে এখনও বিস্বাতি-যবনিকার অন্তরালে 
সরাইয়! দিতে সক্ষম হুয় নাই। 


ভট্টভবদেবের প্রশস্তি । , 


(মর্খান্থবাদ ) 
এই প্রশস্তিটি পচিশ লাইনে সমাপ্ত । ইহ! নুবিখ্যাত “বালবলভী- 
তুজঙ্গ” ভট্ট ভবদেবের প্রশংসা-বাদে ' পূর্ণ । ভবদেবের বন্ধ 
বাচস্পতি নামক জনৈক ক্রাক্ষণ ইহার রচয়িতা। প্রশস্তির 
প্রারস্তে-_গ গু নমঃ ভগবতে বাস্গদেবায়* এই স্বস্তি-বচন লিখিত 


অনস্ত বাসুদেব । পু ১৬৩ 


আছে। ৩ হইতে ১৪ প্লোক পর্যাস্ত তবদেবের বংশ-পরিচয় ? 
১৫ হইতে ২৬ শ্লোক পর্য্যন্ত তাহার বিস্তাবত্ত। প্রভৃতির . 
বর্ণনা, এবং ২৭ হইতে ৩২ ক্লোকে ভট্ট ভবদ্দেবের নানারূপ 
সৎকার্যের পরিচয় প্রদান করিয়া! তাহার যেসকল গুণ-গ্রামের 
প্রশংসা! করা উদ্দেস্টে এই প্রশন্তি লিখিত হইয়াছে তাঁহারই 
হখাবিহিত আলোচনা করা হুইয়াছে। সমগ্র লেখটির সারমর্খ 
এইরূপ- সাবর্ণ গোত্রীয় বোজ্ ব্রাঙ্গণগণকে যে সকল গ্রাম দান 
স্বরূপ প্রদত্ত হইয়াছিল, তাহ সংখ্যায় প্রান্ন শতাধিক হুইবে। 
তাহার মধ্যে রাড় দেশীয় লিদ্ধলগ্রাম খানিই সর্বশ্রে্ঠ । সেই গ্রামে 
এক সম্পন্ন গৃহস্থের ঘরে ভবদেব নামে এক ব্যক্তি সুখে-্যচ্ছন্দে 
কালাতিপাত করিতেন। তাহার জোষ্ঠ ভ্রাতার নাম মহাদেব ও 
কনিষ্টের নাম অট্টহাস। গৌড়রাজ তীঁহাঁকে হস্তিনীতিষ্ট নামক 
গ্রাম দান করিয়াছিলেন। তাহার আটটা পুত্র ছিল? সর্বজোঠের 
নাম রখাজ,গ্রথালের পুত্র অত্যঙ্গ, অত্যঙ্গের পুত্র বুধ প্ল্ফুরিত” 
নামে অভিহিত হইতেন। বুধের পুত্ত আদিদেব বঙ্গরাজের 
সান্ষি-বিগ্রহিকপাদীয় অমাত্য রূপে ' প্রতিষ্ঠিত হইয়াছিলেন। 
তাহার পুর গোবর্ধন সভা & ও বীর-স্থদী উভয় স্থানেই 
স্কতি লাত করিয়াছিলেন । বন্যঘটায় ব্রাক্ষণবংশোস্তব 
সাঙ্গোক। নামক অঙগনা-রত্বকে তিনি পত্বীরূপে গ্রহণ করিয়াছিলেন 
ধাছার সম্মানার্থ এই প্রশত্তি রচিত হইয়াছিল, সেই ভবদেব 
ইহারই গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন। 

কবি “জিহ্বাথ্রে চ সরন্বতীম্ প্রভৃতি . বিশেষণে বিশেধিত 
করিয়া ভবদেবকে দেবগ্ডণের অধিকারী বলিয়া! বর্ণনা করিয়াছেন ১ 
এবং ভীহার পদগৌরব জানাইবার জন্য উল্লেখ করিয়াছেন যে, প্বধন্শা- 


১০৪ _ ভুবনেশ্বরের কথা। 
বিজরী হরিবর্শ দেব সুদীর্ঘকাল তাহার মন্ত্রণ!-শক্তিত্ডে চালিত হই 
রাজ্য শাসন করিগ্নাছিলেন এবং তাহার প্দগুনীতি বর্তমান্থগা* 
উপদেশাবলী হনিবর্দের পুত্রের রাজত্ব কালেও দেশের সমৃদ্ধি সাধন 
করিয়াছিল। 
বরন্জাদৈত, পণ্ডিতগণের বিশ্মস্নউৎপাদনকারী, নীমাংসা 
'তন্তরবার্তিক* রচিত ভট্ট্রের ( কুমারিল ভট্টরের) ক্লচন্বাবলীর গভীর 
অর্থ-সমাধানে সমর্থ, বৌদ্ধসমুদ্রের অগন্তযমুনি, পাষণ্ড বৈদাস্তিক- 
দিগের প্রজ্ঞাখগুনে পণ্ডিত, ভষ্ট তবদেব সর্বজ্ঞরূপে বিরাজমান 
ছিলেন, এবং সংহ্তা, তন্ত্র ও গণিতের পরপারদর্শী এবং নবীন 
“হোরা+ শান্তর প্রবর্তক বলিয়! জনসমাজে অপর বরাহরূপে পরি- 
গণিত হইয়াছিলেন। ধর্দশান্ত্র-সম্পর্বীয় শ্ব-রচিত টীকা ও বিত্ৃতি- 
বিষয়ক গস্থাদির সা তিনি পুর্বতন খআচার্যগণের মতবাদ 
নিশ্রভ করিয়াছিলেন এবং স্থৃতি-শাস্ত্রোন্ত ক্রিয়াকলাপাদি সঙ্বন্ধে 
সকল সন্দেহ নিরসন করিতে সমর্থ হইয়াছিলেক্ঈ। মীমাংসা 
শাস্ত্রে তিনি ভট্ট্রের (কুমারিল ভ্ট্রের) নীতি অবলম্বন করিয়া 
যে সফল বাক্যাবলী ' (0)931095$ ) রচনা করিয়াছিলেন, 
তাহা সহত্রকর রবির কিরপুম্নালার ন্যাম অজ্ঞান-তিমির নাশ 
করিত। আগম, অর্থশান্্,। আয়ুর্বেদ, অশ্ত্রবেদ এবং সকল 
'কবি-কলায্» কৃতবিদ্য ভবদেব বাস্তবিকই জগর্ভীতলে অতুলনীয় 
ছিলেন। মীমাংসা! শাস্ত্রে ঘে তীহার অপর নাম “বাশবলভী 
ভুজঙ্গ সপুলকে উদ্গীত হইক্সাছে, সে কথা কোন্‌ ব্যক্তিই 
বা অবগত নহে? হট ভূজঙ্গ-দষ্ট অপহত-জ্ঞান ব্যক্তিগণকে 
( দংহ্বাল-হষ্-ভুজগ-ত্রণ-মোহরাত্রি' ) প্রত্যুব-ভূর্যধবনির ভায় তাহার 
মস্ত্রোচ্চারণগুণে সত্ব নবজীবন দান করিয়া---”গরলকেলীতে” 


নক বাচ্ছদেব। ৪৫ 


নীলকঞ্ঠের ন্যায় অপূর্ব মৃত্যু্রয়রূপে পরিগণিত হইয়া ছিলেন €৩৩)। 
তিনি রাঢ়দেশে জঙ্গলপথ ও গ্রান্্বির উপক$সীমার শ্রমম্ পাসছ- 
পরিষদের প্লীত্যর্থে একটি বুপরিসর জলাশয় খনন করেন এবং 
. যে স্থলে এ লিপিটি সঙ্গিবিষ্ট হইয়াছিল, তাহারই সান্গিধ্যে নার্বারণের 
প্রস্তরদরী মুর্তি রঙ্গণ করেন এবং মন্দির প্রতিষ্ঠা করির! গর্জ-গৃহে 
নারায়ণ, অন্স্ত ও নৃসিংহ এই ভ্রি-সুর্তি স্থাপনা করিয়াছিলেন। 
তিনি হরিষেধসের (বিষ্কার ) সেবার উদ্দেশে বন্দির-সেবাদির জন্ত 
কয়েকটি বিভাধরী-ভুল্যা দেবদাসী উৎসর্গ করিয়াছিলেন 


৬ 





স্বপ্নেশ্বর প্রতিঠিত মেখেশ্বর মন্দিরের 
শিলালিপি ( মন্্ানুবাদ )। 
€ ও নষঃ শিবায়। 
 খক্ষেপাঁদ গৌতম মুনির বংশে দ্বারদেব নামক রাজপুজ জন্মগ্রহণ 
করেন, তীহার পুজ মুলদেব। সুলদেবের অহিরাম নামে এক 
পু জন্মে । সেই অহিরামের অন্তান্ত সম্তানাদির মধ্যে শ্বপ্রেশ্বর 
নাছে এক পু ও জুরমাদেবী নামে এক কন্তা ছিলেন। চক্রবংশ- 
সম্ভৃত চোড়গঙ্গ মহীপতির মৃত্যু হইলে রাজরাজ, খিজয়-লক্মী লাত 
করিব পৃথিবী শাসন করেন; তিনি হ্ুন্নেমা দেবীর পাপিশ্রহণ 
(৩৯) এই 'গরল-কেলী' শব্ধ রূপকার্থে ব্যবহৃত হইয়াছে ফি না! বল! বান 
শা। প্রালীনকালেক চাস্িজেশীর চিফিৎসকগণের মধ্যে 'জঙছলিবিষ$ বা বিষ- 
বৈধোর উল্লেখ অর্থশাযে দেখিতে পাওয়া ধার়। কধি হনুরও এইরাপ জাঙুলিক 
দানে পন্লিতি ছিলেশ। জাতকগ্রন্থে ব্াহ্মণেরাঁও যে সপবশ-বিদ্যার অভিজ্ঞ! 


লাগত করিতেন তাছা অবগত হওয়া যায় | 101, ২90১8700200 81085677051 
1০051 00৮6757950৮ 15 ১001576 10189 0, ০6০, 


৯৪ 


১০৬ ভূষনেশ্বরের কথা। 


করিয়াছিলেন। তিনি বৃদ্ধ বসে তদীয় কনিষ্ঠ ভ্রাতা অনিয়্ক 
(অনন্গ ) তীমদেবকে রাজ্যে জঁভিষিজ্ করিয়াছিলেন (“মনুজরাজঃ 
সতাজ্বিযুগ্মং রাজ্যে অভিধিক্তমকর়োৎ অনির়ক্কতীমং )। 

"পামাজ্য-সক্ীপতি প্রত্যরথি-ক্ষিতিপাল-মৌলি-তিলক” অনিযন্ক 
ভীম প্ত্রিকলিঙ্গনাখ” বলিয়া! উক্ত হইয়াছেন। রাজগ্ডালক 
দ্বপ্নেশ্বরের প্রতি গক্সাঘংশীয়গণের দিব্যা এবং “তুর 
সেনাপেক্ষা অধিক -বলবিশিষ্ট' প্রভৃতি বিশেষণ প্রযুক্ত হওয়ার 
অন্থমিত হয়, তিনি “সহাবলাধিক্কত” অথবা! প্রধান সেনাপতি 
পদে অর্ধির্টিত ছিলেন। পূর্ব্বকিত এই দ্বপ্রেশ্বরই মেধেশবর দেবের 
মন্দির প্রতিষ্ঠা করিয়াছিলেন, এবং মন্দিরে সেবার জন্ত কিয়ৎ 
সংখ্যক পরিচারিক। প্রদান করিয়াছিলেন। তিনি মন্দিরের সঙ্গিকটে 
উদ্ভান প্রতি করিয়াছিলেন (৫উপবন মখ চক্রে” ) এবং দ্েবালয়- 
সংশ্লিষ্ট একটি পু্ষরিকী খনন করি! তিনি পথিপার্থে ও 'পুরে পুরে, 
তড়াগাদি খনন এবং ম্থুরগৃহ বা ছ্েববালয়ে প্রদীপাির ব্যবস্থা! 
করিরাছিলেন ( 'অপাং শালা-মালাঃ পথি পি, তড়াগাঃ প্রতিপুর্ম, 
প্রদীপাঃ সম্পূর্ণাঃ প্রতি-ুরেগৃহম্‌ বন্ত বিমলাঃ” )। 

ইহ ব্যতীত বেদাধ্যায়ী ও শুদ্ধাচারী ত্রাঙ্গণদিগের অন্ত মঠ 
ও ব্রঙ্গপুর (০1015618) প্রভৃতি প্রতিষ্ঠা করিয়াছিলেন । তদীয় 
গুরু শৈব-মতাবলম্বী আচার্যয-রাজ বিষুঃ কর্তৃক মন্দিরটির প্রতিষ্ঠ! 
হইয়াছিল ) এবং বির আদেশক্রমে উদয়ন ফবি .এই প্রশত্তি 
রচনা! করিয়াছিলেন। মেধেশ্বর মন্দিরে দিশিখবলের পুত্র চজধবল 
কর্তৃক উহ শিলাপৃষ্ঠে সরলাক্ষর-মালার লিখিত হ্ইয়াছিল। আর 
হুত্রধর শিবকর প্রস্তর ফলকে মুক্তাফলনিত এই অক্ষরখলি উৎকীর্ণ 
করিয়াছিল। 


অনত্ত বাসুদেষ।: ১০৭ 
'অনিরঙ্ক ভীমদেব্ীশ বন রাজত্ব করিয়াছিলেন। সম্ভবতঃ 
থৃঃ ১১৯২ অব তিনি সিংহাসনে 'আরোহণ করেন) ইহ! হইতে 
আচার্য্য কীনহর্ণ অনুমান করেন যে লিপিখানি খৃষ্টায় দ্বাশ 
শতাবীর শে ভাগেই রচিত হইরাছিল। 


ভূবনেশ্বরের ভাক্কর্ধ্য ও উড়িব্যার 
শিল্পকল!। 


ভাবুক ও সাহিত্যশি্লী ৮বলেন্রনাথ ঠাকুরমহাশর তাহার 
“উড়িষ্যার দেবক্ষেত্ নামক প্রবন্ধে লিখিয়াছেন ““ভুবনেশ্বরের 
দেওয়ালে কতকগুলি উন্নতগ্রীবা দীর্খাবয়বা রমণীমুদ্তি এমনি 
ইউরোপীয় হাঁচে ঢাল! 'বোধ হয় এবং ₹ কোন কোনটির তর্গী এমনি 
ইউরোপীয় যে, গ্রীকপ্রতাব অন্বীকার করিতে বিস্তর্‌. চেষ্টার 
আবঞ্তক করে। বিশেষতঃ বখন পার্বতী ৃষ্ঠিসনলিহিত নিভৃত 'কোঁণে 
কলানিপুণ! রমমীগণের মধ্যে সহস! শ্রীসীয় “লার়র” (2491৩ ) বস্ত্রন্ত 
নারীমুত্তি দেখা যায়, তখন চমকিয়া উঠ্িতে হয, একি গ্রীস না 
ভারত বর্ষ ? 

রাজ! রাজেজলাল তগ্ন তন্ন করিয়া 'কীটিটিনির কারু 
কার্য্য ও প্রস্তর-ক্ষোদিত চিত্রাদি পথ্যবেক্ষণ করিয়াছিলেন। তিনি 
অনরাধতীর বৌদ্ধত্তূপে ক্ষোদগিত “হার্প। (8919) যঙ্ত্ের চিত্রের 
উল্লেখ করিয়া বলিগাছেন যে, ভুবনেশ্বর এক বীগা ব্যতীত 

তারসংযুক্ত অপর কোনও বাদ্যযন্ত্র দেখা যায় না (১)। 

সম্ভাট সমুদ্রপুণ্ডের শ্রেনীর মুদ্রার যে বীশার চিত্র দেখা যায় (২) 
তাহ! ইউরোপীয় লেখকগণ ভারতীয় হার্প বলির ধর্ণনা করিরা 
থাকেন। রাজ! রাজেজ্লাল কাত্যারনের “কল্পস্ত্রে' বঙ্সিত শততন্তযুক্ত 


(১) 11105 £9610516016$ 06 011558, ৬০২, 2, 2১ 23. 
€২) প্রা্ীনমুর্া, লীবুক্ত রাখালঘান বলো পাধ্যার গনী, পৃঃ ৮৮ । 


ঝুবনেষ্বরের ভাস্কর্য ও উড়িত্যার শিল্পকলা. ১৭৯ 


একটা বাবরের উল্লেখ করিয়াছেন (৩)। বলেম্্নাথ-কখিত 
বা্বন্ত্র এই প্রকার হার্গ হওয়াও অসম্ভব নহে। আমর ভূবনেশ্বরে এ 
ৃত্তিটি এখমও আছে কি না লক্ষ্য করি দাই। একটিমাত্র লার়রা- 
ককতি বন দেখিয়া গ্রীক এ্রভাব অনুমান বরা যুক্তিযুক্ত বলিয়৷ বোধ 
হয় না। এ সম্বন্ধে অনুসন্ধান ও আলোচন। আবস্তক। গ্রীক শিল্পি- 
গণের প্রভাব, গান্থারের গ্রীক বৌদ্ধ শিল্পে সুপরিদ্কট বটে এবং 
১৯০৮-৯সালে কনিষস্ত, পে দ্ধেহাবশেষের যে ধাতুনি্শিত আধার 
অথব! “শরীর নিধান' আবিদ হইছে, তাহাভেও অগিশল নামক 
জনৈক গ্রীক কর্ণপরিদর্শকের উল্লেখ দৃষ্ট হয় (“দস অগিশল 
নবকর্গি কনত্বস বিহরে মহসেনস সংঘরদে' ) (ষ)। 
ফনিফবের রাজত্বকাল ৭৮ খৃঃ অব হইতে ১২০ খৃঃ অব পর্যান্ত 
অনুমিত হইয়াছে (৫)1 দ্ুতরাং খঃ ১ম ও ২য় শতাবীতে বে, 
শ্রীক শিল্লিগণ কুষণ-বংশীয় নরপতিদিগের অধীনে ভারতবর্ষে উত্তর- 
পশ্চিম সীমান্তে কার্য করিতেছিল, তাহাতে সন্দেহ করিবার কারণ 
নাই। প্রীযুক্ত ডাং গৌরা্গনাথ বন্্যোপাধ্যাক্স ইউরোপীয় মনীষী- 
দিগের মত গুলি সযত্বে সংগ্রহ করিয়া লিখিয়াছেন যে, 
ভাবতে শ্রীকশিল্লি-নিয়োগ থৃঃ পুঃ প্রথম শতাষী হইতে খৃঃ 
প্রথম শতান্ধী পর্ধ্যস্তই অধিক পরিমাণে প্রচলিত ছিল (৬)। 
আধুনিক অভিজ্ঞগণের মভামুলক্বনে ভুষনেস্রের মন্দির যদি দশম ব! 
একাদশ শতাবীতে নির্দিত বলিয়! ধরিয়া লওয়! যার, তাহ! হইলে 
(৩) 80৮75 80811910155 0৫6 021885 ৮০1) ?, 09, 115, 
(8) 705 2০০06762806 08105 552৬870888৩) ০৫ 
1881885, 890551 2২69০768705 385৩0) 19০89) 8, ৪2, 


৫২) প্রাচীন সুজা) পৃঃ ১৭১। 
(৬) 17060180619 00696175018) 0.1০০8. 


৯১০ ভুবনেশ্বরের কথা 


নয় শত বৎসর পরে গ্রীক শিল্পরীতি কিরূপে ভারতের উত্তর-পশ্চিম 
সীমান্ত হইতে দক্ষিণপূর্ব্ব সীমাস্ত পর্য্যন্ত আনিয়া উপস্থিত হইল, তাহ! 
বিশেষ অনুসন্ধান-সাপেক্গ, লন্দেহ নাই। ম্ুধীবর্গের মধ্যে বাহার 
গ্রীকগ্রভাব অন্বীকার করেন না তীহারাও বলিয়াছেন যে, হৃন 
আক্রমণের পর মুনানী শিল্প-রীতির প্রতিপত্তি খুঃ ৪৭* অব্য হইতেই 
লুপ্ত হইয়াছিল এবং তরী; পঞ্চম শতাবী হুইতে ভারতুশিল্পকে শ্বকীয় 
ফ্লোষগুণের উপরই নির্ভর করিতে হইয়াছিল (৭)। 

জীযুক্ হেতেল মহাশয় বলিয়াছেন যে, খৃঃ দ্বিতীয় হইতে অইম 
শতাববীর মধ্যে ভারতীয় শিল্পী কর্তৃক কম্গিত, শুধু বৌদ্ধ' দেবাদর্শই 
(8৫01/9: 70191 [0৩৭1 ) যে সম্পূর্ণতা প্রা হইনাছিঙ্ক। তাহ! 
নহে, ভাহাদিগের দ্বার সনাতন হিল্ুধর্শের উপান্ত দেবত। সমস্য 
পরিকল্পনাও, বনু শীর্ষ ও বহুতৃজ মূর্তি-নিচয়ে মামক্লপুরমূ এবং 
এলিফ্যাপ্টা, এলোর৷ প্রভৃতি গুহায় পরিব্যক্ত হইয়াছে। ভারতীয় 
হিন্দু ও বৌদ্ধ সভ্যতাপ্রভাবে ললিতকল! ও সাহিত্য-বিষয়ক গৃষ্টির 
ইহাই সর্বপ্রধান বুগ'। এই যুগেই ভারতীয় শিল্পের আদর্শসমূহ, উচ্চ 
সভ্যতা ও তৎসস্ভূত মানসিক উন্নতিতে বিকাশলাভ করিয়া, সম- 
ভাবেই দ্বেশ বিদেশে বিস্তৃতি লাভ করে। ভারতের বৌদ্ধ ও 
রন্ষপ্য.ধর্মম-সম্পর্কীয় ভাঙ্ষর্য্য গুধু উত্তরাপথ বলিয়। নহে-_সিংহল, 
যবদধীপ, চীন, মহাচীন ( কোরিয়। ), জাপান প্রস্থৃতি দেশেও উন্নতির 
শেষ সীমার উপনীত হয় (৮)। 


(4) 77611601800 10 2001617% 10018% 0, 61, 9180 128৮, 
8115 ৭06 26010) ০৫100127810 05 2০712 (1912 0 

(৮) 775 25011 91122189521, 088980809 26115012 
৬০1, 1 788৩8 4 & 85. ৃ 


ুবনুষ্্রের ভার ও উত্িস্যার শিল্পকলা । ১৯১ 


খুঃ দশম শতাব্দীর পুর্বে উড়িস্যার ভাক্কয্যের যে চরম উন্নতি 
ঘটয়াছিল, এরূপ মান হয় না। উত্তরাপথের ও দাক্ষিপাত্যের 
'বিভিপ্ন আদর্শ ও ভাক্ষর্ধ্য-পন্ধতি তৎপুর্্ব কেন যে উৎকলে বিস্তার- 
লাত করে নাই, তাহ! নিশ্চয় করিয়া বলা! যায় না। সম্ভধতঃ রাজ- 
নৈতিক বিপ্লবই ইহার অন্যতম কারণ। খুঃ সপ্তম শতাবীর 
পূর্ববর্তী-_সম্ভবতঃ খৃঃ ষ্ঠ শতাবীর তথ্ক নামধের যে সকল 'পুর্রী- 
কুষণ' মুত (৯) উকিম্যায় আবিষ্কৃত হইয়াছে, সে গুলি কোন্‌ 
(স্বাজবংশের, কোন্‌ কোন্‌ রাজা-কর্ত্ৃক প্রচারিত হইয়াছিল, তাহা 
অস্তাপি অজ্ঞাত রহিয়াছে । এই বুগের উড়িষ্যার ইতিহাস এখনও 
তমসাচ্ছন্ন। কেশরী রাজগণ কিন্বা তৎপুর্াবর্তী রাজবংশ কি 
প্রকারে বিধ্বস্ত ও ব্লাজ্যচ্যুত হইয়াছিল, তাহা এখনও রহস্যে 
সমাবৃত'। ভরসা হয়, রাজনৈতিক ইতিহাসের এ সকল তত্ব মীমাং- 
সিত' হইলে, শিল্পবিষয়ক ইতিহাসের পদ্থাও সুগম হইবে । . 
সে বাহ! হউক, মধ্যযুগের হিন্দু ও বৌদ্ধ-ভাক্কর্য্য শ্রীক-প্রভাব 
কিঞিপ্াত্রও লক্ষিত হয় না। দাস অগিসলের স্তার যে সকল গ্রীক- 
শিল্পী তারতবাসীদিগের নির্দেশ মত মুর্তি প্রভৃতি নির্মাণ করিতেন, 
তীহাক়াও ধে ক্রমশঃ ভারতীয় ভাবে অন্প্রাণিত হইয়াছিলেন, 
ইহাই বিশ্বাস-গ্রাহ অনুমান বলিয়া বিবেচনা! করা যাইতে পারে। 
ক্রমশঃ ভারতীয় প্রভাব যে শ্রীক-পনিবেশিকদিগের মধোও 
অন্ুপ্রবিষ্ট হইয়াছিল, তাহার, সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গিয়াছে। 
“খামবাবা নামে পরিচিত বেশনগরের গরুড়ত্তভত “ভাগবত” 
(বিষুং হারাতে নামক গ্রীক কর্তৃক প্রতিষিত 





€৯) 0.3, 0, 2 5. মা৪8০০ 3919, 2 প্4, 


১১২ ভূবনেশ্বরের কথা । 


হইয়াছিল (১০)। ১৯১৪-১৫ সালে অধ্যাপক পীযুক্ত দেবদত রামক্কষ্চ 
ভাগ্ডারকর মহাশয় বেশনগরে ভূগর্ত হইতে" যে সকল সৃদ্ময় মু 
শীল”) আবিষ্কার করেন, তাহার মধো টিমিত্র বলিয়া (00৩70566185) 
একজন স্রীকের নাম পাওরা গিয়াছে। ইনি যে বজমানন্বক্প 
* কোনও যজ্ঞের অনুষ্ঠান করিয়াছিলেন, তাহা মুত্রানিছিত “হোত”, 
'পোতা+, “মন্্' প্রস্থৃতি শঙ্খ হইতেই বুঝ! যায়। (টিমির-দাত্রিস্য 
[স] হোত পোতা মংত্র সঙগন [ই]) €১১)। অধ্যাপক 
ভাগ্ডারকর বলিরাছেন "গ্রীক-যবনের এই বজ্ঞা-ুষ্ঠানে আশ্চধ্য 
হইবার কিছুই নাই, যেহেতু শক ও পহলব প্রন্ভৃতি বিজীলীরদিগের 
স্কায় অনেক শ্রীকও হিন্ুধর্্ গ্রহণ করিরাছিল”। এই সকল খঙ্ড- 
প্রমাণ মুক্তিমেক় গ্রীক উপনিবেশিক্দিগের মধ্যে ভারতীয় প্রভাবেরই 
ক্রমবিস্তার প্রমাণিত করিতেছে । বিদেশী প্রভাব যেখানে যে টুকু 
পাওয়! বার, তাহা অস্বীকার করা সত্যানসদ্ধিৎম্থ লেখকের কর্তব্য 
নহে । এন্প ভাবে সতোর অপলাপ করিবার চেষ্টাক্স এ প্রবন্ধ 
লিখিত হয় নাই। বতদূর প্রমাণ পাওয়া গিয়াছে, তাহাতে ভূবনেখরের 
* শিল্পকলায় বিদেশীয় প্রভাব আছে কি না এবং থাকিলে কতছুর 
আছে, তাহাই 'আমাদিগের বিচার্ধ্য। মধ্যযুগে দেখা যাইতেছে 


(১০) 28828091255 20015785508) 0১257, 815০ 808৮5810228 
৪8 73650010885885 017, 2186+8827, 2১101 এ, 06০0০915392 3-74. 
ভাননের পুত্র তক্ষশীলাবাসী ছেলিওদোর ('ছেলিওযোয়েশ দিরসপুজেণ ও 
শিনাকেন' ) শীকলাজ অঙ্তলিফিতের দূতরূপে রাজা কাশীপুরে ভাগতহের 
বিকট প্রেমিত হইয়াছিলেষ। রর 

(১১) 27981555 ৮১০০০৪৮, 2০৮ 3৩৫৮৩5* 2, 0110165 2924-5, 
৮. 64, জীন ডাঃ গৌকাজনাধ বন্যোপাধ্যার নহাশন ধিজ গ্র্থে এই প্রমাণের 
উল্লেখ করিয়াছেষ । 


ভূবমেশ্বরের ভাক্ষর্ধ্য ও উড়িম্বার শিল্পকলা । ১১৩ 


ভারতীয় শিল্পের উপর গ্রীকপ্রভাব অপেক্ষা শ্রীক-শিল্পিগণের 
উপর ভারতীয় প্রভাবই অধিকতর পরিস্ফুট। এমন কি সম্রাট 
অশোঁকের শ্থাপতা নিদর্শনে পার্সিপলিসের অনুকরণে নির্িত 
 স্বতপ্রেনী & বিদেশী শিক্পরীতি-অন্থ্যার়ী ক্ষোদ্িত রেলিং অথব। 
বেষ্টনীর মধ্যেও শক্তিমান্‌ খাটি ভারতীর শিলপপ্রথার অন্তিত্ব মেই' 
প্রাচীনকালে ভা্র্ধ্য হইতেই অনুমিত হইয়াছে (১২)। 

ফরাসীলেখক নঁসিয়ে মরিস ম্যান 04. 11901105 815110101) 
তাহার ভারতীয় শিল্পকলা-বিষয়ক গ্রন্থে .লিখিক়াছেন যে, যুনানী 
প্রভাব ভারতে কখনও বিশেষ ভাবে প্রবল “সইতে পারে নাই । এ 
'য়ের ্শসথারী কিয়া ভারতীয় প্রতিত। খ্লামান্যমাত্রও রূপান্তরিত 
বা বিকৃত হয় নাই। ভাবাদির সরল অভিব্যক্তি (781%566) এবং 
ধর্মবিষয়ক কঠোরতার বিকাশই যে ভারতীক্ন শিল্পের যথোপযুক্ত 
আমর ও প্রশংসার প্রত্যবায ঘটাইয়াছে, লেখক এ প্রসঙ্গে সে 
কথারও উল্লেখ করিয়াছেন। লালসা-দ্যোতক অখব! রূপক ও 
সাঙ্কেতিক নিদর্শনমূলক মূর্তিনিচয়েও ভারতীয় শিল্পীর যে ক্ষমতার 
ও যে স্বাধীনতার পরিচয় পাঁওয়! যায়, অপক্গপাত্তী দর্শকের! কখনই 
তাহার প্রশংসা না করিয়! থাকিতে পারেন না (১৩)। 

তীক্ষ-দৃ্টি 'সমবজার অন্য একজন বিদেশীয় লেখক (১৪) 
ভারতীয় মন্দিরের তাক্ষ্্য-বিষযয় আলোচন! করিতে গর! ক্ষো্দিত 
সুপ্তি প্রস্ৃতি সম্বন্ধে যে সকল কথা বলিয়াছেন, শিল্প- 
সম্বন্ধেও তাহা! কম প্রযোজ্য নহে। “এখানেও প্রস্তয়ে খোদিত অদ্ভুত 


(১২) 78561 15915 ০৫ 10078174165 02, 27," 
(১৩) 216 10015098111. 58151750100) 9. 126. 
(১৪) 106 03845085616 807 90150 16 [৮ 216 (10418050527. 


৯৫ 


১২৪ ভূখনেখবের বন? 

বিকটাকার, বিরাটকার কানঙগিক জীবাদির -প্রতিক্কতি হবে বিঃ 
মান। ভয়াবহ মৃষ্তিসমূহেরণ অভাব নাই।' জ্জাঙায় শিল্পী হাস্য 
সফুরিতাধরা, বিবিধ চিত্তাকর্ষক ত্রাণ লমন্ধিতা, হিইতবাছ দেবীসৃরথি 
সমূহ নির্মাগ করিয়া যে, সৌর করিযাছেস, ভাঁজ! তাক্ষর্যা 
হিসাবে অনিন্দনীয় বলিব অভুঠক্তি দুরে থাক্‌, উপযুক্ত প্রশংসার 
অভাব ঘটিবে। মন্দিরে বৃহির্গা্র ব্যাপিরা নর্জরীও অগ্তরায়া 
ফত বিষোহন ভঙ্গীতে দডারষান--মূদে হয় বেন তাহাদের এ শ্রেণী- 
বনধ-ৃত্তির দ্বস্ত নাই। পৃহার মধ্যে নিবিড় আলিঙ্গনে আঙ্িষ্ট মিথুন, 
ূর্তিও রহিনাছে, আবী; নর্তকী লাম্যে স্থানে স্থানে অঙ্দীল তাবও 
প্রকাশ পাইয়াছে; ক্রিন্ধ দৃপদর্শা লে ব মহাশর বলিয়াছেন, 
(শক্বনেশ্বর, সুধী, এলোরা, অজস্তা, বাদামী; খাভুরাছো, কুম্তকোণম্‌ 
প্রভৃতি বিভিন্ন স্থানের গুহাদির ও মঙ্দিরসমুহের সামান্য অপকষ্ 
নমুনারপার্খদেশেই যে বল উচ্চপ্লেণীর অপূর্ব শিল্প-নিদর্শন দেখ! 
যার, তাহা কোনও পাশ্চাত্য শিল্পীই নিজন্ব বলিয়া স্বীকার করিতে 
খিধা বোধ করিবে ৰা।” শিল্প-কলার পরীক্ষা বা “যাচাই, 
ব্যাপারে এখন শিক্ষিত ভাক্গতবাসী শুধু. ইউরোপের মুখ 
তাকাইয়া৷ নাই, আপনাদের জিনিব আর্গনীয়াই বুঝি! লইতে 
শিখিতেছে। দেশীয় বিশেব্তগণের এ সম্বন্ধে মতঞ্রাকাশেক প্রাযো- 
অন হইলে তীহার! নিশ্চয়ই বলিরেন যে খাচ্য-শিল্পের ধারা সম্যক: 
ভাবে আরত করিয়া! ভারতীয়. পিল্ীগ্স কস্ততের সহিত তাহার 
নিজস্ব ভাবপ্রবণতাটুকু ধরিয়া লইতে পারিলে, জগতের ধৈ কোনও 
তাস্কুর বার্থ ই আপনাকে: ক্বতার্থ বলিয়া যনে করিবে। ভারতীয় 
শিল্পের গতি ও প্রক্কতি বিস্তারিত ভা আবোচনা করা এই ক্ষত 
নিবন্ধে সম্ভব নছে। ভাঙ্ষধ্যে .006581107857078 অথবা বন্তসমূছের 


(চিত্র ৩৫) 





বৈতাল দেউলের নর্তকী মুর্তি । | পৃঃ ১১৪ 





পর্ষি'ণী ভাস্কর নির্মিত রজতময় গণেশ মুর্তি । 
( ফরাসীদেশের “মুসে গিমে” চিত্রশালায় রক্ষিত ) 
[ ম্যাট রচিত গ্রন্থ হইতে ] | পুঃ ১১৭ 


দেখরের ভক্ও উড শিলা ১১৫ 


তির্ঘযকভাবে ষ্ট গুতিন্বগ ত্ষণর তি এবং ক্ষোিততদর্তির বাংস- 
পেশীগত বনধুর্। হরির ফৌশল ধদি ভায়তীয় ভাস্বর বিদোর্ারের, 
দিফট্টই পিখিয় থাকে, তাহাঁতেও বিশেষ, লঞ্জিত হইবার কারণ 
জিনা বে হজ নী, সৌর সে পঙিতদিগের 
পক্ষেও নিরাপদ নহে (১৫)।' .., 

উড়িষ্যার ।হদগিরগাৰস্থ রদীদর্বিসমূহের ব্ যৌবনগ্রী ও 
হুঠামভঙগী দেখিয়া গবর্গগত টার মহোদয় মুগ্ধ হইন্বাছিলেন। 
তাঁহার প্রস্থ পাঠ করিলেইন এত সম্পর্কে 1080100510658 0 
0019৮ ৫8062 6০৪৩, প্রভৃতি শব. চোখে পড়িয়া বায়। 
তাহার, আমলে ,পত্িত-সমাঞ্জের মৃতবাদে তথাকথিত বিদেশীর 
প্রভাবের হাওয়া বড জোরেই বহিতেছিল। শুঙরাং তিনি যে নির্বাধ 
কল্পনার বশীতৃত হইর়। মার্দল! পনদীতৈ লিখিত উড়িয়া প্রবাদের 
যবনমিগকে শ্রীক ধরিয়া লইয়াছিলেন তাহাতে বিশ্বের কারণ ফেখি 
না। হাণ্টায় বলিয়াছেন, “চৌদ্দ শত বসর কাল দেশপর্্যটমের 
পর বেরা উড্িষ্যার সমূহে জাসিয় স্থারিভাবে বিশ্রাম 

(১৪) আনুহানিক খঃ পৃঃ ৩৮* বৎসরের বযাধিলোনীয় সভ্যতার বিষয় 
আলোড়ন! করিতে গিয়া ব্যাবিলোধিয়া ও আনিরিয়া ইতিছাস-লেখব অধ্য। 
পক উইছলায় বহাপয় খলিয়াছেন বে, সার্গন .ও নরাম্সিদের জিপিলদুহেনর 
বর্ঘাল! গতি হুদ হত্যাক্ষয়ে লিখিত এবং লাগাশের সামস্ত়ার গুভিয়ায 
জামে দুর্বিগুলির নিশ্থাণ-কৌপল এতই হুপয় যে পুঃাতগুবিদের! এফ লহরে 


, উহাতে সীকন্প্রতাব জগুহান করিয়া! জওয়া আবগ্যক বিষেঃনা 
(59 88081160618 (09 060871091 6860/01০0 0৫ 0068818 518:058 








6881 27008650815 0209 000082116 26065597) (9 88502)6) & 


07588 1009৩901--101 নু, 19005 71500 ৩1 25৮719508 
৪0৫ $550118) 79, 49)। আচার্ধা উইতলায়ের গ্রন্থের ইংগ়াজ-সম্পাদগক 
শীযুক ফেগ, (01818) মহাণয়ের মতে সাকা তৎপুতে নয়াহসিনের অদ্ভিতথ- 
কাজ বখাকছে ৬৮০ ধঃ পু? ও ৩৭৫, পৃঃ খৃঃ জবা বলিয়া! অনুমিত হইয়াছে। 


১১৬ ভূবনেশ্বরের কথা। 


ভোগ করিতে সমর্থ হইয়াছিল” ( ১৬)। তাহার! কোথা হইতে কোম্‌ 
দিক্‌ দিয়া আসিল, কোথায় আসিয়া বসবাস করিল, খৃহীয় প্রথম 
ও দ্বিতীয় শতাবী হইতে এতদিন পর্য্স্ত কোথায় ছিল, উপযুক 
প্রমাণসহ এ সকল প্রশ্নের সহত্তর না৷ পাইলে এনপ উক্তি প্রীতি- 
হাসিক সত্য বলিয় গ্রহণ করা বায় না। পঞ্জাব হইতে পূর্বদিকে 
যতই অগ্রসর হওয়। যায়, গ্রীক আদর্শের লক্ষণগ্ুলি যে ততই ছরলত 
হইয়া উঠে, তাহা হাপ্টারের ন্যার বিচক্ষণ লেখকের দৃষ্টি অতিক্রম 
করে নাই। উড়িয়া-শিল্ি-রচিত নার্দেহের যৌধনের লীব্তার 
সহিত গ্রীক তথ্বলীদিগের দেহাবয়বের কোন সাদৃশ্যই দৃষ্ট হয় না। 
পাশ্চাত্য স্ত্ীমূর্তির মুখমণ্ডলের ন্যায় দীর্ঘারত গঠনভঙ্গী উড়িম্যায 
একবারেই বিরল। মৃর্তিগুলির মুখের ডৌলে, অনস্কারের প্রাচুর্য ও 
উচ্চবিন্ন্ত ফেশদামে শরীক “আম্রার অন্ুরূপতার আভাস মাত্রও 
কোখাও রক্ষিত হয় নাই। এই সকল লক্ষ্য করিয়াও উড়িব্যার 
ইতিবৃত্বরচয়িত| প্রত্বতাত্বিক মহোদয় উতকল-দেশীর় একটি 
বিশিষ্ট শিল্পগ্রথার অস্তিত্ব অগ্নুমান করিতে পারেন নাই; 
' পরন্ধ বলিয়াছেন যে, গ্রীক শিল্পকলার আদিম বিশুদ্ধতা নই 
হইয়] গিল্লাছে। এজস্ত হাণ্টার মহোদয়ের উপর দোষারোপ 
করিতে পারি না কারণ ইহা ভাৎকালিক শিক্ষাপ্রভাবের 
অবশ্যস্াবী ফল মাত্র। যেনকল নুমারী শিল্প (986০০-০1৪৩- 
৪1081 ৪16) কুষণযুগে ভারতের নিজন্ব শিল্পধারার প্রতিবন্ধকতা! 
করিতে গিয়া আপনার বিশেষস্ব বিসর্জান দিয়াছিল, মধুরার স্তার 
স্থানে নূতন পারিগার্থিক আবেষ্টনে যাহ! নিজ জীবনীশক্ি হারাইয়া 





(১৬) 51: ৬. জা, 11000575 011858 ৮0, 1) 0,237 


তুবনেস্বরের ভাগ্র্ধ্য ও উদ্ভিষ্যায় িক্পকলা। ১৯৭ 


ভারতশিল্ফেও জীবশ্মুত করিয়া তুলিয়াছিল (১৭ ), বু শতাব্দী 
পরে উড়িষ্ার তান্ধ্যকলা পুরুদ্জীবিত করার তাহাই যে মূলীতৃত 
কারণ, এ কথা কোন্‌ হেতুবা্ধে স্বীকার করা যাইতে পানে? 
যুনানীগ্রভাব-সম্প্‌ক্ত মথুরা-শিল্পে সাঞ্চী ও বরাহতেের (ভারহুতের) 
মৌলিক ও অবিমিশ্র ভারতীয় শিল্পধারা যে শক্তিসঞ্চার করিয়াছিল, 
সম্ভবতঃ তাহারই ফলে দক্ষিণপূর্ববাঞ্চলের ভাক্ষধ্যের তুলনায় মথুরার 
মৃর্তিনিচয় আমাদিগের দৃষ্টিতে একবারে বিসমৃশ্ বলিরা বোধ হয় 
না। গ্রীক শিল্পে মাংসপেশীসমুহ বিশেষভাবে প্রদর্শিত হইয়া থাকে ; 
কিন্তূ উড়িয়া-শিল্পের নিদর্শনগ্চলিতে কেথাও সে বৈশিষ্ট্য দৃষ্ট হয় 
না। উড়িষ্যা-ভাক্ষর্য্ে পুক্রবনুর্তি অপেক্ষা স্ত্রীষুর্তিগুলিই অধিক সুন্দর, 
পুক্রমূর্তিগুলির অনেক স্থলেই মুখের প্লথ-শিথিল ভাব, গুল্ক ও শ্মশ্রু 
প্রভৃতির বিন্যাস, একেবারে অস্বাভাবিক না হইলেও, 'অশোভনই 
বলিতে হয়, বেন কোন প্রকারে লাগাইয়া ব! ভুড়িয়া দেওয়া হুই- 
স্বাছে। বিগ্রহ্মূর্তিগুলির বেলার অবশ্য এ আপত্তি অনেক ক্ষেত্রে 
খাটে না। লিঙ্গরাজের মন্দিরগাত্রস্থ কার্তিকেক্স মূর্তি ভারতীয় 
পুংসৌন্দব্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন বলিয়া মূনে হয়। ভূবনেখনের গণেশ- 
মুর্থিটও এ জাতীর বিগ্রহের মধ্যে সৌন্দধ্য-হিসাবে অতি উচ্চস্থান 
অধিকার করিয়া 'আছে। ফরসীদেশের “মুসে গিমে” (813৩৩ 
(01025?) চিত্রশালাক্স রক্ষিত গ্রাণাইট-প্রস্তরনির্মিত কার্তিক- 
সুস্তি ও রজতনির্মিত গণেশ মুর্তির চিত্রন্বয়ের সহিত (১৮) পূর্বোক্ি 
সুর্তিহইটির প্রতিক্কতিক্প. সাদৃশ্য বিচার করিলে সহজেই এ কথা 
গ্রতিপক্ন হইবে । গগিমে' চিত্রশালার কাষ্ঠ-খোদিত পার্বতী মূর্তির 
(১৭) 71215178115 0500105 €০ 58170515026 1০০৫-78090, 
৫১৮) 771 2512610015205 28, 395 19০ 13 500 685 6০5 7, 2425. 


১১৮ ভুষনেষরের কখ)। 
সহিত তুবদেযের (ড় দেউলের ভগবরীুর্তর' তুল্ন! ছিলে 
পেযোক সুরভি যেদ্িত শেইঁতোহা সামাদ্য শিকেও, 
দিবার আবশ্যকতা! হয় না। বস্ততঃ দেবক্ষেত্র "রুবনেশ্বারের এই 
সকল সুর্তি এবং কোপীর্কের পরম সুষ্য ও বিবুদূর্তি আদি, 
অদ্যাপি ভারতশিল্পের গৌরব লসম্মানে রক্ষা করিতেছে । কেহ 
কেহ কোপারকের অন্বনবয়ের নাসিকার গঠন দেখ্যি। 'রোমক 
ত্গী” অন্যান দৃরিয়াছেন। অধ্যাপক শ্রীযুক্ত জুভোহত্েই 
দাক্ষিণাত্যে কষ্টানদীতটে রোমক প্রভাব লক্ষা করিয়াছেন বটে, 
কিন্ত তাহার অন্থমানমতে শুধু খু ছিতীয় ও তৃতীয় শতাঙীতেই 
পল্পব-শিল্পকলা রোমক প্রভাবে পরিপুষ্ট হইয়াছিল (১৯)। 
পল্লব রাজাদিগের রাজত্বকালে যে শিল্পের উত্তব হয়, তাহার বছ- 
বর্ধ পরে ,সে প্রথা উড়িষ্যায় সংক্রমিত হওয়া সম্ভব নহে। 
উড়িষ্যার ভাক্ষর্য্য-নিদর্শনে পরিচ্ছদে বা অবয়বের গঠন-বৈশিষ্ট্ে 
বিদেশীয় প্রভাব আলোচন। করিতে গেলে সুবিধামত ছুই একটা 
মুর্তি বাছিন্না লইলে চলিবে না; সাধারণ মুর্তিগুলির কথাই বিশেষ 
তাবে বিবেচনা করিতে হুইবে। 
শিল্পিগণ যে পুরুঘমূর্তি ছাড়িরা শ্ত্ীমূর্তির পরিকল্পনাতেই গ্রীক 
আদর্শের নিকট সৌন্দর্ধ্যভিক্ষা করিতে গিয়াছিল-_-এ অঙ্গমাঁন যদি 
ন্যারসঙ্গত বলিয়া বিবেচিত ন! হয়, তাহা হইলে উড়িব্যায় গ্রীক 
প্রভাব সম্বন্ধে অনুকুল মত প্রকাশ করিবার পুর্ব্বে সব দিক্‌ একবার 
উত্বমরূপে বিবেচন! করিয়! দেখাই কর্তবা। ডাঃ গুস্তাত লেব 
বলিয়াছেন, “গ্রীক সত্যতার সহিত দীর্ঘকাল সংস্পর্পণে আসিয়াও 


(১৯) 28০9, 1. )09৮588 100101601175 10785 291185985। 0, 20, 


তখনেরের ভাট ও উদার পিক : ১৯৯ 


ভারতবর্ষ শিবিরে কোন খাই এরহণ কৃঝে দাই। (বেখানে 
ছইঙগাতির এরপ যাড়ুগত সামী, েখানে অরুচি বা. খা: 
গ্রহণ কোনদতেই সন্ভবে না। হাহাদের চিন্তালোত ভিযদিকে' 
জীবাহিত এবং শিল্পগ্রতিভাও দুসমঞ্জল হইবার নহে, তাহার! 
কি করি! পরস্পরকে প্রভাবাদ্িত করিতে সমর্থ হইবে? 
হিনুপ্রতিভাক্ক এমনই বিশেষত্ব যে, বাধ্য হইয়া হিনুগুণ যখন 
যাহা কিছু অন্থকরণ করিয়াছে, তখনই তাহ! সঙ্গে সঙ্গে 
নিজশ্বতাবে রূপান্তরিত করিয়া লইয়াছে। & & সুতরাং গ্রীক 
শিল্পের ব্ব-প্রভাব বিস্তারে এই যে নিক্ষিয়তা, তাহ! ভারতবাসীদিগের 
বৈদেশিক শিল্প-পন্ধতির অনুকরণে অক্ষমতার পরিচায়ক নহে। 
বন্ততঃ উতয় জাতির প্রক্কৃতিগত বৈষদ্যই উহার মূলীতৃত কারণ” 
(২*)। বহাদর্শী সমালোচকের এই উক্তির পর আমাদিগের আর 
এ সম্বন্ধে বিশেষ কিছু বলিবার নাই। ডাক্তার লে ব উড়িয্যার 
স্থাপত্য ও শিল্পকলা! সন্বন্ধেও যথাযোগ্য আলোচনা করিতে ছাড়েন 
নাই) ম্ৃতরাং তাহার মন্তব্য ভারতবর্ষের অস্তান্ত দেশ অপেক্ষা 

উড়িষ্যার প্রতি কোন অংশেই কম প্রযোজ্য নহে। 

ভারত-শিল্পের বৈশিষ্ট্য--তাহার ভাবগ্রবণতা। বে অধ্যাত্মবাদ 
্ব্নূত্রের স্তায় ভারতীয় ধীশক্তি ও দার্শনিক গবেষণার সহিত 
অনুন্থযত, তাহা এই ভাবপ্রবণতারই নামাস্তরমাত্র। বলের শীসন-.. 
কর্ত। মহামান্ত লর্ভ নোণান্ডশে মহোদয় বধার্থই বলিয়াছেন যে, 
তারত-শিল্পের এই প্রধান ও বিশিষ্ট উপাদান অরগাবানী, তগন্তা- 
পরার়ণ আদিম আর্ধাধধিগণের নিকট স্ছইতেই প্রা । বাদক 


(২০) 1555 01000170668 0৩ ১1 10106 0951 107. (9989৩ 746. 
8007 200 1219. 


১২৩ ভূবনেশখয়ের কথা । 
যেরূপ সাধনার ফলে বাস্ডবন্্ব হইতে সুমিষ্ট সুর উৎপাদন করে, 
বিশ্বপ্রক্কাতি হইতে ইহাও সেইরূপেই সম্ভৃত (২১ )। 

কেহ কেহ বলিতে চাছেন বে, হিন্দুর! বহির্জগতের অন্যিত্বেই 
বিশ্বাস করিতেন না, সুতরাং ভাক্ষধ্য-উৎকর্ধে দক্ষভালাভ বিষয়ক 
প্রেরণ! তাহাদের ন থাকিবারই কথা। ভারতের তাক্ষর্ধ্য “বাস্ক' 
শিল্পেরই আনুষঙ্গিক । ছুন্নর গ্থুকলিত পুরুষ ও স্ত্রীঘূর্তি, জীবজস্ত 
বা লতাপাতার চিত্র, নানাবিধ গাহন্থ্য চিত্র,-_আপাতদৃষ্টিতে ধর্সা- 
সম্পর্ক-বিবর্জিত ও সর্ধবিধ শিল্পকলার আদর্শভূত ; উড়িষ্যার দেব- 
মন্দির ভিন্ন অপর কোথাও এগুলি এরূপ পারিপাট্যের সহিত সঞ্জিত 
দেখা যায় না। ধে ভারতবাসীদিগের ধর্ম ও ভগবস্তক্তির নিদর্শনস্বরূপ 
সহ সহত্র মন্দিরচূড়া আজিও উন্নতশিরে দণ্ডারমান, আজিও 
বছুসংখ্যক দেউল ও স্ূপের ভগ্নাবশেষ যাহাদের কারুকার্ধ্য ও অপুর্ব 
শিল্প-কুশলতার সাক্ষ্য দিতেছে, ভাক্ষর্্যবিষয়ে তাহাদের প্রেরণা 
ছিল না, ইহ! কি করিয়া স্বীকার করিব ? মাক়্াবাদী শক্ষরের শিষ্য- 
সম্প্রদায় ভারতের নানা স্থানে মঠ প্রতিষ্ঠ। করিয়া! গিয়াছেন, জগৎ 


(২১) 41705 01958171196 0015805 0৫ 01215 106911915 875. 0৮62 
1060 855 65510585০01 2868 ( 11001815 ) 1715115৩851 06108 2৩০০265 
৪19781586 052 দত 555. 665 911810- 5০: 16 জ95 5156 215৮2 
501515 £1002 00612 7০708 5 196100865 ০০০05091258 %10 9185 
৮5 19 09৩50 %617108 8876856015 ০৫ 029 18067 02301) জিও 8৩20৩ 
566100560 00610057 15 01557 0.5 09053501872 89200 50029 
০৩:6০% 10500706126 19125 005 1855 15217563 €0 0385665% 

(7. 22, 10162 269819515975 800116598 & 0065 58192 ০ 
08152151 2১৫ 0০৬৮ 2208855/ 0০8109665, 260105৫ 10 1195 7361082- 
15৩ , 10606507566, 1919), ভাঃ কুদারন্বাধী £4১1795 01 1190121) 21৮ 
বিধদ্ে প্রায় এইদনি হতই প্রকাশ করিয়াছেন। 


ভূবনেশ্বরের ভাক্কর্ধা ও উড়িম্যার পিল্পকল।। ১২১ 


অবাস্তব বলিয়া! এই “বাস্তব শিল্পের উপেক্ষা করেন নাই। 
মন্দির গড়িলেই তাহার ভিতর ও বাহিরের শোভা সম্পাদন আব- 
শ্লক এবং সাম্প্রদারিক বিভিন্নতা-অনুযায়ী নানাবিধ বিগ্রহ্রও 
প্রতিষ্ঠা করিতে হয়। আবার মন্দির-গাত্রে শিল্পী কোথায় দ্বারপাল, 
কোথায় বৃক্ষবন্নরী, কোথায় মিথুনাদি সন্নিবেশিত করিবে, তাহাও 
শিল্প-শাস্ত্রে নির্দিষ্ট রহিয়াছে । হুতরাং মনির-সংক্রান্ত “বাস্ত'-শিল্প 
ও ভাস্কর্যের 'মধ্যে একের দি উন্নতি হয়, সঙ্গে সঙ্গে অপরটিরও 
উন্নতি অবশীস্তাবী । 

পাথর কাটিয়! বাস্ত রচনা করিতে ভারতীয়গণ পূর্ব্ব হইতেই 
অভ্যস্ত ছিল কি না, সে আলোচন! প্রায় রাজ! রাজেজ্রলাল বহু 
পূর্বেই করিয়া গিয়াছেন। সুতরাং সে সকল কথার পুনরাবৃত্তির 
আর প্রয়োজন নাই। গৃহনির্মাণের জন্য বাহারা পাথর কাটিতে 
শিখিয়াছে, পাথর কাটি়। মূর্তি রচনা করিতেই বা তাহাদের অক্ধ- 
মতার সম্ভাবনা কোথায়? থাকুক সে কথা। 

উৎকল-সৌন্দর্য্যের আদর্শ পাশ্চাত্য আদর্শ হইতে যতই বিভিন্ন 
হউক "সীতার বিবাহ'-চিত্রে সীতাদেবীর লজ্জা-বিন্ মুখ্জীর 
মধুরিমা এবং কোণার্কে প্রাপ্ত শিক্ষাদান- চিত্রে (২২.) শিষ্য- 
দিগের গুরুপদেশ শ্রবণে চিত্তনিবেশজ্ঞাপক অবস্থান-ভঙ্গীর যে 
স্বাভাবিকতা পরিলক্ষিত হয়, তাহাকে কোন অংশেই প্রাণহীন 
বলা চলে না। ভারতীয় শিল্পী “তালমান' বজায় রাখিয়া চলিত, 
তাই আকৃতিতে ছোটই হউক আর বড়ই হউক,, তাহাদিগের 
রচিত মূর্তিগুলির অন্পপ্রত্যঙ্গ কোথাও তেমন “বেমানান বা 


(২২) 315590 95810155 70081068, 0০327, 
১৬ 


3২২ ইরনর কখ!। 


অমমগ্রস বি বৌধ নর না। 'ীযুক যনোঁদোহজ দীঙ্গোপাধ্যায় 
নিজগ্রহথে বিভিগন'পরিমাপানি উল্লেখ করিয়া ইদখাইয়াছছেদ যে, ভূবনে- 
শ্বরের মন্দিরের মূর্তিগুলি শুক্রনীতি-মরনি্ি ' পঞ্ুকাল+ শ্রেণীর । 
সগতাল মূর্তির লমগ্র দৈর্ঘট, চিবুক ইইতে. শিয়োদেখের: পরিমাপের 
সগ্তগুণ (২৩)। এই সকল মুর্তি অথবা! ক্ষোদিত চিগ্র লাঁধারপতঃ 
বিভিন্ন বিডির খণ্ডে সঙদিধগাজসথ খাঁজ বা কুলঙীতে নিত হইয়াছে 
'মূক্ষিণী মন্দিরের চিত্রাবিগন স্তায় এপ্খলিতে -ধিংক-পাঁরিঞ্পরধ্য ধারা- 
বাহিক ভাবে রঙ্গিত হয় (তাই। মেব-তোরীয চিত্রের পার্থেই 
গার্হস্থ্য চিত্াদিও দের ধার? দ্গিদী শিল্পী ্লাযেঙ্গরের বিরাট 
দরদালানের ছাদে, সমণ্ত রামারণ মহাভারভটা- ছবি আকারে 
ফুটাইয়াছে, কন্যাকুমারিফার সিফটনর্ভী “গুচিজাহনিয়ের” গোপুরদে 
(২৪) রামায়ণ, 'মহাতারভ এবং প্রায়' সমস্ত পুয়াণের প্রসিদ্ধ 
গর্পগুলি ক্ষোদিত করিযাছে-- যেহেতু দক্ষিণী শিল্পের ইহাই একটি 
চিন্ন-প্রচলিত প্রথ|।' কন্বোনের ওষ্ষার-ভটে এবং ঈবন্ীপের বর- 
ভূধরে ( বরবছরে ) শিল্পফুলল দঙ্গিনী ভান্বর়গণ তাঙাদিগের শ্বগ্রতি- 
ঠিত শিল্পরীতির় যে অক্ষয় চি রাখিয়! গিয়াছেন 'জীহাতেও দেখিতে 
পাই--পৌরাণিক বা জাতফ,কাহিনীর চিত্রগুলি একটির পর একটি 
ধারাবাহিক ভাবে বিদ্যপ্ত; ভুতরাং একটি চিত্র টিনিয় লইতে 
পারিলে, সমগ্র গল্পটিই সহজে বুল. ধায় । . উ়্িত্যার হন্থির-চিত্রা দিতে 
কিন্তু এরূপ ধারাবন্ধ বিষহসি্সিরেপ দৃষ্ট হন না। লীঘার বিবাহের 
কষো্িত চি দেখি নিকটে কোথাও মায়ামগবধের চিত দেখিবার 


হি 14, 28589155 021584 ৫০৫ ও 167008828) 20 2809 214 
ভা উপাসনা, কার্তিক ..১৬২৬, পৃঃ ৪৫। 


তুবনেশ্বরের তাক্ষরধ্য ও উততিগ্যার শিল্পকলা । . ১২৬ 


তরসা করিলে নিরাশ হইতে হয়। মন্দিয়-গান্রস্থ বিডির কুলু্গীতে - 
বে সকল বিচিতঅ সুষ্ধি দৃষ্ট হয়, পারম্পর্যযশূন্য হইলেও সেগুলি বড় 
কম কৌতৃহলজনক নহে । 

ফোণার্ক মন্দির দর্শন-ফালে তফুসন্লিহিতা রমনার কয়েকটি চিত্র 
দেখিয়াছিলাম ; কিন্ত তখন সেগুলি বিশেষভাবে লক্ষ্য করি নাই। 
এই চি্র-পরিক্ল্পনা যে বিতণ্ডার বিষযীভূত হইতে পারে, তাহ! তখন 
খঁবগত ছিলাম না। ভূবনেশরে প্রা্চ এই শ্রেণীর একটি তরুণীর 
মুর্তি ডাঃ গস্তাত লে-কর গ্রন্থে ৫৬ সংখ্যক চিত্রে প্রদর্শিত 
হইয়াছে । ডাঃ লে-ব স্থির করিয়াছিলেন ভূবনেশ্বরের “বড় দেউল, 
(লিঙ্গরাজ-মন্দির ) খীঃ ৭ম শতাব্বীতে নির্মিত । তিনি এ সুর্তিটি 
৭ষ শতাবীতে নির্শিত বলি! প্রকাশ করিলেও ইহাযষে কোন্‌ 
মন্দিরে সংলগ্ন ছিল, তাহ! স্পষ্ট করিয়া বলেন নাই। এই স্তরমুর্তির 
তঙ্গী বড়ই জুষ্বর। ..বমনীর বাম হত্তে পুঙ্পসমঘ্িত বৃক্ষশাখা। বাম 
পদ উদ্বোলিত,--যেন বৃক্ষকাণ্ডে সংসপৃ্ট। শ্রীযুক্ত *হেভেল প্রনীত 
এপ্রহ্থে (২৫) বিলাতে ভিক্টোরিয়া-আলবার্ট চিরশালায় রক্ষিত এইকপ 
একটি মূর্তির চিজ প্রদত্ত ইইয়্াছে। বুদ্ধের জনমগ্রহণকালে, বুদ্ধ- 
জননী মায়াদেখীর মুস্তি যেরূপ প্রদর্শিত হইয়! থাকে, তাহাতে 
দেখিতে পাই যে, রাষ্জী মান্না একটি বুঙ্গের কাঙে হেলান দিয়া, 
একটি চরণ উত্তোলন করিয়া! বক্রভাবে দীড়াইয়া আছেন) আর 
. শি শাক্যসিংহ মাতার কুক্ষিদেশ বিদীর্ণ করিয়া বাহির হইতেছের। 
বুদ্ধ লুদ্দিনী বনে শাম্সলী বৃক্ষতলে জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন্ট তাই 
পিত্ল-নির্শিত নেপালী সৃর্থিসমূহে বৃক্ষটি বেশ ছুম্পষ্ট ভাবেই 





(২৫) 15818 ৩৫179018521, 01 ০7:92, 


১২৪ তুব্দেঙ্বরের কথা 


প্রদর্শিত হই! থাকে । বিদীর্ঘ কুক্গিদেশ ও তাহ! হই অর্দনির্ঘত 
শিশু দেখিলেই+ মায়াদেবীর মুর্ঠি চিনিয়া৷ লওয়া যায়।। ভারঙাতের 
সপে “না, নামক যে একটি পর -নিরসিতবনিনী সৃতি আছে, 
তাহাও বৃষ্ষকাণডের সহিত সংযু্ত (৬) । আবার সাক্কীর পুর্তোরণে 
দেখ! যায়--একটি যুবতীমূর্তি ছই হাতে ট্রাকটি অশোক-শাখা 
ধরিয়া আছে এবং বামপদে বৃক্ষকাণ্ডের অধোদেশ ম্পর্ণু করিতেছে। 
রমণীর পদপল্লব বহু অলঙ্কারে বিতৃষিতি। জীধুক্ত ভিন্দেন্ট শিখ প্রমুখ 
গ্রীকপ্রভাববাদী পর্তিতগণ নিসরদেশে এইকপ বৃক্ষে অর্গিত-দেহ 
পুরুষসূর্তি দেখিয়া! স্থির করিয়াছেন যে, গ্রীকগণই মিশরে উহ 
প্রচান্সিত করে এবং গ্রীক পিশ্ীদিগের ছ্বারাই এই মনোহর বাঁধা- 
ছাঁচের (০7০81) মূর্তিগুলি ভারতে প্রচলিত হইয়াছিল। এই 
মুর্তিপরিকল্পনার যে কি উদ্দেশ্য, শ্রীযুক্ত শ্মিখ মহোদয় তাহা 
আলোচনা! করেন নাই। ত্রীঃ ১৯*৯ সালের "দূর প্রাচ্যবিষ্তা- 
অনুশীলন সমিতির মুখপত্রে আচার্য ফোগেল (107, 1]. 720, 
৬০৫০1) “নুন্বরী-তরুণী ও অশোক বৃক্ষ” (78 73০16 ৬৫ 1 
110 2০05 ) নামক একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত করেন, তাহাতে 
এ চিত্রের গৃঢ়ার্থ অতি ছুন্দরভাবে নির্ণীত হইয়াছে (২৭)। 

মথুরার কালেক্টার-সাহেবের কুঠিতে প্রন্তরনির্দিত পিল্পাদার 
আলিসার (1১৪15350৩ ) একটি খর্তীক্কত অংশ কিছু দিন ধরিয়া 
, পড়িয্লাছিল। পরে উহা স্থানীয় সংগ্রহশালার স্থানাত্তরিত হয় (২৮)। 

এই প্রন্তরথণ্ডের একদিকে কতকগুলি পন্নাকৃতি পুম্পের 


(২৩) 08120108081 31881096208 4011, 

(২৭) 59901150095 14 06015 ৮1180081868 86 25001510606 
01706 190 79০০, 0, 981, 

(২৮) 8 0. 55, 1188915 51058408 08581089612. 153, 


চিও ৩৮) 





স্তবনেশ্বরের মন্দিরগাত্রস্থ খাজে অবস্থিত তরু ও তক্ষনা মুদ্ধি। 
[ শ্রীযুক্ত অদ্ষেত্দ্রকুমার গঙ্জোপাধায় মহাশয়ের ০সীজন্তে ] 
[ পুঃ ১১৩ 
( চিত্র ৩৯ 





ও টি 


ভূবনেশ্বরে প্রাণ্ড তরু ও তরুলী মুস্তি। 
[ ডাঃ গুস্তাভ লে ব'র গ্রন্থ হইতে ] [ পৃঃ ১২৩ 


ভুিধরের তার ও উড়্ি্ার শিল্পকলা। ১২ 


* প্রতিরগগ আছে ও অপরদিকে একটি অমবাহ্কা তরুণী অশোক- 
ত্ররুর কাওদেশে হেলিয়া, বামহস্তে একটি পুশিত প্রশাখা 
ধারণ করিয়া দীড়াইয়া আছে। মধুরার শিললি্টণ যে প্রকার 
মৃতানিরতা' বিলাসিনীদিগের মুক্তি বৌদ্ধ ও জৈন মনদিরাদির 
চডুঃপার্থে সস্থাপন্্করিতে ভালবাসিত, এটি সৈ গ্রকার নহে। 
রমণীর বাম্পদ পুম্পিত তরুর কাগুদেশ স্পর্শ করিয়া আছে। 
দীর্ঘ অগ্রশত্ত পর্রগুষ্ি: দেখিয়া বৃদ্ষতি যে অশোক,” যে বিষয়ে 
সন্দেহ থাকে না। আচার্য ফ্লোগেল বলিয়াছেন, অগ্রিমিত্র 
মালবিকাকে যে কি অবস্থায় দেখিয়া প্রণমুমু্ধ হইয়ীছিলেনু। তাহা 
ইহা হইতেই অনুমান করা যায়। নুন্দরী নারীর পদাধাতে অশৌক- 
তরুর পুশোদগম কল্পনা ভারতীয় কবিসমাজে সুপরিচিত । ইংরাজ- 
কবি টেনিসন তাহার একটি কবিতায় নারিকার পদক্ষেপণে 
“ক্রোকাম' (০০৩) পুষ্প বিকাশের উল্লেখ ধরিয়া এই 
শ্রেনীর কবিসময়গ্রসিদ্ধির সমর্থন করিয়াছেন বটে; কিন্তু অশোক- 
জাতীয় তরুবিশেষে এই উপায়ে পুশ্পোৎপাদন বিষস্গিণী কল্পনা কেবল 
এতদ্দেশীয় কাব্যেই নিন (0০025671198) দেখিতে পাই। 
কালিদাসের মালবিকাগিমিত্র নাটকে মাঁলবিকা যখন বাস্ভীর 
আদেশে অশোককাণ্ডে বামপদ ল্পর্শ করাইয়া অশোক-বৃক্ষের 
দোহা? ক্রিয়া নিয় করিতেছিলেন, সেই সময়ে বিদুষকসহ 
অন্তরালে প্রচ্ছন্ন রাজ! অগ্নিমিত্র তাহাকে এই অবস্থায় 
দেখিবার স্থযোগ গীটুস। মেদুতের (২৯) বক্ষ আাপৌক- 

(২৯) এক? সথ্যা স্তবসহ ময়া যামপাদাভিলাধী। 


কাঞ্ হাতে! ঘাদনদিয়াদ্‌ দোহগচ্ছত্মনাস্যা | 
(উত্তর়দ্ধ, মোক ১৭)। 


১২৬ তুবনেন্বরের কথা ।' 


তরুর সভার প্রিয়ার বামপদন্পর্শলাতের ভন্ড আগ্রহ প্রকাশ 
করিয়াছেন। 

ডাঃ লে বর গ্রন্থের চিত্রের সহিত মধুরার এ মৃষ্িটর তিক 
মিলাইলে দেখা যায় যে, এই ছুইটিতে বিশেষ ফোঁদও গ্রতেদ 
নাই (৩*)। কুস্তকোপমের সমীপবর্তী জিটুধনদ্‌ নামক ঈগ্গিণী। 
মন্দিয়ে গ্রতরক্ষোদিত খারপালিকা-মুর্তিতেও এইগীপ, বৃক্ষকা্ডে 
পাদম্পর্শ কনার পরিকল্পনা গৃহীত হইয়াছে, দেখিতে পাই। 
ইউরোপে আঁচেন নগরের বিখ্যাত ধর্মনিরে রক্ষিত হবিদতপটে 
খোদিত একটি আলেখোও এট্রপ তরু ও তরুণীর কবিতিমধুর 
সমাবেশ দেখ! গিয়াছে। ্রীযুক উ্রজিগউদ্থি হাশর বলিয়াছেন 
যে, ভারতী প্তাকষর্্যশিল্পের পূর্বোক্ত আদর্প ও মিশর .দেশের 
সেবেক্জরিয়্ার কপ্টিক শিল্পের বীধার্ছীচেরর এই অনুস্কতি একই 
মূল হইৃতে উত্ভৃত। সম্ভবতঃ ইহার প্রথম জাবির্ভাব, সিরিয়া বা 
এসিয়া-গাইনর-প্রদেশে হইয়া থাকিবে (৩১ )। 

সিংহলের "নারীলতা” (৩২) ও মকর-সুখ হইতে বিনির্গত 








রাজণেখছেন প্রাহৃতনাটা কপূর মররীতেও কপুরদজনীয চরপাঘাতে 
অঙোকতরপুন্পিত হইয়াছে। রতুধংণের চা ভুমারমকবের. 
অকাল যমতত ধর্ণনাতে৪ এই কাবা-মিরচি উল্লেখ আছে। 

(৩) জমতে হেভেল প্রণীত [05915 ০1 17478) 4 স্থে (পৃঃ 
১, বর ধিলাতের “ভিক্টোরিয়া! ও আলবার্ট” মিিণানার রক্ষিত খইরণ 
একটি মমুষার প্রতিকৃতি গর্ত হুইয়াছে। ৮ 

(৩১) ]. 58508977810, 0895৫ 15 19, 0. তে, র্পাল 
81511601520 10 8001590 15415) 074. 


(৬২) 871-1808। 68, 27) 1317 06970)8188%80758 বরিরি 
59108081656 271) 2, 9, 


৪ ক ও শপ পট পে শাস্তি জপ ৮ ২ পাশ প পাপ পক পাস কল চে উপ ্জস্টিবাজ লোস্ পি ৭ ৩ বাহারী জপখপ্থািক নু 
% 
। 





চি 
রর 874 
দি, তা 
ভি. 8, 
| টা 11815 47 রঃ 
টি 
ধিনিকে 
এড? 
০০4 | 
এ এ 


৬.1 


"শিস. 


০ নি 


যা ৰ ৭) 2 ) 
বি 


ভুবনেশরে প্রাপ্ত দর্পণধারিণী মৃষ্ঠি ও মাতৃমৃরধি 
[ কলিকাত। যাছুঘরে রক্ষিত ] [ পূঃ ১২৮ 


ভুবনেশরের ভা্ষর্্য ও উড়িস্যার শিল্পকলা । ১২৭ 


বারীসমূছে সদাবেষ্টিত। আধুনিক ' দক্ষিনী নারীমুষ্ধি (৩৩) 
এই গুপরিচিত নল্গায়ই জাতিত্ব জাপন করিতেছে (৩৪ )। 
তারভীর ললিতকলাতন্বে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আননকুমারম্থামী- 
মহাশ দুমধ্যসাগরের তীরবর্তী ইউপ্োপীয় সত্যতা এবং ভারতী 
সভ্যত! ও ধর্ণবিষয়ক সংক্কারাছির একত। “প্রসঙ্গে বঙ্গদেশীয় মদসা- 
মূর্তির সহিত প্রাচীন প্রীসীয় সর্পদেবীর মূর্তির এবং ভূঙ্গেখীও 
পৃরীস্থানীয়া গ্বীক গগেয়া” (088 ) দেবীর সারৃ্ঠের উল্লেখ 
করিয়! বলিয়াছেন (৩৫) বে, এসকল পুরাতন ছাচেন্স মিল খুঁজিতে 
হইলে, সত্যতার আদিযুগে অন্ততঃ ২৫০০ বৎসর পূর্বে যাইয়া 
পঁছছিতে হয়। খু পুঃ ২৯** বৎসরে বখন এই প্রকার আরশ, 
টীনদেশে প্রচারিত হওয়ার নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়, সেই' 
লয়েই উহা ভারতে আনা স্ব নলিয়া মনে হয়। এই সকল 
পরিকল্পন। উত্তরের পথে বাক্য! হইয়া, ককেসসপর্কত অতিক্রম 
করিয়া ভারতে গ্রবেশলাত করিয়া ছিল, ফি পারন্তের পথে, পারন্ত- 
উপসাগর অতিক্রম করিয়! আসিয়াছ্লি, তাহা নিশ্চয় করিয়া বলা 
হায় না। সম্ভবত: তখন কৃকেসসের পৎদিয়া নির্ধিরোধে গমনাগমন 
কর! চলিত। তাহা না হইলে চিত্র ও নম্বার একটি জুনির্দি্ 





ক 


৩৬) 01 সা (06 07595: 91178 ০0৮৩7 861 1755118 
15815 ০৫129180 41 ০91, 90111, 

(৩) অশ্টরতি দু অর্দেশুডুমার় গঙ্গোপাধ্যার শহাশয় ঘে একটি 
ধাডুনির্দিত হিটগ-সমিছিত| দেখীমূর্থি সংগ্রহ হরিগ়াছেদ, তাহার পাদপীঠে 
বন্ষা, বিকু গ্রস্থৃতি দেবতার দুর্তি দেখিয়! মনে হয় যে, ইহা! কোধাও ধিগ্র্থ 60০5 
রাখে পুর্ধিত 'হইত। এ দেবী মায়াই-হউর, বা আপয় কিছুই হউন, আনলে 
যে ইনি ককারভীয়, তাহাতে সন্দেহ দাই। 20180) 4910) 792৩ 0৭ $ 

(৩৫) 08881801568 261180117৬০] 111) 9, 387, 


১২৮  স্ুবনেতবরের কথা । 


স্তর-জ্ঞাপক এতগুলি' বীধ! আদর্শ. তায়তে« আসিয়া পহছিতে 
পাঁরিত না| ললিতকলা বিষয়ক কইল আদিধ . আদর্শ 
ইঞজিয়ান-াগরের উপকূল হইতেই আলগুক, অথবা. সি হইতেই 
আন্ুক, এরপ সাদৃহো ফোনও দেশের শিল্পধারার বৈশিষ্ট্য ছু 
হইবার কণা নহে। পূর্বোদ্ক প্রমাণগুলি আভিনিবেশ পূর্বক 
বিবেচন! করিলে, ভুবনেশ্বরে গ্রাণ্ড এই তরু ও তীর, পরিকলপানাটি 
ভারতীয় বলিয়া! ধরিয়! বওয়াই সমীচীন বোধ হুইবে'।" 
কলিকাতার যাহুখরে রক্ষিত, ভূবনেখরে প্রাপ্ত, কয়েকটি 
্রীমূর্তির মধ্যে দরগপিধান্নিণী একটি যুষ্তি অনেকেরই দৃষ্টি আকর্ষণ 
করে। খধুরার পাথরের পিল্লায় খোদিত স্ত্ীমূত্িগুলির মধ্যে 
'দর্পপধারিণী একটি নারীমুর্তির চিত্র জেনেরাল কানিংহাদ 
': কর্তৃক ১৮৭১-৭২ সালের শরস্থতবনিভাগের রিপোর্টে প্রকাশিত 
হইয়াছে [ছয় ($1) সংখ্যক চিত্র জর্টব্য] (৩৬)। কিন্ত 
ইহার সহিত উড়িস্তার মূর্িটির সেরূপ আকুৃতিগত সাদৃষ্ঠ 
পরিদৃষ্ট হয় না। 'আত্মসৌনার্যসু্জ এই রমণীদূর্ধির পরিকননায 
যে রসবতার ভাব (5896 ০13002081 ) দৃষ্ট হয়, অন্তটিতে তাহা 
একেবারেই বিরল । উড়িষ্যার মদ্দির-গাত্রে মনোবিমোহন ভঙ্গীতে 
যে সকল একক রমণীমু্তি দণ্ডায়মান! দেখ! যায় তাহার কোন 
কোনটির অনয স্ত্রীসৃ্তি মথুযা-ভাঙ্বর্যেও লক্গিত হইয়! থাকে। 
€ ৩৭) বল! বাহুল্য, এ সাদৃহী সকল ক্ষেত্রে মেয়প দুপরিষ্কট নছে। 
কানিংহামের চিন্নিহিত মুর্তিগুলির মধ্যে একটিতে অঙ্গীলতার 
একটু আভাস মাত আছে (78. 0. 71. ৮1.) কিন্তু কোনারকে 


(০ 8, 5. ₹, 2871-72 ৮০/ 11151ত চা 
(৬৭) 1510, ৮1, ৬1) ৬11 8201. 





মথুর1 ভাস্কর্যের সত্রীমুত্তি । 
| কানিংভাম হইতে ] [ পুঃ ১২৮ 





মথুরাভাক্ষরধ্যের কয়েকটি একক স্গীমুন্তি। 
(দক্ষিণ পার্শের শেষ মূষ্তিটি দর্পণধারিণী ) [ পৃঃ ১৮২ 
[ কানিংভাম ভইতে ] 


তৃবনেশ্বরের নব্য ও উড়িস্যার পিল! । ৯২৯ 


এইরূপ যে একটু মুষ্ঠি দেখিয়াছিলাম, তাহ! ,একেবায়েই 
বীডৎস্তাক় প্রতিরপ। দেশ কাল ও পান্রভেদে' যে লরিত 
বলার কাজেও ভাববিপর্ধয় ঘটিয়। থাকে, তাহা” অর্ীকার 
করার উপার নাই। ভারতীয় কলাপন্ধতি ঠিক একই ভাবে প্রবা- 
হিত হয় নাই। হিন্ছু ও বৌদ্ধ তাতে পরিলক্ষিত, নারীদেহে 
নিতখবের পৃখুলতা ও বক্ষোদেশের পীবরতা, ভারী শিল্পের বিশেষ 
বললিয়াই পরিগণিত। মধ্রার প্রাপ্ মৃ্তিনিচয়ে দেখা ধায়, নিতন্বদেশ 
অনেক স্থলে কটিয় পরিমাপের আড়াই (২1) গুণের কম নহে 
(৩৮)। আমরা উড়িষ্যার মুর্তিগুলির মাপ গ্রহণ করিতে পারি নাই; 
যতদুর শ্ারগ হয়, তাহাতে রমণীমুর্তিসমূহের দেহাংশে-বিশেষের এরূপ 
অদাবস্তক নিবিড়তা কোথাও বিসদৃশ ভাবে চক্ষে পড়ে নাই। 

হয জীযুক অর্ছেনদুকুমার গল্োপাধযাক-মহাশয় মডার্ণ রিভিউ 
পত্রিকায় সিংহ ও হস্তীর উপাখ্যান-বিষয়ক যে জুন্দর তথ্যপূর্ণ 
প্রবন্ধ লিখিয়াছেন, তাহাতে প্রসঙ্গক্রধে উল্লিখিত হইয়াছে যে 
'উড়িষ্যার ১১শ ও ১২শ শতাবীর ব্রাঙ্গণ্য মন্গিয়ের গ্রসাধক অনেক 
নারীমৃদ্তির আদর্শ ২য় ও ৩য় শতাব্বীর জৈন ও বোক্ধপ্রাকায়ের নক 
হইতে গৃহীত-_তাহা'র যে রমজাতীয়, সে বিষয়ে কোনও, সন্দেহ 
নাই, (৩৯)। বিশেধঝের এ মত বিশেষ অনুধাবন যোগ্য সন্দেহ 
নাই? কিন্তু ভুবনেশ্বর ও মধুরার তাস্বরয্যে যে বৈসানৃষ্ঠ বিস্তমান, 
এ স্থলে তাহার উল্লেখ ন! করিলে প্রকৃত শ্বরূপতা-টুকুও ভালরূপে 


(৬৮) 4, 5, ০, ০], 111, 2, 31. 
(৩৯) শসংহ ও হতীয় উপাখ্যান' শীর্ধধ অভার্দ মিডিউ পত্রিকায় 
গ্রবদের বঙ্গানুযাদ, প্রধাসী। কার্তিক, ১৩২৬) ও পৃঃ'৪২ ফোদারফের কথায় 
পাঁরিশিষ্টে জ্টঘ্য। 


১৩৬ ভূবনেশ্বরের কথ] । 


বুঝ! যাইবে না। নথুরার স্ত্রীমৃত্তি গুলি প্রায়শঃ গণমুত্তির উপর 
দণ্ডারমান! ) ভাই কেহ কেহ সেগুলিকে 1076167৪০06 ০ 
0170 অর্থাৎ জড়বস্তর উপর শক্কির ক্রিয়াশীলতার নিদর্শনরূপে 
গ্রহণ করিয়া থাকেন (৪*)1. কেহ কেহ আবার এই শ্রেণীর 
মুন্তিগুলিকে 'মার' বা' বৌদ্ধ শরূতানের সঙ্গিনীগণের প্রতিমৃত্তি বলিয়া 
বিবেচন! করেন। উততিষ্যার দর্ভবী-মৃত্তিগুলিকে কোনও গণমৃত্তি 
বা জীবমৃত্তির উপর 'দীড়াই়া থাকিতে দেখি নাই) বরং ভারহুত 
বিষয়ক গ্রন্থে কানিংহাম যে করখানি চিত্র দিয়াছেন, তাহাতে 
দেখিতে পাই, "বটনমার”-স্স্তগাতস্থ নর্তকীমৃন্তি, উপবিঞ গণমুর্তির 
বিস্তৃত করতলম্বয়ের উপর নৃত্যের ভঙ্গীতে দীড়াইয়া আছে (721, 
50 )। উক্ত গ্রস্থের ২৩শ সংখ্যক চিত্রে দেখিতে পাই (77515 
১011) বক্ষিণী হদর্শন! নৃত্যপরা রমণীর গ্তাস একটি গণদেহের 
উপর দণ্ডায়মানা । আবাগ স্ত্রীদেবতা। চুলকোক'হত্তীর উপর ললিত 
ভঙ্গীতে দীড়াইক়। রহিষাঁছেন। এই সকল চিত্রের সহিত মথুরার 
পিল্লাগা্রস্থ চিত্রগুলির যে সম্পর্ক খনিষ্ঠ তাহা সহজেই বুঝ! যায়। 
ডাঃ ফোগেল এ যুপ্তিগুলিকে বক্গী বঙিগ্কাই 'স্থির করিয়াছেন। 
তাহার মতে তৎসমর্থিত মৃপ্তিপরিচয়ের সহিত নর্তকীদিগের এপ 
কয়েকটি অঙ্লীল ভঙ্গীর বিশেষ অসামঞ্জন্ত দেখা বার না। যে 
স্থাপত্যকীর্তির চতুর্দিকে এ গুলি সন্গিবিষ্ট হইত, লোকের বিশ্বাস 
ছিল, তাহ! ইহাদিগের হ্বারাই সুরক্ষিত হইবে। ভয় দেখাইয়াই 
, হউক বা কামজনিত মোহ উৎধাদন করিয়াই হউক, যে কোনও 
উপায়ে বিরুদ্ধবাদী অনিষ্টকারীকে স্তস্তিত করিতে পারিলেই 


(৪০) 102. ৬/59961)18 0০988171518) 0. 4. 87 8 ৬০1 0৮6৬], 
₹, 79, 0০০$-0016, 





তা ও তন রর 
8০১ ১৮458 ০৯ 
লা. তা ৭ চে 1) 0২ - 

£ ? 5৭৬ ০4 বা 


কনের মন্দির গান্রসথ যি | 
শিরোদেশেসংসতহস্তা দতায়মানা দক্গিণপাঙ্স্ব ূততিটি 
'আলসনায়িকা' শ্রেণীর অন্তর্গত। 


| পৃঃ ১৩১ 


ভুবনেশ্বরের ভাস্কর্য ও উড়িস্ার শিল্পকল!। ১৩১ 


যক্ষিণীদিগের কার্ধয-সিদ্ধি হইবে, ইহাই বৌধ হয়, ভাৎকালিক 
জনগণের সাধারণ বিশ্বাস রূপে প্রচলিত ছিল। ' ডাঃ ফোগেল 
উল্লেখ করিয়াছেন, এই প্রকার রমণীমুগ্তি অন্্রধারণ করিয়াছে, 
এরূপও দেখা যায়। তীহার মতে হিন্দুমদিরে দ্বারপাল ও , 
ববদ্ধীপের মন্দিরে রাক্ষসমূর্তিগুলি যে উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হইত, 
এ গুলিও, ঠিক সেই একই উদেশ্ে' স্তস্ত বা পিল্লাগাত্্ে 
স্থাম অধিকার করিয়া আছে (৪১)। উ্কয্যায়. এক শ্রেণীর 
বিবৃতযৌবন! প্রগল্া স্ত্ীমূর্তিকে স্থানীয় শিল্িগণ “অলস নায়িকা 
নামে অভিহিত করিয়া থাকে (৪২)। দীড়াইবার ভঙগী সম্পূর্ণ 
না মিলিলেও পাদাদদি-বিন্যাসে মথুরার ছুই একটি নর্তবীদৃর্তির 

সহিত ইহার কতক সাদৃশ্য দেখা যায়। ভারহত ত্তুপপ্রতিষঠাঁর 
কাল হইতে যে কলা-পন্ধতি অনথস্থত হইয়৷ মধুরায় গ্রতিষ্ঠালাত 
ফরিয়াছিল, বহুশতার্বী পরে ভুবনেশ্বর বা কোণার্কের মন্দিরগানে 
কালবণে পরিবর্তিত সেই সকল বক্ষীমুর্তি--'অলস নায়িকা? প্রতি 
আকারে যে পুর্ববকালের ন্যায় একই উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয় নাই, 
.এ কথ! সম্পূর্ণ ভাবে অস্বীকার কর! সহজ নহে। ভারতশিল্পের 
প্রাচীন আদর্শগুলি অনেক পরিমাণে অদ্যাবধি রক্ষিত হুইয়াছে। 
উড়িষ্যা-মন্দিরের বহির্দেশে খোদিত নাগমুর্তির ন্যায় মথুরা-ভাস্বর্ষ্েও 
পঞ্চ ও সপ্ুরপাযুক্ত নাগমূর্তি দেখা হায় তবে উড়িয়া ভাত্বর 
আবর্তিত-পুচ্ছ-নাগদেহ-তক্ষণে প্রসাধক কলার দিক দিয়! যে' 
সৌনধ্য সৃষ্টি করিয়াছে, তাহাতে তাহার নিন্থ মৌলিকছটুক যে 


১ শাসক 


(৪১) 70 ০৪518 091919816০৫ ১৩ 14010170110 085017), 
(৪২) উৎকলীয় ভাক্ষয়ের এই পাযিভাধিক শট জীবুক্ত অর্দেত্র কুমায় 
গঙ্গোপাধ্যায় ষহাশয়ের নিকট অবগত হইয়াছি। 


৯৩২ ভুবনেম্বরের কথা । 


ফম বিকাশ পাইয়াছে, তাহা নছে। ভূবনেশ্বরের তাস্বর্্য-সমালোচদায় 
আমরা সাধারণতঃ উত্তরাপথের শিল্পধারাগত সাদৃশ্যেরই অনুসন্ধান 
করিয়া থাকি; কিন্ত তুলনাগত বিচারের উদ্দেশ্যে এ প্রসঙ্গে দক্ষিণ 
, ও পশ্চিমভারতীয় শিল্পকলার. এখনও ভালরপ অন্থশীলন হয় নাই। 
_ ভ্বনেশ্বরে প্রাপ্ত যে যোদ্ধু! ও তাহার প্রণক্িনীর ক্ষোদিত চিত্র রাজ। 
রাজেজ্লালের উড়িব্যার পুপ্লাতত্ব-বিষয়ক. প্রন্থে সঙ্লিষেশিত হইয়াছে, 
ঠিক তাহারই অস্করূপ একটি চিত্র কার্লির সুবৃহৎ চৈত্যে দৃষ্ট হয 
(৪৩)। ফেবল পার্থক্যের মধ্যে এই যে, কার্ির যুগলমূর্তির অবয়ব 
যেন কতকটা অধিক পুষ্ট এবং পুক্ুবমুর্তিটির মন্তকাবরণ বিভিন্ন 
রকমের। কোনও কোনও পণ্ডিত কার্গির ক্ষোর্সিত চিত্রাবঙ্গীতে 
পার্সি-পলিসের প্রভাব সন্দেহ করিয়৷ থাকেন? কিন্ত এ শিল্পে 
গ্রীকপ্রভাব এ যাবৎ অল্ভুমিত হয় নাই। মুতরাঃ এ পরিকল্পনা 
গ্রীক-গ্রভাবশুন্য বলিয়াই ধরিয়া লইতে হয়। ডাঃ ফোগেল কানিং- 
হার্মের উক্তি উদ্ধৃত করিয়! দেখাইম্মাছেন (৪৪) যে, বৌদ্ধ-শিল্পে 
মথুরার প্রভাব বিশেষ ভাবে প্রকট এবং মধুরার নির্সিত বৌদধমূর্তিসমূহ 
উত্তরভারতের বিভিন্ন স্থানে নীত হইত। শিল্পীক্ন মারফতে ভারতের 
একগ্রদেশের শিল্পপদ্ধতির বীধাহথাচগুলি যে অন্য প্রদেশে পঁহছিত, 
এ অন্থ্মান অসঙ্গত না হইলেও মথুরার মূর্তি উত্তর হইতে ভারতের 
দক্ষিণপূর্ববাংশে, উৎকলপ্রদেশেও ধে আমদানি হইত, তাহার কোনও 
সাক্ষাৎ প্রমাণ পাওয়া যায় নাই। উড়িয়া স্থপতি শ্বদেশীয় স্থাপত্য- 


প্রণানীর বৈশিষ্ট্য যেরূপ নিজ প্রতিভার সম্যক বিকাশলাতে সমর্থ 
52225525255 
(৪৩) 11910:00) ০0১, ০10 চ1£. 36) ০. 128. 
(৪৪) 0810819886 ০৫ 075 421 012550108105] 718156800৪6 1081202) 
6. 28. 


লিঙ্গরাজ মন্দির গাত্রে অবস্থিত যোদ্ধা ও 
তাহার প্রণয়িনীর মুস্তি। 
[ রাজ। রাজেকন্্লাল মিত্রের গ্রন্থের ৫৮ নং চিত্র অবলম্থনে ] 





[ পৃঃ ১৩২ 





কার্িগুহায় প্রাপ্ত যুগলমৃষ্ঠি। 
[ মরিল্‌ ম্যা্দ্র'র গ্রান্থ-নিহিত চিত্র হইতে ] [ পৃঃ ১৩২ 


ভুবনেশ্বরের ভাস্কর্য্য ও উত়্িগ্যার শিল্পকল!। ১৩৩ 


হইয়াছে, ভাস্কর্যেও তাহা! অপেক্ষা কম পারদর্শিতা প্রদর্শন করে 
নাই। বঙ্গদেশে উড়ির! স্থাপতা-প্রথ৷ বীকুড়া পর্য্যস্ত সংক্রমিত হইয্া- 
ছিল। ১৬২২-২৩ খুঃ অবে বিষুপুরের মন্লয়াজ প্রতিষ্ঠিত মল্লেশ্বর 
মন্দির আজিও তাছার সাক্ষ্য দিতেছে (8৫)। বঙ্গদেশের ভাঙ্বর্ধয- 
নিদর্শনের সহিত উড়িষ্যার ক্ষোদিত চিত্রগুলির এখনও তুলনাগত 
আলোচনা হন্ধ নাই, হইলে ধীমান বীতপালের দেশবাসীর নিকট 
উড়িয়া ভাঙ্করের মস্তক অবনত হইবার বিশেষ কোনও কারণ 
খুঁজিয় পাওয়া যাইবে না, বলিয়্াই বিশ্বাস জম্ম । 

আমর! উৎকল-ভতাস্কর্য্যের আলোচনা! করিতে গিয়া মূর্তি ও 
ক্ষোদিত চিত্র গ্রভৃতিরই উল্লেখ করিয়াছি; কিন্তু স্থাপত্য-অলঙ্কার- 
রূপে ব্যবহৃত যে অপূর্ব কারুকার্য ও কলাকৌশল কুড্যন্তস্তগাত্রে 
' মাল্যাক্কৃতি ডালিতে এবং “ফুললতা?, “নটালতা”, পন্রলতা* প্রভৃতি 
লতার আবর্তনে প্রকাশ পাইয়াছে, তাহাতে অভিজ্ঞ সমা- 
লোচকের মতে চাকুশিল্পের এ শাখায় গ্রীক-শিল্পী অপেক্ষা উড়িয়। 
কারুকরেরই কৃতিত্ব সমধিক-ভাবে প্রকট হইয়াছে (৪৬)। 
ধাহারা প্রস্তরমূর্তির নির্শাপ-ব্যাপারে গ্রীক আদর্শের প্রভাব 
স্বীকার করিতে দ্বিধা! বোধ করেন না, তাহারাও এই প্রসাধক 
কলা-কৌশলের মৌলিকত৷ যে ভারতীয় ভাম্বরের নিজন্ব, তাহা! 
অসক্কোচে' প্রকাশ করিয়া! থাকেন। ভারতীয় প্রত্বতত্ব-বিভাগের 
সর্বাধ্যক্ষ সার্‌ জন্‌ মার্শাল মহোদয় মুক্তকঠে শ্বীকার করিয়াছেন 
যে, যে অপূর্ব্ব সৌনরধ্যবোধ ও শোভা-সম্পাদন-কুশলতা৷ ভারতীয় 
শিল্পে প্রথম হইতে শেষ পর্যস্ত বিদ্যমান, তাহা উত্তরাধিকার- 


লা হর, উহ যার 


(৪৫) 0, 4, 5. চিৎ 1909 (ই. 5.) ০.146. 
10৪৬) 21. 08080195 011555 900 1081 16108178) 09, 1911939, 


১৩৪ ভুবনেশবরের কথ! । 


সথাত্রে প্রীণ্ড, বিদেশীয়ের নিকট খণন্বরূপ গৃহীত নহে (8৭) 
বুদ্ধগয়ার তাস্কর্ষ্যে “কীর্তিমুখ', এবং “বড়ঝাজি নামক জলজ 
উদ্ভিদের অনুকরণে উত্তাবিত স্থাপত্য-অরস্কারের সাদৃশ্য লক্ষ্য করিয়া, 
ভরসা করি, কেহ উৎকল-শিল্পের মৌলিক পরিকল্পনাগুলির সৌন্দ- 
ধোর কথা বিস্ৃত হইবেন না। ভুবনেশ্বর-স্থাপত্যে বিচিত্র কারু- 
কার্ধের দৃষ্াস্ত মুক্তেশ্বর মন্দিরের জালিকাট৷ জানালার চারি পাশেও 
বড় কম দেখা যায় না। ইহার মধ্যে হন্ুমন্ত'লতার চিত্রটিই 
সর্বাগ্রে চক্ষে পড়িয়া! যায়। পূর্বেই 'ভুবনেশ্বর'- প্রসঙ্গে লিঙ্গরাজ- 
মন্দিরের ভাস্কর্যের বর্ণনা প্রদত্ত হইয়াছে; সুতরাং এ উপলক্ষে 
তাহার পুনকুল্লেখ নিশ্রয়োজন। মুক্তেশ্বর-মনিরের কাকুকার্ধ্য- 
বহুল গীঠ, ভূমি, উদগতত্তস্ত প্রভৃতি লক্ষ্য করিলেই, এ দেউল যে 
ওদরস্থাপত্য ও ভাস্বরয্য-নিদর্শনের মধ্যশি-্বরূপ, এ উক্তির সার্থকতা 
প্রতিপন্ন হয়। | 

বাঙ্গালী চারশিল্পের উদ্বোধন প্রা তুলিয়। গিয়াছে ; কিন্ত শুদ্ধা- 
সতের নিভৃত অন্তরালে বাঙ্গালী বধূরা মাঙ্গলিক অমুষ্ঠানোপলক্ষে 
এখনও যে সকল আলিম্পন অক্কিত করেন, তাহার সহিত পূর্যোত্ 
লতামগ্ডনাদির যেন জ্ঞাতিত্বের সন্ধান পাওর! যায়। কলিকাতায় 
চিৎপুর রোডে পাথুিয়াঘাটার সঙ্গিকটে এখনও কয়েকজন ভাস্বর 
বঙ্গদেশে প্রচলিত ছুই চারি গ্রকার বিগ্রহ পাথর খুদিরা তৈয়ার 
করিতে পারে গুনিয়াছি। কলিকাতার বাহিরে, সমগ্র বঙ্গদেশের 
মধ্যে এক কাটোয়! ও তৎসন্লিহিত ডাইহাটে সামান্ত রকম প্রন্তর- 
নির্শিত দেবমৃত্তি প্রস্তত হইয়! থাকে (৪৮)) কিন্তু উড়ি্যার 


(৪8৭) 00106 00 9870101) 0. 12, 
(৪৮) 77856115 1109081528 00 96006091178 10 360851) 7. 16. 





লিঙ্গরাজ মন্দিরের শিখরগাত্রস্থ লতা! আবর্তনের মধ্যে জান্তব চিত্রার্দি। 
[ রাজা রাজেন্লাল মিত্রের চিত্র হইতে ] 


[ প; ১৩৩ 





লিঙ্গয়াজ মন্দিরের জগমোহনের উদগত স্তত্ত ( কুডা স্তত্ত) 
গাত্রস্থ লতা আবর্তন । 


[ রাজ। রাজেজজলাল মিত্রের চিত্র হইতে ] [পৃঃ ১৩৩ 


ভূবনেশ্বরের ভাক্কর্যা ও উড়িষ্যার শিল্পবলা। ১৩৫ 


ভাক্করের! এখনও তাহাদের বংশপরম্পরাগঞ্ত ক্ষত ইহা 
অবিক্কৃত তাবে রক্ষা করিতেছে। 

ভ্বনেশরে যে সকল উড়িয়া! শিল্পী রার্জারাণী, মুক্তশ্বরর, সিদেসবর, 
ভাক্করেশ্বর, রদ্দেশ্বর, পরশুরামেশ্বর প্রসৃতি মনির মেরামত ও 
সংরক্ষণের জন্য গবর্ণমেন্ট কর্তৃক নিযুক্ত হইয়াছিল, তাহার! অনেফ্‌ 
ক্ষেত্রেই ভাঙ্গা “মূরত”গুলির স্থানে নিজেদের নির্শিত সেই প্রকারি 
মৃত্তি বসাইয়! দিতে সমর্থ হইয়াছে । কোণাকমন্দির সংস্কারেও 
ইহার! যথেষ্ট কা্যতৎপরতা প্রদর্শন করিস্বাছে। "যুক্ত সাবু জন 
মার্শাল মহোদয় এই উপলক্ষে ভূবনেশ্বরের জনৈক আধুনিক শিল্পীর 
রচিত কারুকার্য্যের উল্লেখ করিয়া তীঁহার ১৯*২-৩ সালের 
রিপোর্টে লিখিয়াছিলেন (পৃঃ ৪৬), "প্রাচীন আদর্শের তুলনায় 
এ ব্যক্তির কার্য্য বড় অধিক অপরৃষ্ট বলিয়া বোধ হয় না, কেবল 
মনুয্য-মূর্তি ও জান্তবমুর্তি-সমূহে কিঞ্ৎ সৌন্দর্যের অভাব পরিলক্ষিত 
হইয়া থাকে ।” ভারতে আধুনিক শিল্পীদিগের মধ্যে, রাজপুতানা 
ও পার্জঃবে বালিয়া-পাঁথরের উপন্ন স্থাপত্য-অলঙ্কার-হিসাবে নানার 
নক্সা কাট! হইয়! থাকে ; কিন্ত উচ্চাবচ তক্ষণের গুণে, আলে! ও 
ছারার সমাবেশে) যে সৌনার্য্যের উদ্তব হয়, উড়িয়াদিগের স্যার 
উত্তরাপথের ভাস্করেরা এ বিস্তায় সেরূপ পারপর্শতা লাভ করিতে 
পারে নাই। গ্ীযুক্ত হেভেল লিখিয়াছেন গত পনর-বিশ বৎসরের 
মধ্যে চিস্তামণি মহাপাত্র, মহাদেব মহারাণা, কপিল মহাপাত্র 
প্রভৃতি কয়েকজন ভাক্কর কয়েকটি ছুন্দর সুন্দর পাথরে খোদাই 
করা দরওয়াজ! (0০০7/7) ) প্রস্তুত করিয়াছে। পুরী-তীর্বের 
"এমার মঠ” নামক বৈষ্ণব আশ্রমের প্রবেশ-দ্বারগুলি ইউরোপের 
মধ্যযুগের গথিক ধর্মমমন্দিরের ভাক্ষর্ষ্যের সহিত অনায়াসেই 


১৩৬ ভূবনেগ্বর়ের কখা। 
তুলিত হইতে পারে (৪৯)। মাত্র পঞ্চাশ মুদ্রা বায়ে বেন্ূপ 
নুন্দর প্রস্তরখোদিত স্তন উড়িয়া কারিকরগণ তৈয়ার করিয়া 
থাকে, তাহার উচ্চ অঙ্গের কারুকার্ধয দেখিলে বাস্তবিকই 
আশ্চর্য্যান্িত হুইতে হয় (৫*)। নরম পাথর 'সোপ ষ্টোনে, প্রস্তুত 
স্বল্প মূল্যের মূর্তিগুলির মধ্যেও কয়েকটি নমুন! সহজেই দৃষ্টি 
আকর্ষণ করে। আমরা এক্প মূর্তি ভ্রীমঙ্গিরের সম্গুৎস্থ ছুই 
একটি বিপণিতে বিক্রীত হইতে দেখিয়াছি। ্রীবুক্ত হেতেল 
এইরূপ একটি খেলানায় প্রীকৃষ, গোপিকাবৃনদ ও ধেন্গু প্রভৃতির 
মূর্তিসমূহের বিন্যাস-পরিপাট্য ও খোদাইয়ের নৈপুণ্য দেখিয়া বেষ্ট 
প্রশংস! করিয়াছেন। 

ললিত-কলার অন্যান্য শাখায়ও উড়িয়া দিগের পারদর্শিত। বড় কম 
ছিল বলিয়া বোধ হয় না। হস্তলিখিত পুথি প্রভৃতির চিত্রণে উৎকল- 
শিল্পী বেশ অভ্যন্ত ছিল বলিয়াই মনে হয়। স্বর্গীয় হাণ্টার মহো- 
দয়ের উড়িয্যা-বিষয়ক গ্রন্থে উড়ির! পুথি হইতে গৃহীত একখানি 
চিত্রের প্রতিলিপি প্রদত্ত হইয়াছে ৫০১)। সম্প্রতি বিহার ও টরড়িষ্যার 
প্রত্ন-তত্বাহুসন্ধান-বিষয়ক সমিতির মুখপত্রে গ্রীক অর্ধেন্ুকুমার 
গঙ্গোপাধ্যায় মহাশয় উড়িষ্যা-দেশীয় এক অভিন্বব শিল্প-নিদর্শনের 
যে চিত্তাকর্ষক বিবন্নণ প্রকাশ করিয়াছেন (৫২), তাহা হইতে 
এতদ্দেশীয় ব্যবহারিক জীবন-যাত্রা সম্বন্ধে বু, জাতব্য তথ্যাদি 
অবগত হওয়া বায়। 


(৪৯) 910060815158 10 862851. 0, রঃ 

(৫০) 80101 01865 1৮, 

(৫১) 179171925 011888) ৬০1, [) 0. রী 
(৫২) 7.3. ০0. চি, 5. ৬০৮ ৬৪ £, 11810, 32৮, 


( চিত্র ৪৮ ) 


রন] কিক ৮০ 
রি ১৫৫ রর €2 





বড় টান ক্ষোদিত রী ও 
[:রাজা রাজেন্্রলালের গ্রন্থ হইতে ] | পৃঃ ১৩৩ 


]1 


6৯৬ 
৪৯৬? 
০15 গত ও লি 
পপ আল 
দ্র 
২ টে রি 
* * নুর 51 
রী টা 
্ ্ রি টি 
০ 
এ এজি. পরস্বিস্থিট 


টা 


1 1 


9৮ 


চি 


নে 
তত ৭৮ 
আগ 2 


র্ 
ডি, 


হু 


5, 


ক ৮ | 
্ তি ৬.2 
রা চ 
৮১৭০ ০ ইউ, 
শ ১১১ _ তি 


০ 
নি 
" ্প্ঘ 





নব ক াযাতক্ষষ্য হজ জা বদ 


রাজা-রাণী*মন্দিরের বহির্গাঞ্রে বরবিনীগণের ক্ষোদিত মৃষ্তি। 
॥ পৃঃ ১৩৫ 


ভবনের তাক ও উড়িধ্যার শিরকলা । ১৩৭ 


উক্ত বিবরগীতে গল্পোপাঁধ্যায় মহাশয় দেখাইয়াছেন যে 
'কোক্কা' নামক ললিতকলা-বিষয়ক জাপানী পত্রিকার ১১৫ সংখ্যায় 
প্রকাশিত “চাইনি কেলিকে” নামে অভিহিত ৬ সংখ্যক টি 
চীনা কেলিকো৷ ছিটের সহিত একবারেই সম্পর্ধ-শূন্য ; বনস্তত 
উহ! যে ভারভীয় এবং সম্ভবতঃ ফাক 
অনুমান করিবার যথেষ্ট কারণ রহিয়াছে। ছিটের চিত্রে যে সকল 
মুর্তি দেঁখা যার, পুরাতন উড়িয়া চিত্র নিহিত রমণীগণের সহিত 
সে গুলির সুস্পষ্ট সাদৃশ্য আছে ( ৫৩)। ছিটের উপরিভাগস্থ 
মন্দির-শ্রেলীর নক্মায় যে সকল "শিখর ও বিমান” প্রদর্শিত হইয়াছে, 
তাহাতেও উড়িয়া স্থাপত্যের লক্ণাদি বিশেষভাবে দৃষ্ট হই! থাকে । 
চিত্রস্থ একাটি “কীর্তিমুখ' অলঙ্কারের উপরিভাগে হে প্রকান 
ত্রিপত্র (৩6০1, ৪1০) মন্দিরচুড়া দেখিতে পাই, তাহা 
উড়িষ্যায় দেউলসমুহের ন্যায় উত্তরাপথের স্থাপত্য-প্রথানুয়ায়ী 
চিত্রে অলঙ্কাররূণে ব্যবহৃত বৃক্ষগুলি নারিকেল ও খঙ্জ্র জাতীয় 
উড়িষ্যার বাগপুর অঞ্চলে এ সকল বৃক্ষ যথেষ্ট জঙ্মিয়া থাকে । অধি- 
কন্ধ নক্সার উপরিভাগে, মন্দিরচুড়া-সান্লিধ্যে, বানরাদি সন্লিবিষ্ট এবং 
বৃক্ষশাখায়, উপবিষ্ট কলাপিসমূহ অক্কিত। এই সকল কারণে এই 
' জন্য বস্ত্রথণ্ড যে ভারতে প্রস্তুত তাহাই প্রমাণিত হুইতেছে। 
চিত্রের অন্তর্গত জটাজুটধারী দুইটা সাধুমুত্তির ললাটে বৈষ্ণবদিগের 
ন্যয় তিলকচিহ্ুও লক্ষিত হয়। ইহা ছাড়া দেবমুর্তির মধ্যে গগণ- 
পতি” মধ্যস্থলেই বিরাজিত এবং উপরের সান্রির চতুর্থনূর্তিট 
কিন্রাক্কতি । গণেশ, দাক্ষিণাত্য, বিশেষতঃ জিবান্কুরে পরমাত্মা- 


(৫৬) 1010, 21906 1. 
৮ 


১৩৮ 'ভূবনেশ্বরের কখা।. 
ভাবে শিব ও হরি অপেক্ষ। অধিক হয (৫8) হইলেও 
উড়িম্যাতেও অগূরিচিত নহেন। জগগ্নাথদেবের দনদির-প্রাঙ্ছমে অবস্থিত 
গণেশমৃত্তি যে অস্তাবধি পুজিত হইয়া .থাকে এবং গর্পেশের ছুই 
বিভিন্ন মন্দিরই যে তথায় বিস্তমান রহিনাছে, তাহ! ভ্রীদ্দির-পরিক্রম 
অধ্যারে উল্লিখিত হইয়াছে । গগণপতি, বৌদ্ধ মহাঁধান মতাবলদী- 
দিগের দেবতা বলিয়া পরিগপিত বটে এবং চীমদেশে গৃণেশীকতি 
ত্তি অপরিজাত ন! হইলেও (৫৫) পুর্বৌনিখিত চিত্রের নরনারী- 
দিগের আকৃতি-প্রক্কতি, পোষাক-পরিজ্ছদ সমস্তই যে ভারতী, 
তাহা নিঃসন্দেহে বূলা যাইতে পারে। ফেবল একটি জাপতি 
এই যে, পুক্রমূত্তিগুলির পোষাক উড়িয়া! ধরণের ন্হে, দেখিলে 
উচ্চবংশীয় ব! রাজকুলোডুত দক্ষিণী বা বহার বনি মনে হয়। 
উড়িষ্যার গঞ্জারাজগণ মক্ষিণী চোলবংশ হইতে উদ্ভূত ) পরিচ্ছদ 
দক্ষিণী-প্রভাব এ কারণেও যে না হইতে পারে, তাহ! নছে। 
মহারাফ্রগণও উড়িষ্যা্দেশ অধিকার করিয়াছিলেন । এই ছিটখণ্ডটি 
তাহাদের রাজত্বকালেই নির্শিত হইয়াছিল, এইকপ অনুমিত হলে, 
মছারাস্্রীয় পরিচ্ছদের সাদৃ্ত চিত্রে অনুকত হওয়া অন্থাতাৰিক 
বলিয়া বোধ হইবে না। প্রাচীন লিঙ্গ হইতে এইরূপ বজ্সনির্পাগ- 
প্রথা যে দক্ষিণভারতে প্রচারিত হ্ইয়াছিল, তাহা! অনুমান করিবার 
প্রধান কারণ এই যে, প্রাচীন “তামিল” ভাষার “কলিঙ্ শক এই- 


(৫8) উপাসনা, আমিন ১৩২৬, পৃঃ ৩৬৯ । 

(৫) জীমুক্ত এহ্‌ন্ার্দ শাভান ( 5:205910 008%812065 ) রচিত 4১৫5 
£১5190005 প্রন্থের ৬৬খ চিত্রে € 71813095 55551, ৭0205 11) একটি 
গণেশ-সদৃশ দুর্তি (06:515 055. চ:161,80$5 ) নামে অভিছিত হুইয়াছে। 
ই! মহাযানপর্থীদিগের বিনায়ক দেহতার়পে পরিগদিত। 


4৮৮ ক 


৬ 2১ 1 টি 


এন, ধ হল 





হাচি টির... 


মুকেশ্বর মঙ্গিরের জগমোহনের দক্ষিণাংশে জালিকাট! জানালা ও 
লতামণ্ডন প্রভৃতি কারুকাধ্য। 


প্রযুক্ত মনোমোহন গঙ্গোপ্জাযায় মহাশয়ের সৌজন্তে ] 
[ পৃঃ ১৩৫ 


ভূবনেশ্বরের ভাক্ষর্য্য ও উড়িষ্যার শিল্পকল! ১৩৯ 


' প্রকার বস্ত্রবাচক অর্থেই ব্যবহৃত হইত এবং কথিত আছে যে, 
উড়িয্যার সুক্ষ মসলিন ভারতের বিভিষ্ন, দেশীয় রাজার নিকট 
উপচৌকন স্বরূপ প্রেরিত হইত। প্রীযুক্ত গঙ্গোপাধ্যায় মহাশয়ের 
মতে এই তথাকথিত চীনাবস্ত্রথগুটি গঙ্গরাজবংশের রাজত্বকালে 
ত্রয়োদশ হইতে পঞ্চদশ শতাবীর মধ্যভাগে নির্শিত হইয়াছিল (৫৬)। 
ইহ। দক্গষিপদেশের মস্ুলিপউনেরই হউক বা উৎকলেরই হউক 
ইহাতে ললিত-কল! সম্পর্কীয় নন্সায় মন্দির-স্থাপত্যের যে সুস্পষ্ট 
প্রভাব পরিলক্ষিত হয়, তাহ! বিশেষ কৌতুহলকর সন্দেহ নাই। 
গায় রাজ! রাজেজ্রলাল বলিয়াছেন যে, আধুনিক ভূবনেশ্বরই 
প্রাচীনকালের কলিঙ্গনগরী। উৎকলে এখন তাদৃশ চারুচিত্রিত 
বন্ত্রা্দি নির্দিত হয়না বটে কিন্তু অন্যবিধ শিল্পকলার অনুশীলন 
অস্ভাপি পরিদৃষ্ট হইয়া থাকে । উড়িষ্যার চিত্রকরগণ এখনও 
বৈচিত্রাময় শোতন-হুন্দর চিত্রাঙ্কনে ও ভাস্করগণ নানাপ্রকার 
সুগঠিত দারুমূক্তি ও প্রন্তরমূত্তি নির্মাণে যথেষ্ট কলাকুশলতা দেখাইয়। 
থাকেন। ১৯২৭ সালের গ্রাচ্যশিল্প প্রদর্শনীতে যে ২২৩ নং চিত্র- 
খানি (৫৭) আধুনিক উৎকল চিত্রকরের অক্কিত পতাক। বনিরা বর্দিত 
হইয়াছে তাহার সহিত “তংকা' বা তিববতীয় চিত্রিত পতাকার কথঞ্চিৎ 
বহিঃসাদৃষ্ট প্রতীয়মান হইলেও বস্তুতঃ উহা! পুরুযোত্ধমের গ্রীমন্দির- 
পরিক্রমার বীধাছাচের অন্থ্যায়ী একটি আলেখা ভিন্ন অন্ত কিছুই 
নহে।, বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে দেখিতে গেলে এই চিত্রথানির পরি- 
প্রেক্ষণা ও আপেক্ষিক পরিমাপ বিষয়ক বন ক্রটি লক্ষিত হইবে 


(২৬) 110 5, 33০. 
(৫৭) 0891088৩ ০ রর 58010160010 01 01166918110, 1920, 
০, 223, 0, 27, 


১৪১ তুবনেস্বয়ের কথা । 
বটে, কিন্ত এই করনা-বিস্তপ্ত বাঁধাছাচের ( 0905017000781 ) 
চিত্রে বে অন্বন-পারিগাটায ও ব্ণসম্পাতের পরিচয় পাওয়া! বার 
তাহাতে প্রতীরমান হয় যে তিব্বতীয় ও উৎকলীয় শিল্পধার! ভারতীয় 
চিত্রকলার কোন একটি বিশিষ্ট আদিম উৎস হইতে মমূতূত হই- 
যাছে। উতয়ের মধ্যে যেন একই প্রকার ছন্দের (51১76019 ) 
সন্ধান পাওয়া যাল়্। গৌড়ীয় শিল্পধার হইতে "সে উৎস 
কতদূরে বা কত নিকটে অবস্থিত তাহার এখনও নিরাকরণ 
হয় নাই। 

শ্রীযুক্ত অবনীন্ত্রনাথ ঠাকুর মহাশয়ের ষংগ্রহশালায় আধুনিক 
উড়িয়। ভাস্কর রচিত থে দ্নেবদাসীর 'দারুমনী মুগ্তি রক্ষিত আছে 
বিদেশীয় শিল্পরসজ্ঞেরাও তাহার তৃয্সী প্রশংলা করিম! থাকেন। 
পুরাপকার একাম্রকাননবাসিনী '্দীণকটি তত্গমধ্যা', “কর্ণাতরণ- 
, ভূষিতা”, 'হারালকতগ্রীবা”, 'পীনোন্নতকুচা', স্থিরালকা 'দুকপোলা? 
চারুজঘন।', “কর্ণান্তায়তলোচনা?, “ুকেশী', “হংসবারণগাছিনী', 
মদালসা”, 'নুশ্রোণি', প্রহুসিতাননা”, 'ঈষঘিল্পষ্টশনা”, “সর্বলক্ষণ- 
সম্পন্া সর্বালঙ্কারমণ্ডিতা+, বরবর্ণিনীগণের যে বর্ণন৷ (৫৭) করিয়া- 
ছেন, তাহাদেরই সেই ভূবনমোহননূপ উৎকল তাস্করগণ চিৎপটে 
আলিখিত করিয়া, সেই কর্মাধূর্ধ্য ও মানস সৌন্ধ্যকে কলাকুশল 
করে কঠোর পাষাণে বিকসিত, সঞীবিত, ও মূর্ত করিয়! তুলিয়া 
ছিলেন। 


(4৭) ্তর্গপুরাণ, ৪১ অধ্যায়, বঙ্গবাসী সংস্করণ, পৃঃ ২*৭-২৯৮। 


“ন্তিয প্রমুদিতান্তজ দৃগ্ত্ে তনুমধ্যমীঃ। 
হারৈরলন্কৃত গ্রীবাঃ পদ্মপত্রারতেক্িণাঃ ॥ ২, 


৬ 


(চিত্র ৫১১ 


চিত্রিত উড়িয়! পু'থির প্রতিলিপি। 
[ হাণ্টার হইতে ] 





ভুবনেশ্বরের ভাস্কর্য ও উড়িষ্যার শিল্পকলা । ১৪১ 


তাহাদের পরিকল্িত কারুকৌশল ও লাবণ্য-যোজনা। বংশ- 
পরম্পরাক্রমে সংক্রামিত হইয়া আসিতেছে। কে আজ সেই অনা- 
দূত বিলয়োম্ুখ শিল্পধারাকে উৎসাহে সঞ্জীবিত করিয়! উৎকল 
কলা-লক্ষমীর মর্য্যাদ। অক্ষুঞ্ণ রাখিবে ? 


পীমোরতকুচাঃ স্কামাঃ পুর্ণচন্ত্রনিভাননাঃ। 
স্থিরালকাঃ হৃকপোলাঃ কাধীনুপুরনাদিতাঃ ॥ 
হুফেস্শ্চার়জঘনাঃ কর্ণাস্তাতলোচ নাঃ । 
সর্বলক্ষণসম্পল্নাঃ সর্ববাতরণভূবিতাঃ ॥ ২২ 
দিষ্যবস্ত্রধরাঃ শুভ্রাঃ ক।চ্চিৎ কাঞ্চনসন্িভাঃ। 
হংসবারণগাদিস্ভঃ কৃচভারাবনামিতাঃ ॥ ২৩ 
দিবাগন্ধানুলিপ্রাঙ্জাঃ কর্ণাতর়ণভূষিতাঃ। 
হদালসাশ্চ হঝোণ্যো। নিতাং প্রহসিতাননাই ॥ 
ঈবহিষ্পইদশম! বিশ্বোষ্ঠা মধুরন্থরাঁঃ। 
তাদ্বলরভ্িতসুখা বিদ্ধা; শ্রিয়দর্শনাঃ | ২৫ 
সথতগাঃ প্রিবাদিত্ে। নিতযং যৌবনগর্বিত1;। 
দিবাংস্্রধরাঃ সর্বদা; নদ। চাঞ্মিত্রঙিতাঃ |" 


পরিশিউ। 
উৎকলের কেশরী বংশ । 


পৃঃ ৪২, ভূবনেশ্বরের কথা। 

ডাঃ ফ্রিট “কটকের লোমবংদীয় রাজগণ' নামক প্রবন্ধে 'বযাঁতি? 
মহাপিবধ এবং 'জগ্মেজয মহাতবগুপ্রের বিষয় আলোচনা করিয়া" 
ছেন মু বিজয় মনা ম্ীশয়ের মতেও কোপলের সোম- 
বংদয় রাজগণই মাদূল! পঞ্জীতে কেশরীবংশীয় নৃপতি বলিয়! অভিহিত 
হইয়াছেন। তীহার অনুমান মতে ছুইটা বিভিন্ন বংশোস্তব রাজাদিগের 
নামোগাধির সাদৃশ্য হেহু নানাগ্রকার গোলযোগের হা হইয়াছে। 
দঙ্গিণদেশীয় রাজাদিগের ক্ষোদিত লিপি হইতে অবগত হওয়। যায় 
যে ধৃঃ নবম শতাষী হইতে আরপ্ত করিয়া প্রায় তিন শত বতমর 
কাল চোল রাজগণ বিডিয় মময়ে উড়িস্য। দেশ আক্রমণ করিয়াছিলেন 
এবং মধ্যে মধ্যে অস্থায়ী ভাবে উহ তাহাদিগের অধিকারে আনয়ন 
করিতে সমর্থ হইয়াছিলেন। রাজ! জন্মেজয়, তৎপুত্র যযাতি এবং 
তীহার গরবর্তী বংশধরগণ এই যুগেই উড়িয্যার সিংহাসনে অধিটিত 
ছিলেন। চৌলরাজাগিগের প্রত্যেকেই কেশরী উপাধি ধারণ 
শ্ীমীতেন এবং “্রামচরিতে” উল্লিখিত কর্ণকেশরী সম্ভবতঃ উৎকলের 
উত্তরাংশে োলরাজাদিগের অধীনে শীসনকর্তার়পে প্রতিটিত 
ছিলেন। দক্ষিণ ভারতীয় লেখমাল! হইতে জান! গিয়াছে যে রাজ 
কেশরী বদ নামধেয় দ্বিতীয় রাজেন্ত্র চোল ১৭৭ ধৃঃ অবে “কুলো- 
তু চোল দেব এই উপাধি ধারণ করিয়া! চোলবংশীয় নয়পতি পর- 





১৪৪ ভূবনেম্ববের কথা । 


কেশরী বর্শণকে পরাজিত করিয়া চোলরাজ-লক্গীকে নিজ অন্বগত 
করিয়াছিলেন। ইনি সমগ্র ত্রিকলিঙ্গ প্রদেশে যুন্ধাভিযান প্রেরগ 
করিয়া, অন্ততঃ নামত, উড়িস্যা ও কলিঙ্গের অবীশ্বররূগে পরিগণিত 
হইয়াছিলেন। চোড়গঞ্জ যখন উড়িত্বা আক্রমণ করেন তখন 
জন্মেজয়ের কোন ও বংশধরঞ্উড়িব্যার রাঞ্জপদে সমাসীন ছিলেন এই- 
রূপই অনুমিত হইগ্রাছে। সোমবংশের শেষ প্রতিনিধি উদ্ভোত 
কেশরী যে খুঃ স্বাদশ শতাবীর গ্রাথমভাগ পর্যন্ত তবনেশ্বরে নিজ 
ক্ষমতা অক্ষ রাখিতে সমর্থ হইয়াছিলেন এরূপ প্রমাণ পাওয়া 
গিয়াছে। শ্রীযুক্ত বিজয়চন্ত্র মভুমদার মহাশয়ের অন্থষান মতে মাদলা 
পঞ্জী খৃঃ দ্বাদশ শতাবীর মধ্যভাগ হইতে লিখিত হইতে আরম্ভ হয়। 
সুতরাং গঙ্গাবংশীয় নৃপতিগণের পূর্ববর্তী উড়িষ্যাধিপ সমূছের ইতিহাস 
ইহাতে বধাষথ ভাবে লিপিবদ্ধ হওয়ার সস্ভাবন! ছিল না। যযাতিয় 
বংশধর দিগের মধ্যে কেবল উদ্ভোতই কেশরী উপাধি ধারণ 
করিয়াছিলেন। কুলোত্ঙগ চোলদেব কর্তৃক কেশরী উপাধিধারী 
চোলরাজদিগের পরাভব এবং চোড়গঞ্গ কর্তৃক উড়িয্যা-ব্জয়-কালে 
শেষ সোমবংশীয় নৃপতি উদ্তোতের পরাজয়, সম্ভবতঃ অতীত কালের 
এই বিভিন্ন ঘটনাবলী, লোকের স্মরণ-বাহিনীতে সংমিশ্রিত হই 
বন ভ্রম প্রমাদের স্থ্টি করিয়াছে এবং মাদলাপজীকার এই হেতৃই 
অবাধ কল্পনার বশবর্তী হইয়া তথাকধিত কেশরী বাজাদিগের 
কতকগুলি অলীক নাম বংশাবলীতে সন্গিবিষ্ট করিকাছেন (১%7- 
চীনদেশীয় ইতিবৃত্ে যে উৎকলরাজ শুভকর কফেশরীর নাম পাওয়া 
যায়, তিনি এবং নেউলপুর তাত্রলিপিতে উল্লিখিত (২) গুভকর 


770১) ৪, 0 0, 11959090975 “4১ 92161 10150921081 8580 6 ০ 
07958 ], নি 0, 2, 5, 929, ৮০1 ৬1, 51 1119 ৮০, 358-59, 


(২) 201, 10010, ৬০, 2৬, 0.2. 


পরিশিষ্ঠ । ১৪৫ 


নামক নৃপতি অভিন্ন হওয়। অপস্তব নহে সুতরাং করবংশীয় বা কর” 
শবাস্ত নাম বিশিই কোন কোনও নৃপতি যে আনুমানিক খৃঃ অষ্টম 
শতাব্দীতে কেণরী উপাধি ধারণ করিয়াছিলেন এ অনুমান সমীচীন 
বলিয়াই বোধ হয়। 
ভূবনেশ্বরে প্রাণ্ড নূতন শিলালিপি। 

পৃঃ ৪৫, ভুবনৈশ্বরের কথা৷ 

সম্প্রতি শ্রদ্ধাম্পদ জীযুক্ত গণপতি সরকার ভূবনেতখরে নরসিংহদেবেন 
একখানি শিলালিপি আবিষ্কার করিস্নাছেন। এই প্রস্তরখণ্ডের উর্ঘধ- 
ভাগে একটি ক্ষুদ্র গণেশমুর্তি এবং তাহার ছুই পার্থে তামিল ও প্রাচীন 
বঙ্গাক্ষরে সমগ্র লিপিখানি উৎকীর্ণ। এখনও লিপিখানির সম্পূর্ণ 
পাঠোদ্ধার হয় নাই । ইহাতে ১১৭৪ সম্থতে কিঞ্িত ভূষিদানের উল্লেখ 
আছে এবং উপসংহারে চোড়,-কাঞ্ধী ও পাণ্ীদেশের উল্লেখ আছে। 
কিন্ত লিপিখানির ভা! অতি ছুর্বোধ্য হওয়ায় ইহার সঠিক তাৎপর্ধ্য 
গ্রহণ করিতে পার! যার নাই (১)। শুনিয়াছি এই লিপি কেদার- 
গৌরীর সাঙগিধ্যে মৃত্বিফ। খননকালে আবিষ্কৃত হইয়াছিল। 


নেপালের গণেশমন্দির। 


পৃঃ ৬৫, ভুবনেশ্বরের কথা। রী 
. »এআমরা গণেশমৃত্তি উপাসনার প্রাচীনত্ব প্রসঙ্গে ওল্ডফিজ্ডের 


নেপারপ্রস্থের দ্বিতীয় খণ্ডের ১৯৮ পৃষ্ঠায় উল্লিখিত, সম্রাট অশোকের 


৫১) জীবুক্ত গণপতি সরকার মহাশর এই লিপির প্রতিকৃতি ও ছাপ বাবহার 
করিতে অনুমতি দিয়া আমাকে কৃতজ্ঞতাপাঁশে আবদ্ধ করিয়াছেন। সম্পূর্ণ 
পাঠোদ্ধান্গ গা হওয়ায় এখনও লিপিখানিয় ছাপ প্রকাশিত হয় নাই। তিনি 
এই লিপির সন্বদ্ধে কলিকাতা! এনিয়াটিক সোনাইটীতে যে একটি প্রধন্ধ পাঠ 
করিয়াছেন আশ! কায তাহা শীঞ্ঘই সোনাইটার পজিকার প্রক1শিত হইবে। 


৯৯ 


১৪৬ ভূবনে্বরের কথা। 

কন্তা চারুমতী কর্তৃক খৃঃ পৃঃ ভূতীয় শতাবীতে নির্শি গণেশহন্দির 
গ্রতিষ্ঠার কথ! উল্লেখ করিয়াছি। আচার্য্য লিলভ্যা লেতীয় নেপাল 
গ্রন্থে (9 ৭০81,'9)6 2, 083) একথার কোনও উল্লেখ নাই। 
ইহাতে মনে হয় তিনি এ প্রবাদে বিশ্বাস স্থাপন করিতে পারেন 
নাই। আচার্য্য লেভী লিখিয়াছেন যে অশোক নেপালে কতকগুলি 
স্মারক ত্তস্ত প্রতিষ্ঠা করিয়াছিলেন এবং দেবপাল নামক ক্ষত্রিয়ের সহিত 
তাহার কন্তা টারুমতীয় পরিণয় সম্পাদন করাইয়াছিলেম। এই 
দেবপালই “দেওপট্উন' নামক নগর প্রতিষ্ঠা কয়েন: বৃদ্ধবয়সে 
দ্েবগাল ও ঢারুমতী উভয়ে হুইটি বিভিন্ন বিহার অথবা! মঠ নির্মাণ 
করিল! তাহাতেই বর্খ-নিরস্ততাবে জীবনের অবশিষ্টাশ যাপন 
করিষেন বলিয়া! সঙ্কল্প করিয়াছিলেন কিন্ত ফেবল ঢারুদতীই তীহার 
টিিটীরিননাই্জিকিনন নার 


লিঙ্গরাজমন্দির ও স্্রীযুক্ত হেভেলের টিবি | 
পৃঃ ৪৯, ভূবনেশ্বরের কথা । 

প্ীযুক্ত ই, বি, হেভেল তীহার নবগ্রকাশিত গ্রন্থে (4১ 17970 
১০০: ০1 1170191) 4১10) লিঙ্গরাজ মন্দিরের শিখরের শিল্প গৌরব, 
ন্থুচিসঙ্গত বহিঃসৌষ্ঠব (09111 ০1 ০৫110৩) ও অনাড়স্বর 
কারুকার্য তৃয়সী প্রশংসা, করিয়া বলিয়াছেন যে পরবর্তী কালে 
নির্শিত অন্তান্ত মন্িরগুলি কতকটা বিশৃঙ্খল ভাবে সংস্থিত থাকা: 
মূল মন্দিরের বিশেষ সৌনদরধ্যহানি ঘটিয়াছে (১)। তিনি এমন্দিরটি 
সগ্তষ শতার্ধীতে নির্গিত হইয়াছিল এই জলগ্রবাদ প্রসঙ্গে 
বলিয়াছেন বে বহুমন্দিয়সমাকীর্ণ দেবক্ষেত্রের কেনস্থলে ভূবনেখরের 


(১) ১ 0870000% 06 150180 41002 85. 5 ৭, 


পরিশিষ্ট । ১৪৭ 


অবস্থান হইতে ইহাই ষে প্রাচীনতম দেউল এ অনুমান সন্ভঘ 
বলিয়াই মনে হয়। খুঃ সপ্তম ও অষ্টম শতাব্দীতে উড়িম্যার যে 
রাজবংশ রাজত্ব করিতেন সার্‌ এডোয়ার্ড গেইট মহোদয় তাহা 
দিগকে “কর'বংণীয় বলিয়া! বর্ণনা করিম্বাছেন (২)। তাত্রপটে ও 
শিলালিপিতে ইাদিগের নাম পাওয়া গিয়াছে। উদয়গিরি ও 
খণ্ডগিরি গুহার বিপিসমূহের অন্ুণীলনকালে বন্ধুবর শ্রীযুক্ত রাখাল 
দাস বন্দ্যোপাধ্যায় অষ্টম শতাবীর শেষতাগে বা নবম শতাবীর 
প্রথমভাগে ক্ষোদিত একখানি লিপিতে প্রাপ্ত, শান্তিকর 
নামক উৎকলরাজেয় নামোল্লেখ করিয়াছেন (৩)। “কর শব্ধাত্ত নাম 
বিশিষ্ট অপ্প কয়েকটি নর়পতির উল্লেখ কটফের কোনও জমিদায়ের 
গৃছে সংরক্ষিত একখানি তাত্র লিপিতে পাওয়া গিয়াছে। : খুঃ অষ্টম 
শতাবীতে উড়িম্যার নয়পতি যে বৌদ্ধ মহাযান মতাবলম্বী ছিলেন তাহ! 
চীনদেঙীয়দিগের লিখিত বিবরণ হইতে জানাগিয়াছে। এ সন্বদ্ধে বুমিয়া 
নাঞ্জিয়োর পুস্তক তালিকাই প্রক্কষ্ট প্রমাণ (8)। রাজা গুতকর ফেশরী 
স্বয়ং বৌদ্ধধর্পীবলম্বী না হইলে চীন সম্রাটের নিকট খুঃ ৭৯৫ অকে 
বুদ্ধাবতংসক হৃত্র' নামক মহাবান ধর্মগ্রন্থ প্রেরণ করিতেন না (€)। 
বন্ধবর রাখালদান বন্যোপাধ্যায় মহাশয় পূর্বোদ্ধ তাত্রলিপির 
ধে পাঠ ও অন্থবাদ প্রকাশিত করিয়াছেন, তাহাতে ক্ষেমস্কর দেব, 
 শিরকফর দেব, গুতকর দ্নেব (৬) এই তিনটা রাজার নাম উল্লিখিত 


(২) ). 6.0. £₹, ৩, ৬০, ৬, 0৮, 1৬, 1920, 0, 463, 
(৩) 29, 17010, ০1 30111, 00. 13, 0. 167. 

(৪). ভূষনেখরের কথা, পৃঃ ৪২। 

€৫) ], 0.0. £, ৪. 1919» 0. 325. 

(৬) 791. 19010, ৮০, 2) 29 1) 2 5. 


১৪৮ ভূবনেশ্বরের কথা । 


আছে। বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয়ের মতে এই নেউলপুর তাত্রশামন- 
খানি থৃ্ীয় ৮ম শতাবীতে উৎকীর্ণ। 'কর' শন্বাস্ত রাজগণ যে 
বৌদ্ধধর্মাবলম্বী ছিলেন তাহাও উক্ত লিপি হইতে প্রমাণিত হইয়াছে। 
শুভকর দেব ও গুভকর কেশরী অভিষ্ন কিন! তাহা স্থির করিয়া 
বলা কঠিন কিন্তু উভয়েই যে বৌদ্ধ ছিলেন, ইহাতে সন্দেহ করিবার 
কারণ নাই। ইহার! উভয়েই খুঃ অষ্টম শতাবীর শেষভাগে বিস্ত- 
মান ছিলেন। বোদ্ধরাঁজ! এন্নপ বিশাল হিন্দুমন্দির অজজ্ঞ অর্থব্যয় 
করিয়! নির্মাণ করিবেন ইহ সম্ভব বলিয়া! মনে হয় ন!। সুতরাং মন্দির 
নিশ্বীণ সম্বন্ধে স্থানীয় ব্রাহ্গণদিগের সমধিত জনপ্রবাদ এ্তিহাসিক 
সত্য বলিয়া গ্রহণ করার যথেষ্ঠ অন্তরায় আছে। “কর নামধেয় 
বৌদ্ধরাজাদিগের পূর্ববর্তী কোন হিন্দু নরপতির অস্তিত্ব প্রমাণিত 
না হইলে, ইহ। প্রকারাস্তরে স্বীকার করিতে হয় যে, হয় মঙ্গির 
নির্ধাণের বার রাজকোধ হইতে প্রদত্ত হয় নাই, নতুবা! ইহা বৌদ্ধ- 
দিগেরই উপাসনার জন্ত নির্শিত হইয়াছিল পরে হিন্দুমনদিরে রূপা- 
স্তরিত হইয়াছে । শেষোক্ত অনুমান গ্রহনীয় নহে, কারণ অগ্তাপি 
কোনও বৌদ্বমূত্তি বা বৌদ্ধধর্ম সংক্রান্ত ভাঙ্করধ্য নিদর্শন লিঙ্গরাজ 
মন্দিরে আবিষ্কত হয় নাই। আমর! পূর্বেই বলিয়াছি যে এই 
মন্দিরের গঠন বৈশিষ্ট্য ও স্থাপত্যরীতি যে শিল্পোৎকর্ষের পরিচায়ক, 
তাহা অত প্রাচীনযুগে সম্ভবে না। বস্ততঃ নির্মাণ গ্রগালী হইতেই, 
ভাস্করেশ্বর প্রভৃতি মন্দির লিঙ্গরাজ মনির অপেক্ষ। প্রাচীনতর তাহা 
সহজেই অন্মিত হয়। গ্ীযুক্ত হেভেল বলিয়াছেন যে, পূর্ববর্তী সুপ্রাচীন 
দেবায়তন আচ্ছাদন করিয়া তাহারই উপরে পরবর্তী কালে বর্তমান 
লিঙ্গরাজ মন্দিরের শিখরাংশ বিনির্দিত হওয়। অসম্ভব নহে। মন্দিরে 
বা্থাদিগের প্রবেশাধিকার আছে এবং যাহারা গর্ভগৃহে প্রবেশ করিয়া 


পরিশিষ্ট। ১৪৯ 


দেবদর্শন করিয়াছেন, তাহারা একথার সমর্থন করিবেন বলিয়া বোধ 
হয় না। শিখর অপেক্ষ। অন্ত ফোন গ্রাচীনতর দেবগৃহ যে লিঙ্গরাজ 
মন্দির প্রাঙ্গনে অবস্থিত নাই একথা আমরা বলিতেছি না। একটা 
স্প্রাচীন শিবমন্দিরের গৃহকুট্টিম মন্দির প্রাঙগনের নিয়ে অবস্থিত 
এবং তন্মধ্যে প্রতিষ্ঠিত শিবলিঙ্গটা যে প্রাঙ্গন হইতে প্রায় সাড়ে পাঁচ 
ফিটু নীচে বিদ্তমান, একথা পূর্বেই উক্ত হুইয়াছে (৭)। স্থৃতরাং প্রীযুক্ত 
ছেভেলের অস্থমানের এইটুকু মাত্র মানিয়া লওয়া যাইতে পারে যে, 
বর্তমান মন্দির নিশ্দিত হইবার পূর্বেও এই স্থানের সান্নিধ্যে প্রাচীন 
তর দেবমন্দির প্রতিষ্ঠিত ছিল। | 

শ্রীুক্ত হেতেল অন্য একস্থলে বলিয়াছেন যে, মন্দির নাগরিকগণ 
কর্তৃক সভাম্থলীরূপে ব্যবহৃত হইত এবং তথায়:পৌর ও জানপদসমস্যা 
বিষয়ক তর্কবিতর্ক মীমাংসিত হইত। আবার আবশ্তকমত 
নৃপতিগণ উহার কোন অংশ দরবারগৃহরূপেও ব্যবহার করিতেন। 
উড়িব্যার দেবমনদিরে রাষ্রনৈতিক অনুশীসনলিপি ক্ষোদিত হইত 
ইহা অস্বীকার করা যায় না (৮)। আজিকালিকার দিনে যেরূপ সর- 
কারী কার্যালয়ের বিজ্ঞাপনপটে বহুবিধ রাজাদেশ সংক্রান্ত বিজ্ঞাপনী 
সাধারণ প্রচারার্থ সংলগ্প করিয়া দেওয়! হয়, এই লেখগুলিও এ 
প্রকার উদ্দেশ্েই মন্দিরগাত্রে উৎকীর্ণ কর! হইত। ইহ হইতে মন্দির- 
মুধোই যে রাজসভার অভিবেশন হইত, এ অনুমান সমর্থিত হইতে 
পারে না। লিঙ্গরাজ মন্দিরগাত্রস্থ রাজ! কপিলেশ্বর দেবের লিপিতে 
দেখা যায় যে, রাজা 'পুজাবকাশে” রাজগুরু ও 'জনৈক মহাপাত্রের 
সপ্গুথে যে আদেশ দিয়াছিলেন, তাহাই উৎকীর্ণ করা হইঙ্সাছে 

(৮) ভূবনেশ্বরের কথা, পৃঃ ৪৬, পুরীর কথ! পৃঃ ১৫*.১৫১। 


শি সাজি পা জা শী পাপকশপপ্ষ 


১৫. ভূবনে্বরের কথা । 


মন্দির মধ্য যে রাঁজসভার অধিবেশন হইয়াছিল, লিপি হইতে ইহার 
কোন প্রমাণই পাওয়! বায় না (৯)। উত্ভিস্যার মন্দির সংলগ্ন 
মণ্ডপগুলি দেবাদর্শন ও দেধসেবার সৌকর্যযার্থেই নির্মিত হইত। 
ইহার অপর কোন উদ্দেস্ত ছিল বলিয়! বোধ হয় না। তবে মন্দির- 
মধ্যে কথকগণ যে কথকতা করিতেন ও ধর্থগ্রস্থাদি পাঠ করিতেন 
তাহা কেহই অন্বীকার করিবেন না। লিঙগরাজমন্দিরের ভোগমণ্ডপটা 
যেকথকতা ও ভাগবতাদি পাঠের জন্তই মির্শিত হইয়াছিল তাহা 
আমরা বখাস্থানেই উল্লেখ করিয়াছি। (১) 


সাঞ্চী ও উড়িয্যার ভাক্কর্য্য নিদর্শনে শিল্পধারায় 
সাদৃশ্য । 


পৃঃ ১১৭, ভূবনেখ্বরের কথা । 

উড়িষ্যার শিল্পকলা! প্রসঙ্গে মাথুর ( মথুরা প্রদেশের ) জারা 
আলোচনাকালে, আমরা সাঞ্চী ও বরাহতের মৌলিক ও অবিমিশ্র 
ভারতীয় শিল্পধারা হইতে তত্রস্থ গঠনশিল্ে শক্তি সঞ্চারিত হওয়ার কথ। 
উল্লেখ করিয়াছি বটে কিন্তু উড়িষ্যার শিল্পের সহিত উহার যে কি সম্পর্ক 
সেসম্বন্ধে কোনও বিশেষজ্ঞের মত ব্যক্ত করিবার.অবসর পাই নাই। 
ভৌতিক জীবনে যেরূপ বিবিধ পরিবর্তন সংসাধিত, হয় শিল্পেরও 
সেইরূপ আকারগত পরিবর্তন সংঘটিত হইয়া! খাকে। একই আকৃতিতে 
উত্বর্তনের শেষ হয় না পরস্ধ জীবধারার বিভিরস্তরে উহ! ক্রমোন্নতির 
বাকিন্ গ্রক্কৃত শিল্পও সেইরূপ অতীতের সছিত একে- 


এ প্রপসল ি 





তুবনেখরের কথা, পৃঃ ৪। 
) ভুষনেখরের কথ, পৃঃ ৪৯। 


পরিশিষ্ট । ১৫১ 


বারে মম্পর্য-বিহীন নহে--উহ! এতিহাসিক ও ধারাবাহিক পোকা 
র্যা রক্ষা করিয়া আকারগত বিভি্নত! লাভ করে মাত। সম্প্রতি 
ভীযুক্ত হেভেল কোনাদ়কের কূর্যমন্তির সহিত সাঁফীতে গ্রাণ্ত একটি 
দীর্ঘবিহীন বোধিম্মর্ির তৃন! করিয়া বলিয়াছেন (3)। “উভাযমূর্ঠি 
তারতীয়শি্ন রীতিগরষ্পরার' অপুর্ব অবিচ্ছি্নতার (00111001)) 
পরিচারক। যদিও মৃর্ধি ছুইটার নির্পাপকালেয় মধ্যে অন্ততঃ 
নয়শতাষীর বাবধান রহিয়াছে তথাপি উভয়ের এন্নপ পরিগাট্য- 
সানৃশ্ঠ যে উভয়ই একই যুগের একই শিলপমন্ত্রে দীক্ষিত শিল্পী কর্তৃক 
বিনির্শিত বলিয়া মনে হয়। যেটুকু বৈলক্ষণা তাহ! কেবল মূরত দুইটার 
ভঙ্গীতে! স্াদষ্ধির বাগ্র কর্ণানিরত তঙ্গিটি €তনভোমওল পীর 
দণ্ডায়মান ভঙ্গির মহিতই তুলনীয়--নিখিল জগতের ধর্মনীতি- 
শিক্ষযিতা বুদ্ধদেবের মে গভীর গ্থৈধধ্য ইহাতে নাই।” 

ভারতীয় শিল্পবিষয়ে জ্ীযুক্ত হেভেল মহোদয়ের মত উপেঙ্গমীয় 
নহে তাই আমর! তাহার এ উক্তি সাদরে উল্লেখ করিলাম। 

পরশুরামেশ্বর মন্দিরের শিলালিপি। 
গৃঃ ২১, ভূবনেশ্বরের কথা । | 

101 01 27 2757/110% 761/62 7107) 0111%745 
571847, 

1, 1] 1186 70 99670 2116 (0 1690 ৪11 006 1616615 
1010 00৩ 21816 [509100116, [6 15 17060635817 08 ৪ 
১৪06 ৩58110950 970814 0০ 12101. 

2, 1006 103010000 0010118 001 11765 01 


॥1076. 00106 009180013 9610176 00 016 01833 ০ 
81011819609 0560 1) 06 1600103 ০01 006 90178%813 


(১) ॥ 2800000% 0 170180 470 0. 158 ৬: 56৭, 21919 
[1.5 


১৫২ ভূবনেশ্বরের কথা । 


70169 ০11505914, 11055 102৩ & 501151061655010012106 
€০ 02055 ০01 015 ৬৪10180500511 01591 01 202 
01798581062 1, 0010115190 ৮৮) 2 25051101150 
111, 3, 0. 00952810021 10 টি, 1100, ০1, এ], 00, 92 
টি ]091185 ০8৮ ০০০10 15 2 11006 62111610181) 015 
1856 2170 25 0)০ 90111227951 11725 ০01 19081 1)9৬5 
0৩৩11) 1661150 0/ 215০ 0০ 0) ০16৮০1)0 ০0110010 
/&৮10, (20109, ৬০1, 111) 0333) 16 219) ৩ 1669110 
6০ 076 001)0, 

34810009021) 11725 1700 06961) 21016 101550 %/1৮8 
০০109110021] 00০ 16015 1) 0791090010১ 1 1086 170 
0০৮১ 29০9৫ 19 00176121 [001001৮ 16 1500105 07৩ 
61700911767 01 6৬০ 2/21747/2-2/%/27% 07 019 
[9511655/81 9/101) 0156 010)606 01 1061)69001105 01915109 
21) 250800 81981217205) 10 00170101069 ৮110) 100191508- 
[10105 25910150219 076 1)0 ৬০41 5601) 016 70807170617 
85 0160690, 

41] 07897 01761 005 10110/116 19169615৩15801100 
01 0116 150010. 


1, 1, ও শ্রীমৎ প্র পুজা (মণ) পে। রাসেশ্বর ভট্রকোর 

[. 2, প্রভৃতি কালে (1) চিতং নৈবেদ্য আঢকং কৃতবান্‌ তপন্থি 

13. ব্রা€ক্গণ্যা) ঢক ছয়ং দাতব্যং ধঃ ১ নদাস্ত 
,তি(ঞ্ষ)ত্র 

[1 পাল: স মহাপাতকেন সহ সংবধ্যাতেব। 


তি. 0 01500070851 
18-1-20) 





নাম 
ও বিষয় 
১, সূচী (17065) 
অধেজকুমার গঙ্গোপাধ্যায় 
৩৪, ১২৯, ১৩১১ ১৩৬ নি 
্ঞ্ পন 
- ৫১) ৮৩ ক রি 
্ ভীম বা অনঙ্গ ভীম ০ হী 
অভাঙ্গ র ৰ ৪ ক রী 
১৪৩ ্ 
৬১, 
অল নে ৃ 
ম নাগিক৷ ১ রি ৮৮০ সু 
8৪, ৪২ নট । 
অশোক এরক্ষিন্‌ ঞ 
অষ্ট সখী ৯ | রা 
বা ওষ্কার রর 
আঁ ঠ রে ৪৬ ্ | 
১ 
শা কারি ওঁরংজেব ্ 
১১ 
হর ভোষদখোপধার চু কা - 
োঃ $ কর্ণেল রি 
টা ৮৬ 
৩৮ ্ | 
পিলসংহিতা রে 
৭6, ৭৮) ৮৩) কিং & 
) ৮৫ 


ও 


তুবনেশ্বরের 
কথা। 


১৪৪ 


কপিলেখ্বর দেব ৪৬, ৪৯ 

কপূর মঞ্জরী ১১৬ 

কপূরী ৫৫ 

কমল কেশরী ৪৯ 

কলস ৫৬, ৫৭ 

কলিঙগনগরী ৩৮ 

কাঞ্ধী ৫৭ 

কার্তিক ১১, ৬৪ 

কানিংহাম, মেজর জেনারল ৪১, 
৪৩ 

কামন্ত্র ২, 

কালি ১৩২. 

কালিদাস রায় ৭৯ 

কাশীপ্রসাদ জৈশবাল ৫৬ 

ফিটো, মেঞ্জর ১০, 

কীর্হিমুখ ৩২, ৩৩, ৯১ ১৩৪, 
১৩৭ র্‌ 

কীলহর্ণ (অধ্যাপক ) ৯৯ 

কুমারন্থামী, ডাঃ আনন ১২৭ 

কূলতুজ চোল দেব ১৪২, ১৪৩ 

কেদার গৌরী ১৬, হি 

কেদারেখর ১৯, 

কেশরী বর্ধণ ১৪২ 

কোকা ১৩৭ 

কোলাবতী ৪২, ৪৩ 

ক্লোরাইট হার ৪৭ ' 

রুত্তিবাস ৫৯ 

গ্ষেগক্কর দেব ১৪৩ 

ক্ষোর্দিত লিপি ৪৫ 


তুবনেস্বরের কথা 


থাপত়ী ৫৫ 

খাবার! ১১১, 

খুরপৃষ্ঠ ৮7 

গজসিংহু ৫৪ 
পঙ্গাকেশরী ৬১ 
গণপাতি ১৩৭, ১৩৮ 
গণপত়ি সরকার ১৪৪, 


গণেশ ৬৪, ৬৫ 


যত 

গুস্তাভ লে ব ১৯, ৮৭, ১১৩, 
১১৪, ২১৮১ ১১৯ 

গুভিয়া ১১৫ 

গুণ্ডচাগৃহ ৩৪ 

গেইট, সার্‌ এডোরার্ড ১৪৬ 

গেয়া ১২৭ , 

গোপালচন্ত্র আচার্ধ্য ৪ 


, গোপালিনী &৭, ৫৯ 


গোপালিনী মলির ৬৩ 
গোপীনাথ রাও ৫৭, ৬৭ 
গোবিনদাসের করচা ৭৬ 
গৌরাঙ্গনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ১০৯, 
১১২ 

গ্রাণওয়েডেল ৬৫. 

গ্রীক শিল্প ১১৭ 

চন্ত্রশেখর ৫*, ৫২ 
চন্দ্রিক দেবী ৮১ 

চারু বন্দোপাধ্যায় ৬৫ 
চারুমতী ৬৫) ১৪৫ 
চালুক্য স্থাপতাপ্রপালী ২৩ 


নাম ও বিষয়-হুচী। 


চিত্রকর্ণী ৭ 

চুণিলাল বসু, রায় বাহাদুর ৩৬, 
৬২ 

'চুলকোক ১৩৩ 

চৈতৃত্যচরিভম্‌ ৫ 

চৈতন্তভাগবত ৩৮) ৭৬ 

চৈতন্রমঙ্ল ৫ 

জননী ও শিশু ১২ 

জয়াপীড় ৬৩ 

পেনারেল ট়ার্ট ১৬৪ 

ভূভে। ছুত্রেই, জে ১১৮ 

তরু ও তরুনী ১২৩, ১২৪, ১২৫, 
১২৬১১২৮ 

৯৮৯ 

তাঞ্জোর ২৪ 

তারিনীচরণ রথ ৫৬ 

তিরুমলক্বা ১২ 

দর্পণধারিণী মুস্তি ১২৮ 

দমনভঙ্জিক। ৫১ 

দিক্পাল ১৭১ ১১ 

দিক্পতিনিয়োগঃ ১ 

দেঁউল ৮৯ 

দেমুসেং 

গীবত * রামকষ। ভাঙারকর 
১১২ 

দেবদাসী ৪৮, ৯৪ 

দেবীহ্দ ৬১ 

ধরণীকাস্ত লাহিড়ী ৬৩ 

ধৌলি ১৪২ 


১৫৫ 


নটালতা। ১৩৩ 

নরাম্‌ সিন ১১৫ 

নগেম্্রনাথ বন্থু ৬৩ 

নাচন! কুঠার! ২৬ 

নাটুয়। পিলা ৪৮ 

নমুচি ৬৭ 

নারীলতা ১২৬ 

নিনেভে ১৪, ২৫, ৬৮ 

নীলাচলে প্রীলীজগন্ধাথ ও 
পীত্ীগৌরাঙ্গ ৪, 

নেউলপুর তামলিপি ১৪৩ 

বৃসিংহদেৰ ৮৭ 

পত্রলতা ১৩৩ 

গল্প ৪ | 

পরণুরামেস্বর ১৮) ২, ২৭, ৫১, 
৬৯, ৭১) ১০৫ 

পরগুরামেম্বর লিপি ৩৯, ১৫০ 

পাহরা ৬৬, ৬১ 

পাপনাশিনী ৭, ৫ৎ 


পার্বতীমৃত্ধি ১১ . 


. পার্সিপলিম্‌ ১৩২ 
'প্রারণোৎসব ৫২ 


পীড় দেউল ২৪, ৮৯ 
পুরী কুষণ মুন ১১১ 
পুরুযোস্বম দেব ৪৫ 
কাণ্ড সন ২২, ২৭ 
ফিরোজ সাহ ৩৮ 
ফন্ট, ডাক্তার ৪৯ 
ফুললতা ৯২ ১৩৪ 


১৫৬ 


ফুসে, আচার্য ৬৫ 

ফোগেল, জাচার্য্য ১২৪, ১২৫, 
১৩১৭ ১৩২ 

বক্তিয়ার খিলজি ৪২ 

বন ভূধর ১২২ 

বড় 

ঘড় দেউল ৭১ . 

বড় দাও ৫২ 

বর়দাগ্রপয় সোষ ৬৬ 

বরদ সুস্রা ৯৪ 

বরুণেখর ৭ 

বলেজ্রনাথ ঠাকুর ৩১১ ৫২, ১৬৯৮ 

বাকটিয়! ১২৭ 

বাগ্‌ড়ী ৯৭ 

বাচষ্পতি মিশ্র ৯৫, ৯৯ 

বাণেই, এল, ভি ২১ 

বাদাওনি ৩৮ 

বানারস ৩৮ 

বালগঞঙ্জাধর তিলক ৬৭ 


বাল-বলতী ভূজঙ ৯৫, ৯৬, ১০৪, 


১৪৫ 
ব্যাবিলন ৬৮ 
বিজয়চজ যন্ভ্ুষদ্দার ১৪৩, ১৫১ 
বিনায়ক ৬৫, ১৯৮ 
বিশুসাগর ৬ ৭৩, ৭৮, ৮৩ 
বিশ্বেশ্বর শিবাঁচার্ধ্য ৯৮ 
বিষ, আচার্য্য ১০৬ 
বিষুবর্থন ( হৈশলেশবর ) ২৩ 
বিসি বেছারা ৪৫ 


ভুবনেশ্বরের কথা 


বুনিয়। নাঙজিয়ো! ১৪৬ 

বুধ ১০৩ 

বুদ্ধাবতংসক সুত্র ৪২, ১৪৬ 
বেশ নগর ১১১ 

বেলুড় মন্দির ২৩ 


৮৬ সর ১৪ 


ব্রন্থপুরাগ ৩, ৮৪, ৮৫, 1১8৬ 

উদ্ষেস্বর় ১৯, ৬৯, ১৩৫ 

ব্লক্‌ (ডাক্তার ) 4, ৬৯ 

ভগবত্তী ৫৩, ১১৮ 

তবদেব ভট্ট ৮২, ৮৬, ৮৭, ৯৩, 
৯৮১ ১০৩ 

"ভাজ? গুছ! হ্্থ 

ভারত ১২৪, ১০ 

ভাক্বরেখর মনির ৫৩) ৮৫, ১৩৫ 

ডিন্দেপশ্মিখ ২, ২১, ২৭, ৫৩, 
১১৪ 

তো? ৩২ 

মংস্যপুরাণ ৩ 

মনিকণিক। ৩ 

মনোষোহন গঙ্গোপাধ্যার 
(এম্‌, গাঙ্ছুলী) ৮১ ১০১ ২৩) 
৩৫, ৪৮, ৮৬১ ৯৩, ১০১১ 
১৬২১ ১৩৩ 

মনোমোহন চক্রবর্তী ২০১ ৪৫, 
৮৯, ৯২, ৯৩ ৯৫, ৯৯, ১৪৬ 

মল্লেখর মন্দির ১৩৩ 

মরিস ম্যান্্র' ১১৩ 


নাম ও বিষয়' সুচী । 


মহাবলীপুর ২৪ 

মহাভব গুপ্ত ৪১ 

মহাশিব গুপ্ত ৪১ 

মাতৃমৃত্ি ১৩ 

মাদলপঞ্ী ৩৮, ৪, 
মানসার শিল্পশান্্ব ১১, ৮৭ 
মালবিকাগ্রিমিত্ ১২৫ 
মার্শাল, সাঁর জন্‌ ৬৮, ১৩৫ 
মায়া ১২৭ 

মায়াদেবী ১২৩ 

মিধুনমৃত্তি ৩১, ৯৪ 


মুক্ধেশ্বর ১৫, ২৬, ২৭, ৬৯, ৭১, 


১৩৫ 
মুক্লারী গুপ্তের করচা ৭৭ 
মেঘেশ্র দেব ৬৪) ৮৭, ১৪৬ 
মৈত্রেশ্বর ৭ 

ষতীন্ত্রমোহন সিংহ ৪৮ 
ষছুনাথ সরকার ৩৭ 

যযাভি কেশরী ৩৯, ৪১ 
শ্যবন” শব ৩৯ 
যজেশ্বরমন্ির ৫, ৫১ 
যুনানী শিল্প ১১৬ 

বুক্তবানু ৪২ 

প্গকেশনী ৪৩ 

রথ ২৪, ৫১ 

বথাঙ ১০৩ 


রমেশচন্ত্র মজুমদার ২১, ৯৮, 


১৫১৯ 


রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৬ 


১৫৭ 


রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ১৩, 
৩৮, ৮৭, ৯৭, ১৪১) ১৪৬ 

রাজতরঙ্গিণী ৬৩ 

রাজরাণী মন্দির ১৯,২৭,৬৯,১৩৪ 

রাজরাণিয়া ২৮ 


রাজ! ইজ ৫ 


রাজেন্ত্র চোল ১৪২. 

রাজেন্রলাল মিঅ (রাজ। ) ১৪, 
১৫) ১৮১ ২৯) ৩৫) ৪১; ৬৯, 
৭১১ ৮৯) ৯৩) ৯৪, ৯৯, 

১৬১১ ১৬৪৮ 

বামকষ্তচ গোপাল ভাগ্ারকর 
(সার) ২৪ 

রামচনিত ৯৭ 

রমাগ্রসাদ চন্দ ৯৩, ১০৭ 

রামতত্রান্বা ১২ 

রাম সীতা ১৭ 

রামেম্বর ১২২ 

রিভিওরা, সি, টি, ২৫ 

লর্ড রোণান্ডশে ১১৯ 

ললাটেন্দু কেশরী ৮, ৪, 

লক্ষ্মীনারায়ণ ৬৬ 

লক্্ীনৃুসিংহ ৬৬ . 

লিওগ্রিফ ৬৮ 

লে ব(ডাঃ) ১৯, ৮৭, ১১৩, 
১১৪) ১১৮) ১১৯ 

লেয়ার্ড ২৫ 

লোকপাল ১,,১১ 

লোকেম্বর শতকম্‌ ৬৩ 


১৫৮ তুবনেস্বরের কথা । 


শিব '৪ 

শিবপুরাগ ৮৩ 

শিবকর দেব ১৪৬ 

শিবায়ন ৫৮, ৫৯, ৬০, ৭৫ 

শিক্ষাদানচিত্র ১২১ 

শীতীকষটৈতন্যচরিতামৃতম্‌ ৫ 

প্রীপ্ীচৈতন্ভদেব (ভীরুফষচৈতন্ড) 
১১ ৭৬, ৭৭১ ৭৮ 

প্ীপ্রীচৈতন্যচরিতামৃতম্, প্রীমন্‌ 
মূরারী গুপ্ত প্রণীত ২ 

গ্ীধরাচার্ধ্য ৯৮ 

জ্রীনগর ৩৫ 

শুটীন্ত্র মন্দির ১২২ 

গুভকর কেশরী ৪৩, ১৪৩ 

শুভকর দেব ১৪৬ 

ধ্ালিং ১৯, ৩২ 

সপ্ততাল ১২২ 

সমুদ্রণ্প্ড ১৮ 


৬সারদাচরণ মিত্র ৪ 
সাঞ্ধী ১৩, ১৮, ১২৪ 
সিদ্ধল গ্রাম ১৯৩ 
সিদ্ধেপ্বর ১৯, ১৩৫ 


এর 1 ১৫, 49-0৮6) 


৭৮২ ৭65 81552 ০ 


সিম্পসন্‌ ২২ 

মিলভ্যা লেতী, আচার্ধা ১৪৫ 

সুদর্শ্না যক্ষিণী ১৩০ 

সূর্য্য কেশরী ৪, 

সুরমা দেবী ১৭৫ 

সুরন্ষণা ৬৪ 

সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায় ১৩ 

স্কন্ন পুরাণ ৩২, ৩৪ 

স্বপেশ্বর ৮৭ 

হন্ুমস্ত লতা ৯২, ১৩৪ 

হরণনন পাণ্ডে ২১ 

হরপার্ধতীয় বিবাহ ১৭ 

হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ৪২১ ৯৭, 
৯৯ 

হরিবর্ম দেব ৯৬ 

হন্তিনী ভিষ্ট ৯৫, ১০৩ 

হাণ্টার সার্‌ ডক্লিউ ডব্লিউ ১১৫, 
১১৬ 

হেভেল ই, বি ১১, ২৪, ২৫, ৭৫, 
১১০) ১১৩, ১২৩) ১২৬, 
১৩৫, ১৩৬, ১৪৫১ ১৪৭) 
১৪৮ 

হ্রেম্ব ৬৩ 

হেলিওদোর ১১১, ১১২০ 


শাদ্ধপত্র। 


পৃষ্ঠা *পংক্তি অশুদ্ধ শু 
৯ ফুটনোট রামায়ণ বাম নারায়ণ 
১৪ 90055 065 201৬ 40069 08 201৬৫ 


১৫ 
১৭ 
১৪ 
২৪ 
৪২ 
৪২ 


৪৩ 


৮৩ 
৮৩ 
টি 


৪ 
১৭ 
৫ 
১২ 
১৩ 

১৮ 


ছুটনোট 


্‌ 


€0178165 ০008163 
/800 07150, /01, 90135 


06 1, 11706 ৫6 1911006 


ত্রিভূবণেষ্বরের ত্রিভুবনেষ্বরের 
থুঃ ৭৯৬ ধৃঃ ৭৯৫ 
“ুদ্ধাবতংসক স্থত্র” “্মহাবৈপুল্য বুদ্ধাবতংক 
স্তর 
111, 80101) 101, 9010100 
192)10+3 [8171103 0০88- 
081910606, 10896, 0, 36, 


(50061 40, 196৮)  ),8, 0,১09, 
৬০), 11), 0. 326. 


৫ খু: ওয় শতারীতে ্‌ঃপুঃ ওয় শতাবীতে 


১৩ 
৯ 
১৩ 


ফুটনোট ৩ 0106503৩291 0186810+5 ৩০৬ 


৬০], 11) 098. ৬০1, 11, 0, 198, 


অধায় অধ্যায় 
ভূষনেশ্বরের ভুবনেশবরের 
পন্মাসনে পদ্মাসনে 


৯১ 
৯৬ 
১৪১ 


৯৬ 


৯৬ 
ন্প 


১৪০৪ 
৯১১৯ 


১২৪ 


১২৬ 
১২৭ 
১২৯ 
১৩৬ 
৯৭৪) 


89 


১৩৮ 


১৩৯ 
১৪৭ 


পংক্তি 
২১ 
৩ 


৯৪ 
১৬ 
১৩ 
ত৩ 


১৫১১৬ 


৮/৬ 


অশুদ্ধ গুন 
আশীর্বাদ মুদ্রায় বরদ মুদ্রায় 
২। রঙজনাথ ২। রখাঙ 
৫। গ্রীআদিদেব ৫| গ্রীআদিদেব- 
সরন্বতী দেবকী 
৬। গোবর্ধন-সাঙ্গোকা ৬। সরদ্বতী-গোবর্ধান- 
 সাঙ্গোক। 
যনচিত ৃ রচিত রী 
“বেনের মেয়ে? “বেণের মেয়ে” 
ক্রিয়াকলাপাদি ক্রিয়াকলাপাদি 
কনম্বস কনফস 
159 (10001275005 155 71017000617 
৫৩ 1 1206 ৫৩ 1১ 100৩ 
[8735115 50], 148 10911৩ 6 15 5101৩ 
41015 800৮5 480018 
05 হু. [১০015 0৬ 1১ [০০1৪ 
[৭181705815৩ 181708156 
ইঁজিগউদ্ধি জিগউন্ধি 
অর্ধেন্দুকুমার অর্ধেজকুমার 
ব্রাঙ্মণ্য বঙ্গণ্য 
পরিশিষ্টে পরিশিষ্ট 
এছয়ার্দ এছুয়ার ণঁ 
(36171 ৫65 (৪৩171 063 61611১81015 
11610102109 
যহাশয়ের মহাশয়ের 


“বুদ্ধাবতংসক হুত্র” “মহাবৈপুল্য বুদ্ধাবতংসক